আগামীকাল ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবস। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দ্বিতীয় কলংকজনক অধ্যায় এই দিনটি।

জিয়াউল হাসান ০২ নভেম্বর,২০১৯ ১২৯ বার দেখা হয়েছে লাইক কমেন্ট ৫.০০ ()

আগামীকাল নভেম্বর জেলহত্যা দিবস ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দ্বিতীয় কলংকজনক অধ্যায় এই দিনটি

আগামীকাল নভেম্বর জেলহত্যা দিবস ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দ্বিতীয় কলংকজনক অধ্যায় এই দিনটি
পনেরই আগষ্টের নির্মম হত্যাকান্ডের পর তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম চার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, এএইচএম কামারুজ্জামান এবং ক্যাপ্টেন মনসুর আলীকে এই দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় এর আগে এই চার জাতীয় নেতাকে কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়

যুদ্ধকালীন সময় সৈয়দ নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন
মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের সমধিক পরিচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দিন আহমেদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বঙ্গবন্ধুর অপর ঘনিষ্ঠ সহযোগী এএইচএম কামারুজ্জামান ক্যাপ্টেন মনসুর আলী পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে নীতি কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন

জাতি আগামীকাল মুক্তিযুদ্ধের জাতীয় চার নেতাকে যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বর্বরোচিত এই কালো দিনটিকে স্মরণ করবে তৎকালীন স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদ এবং বঙ্গবন্ধুর দুই খুনি কর্নেল (অব.) সৈয়দ ফারুক রহমান এবং লে. কর্নেল (অব.) খন্দকার আব্দুর রশীদ জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন কাজের জন্য তারা আগে ভাগে একটি ঘাতক দলও গঠন করেন দলের প্রধান ছিলেন রিসালদার মুসলেহ উদ্দিন তিনি ছিলেন ফারুকের সবচেয়ে আস্থাভাজন অফিসার ১৫ আগস্ট শেখ মনির বাসভবনে যে ঘাতক দলটি হত্যাযঞ্জ চালায় সেই দলটির নেতৃত্ব দিয়েছিল মুসলেহ উদ্দিন

দক্ষিণ এশিয়ার প্রখ্যাত সাংবাদিক অ্যান্থনী মাসকারেনহাস তার 'বাংলাদেশ অ্যা লিগ্যাসি অব ব্লাডগ্রন্থে বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন

তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পরপরেই জেল খানায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় পরিকল্পনাটি এমন ভাবে নেয়া হয়েছিল পাল্টা অভ্যুথান ঘটার সাথে সাথে যাতে আপনা আপনি এটি কার্যকর হয় আর কাজের জন্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি ঘাতক দলও গঠন করা হয়
এই ঘাতক দলের প্রতি নির্দেশ ছিল পাল্টা অভ্যুথান ঘটার সাথে সাথে কোন নির্দেশের অপেক্ষায় না থেকে কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে তারা জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করবে পচাঁত্তরের নভেম্বর খালেদ মোশাররফ পাল্টা অভ্যুথান ঘটানোর পরেই কেন্দ্রীয় কারাগারে এই জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়
গোলাম মুরশিদ তারমুক্তিযুদ্ধ তারপরগ্রন্থে লিখেছেন খন্দকার মোশতাক জেল হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন কেবল ফারুক আর রশিদকে নিয়ে তিনি ঠিক করেছিলেন যে, যে কোন পাল্টা অভ্যুথান হলে কেন্দ্রিয় কারাগারে আটক তাজউদ্দিন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মনসুর আলী এবং কামারুজ্জামানকে হত্যা করা হবে যাতে নতুন সরকার গঠিত হলেও এই নেতারা তাতে নেতৃত্ব দিতে না পারেন

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
আব্দুল মাজিদ
১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০১:৩১ অপরাহ্ণ

আপনার সুন্দর লেখনীতে আমি বার বার মুগ্ধ হই। ধন্যবাদ


মুহাম্মদ শাহীন আল মামুন
১০ নভেম্বর, ২০১৯ ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ

তথ্যবহুল সুন্দর আলোচ.... ধন্যবাদ


মুহাম্মদ শাহীন আল মামুন
১০ নভেম্বর, ২০১৯ ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ

চমৎকার তথ্যবহুল লেখা..... ধন্যবাদ


রোকসানা ইয়াসমিন
০৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০২:৩৪ অপরাহ্ণ

সুন্দর আলোচনা।