বিজয় উল্লাসে বাঙ্গালী বিজয় উল্লাসে বাঙ্গালী বিজয় উল্লাসে বাঙ্গালী

আবদুল্লাহ আল- মামুন ০৬ ডিসেম্বর,২০১৯ ১০৫৬০ বার দেখা হয়েছে লাইক ১৬ কমেন্ট ৪.৯২ (১৩ )

বাঙালির জীবনে স্বাধীনতার সূর্যোদয় চেতনার বহ্নিশিখায় এক নবজাগরণ। স্বাধিকার মন্ত্রে উজ্জীবিত মুক্তিকামী জনগণের প্রাণের স্পন্দনে ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের মাধ্যমে স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণের মাহেন্দ্রক্ষণ, অযুত প্রাণের আনন্দ উল্লাস, বিজয়ের স্ফুরিত আনন্দে দ্রোহের উদ্দীপ্ত পথচলা। প্রতি বছর বিজয় দিবস প্রতিটি বাঙালির জীবনে আসে নতুন প্রেরণা নিয়ে।

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে চেতনার উন্মেষ ঘটে বাঙালির জাতিসত্তার। ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধিকার, পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার সংগ্রাম। বাংলার অকুতোভয় দামাল ছেলেদের রক্তে রঞ্জিত এই সবুজ জমিন। একাত্তরের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়ার লক্ষ্যে ঢাকাসহ সারা দেশে অপারেশন সার্চলাইটের নামে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর হামলার মাধ্যমে বাঙালি জাতির জীবনে যে বিভীষিকাময় যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল, তারই ফলে শোষণ, বঞ্চনা আর অত্যাচারের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতি জেগে উঠেছিল। দীর্ঘ নয় মাসের লড়াইয়ের মাধ্যমে বাংলার দামাল সন্তানরা এক সাগর রক্তের বিনিময়ে সে যুদ্ধে বিজয় লাভ করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে। স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালি জাতির কয়েক হাজার বছরের স্বপ্নসাধ পূরণ হয় এবং অর্জিত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের অবিস্মরণীয় গৌরবদীপ্ত চূড়ান্ত বিজয়।

বিশ্বের মানচিত্রে সৃষ্টি হয়েছিল বাঙালি জাতির আত্মপরিচয়ের ঠিকানা একটি সার্বভৌম দেশ- বাংলাদেশ। রচিত হয়েছিল ত্যাগ আর বীরত্বের সাহসী পটভূমিকায় বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে বাঙালি ঝাঁপিয়ে পড়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ লড়াইয়ে। মাতৃভূমিকে ভালোবাসার অপূর্ব এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আবির্ভূত হয়েছিলেন সাড়ে সাত কোটি বাঙালির জননন্দিত হিমালয়সম ব্যক্তিত্বের অধিকারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৪০ থেকে ১৯৭৫-এর ১৪ আগস্ট পর্যন্ত মাতৃভূমি ও মানুষের কল্যাণে মুক্তিসংগ্রামের একমাত্র পথপ্রদর্শক হয়ে জীবনকে উৎসর্গ করেছেন এবং পরাধীনতার জাঁতাকলে পিষ্ট বাঙালি জাতিকে উজ্জীবিত করেছেন স্বাধীনতার সূর্যের আলোকছটায়। তিনি বাঙালির প্রাণের স্পন্দন, যন্ত্রণা, আবেগ, আকাক্সক্ষা উপলব্ধি করতেন এবং বীরের মতো জেগে উঠেছিলেন। ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম, ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে গণতন্ত্র ও বাঙালির আজন্ম লালিত অধিকার আদায়ের দাবিতে ৬ দফা, ১৯৭০-এর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় ও শাষকগোষ্ঠীর ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি, সামরিক জান্তার নিষ্পেষণ, হত্যা, নির্যাতনের বিরুদ্ধে জাতির ম্যান্ডেট নিয়ে একাত্তরের অগ্নিঝরা ৭ মার্চে রেসকোর্স ময়দানে বজ্রকণ্ঠে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন- এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে মরণপণ সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার যে উদাত্ত আহ্বান বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠ থেকে উচ্চারিত হয়েছিল- তা আজো বাঙালির ধমনিতে শিহরণ জাগায়। সে দিনই বাঙালির বুকে স্বাধীনতার বীজমন্ত্র বোনা হয়ে যায়। তিনি উদাত্ত কণ্ঠে আহ্বান জানিয়েছিলেন, ‘যার যা আছে, তাই নিয়ে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল।’ তাঁর ঐতিহাসিক আহ্বানে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। তাঁর নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ, রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় বাঙালি জাতীয়তাবাদের পতাকাতলে সমগ্র দেশের জনসাধারণকে দাঁড় করিয়েছিলেন। পরাধীনতার জিঞ্জির ছিঁড়ে বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্বই ১৯৭১-এ স্বাধীনতাকামী বাঙালির দীর্ঘ নয় মাস মৃত্যুপণ যুদ্ধে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা অর্জন করে। এই মুক্তিসংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ স্বাধীন ভূখণ্ডে, একটি জাতি, একটি রাষ্ট্র, একটি প্রজাতন্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামমুখর জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম। তাঁর কণ্ঠের গভীরতায় উচ্চারিত হয়েছিল- ‘আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি, যতদিন একজন বাঙালি বেঁচে থাকবে, ততদিন তারা অর্জিত স্বাধীনতা বিপন্ন হতে দেবে না। বাঙালিকে পরাধীন রাখতে পারে এমন কোনো শক্তি পৃথিবীতে আর নাই।’

কিন্তু বিজয়ের ৪৫ বছরের দ্বারপ্রান্তে এসে জাতি কী প্রত্যক্ষ করছে? যে পাকিস্তানি সেনারা নিরস্ত্র জনগণকে ১৯৭১-এ নির্বিচারে হত্যা করেছিল, মা-বোনের সম্ভ্রমহানি করেছিল, বুদ্ধিজীবী নিধনের মাধ্যমে জাতির মেধাশক্তিকে পরিকল্পিতভাবে নিঃশেষ করেছিল তারা আজ ১৯৭১-এর গণহত্যা, অগণিত নারী নির্যাতনের দায় অস্বীকার করছে এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে খণ্ডিত করার ঔদ্ধত্য দেখাচ্ছে। পরাজিত শক্তি এদেশীয় মানবতাবিরোধীদের বিচারে বিরূপ মন্তব্য ও নিজেদের ঘৃণ্য নিকৃষ্টতম কৃতকর্ম নিয়ে মিথ্যাচার করছে অথচ পাকিস্তানের বিচারপতি হামিদুর রহমান কমিশনের রিপোর্টে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণহত্যার কথা স্বীকার করা হয়েছে এবং দোষী সামরিক ব্যক্তিদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর সুপারিশ করা হয়েছে যদিও এই বিচারকার্য এখনো কার্যকর হয়নি।

বিজয়ের প্রায় সাড়ে চার দশকের ইতিহাসে এক কঠিন সময় অতিক্রম করছে আমাদের প্রিয় স্বদেশ। দেশের নানা খাতে প্রভূত উন্নয়ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে অবস্থান করলেও ষড়যন্ত্র থেমে নেই। এখনো অপশক্তি নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টিতে সক্রিয়। কুচক্রী স্বার্থান্বেষী মহল আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে কুক্ষিগত করার ষড়যন্ত্রে সদা ব্যস্ত। সুদীর্ঘ বিশ বছর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম মহানায়ক, বাংলার মুকুটহীন সম্রাট নির্বাসিত ছিল। প্রিয় স্বাধীন দেশে জাতি স্বৈরশাসনে নিষ্পেষিত হয়, জাতি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি প্রত্যক্ষ করেছে এবং স্বাধীনতাবিরোধী ও বঙ্গবন্ধুর ঘাতক চক্রকে পুরস্কৃত করার লজ্জাজনক দৃশ্য অবলোকন করেছে। কিন্তু ইতিহাস বড়ই নির্মম। অন্ধকারের বুক চিরে প্রখর সূর্যের আলোকময় নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা ও গণতন্ত্রের মানসকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বাঙালি জাতির কলঙ্কের দায়মুক্তির জন্য চেতনার উন্মেষ ঘটাতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সংকল্পে দৃঢ়ভাবে এগুচ্ছেন। জাতির জনকের হত্যাকারীদের বিচারকার্য, যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া কিছু সম্পন্ন করেছেন এবং করতে বদ্ধপরিকর।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন যেখানে আছে মেধা-মননে মুক্তিবুদ্ধির চর্চা, শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, বৈষম্যহীন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া শোষণহীন রাষ্ট্রব্যবস্থার বাস্তবায়ন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তিকে মোকাবেলায় একমাত্র জননেত্রী শেখ হাসিনা সদর্পে যোগ্য নেতৃত্বের কাণ্ডারি হয়ে দেশকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তথা জনগণের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি, কর্মক্ষম জনশক্তি, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০, শোষণহীন সমাজব্যবস্থা, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গঠন, তথ্যপ্রযুক্তি সম্পন্ন ডিজিটাল বাংলাদেশ ও আত্মমর্যাদাশীল সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে একুশ শতকের এই সময়ে সতর্ক পদক্ষেপে এগুচ্ছেন। এবারের বিজয় দিবসের প্রত্যাশা- অশুভ শক্তির নিকৃষ্ট ষড়যন্ত্রকে প্রতিরোধ করে ষোল কোটি মানুষের স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশকে রক্ষা করার প্রত্যয়ে জাতিকে আরো তৎপর ও মনোযোগী হতে হবে, করতে হবে ত্যাগ স্বীকার। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে সদাজাগ্রত থেকে উন্নয়ন সমৃদ্ধ একটি রাষ্ট্রে পরিণত করতে এবং মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বিশ্ব দরবারে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে আগামীর পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় হোক আমাদের অঙ্গীকার। এই বিজয়ের রক্তঝরা সংগ্রামের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি যাদের আত্মত্যাগে আজকের বাংলাদেশ। আজকের দিনে সেই সব আত্মত্যাগী মানুষকে প্রণতি জানাই।

সংগৃৃৃৃৃৃৃৃৃহীত ৷

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
মো. সাখাওয়াত হোসেন
১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৬:০৫ পূর্বাহ্ণ

শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক, সময়উপযোগী, চিন্তাযুক্ত, অসাধারণ কনটেন্ট ধন্যবাদ। (সাখাওয়াত, ঝিনাইদহ, ০১৭১৫৬৭১০৯৬, ই-মেইল-shbiddut@gmail.com)


মোঃ ছায়েদুল হক
১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৮:৪২ অপরাহ্ণ

লাইক রেটিং সহ ধন্যবাদ


মুহাম্মদ আলী হোসেন পাঠান
১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৭:২২ অপরাহ্ণ

পূর্ন রেটিংসহ অভিনন্দন ও শুভকামনা ।


মো:তাজুল ইসলাম ভূইয়া
১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৬:৫০ অপরাহ্ণ

লাইক রেটিং সহ শুভকামনা আপনার জন্য। আমার কন্টেন্টগুলো দেখার অনুরুধ রইল।


মোহাম্মদ আজিজুর রহমান কামাল
১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ

ধন্যবাদ


মোঃ রুহুল আমিন খান
০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১০:৪৬ অপরাহ্ণ

ধন্যবাদ স্যার । পূর্ণ রেটিং দিয়েছি।


মুহাম্মাদ আলীমুদ্দীন
০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৬:০৭ অপরাহ্ণ

চমৎকার পোস্ট।


মোঃ আব্দুল মজিদ
০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৫:৫৭ অপরাহ্ণ

ধন্যবাদ, স্যার


মুকুল বিশ্বাস
০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১২:০৪ অপরাহ্ণ

চমৎকার পোস্ট।


মীর্জা মোঃ মাহফুজুল ইসলাম
০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০২:১৫ অপরাহ্ণ

সুন্দর ও গঠনমূলক পোস্ট ,শুভকামনা।


মো: নজরুল ইসলাম
০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০২:৩৮ অপরাহ্ণ

পূর্ন রেটিংসহ অভিনন্দন ও শুভকামনা ।


আবদুল্লাহ আল- মামুন
০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৩:১৯ অপরাহ্ণ

ধন্যবাদ স্যার


মোহাম্মদ গোলাম ছামদানী
০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৭:১৮ অপরাহ্ণ

সুন্দর শ্রেণী উপযোগী ও মানসম্মত কন্টেন্ট আপলোড এর জন্য পূর্ণ রেটিং সহ শুভকামনা রইল। আমার কন্টেন্ট দেখে রেটিং সহ মতামত প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। আমার ছবির উপর ক্লিক করেন > কনটেন্ট টাইটেলের উপর ক্লিক করেন প্লিজ পূর্ণ রেটিং সহ মন্তব্য করুন। ধন্যবাদ।


আবদুল্লাহ আল- মামুন
০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১০:৪৬ অপরাহ্ণ

ধন্যবাদ


লাইলী আক্তার
০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৬:১০ অপরাহ্ণ

লাইক এবং পূর্ণ রেটিংসহ শুভকামনা রইল। আমার এই সপ্তাহের কনটেন্ট ৫ম শ্রেণির English বিষয়ের Happy Birthday, Unite: 15 কনটেন্টটি দেখবেন এবং মতামত ও রেটিং দিবেন।


আবদুল্লাহ আল- মামুন
০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১০:৪৬ অপরাহ্ণ

ধন্যবাদ