মানবিকে পেশায়-অমানবিক প্রথা। এমপিওভুক্ত কলেজে প্রভাষকদের সহকারি অধ্যাপক স্কেল প্রাপ্তির অনুপাত প্রথা।

মোঃ হোসেন আলী ০৫ নভেম্বর,২০১৯ ১৮৪ বার দেখা হয়েছে লাইক কমেন্ট ৫.০০ ()

মানবিক পেশায়-অমানবিক প্রথা

 

শিক্ষকতা নাকি মহান পেশা, মানবিক পেশা, আর শিক্ষক হলেন মানুষ গড়ার কারিগর। শিক্ষকগণ শিষ্টাচার, ক্ষমাশীল এবং কর্তব্যপরায়ণ হয়ে থাকেন। (শি=শিষ্টাচার, ক্ষ=ক্ষমাশীল, ক=কর্তব্যপরায়ণ) । তাঁরা  কৌশলী হয়ে স্পষ্ট ও মিষ্টিভাবে সৌন্দর্য ও সৃজনশীলতা, রসিকতা, অভিজ্ঞতা ও বিশ্বস্ততার সাথে পাঠ দান করে থাকেন।

 

এই মহান পেশায় যাঁরা নিয়োজেত আছেন তাদের রয়েছে বিভিন্ন সমস্যা। যেমন -পদমর্যাদা, বেতন ভাতা,চাকুরির নিশ্চয়তা কিংরা অবসর-কল্যান ভাতা ইত্যাদি। এর মধ্যে যাঁরা বেসরকারী এমপিওভুক্ত শিক্ষক তাঁদের প্রতি তো কর্তা ব্যক্তিগণ আরো বেশী বৈষম্য করে থাকে। স্বাধীনতার 9 বছর পর 1980 সালে প্রথম বারের মতো বেসরকারি শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত  করে সরকারের বেতন স্কেলে অনুদান প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়। তাও মূল বেতনের 50%। যেখানে বাংলাদেশকে পরাধীনতার হাত থেকে মুক্ত করতে মাত্র 9 মাস যুদ্ধ করে বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে পারে বাংলার বীর সন্তানেরা, সেখানে এই বীর সন্তানদের মানুষ হিসেবে গড়তে প্রতিনিয়ত শ্রম, মেধা, বুদ্ধি পরিশ্রম করে জীবন-যৌবন ব্যয় করছেন যে শিক্ষকগণ তাদের বেতন ভাতার অনুদান সরকারি বেতন কাঠামোতে অন্তর্ভূক্ত করতে সময় লেগেছে 9 বছর। এর মধ্যে কলেজ শিক্ষকদের বেলায় যুক্ত হলো অমানবীক এক প্রথা। যার নাম অনুপাত প্রথা! অর্থাৎ একই যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও আনুপাতিক হারে দেওয়া হয় উচ্চতর ভাতা  বা উচ্চতর স্কেল যেটাকে আমরা বলি সহকারি অধ্যাপক স্কেল। সরকার 1983 সালে বেসরকারি ডিগ্রী কলেজে 5:2 অুপাতের পরিবর্তে 6:3 কার্যকর করা যাইতে পারে মর্মে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছিল, কিন্তু কার্যকর হয়েছিল কি না আমার জানা নেই। যে শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশুনা করিয়ে বিএ/এমএ পাশ করালো, সেই ছাত্র বা ছাত্রী যদি পাশের কোন এমপিওভুক্ত কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করে তাহলে হয়তো সেই ছাত্র বা ছাত্রীই ঐ শিক্ষকের পূর্বে সহকারি অধ্যাপক হয়ে যাবে, আর তার শিক্ষক প্রভাষক হয়েই থাকবে। বর্তমানে 2018 সালের শিক্ষক নিয়োগের যে আইন তার বলে হয়তো শিক্ষকের ঐ ছাত্র বা ছাত্রীই সহকারি অধ্যাপকের তকমা নিয়ে যে কলেজে সে পড়াশুনা করেছে কিংবা যে শিক্ষক তাকে পড়াশুনা করিয়েছে সেই কলেজেই অধ্যক্ষ বা উপাধক্ষ হয়ে আসলো, আর তার শিক্ষকগণ প্রভাষকই রয়ে গেল। বাংলাদেশ স্বাধীন হলো 48 বছর কিন্তু বেসরকারি এমপিওভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের এই অনুপাত প্রথা রয়েই গেল।

তাছাড়া অুনপাতের প্রকৃতিটা তো দেখার মতো, 5:2! অর্থাৎ 5+2=7 জনে 2 জন। আচ্ছা বলুন তো 3.5 জন কি হতে পারে! কি আজব কান্ড 3.5 জনে 1জন!  আরে 2:1 কিংবা 3:1 হলে কি দোষ হতো। তাহলে তো অন্ততপক্ষে  কোন শিক্ষককে কেটে অর্ধেক করা লাগতো না! অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধানতো  3  জন হলে  1 জনকে সহকারি অধ্যাপকের প্রস্তাবই করেনা, বলে 4 জন হোক। যদিও কোন কোন প্রতিষ্ঠান প্রধান/সভাপতি/মাধ্যমিক  শিক্ষা অফিসার/জেলা শিক্ষা অফিসার 3 জনে 1 জন কিংবা 10 জনে 3 জন , 17 জনে 5 জন, 24 জনে 7 জনকে সহকারি অধ্যাপকের স্কেল প্রাপ্তির প্রস্তাব মন্ত্রনালয়ে প্রেরণ করে থাকে। যেহেতু প্রভাষকেরা মানুষ জাতী, তাঁদেরকে কেটে দু’ভাগ  করা যাবে না, সেই দিক বিবেচনা করে মন্ত্রনালয় হয়তো সহকারি অধ্যাপকের অনুমোদন দেয়। যেহেতু 3 জনে 1 জন, 10 জনে 3 জন কিংবা 17 জনে 5 জন সহকারি অধ্যাপক স্কেল প্রদানের কোন পরিপত্র নাই সেহেতু এ ক্ষেত্রেও বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হতে হয়। কোন কোন প্রধান হয়তো 4 জনে 1 জন, 7 জনে 2 জনের নাম প্রস্তাব করে, কিন্তু 10 জনে 3 জনের নাম প্রস্তাব করে না। যদিও 10 জনে 3 জন পাইতে পারে, কারণ 7 জনের পরে তো 3.5 জন প্রভাষক হওয়া সম্ভব নয়। হয়তো হবে 3 জন নতুবা 4 জন। এমনও তো হতে পারে জনবল কাঠামো অনুসারে প্রাপ্যতাই 10 জন, কিংবা 17 জন!

 

সরকারের সহকারি অধ্যাপক স্কেল প্রদানের এই অমানবিক অনুপাত প্রথার শেষ কোথায়? আর কত কাল, কত যুগ পার হলে সরকারি কলেজের ন্যায় সহকারি অধ্যাপক স্কেল পাবে এমপিও ভুক্ত প্রভাষকেরা। আশায় রইল এমপিওভুক্ত প্রভাষক সমাজ! কবে সরকারের সুমর্জি হয় সেই আশায়, কবে নিপাত যাবে এই প্রথা। যার নাম সহকারি অধ্যাপকের অনুপাত প্রথা।

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
মোহাম্মদ আতাউর রহমান সিদ্দিকী
১০ নভেম্বর, ২০১৯ ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

শ্রদ্ধেয় প্যাডাগজি রেটার মহোদয়, এডমিন মহোদয়, সেরা কনটেন্ট নির্মাতা মহোদয়, শিক্ষক বাতায়নের সকল জেলা অ্যাম্বাসেডরগণ ও শিক্ষক বাতায়নের সকল স্যার, ম্যামদের আমার এ সপ্তাহে আপলোডকৃত কনটেন্ট দেখে আপনাদের মূল্যবান লাইক, কমেন্টস ও রেটিং প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।


সুশান্ত সরকার
০৫ নভেম্বর, ২০১৯ ১২:৩৩ অপরাহ্ণ

" চাই না মাগো রাজা হতে, রাজা হবার সাধ নাই মাগো দু’বেলা যেন পাই মা খেতে"।= এম,পি,ও ভুক্ত শিক্ষকের আকুতি।