শিক্ষা ব্যবস্থার আদি কথা শিক্ষা ব্যবস্থার আদি কথা শিক্ষা ব্যবস্থার আদি কথা শিক্ষা ব্যবস্থার আদি কথা পর্ব - ০২

আবদুল্লাহ- আল- মামুন ০৯ ডিসেম্বর,২০১৯ ১৫ বার দেখা হয়েছে লাইক কমেন্ট ৫.০০ ()

প্রাথমিক শিক্ষা  প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার ওপরই বর্তমান সরকারের মনোযোগ সর্বাধিক। বিশ শতকের শেষ দশক থেকেই এর সূচনা। গুরুত্বানুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন ঘটেছে, পাঁচটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা-পরম্পরায় সেটা ধরা পড়ে। এর উৎস রয়েছে সংবিধানের (১৯৭২) ১৫ ও ১৭ নং অনুচ্ছেদে এবং ১৯৭৪-এর শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের সুস্পষ্ট সুপারিশের মধ্যে। সংবিধান ও রিপোর্ট, দুটিতেই প্রাথমিক শিক্ষা চিহ্নিত হয়েছে সরকারের দায়িত্ব হিসেবে। ১৯৭৪-এ, সংবিধানের ব্যবস্থামতে, সরকার কর্তৃক জারিকৃত জাতীয়করণ ডিক্রির আওতায় আসে ৩৬,১৬৫টি প্রাথমিক স্কুল। শিক্ষার ইতিহাসে এ ছিল এক যুগান্তকারী ঘটনা। এরপর, একাদিক্রমে প্রত্যেক পাঁচশালা পরিকল্পনায় প্রাথমিক শিক্ষাখাতে ব্যয়বরাদ্দ নিয়মিতভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, আবর্তক ও উন্নয়ন উভয় খাতেই। বর্তমানে বেসরকারি প্রাথমিক স্কুলের সংখ্যা সরকারি স্কুলের প্রায় সমান। এর অধিকাংশই গ্রামাঞ্চলে। এগুলি বহুলাংশে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত। তবে এদের পূর্ণ দায়িত্ব সরকার নেয় নি। নগরস্থ যে সকল স্কুলের ইংরেজির প্রতি ঝোঁক, যদিও জাতীয়ভাবে গৃহীত পাঠ্যক্রম এরাও মোটের উপর অনুসরণ করে, প্রায় ক্ষেত্রেই এরা সরকারি সাহায্য-নির্ভর নয়। এর পরও স্কুল-বয়সী ছেলে-মেয়ে যারা স্কুলে যায়না তাদের সংখ্যা বিস্তর। কিছুদিন থেকে কতিপয় বেসরকারি সংস্থা (NGO) পরিচালিত উপআনুষ্ঠানিক শিক্ষার একটি সমান্তরাল ধারার বিকাশ ঘটেছে। এছাড়া কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাংক, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, ইউনিসেফ ইত্যাদি প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান অংশীদার পরিচয়ে দেখা দিয়েছে। এই তালিকায় এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে আরও কিছু সংস্থা ও কয়েকটি রাষ্ট্র।

আলোচ্য সেক্টর যে গুরুত্ববিচারে এগিয়ে রয়েছে এবং এর মর্যাদাও যে ক্রমবর্ধমান, তার একটি কারণ প্রাথমিক শিক্ষার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার। ১৯৯০-এর মার্চে থাইল্যান্ডের জোমটিন (Jomtein)-এ অনুষ্ঠিত হয় সর্বজনীন শিক্ষা বিষয়ে বিশ্বসম্মেলন। এই সম্মেলনে ও সেপ্টেম্বর ১৯৯০-এ নিউ ইয়র্কে শিশু আধিকার বিষয়ে বিশ্ব শীর্ষ সম্মেলনে যে লক্ষ্য ঘোষিত হয়, বাংলাদেশ তার প্রতি পূর্ণ একাত্মতা প্রকাশ করে। উপরন্তু ডিসেম্বর ১৯৯৩-এ দিল্লির উচ্চ জনসংখ্যা বিশিষ্ট ৯টি উন্নয়নশীল দেশের ‘সবার জন্য শিক্ষা’ বিষয়ে শীর্ষ ঘোষণার প্রতিও বাংলাদেশ দায়বদ্ধ।

১৯৪৭ পরবর্তীকালে প্রাথমিক শিক্ষা প্রসারে মন্দগতি এর মূল সমস্যা। ওই বছরে প্রাথমিক বিদ্যালয় বিশিষ্ট একটি গ্রামের বিপরীতে ছিল বিদ্যালয়হীন ৪টি গ্রাম। স্কুল গৃহগুলি ছিল হীনাবস্থায়। বেশির ভাগ শিক্ষক ছিলেন প্রশিক্ষণহীন, তাঁরা বেতনও পেতেন অতি সামান্য। সরকারের উপর ন্যস্ত হলো একটি দুর্বহ কাজের ভার- এই হীনাবস্থা থেকে গোটা সেক্টরকে একটি মানসম্মত স্তরে তুলে আনা। কিন্তু সম্পদের স্বল্পতা, শিক্ষার বেলায় বিশেষত প্রাথমিক শিক্ষার বেলায়, চিরকালই ছিল। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭২, বাংলাদেশের সত্যিকার স্বাধীনতা অর্জন কাল পর্যন্ত, প্রাথমিক শিক্ষা ও দেশের সাক্ষরতার স্তর, দুটিই ছিল এক দীর্ঘস্থায়ী জড়ত্বের শিকার।

১৯৭২-৭৩-এ ৩৬,০০০-এর অধিক সংখ্যক স্কুলের সরকারিকরণ এক নবপর্যায়ের সূচনা বলে গণ্য হয়। তবে এর ফলে বুনিয়াদী শিক্ষার সর্বজনীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে কোন অলৌকিক পরিবর্তন সাধিত হয় নি। কিন্তু ১৯৭৪-এর শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টে লক্ষ্য অনেক বেশি স্পষ্ট ভাষায় সংজ্ঞায়িত হয়েছিল। সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য অর্জনে নতুন কৌশল প্রস্তাবিত হয়েছিল। ১৯৮১-র প্রাথমিক শিক্ষা আইনে (The Primary Education Act, 1981) মহকুমা পর্যায়ে ‘স্থানীয় শিক্ষা কর্তৃপক্ষ’ (Local Educational Authority) গঠনের ব্যবস্থা হয়। দুর্ভাগ্যবশত এ উদ্যোগটি ফলপ্রসূ হয় নি এবং হয় নি মূলত রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে। এরপর এলো ১৯৯০-এর ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন’। এতে উক্ত আইনের উদ্দেশ্য পূরণে প্রয়োজনীয় আইনী ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা লাভ করে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় একটি সমন্বিত কর্মোদ্যোগের সূচনা হয়েছে, যার লক্ষ্য নিরক্ষতার উচ্ছেদ। এই উদ্যোগে গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়নে একই সঙ্গে অবতীর্ণ হয়েছে সরকার ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা। এসব প্রকল্পের আওতায় রয়েছে একদিকে আনুষ্ঠানিক অন্যদিকে উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা এবং এ ক্ষেত্রে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষাদানে বেসরকারি সংস্থাগুলি বড় ভূমিকা পালন করছে। সরকারিভাবে দাবি করা হচ্ছে, বর্তমানে (২০০১-২০০২) সাক্ষরতার হার ৫০% থেকে ৬০%-এর মাঝামাঝি কোন এক অবস্থানে। এ ছাড়া, জেলা পর্যায়ে সাক্ষরতা অভিযানের ফলে কয়েকটি জেলা পূর্ণ সাক্ষরতা অর্জন করেছে বলে অন্তত সরকারি দাবি।

মাধ্যমিক শিক্ষা  ১৯৪৭ সালে মাধ্যমিক শিক্ষা পরিস্থিতি ছিল প্রাথমিক শিক্ষার অনুরূপ। অধিকাংশ স্কুল ছিল বেসরকারি সেক্টরে। প্রতি জেলা সদরে ছিল একটি করে জেলা স্কুল। উপনিবেশিক শাসকদের ধারণা ছিল জেলা স্কুলগুলি কাজ করবে বেসরকারি স্কুলসমূহের আদর্শ বা মডেল হিসেবে। যেমন প্রাথমিক শিক্ষার বেলায়, তেমনি মাধ্যমিক শিক্ষা ক্ষেত্রেও জড়িত না হওয়ার নীতি ছিল কার্যকর। প্রসঙ্গত, একই নীতির সম্প্রসারণ দেখা গিয়েছে কলেজ স্তরের শিক্ষার বেলায়।

আট বছর ব্যাপী প্রাথমিক শিক্ষার পক্ষে ওকালতির শুরু সার্জেন্ট কমিটির রিপোর্ট (১৯৪৪) থেকেই বা তারও পূর্ব থেকে। পরবর্তী সময়ে সকল পর্যালোচনায় ধারণাটি জোরালো সমর্থন লাভ করেছে, বিশেষত কুদরাত-এ-খুদা কমিশন নামে সমধিক পরিচিত ১৯৭৪-এর শিক্ষা কমিশন রিপোর্টে। ধারণাটি বর্তমানে নীতিগতভাবে সমর্থিত, যদিও এর বাস্তবায়ন শুরু হয় নি। যদি এর বাস্তবায়ন ঘটে, তবে মাধ্যমিক শিক্ষার সঙ্গেই অঙ্গাঙ্গী জড়িত কাঠামোগত সমস্যাটি জটিলতর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

১৯৪৭-এর পূর্বে ও পরবর্তী সময়ে দীর্ঘকাল মাধ্যমিক শিক্ষা প্রসারের গতি প্রাথমিক শিক্ষার তুলনায় দ্রুততর ছিল। প্রাথমিক স্তরে পড়ুয়াদের ঝরে পড়ার হার অত্যধিক হওয়া উল্লিখিত তারতম্যের অন্যতম কারণ।

ব্যবস্থাপনার দিকে স্বাধীনতা-উত্তর কালে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো মাধ্যমিক শিক্ষাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মুক্ত করা। এ বিষয়ে প্রথম প্রস্তাব হয়েছিল  স্যাডলার কমিশন-এর সুপারিশে (১৯১৭-১৯)। তবে অবিভক্ত বাংলায় এ-প্রস্তাব কার্যকর হয় নি। একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানাভুক্ত ঢাকা মিউনিসিপ্যাল এলাকা।

Education.jpg

ইস্ট বেঙ্গল সেকেন্ডারি এডুকেশন বোর্ড গঠিত হলে (East Bengal Secondary Education Board) বোর্ড মাধ্যমিক স্কুলগুলির অধিভুক্তি ও পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়। পরবর্তী পদক্ষেপ হলো ১৯৫৪ সালে স্কুল টেক্সট বুক বোর্ড গঠন। আরও পরে দেশের ছয়টি প্রশাসনিক বিভাগের জন্য বোর্ডটিকে ছয়টি ভাগে বিভাজন করে প্রতিটি বিভাগের জন্য একজন বিভাগ প্রধান করা হয়। সার্বিক ব্যবস্থাপনার, নামে মাত্র হলেও, কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ আজও অব্যাহত আছে। সরকারের অর্থায়ন পদ্ধতির ও নীতির ফলাফল হয়েছে নেতিবাচক; স্থানীয় সমাজ নিজেদের গড়া প্রতিষ্ঠানের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। নীতিগতভাবে বিকেন্দ্রীকরণ গৃহীত হয়েছে, তবে প্রাথমিক শিক্ষার মতো অতোটা দৃঢ়তার সঙ্গে নয়। উভয় ক্ষেত্রেই এ নীতির অগ্রগতির তালমাত্রা বাঁধা রয়েছে প্রস্তাবিত ত্রি-স্তর বিশিষ্ট স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা বাস্তবায়নের তালমাত্রার সঙ্গে। স্কুলের অনুমোদন, পাঠ্য পুস্তকের যোগান, পরিদর্শন এবং সর্বোপরি দুটি পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনা, ১০ম শ্রেণির পর মাধ্যমিক, ১২শ শ্রেণির পর উচ্চমাধ্যমিক, এই দায়িত্ব ভাগ করে নেয় ৬টি বোর্ড।

প্রচলিত ব্যবস্থায়, এই পর্যায়ে দুটি পাবলিক পরীক্ষা, বিশেষত উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা, সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি সত্ত্বেও, ভবিষ্যৎ শিক্ষার গতি নির্ধারণ করছে। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার গুরুত্বই বেশি। কারণ এটা হলো উচ্চশিক্ষার প্রবেশদ্বার।

মাধ্যমিক শিক্ষার ব্যবস্থাপনা ও মান, দুটি প্রসঙ্গেই তীব্র সমালোচনা হয়েছে। বিস্তর সংখ্যায় আছে বেসরকারি স্কুল, যেখানে আছে উপযুক্ত শিক্ষক মন্ডলীর অভাব। এগুলির সরকারিকরণের কোন পরিকল্পনা নেই। বেসরকারি কলেজের ক্ষেত্রে এই নীতি ফলপ্রসূ না হওয়াও স্কুলের ক্ষেত্রে সরকারের এই অনীহা বোধগম্য। বেসরকারি স্কুল (ও কলেজ) শিক্ষকদের অব্যাহত দাবি, সরকারি স্কুল-কলেজ শিক্ষকদের সমান বেতন স্কেল, এ দাবি আংশিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের নীতি হলো সাধারণভাবে শিক্ষামানের মানোন্নয়নমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ ও বিশেষত বিজ্ঞান শিক্ষার প্রবর্তন ও উন্নয়ন লক্ষ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ। স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার মূল দুর্বলতাগুলি দিনে দিনে স্পষ্টতর হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বিফলতার উচ্চহার থেকে ধরা পড়েছে শিক্ষাদান ও শিক্ষাগ্রহণ, উভয়ক্ষেত্রেই যোগ্যতার অভাব। স্বভাবতই, বিদ্যমান পরিস্থিতি জন্ম দিয়েছে সকল পর্যায়ে ও সকল মহলে, সরকারি মহলেও, এক গুরুতর দুশ্চিন্তার।

১৯৫৯-এর কমিশনের প্রস্তাবানুযায়ী, ৮ম শ্রেণির পর পৃথক ধারার শিক্ষাক্রম প্রবর্তিত হয়েছিল। অভিন্ন ধারার মাধ্যমিক শিক্ষার প্রথাগত ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়েছিল। দৃশ্যত, মাধ্যমিক শিক্ষার স্বয়ম্ভরতা উপেক্ষিত হলো, বা সম্ভবত যে আট বছরব্যাপী প্রাথমিক স্তর প্রস্তাবেই ছিল, বাস্তবে পরিণত হয় নি, সেটাই অধিকাংশ পড়ুয়ার জন্য প্রান্তিক শিক্ষা ধরে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু যেহেতু কোন স্পষ্ট ও বিস্তারিত শিক্ষানীতি ঘোষিত হয় নি, বিভিন্ন ধারার প্রবর্তনে এক খন্ডিত পাঠক্রম থেকে উদ্ভূত হলো এক শ্রেণির শিক্ষিতের, যারা প্রকৃত শিক্ষার অনেক মৌলিক বিষয়ে তেমন কিছুই শেখেনি।

বাংলাদেশ পর্যায়ে ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম কমিটি’ (National Carriculaum Committee, 1976-78) এই ত্রুটির সংশোধনের লক্ষ্যে একটি অভিন্ন ধারার মাধ্যমিক শিক্ষাক্রম ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব করেছিল। এর বাস্তবায়নে একটা অসুবিধা দেখা দিল গ্রাম ভিত্তিক স্কুলে বিজ্ঞান শিক্ষা প্রবর্তন করা। বিজ্ঞান, গণিত ও ইংরেজির পঠন-পাঠন গ্রামের অধিকাংশ স্কুলে যোগ্যতার সঙ্গে সম্পন্ন হয় না। এর ফলে পরবর্তী স্তর, উচ্চশিক্ষার ওপর পড়ে এর ক্ষতিকর প্রভাব। অতীতে অনেক শিক্ষা-সংস্কারমূলক চিন্তা বিফল হয়েছে দুটি কারণে: কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকারের সংকল্পে দৃঢ়তার অভাব ও সম্পদের অপ্রতুলতা। কিভাবে আট বছরব্যাপী প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তনের পর, অভ্যন্তরীণ ও আন্ত-প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় সাধিত হবে, তা এ মুহূর্তে অনুমান সাপেক্ষ। এক্ষণে, কোথাও মাধ্যমিকের শেষ দুবছর স্কুলের কাজ, কোথাও তা ৪ বৎসরের কলেজে নিম্নস্তরের কাজ, অথবা এ দুটি শ্রেণি নিয়েই চালু রয়েছে ইন্টারমিডিয়েট কলেজ। এই ইন্টারমিডিয়েটকে স্যাডলার কমিশন দেখেছিল একটা মধ্যবর্তী স্যান্ডউইচ কোর্স হিসেবে, যা ম্যাট্রিকুলেশন/এনট্রান্স পর্ব শেষ করার পর ভালো ছাত্রদের জন্য, ডিগ্রি অভিসারীদের জন্য প্রস্ত্ততির কাল। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, অধিকাংশ ছাত্রের জন্য ম্যাট্রিকুলেশন প্রান্তিক পরীক্ষা নয়। পরবর্তী সময়ের চিন্তায় এই মধ্যবর্তী স্তরটি ১১শ-১২শ শ্রেণি মাধ্যমিকেরই অংশ বিবেচিত হয়েছে। নতুন নামে এর পরিচয় উচ্চমাধ্যমিক। এখন যেটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, তা হলো শিক্ষা-কাঠামোর পুনর্বিন্যাস হলে বর্তমান ডিগ্রি কলেজের নিচের দুটি ক্লাস উঠে যাবে, স্কুলের হবে ঊর্ধ্বমুখী উন্নয়ন, ১১শ-১২শ শ্রেণির সমন্বয়ে। স্কুলের প্রাথমিক অংশটি উঠে যাবে। আর এই যোগ-বিয়োগ কর্মের সঙ্গেই জড়িত থাকবে আরও একটি মাত্রা শিক্ষকমন্ডলীর পুনর্গঠন।

বর্তমানে মাধ্যমিক শিক্ষার একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সমতা, যথাযথ মান ও সচলতা বজায় রাখার জন্য সাধারণ মাধ্যমিক শিক্ষা, বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং মাদ্রাসা শিক্ষাকে (দাখিল, আলিম পর্যায়) একটি একক পদ্ধতির আওতায় আনয়ন। পাকিস্তান আমলের চারটি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডকে পুনর্বিন্যস্ত করে বর্তমানে সারা দেশে সাতটি শিক্ষা বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের আওতায় ইসলামী শিক্ষা এবং কারিগরী শিক্ষা বোর্ডের আওতায় বৃত্তিমূলক শিক্ষা নিয়ন্ত্রিত করা হচ্ছে। এছাড়া ২০১০ সালে অনুমোদিত নতুন শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত এক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ পরিকল্পনার আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে পর্যায়ক্রমে অষ্টমশ্রেণি পর্যন্ত এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলিতে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পাঠদানের ব্যবস্থা চালু করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। নতুন শিক্ষানীতি অনুযায়ী বাংলাদেশের শিক্ষার স্তর তিনটি। প্রাইমারি, সেকেন্ডারি ও উচ্চ শিক্ষা। প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ পাঁচ বছর, সেকেন্ডারি শিক্ষার মেয়াদ সাত বছর। এ পর্যায়ে রয়েছে তিন বছরের জুনিয়র সেকেন্ডারি, দুই বছরের সেকেন্ডারি এবং দুই বছরের উচ্চ মাধ্যমিক বা হাইয়ার সেকেন্ডারি শিক্ষাকোর্স। অর্থাৎ ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত জুনিয়র সেকেন্ডারি পর্যায়ের ছাত্ররা সমাপনি পরীক্ষার মাধ্যমে সেকেন্ডারি পর্যায়ে উত্তীর্ণ হবে।

উচ্চ শিক্ষা  ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের পূর্ব খন্ডে (পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তান) যে উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে যাত্রাশুরু, উনিশ শতকে তার গোড়াপত্তন ঘটে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ভুক্ত সকল কলেজে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবর্তিত পাঠ্যক্রম অনুসৃত হয়েছে, ছাত্ররা ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবর্তিত পরীক্ষায় বসেছে এবং তার দেওয়া ডিগ্রি নিয়ে বেরিয়ে এসেছে। পূর্ব পাকিস্তানের ভৌগোলিক সীমানায় যে একটি মাত্র বিশ্ববিদ্যালয় পড়েছিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, তার কার্যক্রম সীমাবদ্ধ ছিল ঢাকা পৌরসভার সীমানার মধ্যে। এর বাইরে সারা দেশের সম্পূর্ণ উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাই যুক্ত ছিল যে বৃহত্তর ব্যবস্থার সঙ্গে, তার শীর্ষ অবস্থানে ছিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়।

দেশ বিভাগের কারণে এই অধিভুক্তির দায়িত্ব পালনকারীর ব্যাপক ভূমিকা বর্তায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর। ঢাকার সমস্যা ছিল অনেক। জন্ম থেকেই ঢাকা একটি এককেন্দ্রিক (Unitary) ও শিক্ষাপ্রদায়ী (Teaching) বিশ্ববিদ্যালয় পরিচয় নিয়ে চলেছে। এর দূরবর্তী মডেল ছিল অক্সফোর্ড ও কেম্ব্রিজ। এর আবাসিক হলগুলি ছিল অক্সফোর্ড-কেম্ব্রিজের কলেজের অনুকৃতি। এর ৩ বছরব্যাপী অনার্স কোর্সও ওই দুটি মডেল থেকে ধার করা। এর টিউটোরিয়াল ব্যবস্থাও ছিল ওদের প্রচলিত টিউটোরিয়ালের ছকে তৈরি। সংক্ষেপে, শিক্ষাগত ও কাঠামোগত, উভয়তেই, অর্ধশতাধিক বছর পূর্বেকার লন্ডনের মডেলে গঠিত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকার পার্থক্য ছিল স্পষ্ট। এখন ঢাকার সমস্যা হলো দুটি ব্যবস্থার মধ্যে সামঞ্জস্যবিধান করা। বাস্তব বিবেচনায় কলেজগুলিকে তাদের পূর্ব প্রচলিত কোর্স নিয়ে চলতে দেওয়া ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আর কোন বিকল্পপন্থা ছিল না। কলেজে বজায় রইল ২ বছর মেয়াদী পাস ও অনার্স কোর্স। বিশ্ববিদ্যালয়ে বহাল রইল ৩ বছর মেয়াদী অনার্স কোর্স।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়  প্রদেশের দ্বিতীয় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয় ১৯৫৪ সালে, রাজশাহী শহরে; তৃতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৬৫ সালে, চট্টগ্রামে, শহর থেকে কিছুটা দূরে। উভয় বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকার দৃষ্টান্তে ৩ বছরের অনার্স ও ১ বছরের স্নাতকোত্তর কোর্স গ্রহণ করে। তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ই কলকাতার ২ বছরের অনার্সকে ৩ বছরে উন্নীত করে অন্তত অনার্স ধারাকে এক জায়গায় মিলাতে সচেষ্ট হয়। এর ফলে দারুণ চাপ পড়ে সেই কলেজগুলির ওপর, যারা দীর্ঘকাল কলকাতার অধীনে ও পরবর্তী সময়ে কিছুকাল ঢাকার অধীনে ২ বছরের অনার্স কোর্স চালু রেখেছিল। এই চাপের কারণে কোন কোন কলেজ অনার্স কোর্স বন্ধ করে দেয়, যারা চালু রাখে তারা বেসামাল হয়ে পড়ে, তবে হাল ছাড়ে না।

রাজশাহী ও চট্টগ্রামের নতুন বিশ্ববিদ্যালয় দুটি সাংগঠনিকভাবে প্রধানত ঢাকার অনুগামী হয়। ঢাকা এতদিনে পূর্ব চরিত্র হারিয়ে পরিণত হয়েছে মিশ্রচরিত্রের প্রতিষ্ঠান, একাধারে শিক্ষাপ্রদায়ী ও অধিভুক্তির দায়িত্ব পালনকারী বিশ্বদিল্যালয়ে। একই মিশ্রচরিত্র নিয়ে রাজশাহী ও চট্টগ্রাম ঢাকার সঙ্গে যুক্ত হয়। এ ছাড়াও, দুটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজস্ব বিস্তৃত ক্যাম্পাস গঠনের গুরু দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে চলে। ক্যাম্পাসে থাকবে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আবাসিক হল, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক বৃহদংশের জন্য আবাসন ব্যবস্থা। ঢাকাকে এই জন্মযন্ত্রণা সইতে হয় নি, যেহেতু একটা তৈরি ক্যাম্পাস নিয়েই তার যাত্রা শুরু হয়েছিল। এ সৌভাগ্য অন্যদের হয় নি। তাদের শুরু করতে হয়েছে শূন্য থেকে।

পাকিস্তান পর্বের (১৯৪৭-৭০) শেষ দিকে প্রদেশে আরও দুটি বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রাশুরু করে: ময়মনসিংহে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬১) ও ঢাকায় ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনলজি (১৯৬২)। দ্বিতীয়টি একেবারে নতুন নয়, পূর্বতন আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের উন্নীত রূপ।

পাকিস্তান পর্বের এই বছরগুলিতে বিশ্ববিদ্যালয় ও সাধারণ শিক্ষা এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষাভিত্তিক কলেজসমূহের সমন্বয়ে উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থার বিকাশ ঘটে। এই বিকাশ ছিল যতোটা রৈখিক (Linear) ততোটা উল্লম্ব (Vertical) নয়।

আইয়ুব শাসনের দশকে দুটি কমিশন কমিশন অন ন্যাশনাল এডুকেশন (১৯৫৯) ও কমিশন অন স্টুডেন্ট প্রবলেম্স অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার (১৯৬৪-৬৬), বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে সচেতনতার সাক্ষর রেখেছিল। প্রথমটা ছিল সামরিক শাসন-সুলভ সংস্কার চিন্তাভাবনা উৎসাহের ফলশ্রুতি। শরীফ কমিশন (CNE-র সমধিক প্রচলিত নাম) রিপোর্টে উচ্চ শিক্ষা সম্পর্কিত অধ্যায়টি ছিল দীর্ঘতম, ৪৬ পৃষ্ঠা। মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য বরাদ্দ ছিল ৩৬ পৃষ্ঠা। আর প্রাথমিক শিক্ষার জন্য মাত্র ৬ পৃষ্ঠা। এই ভারসাম্যহীনতা অর্থবহ।

পূর্ব পাকিস্তানে বহুলভাবে নিন্দিত হলেও CNE উচ্চ শিক্ষার এই বিষয়গুলির উপর কিছু প্রণিধানযোগ্য কথা বলেছে ও শিক্ষার একটি বিশিষ্ট পর্যায় পরিচয়ে উচ্চশিক্ষা, যা ইন্টারমিডিয়েটের ঝামেলামুক্ত; ডিগ্রি পাস ও অনার্সের মেয়াদ ৩ বছরে বর্ধিতকরণ; ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব ও সে উদ্দেশ্যে প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনস্টিটিউট অব মডার্ন ল্যাংগুয়েজস গঠন; পরীক্ষা ব্যবস্থা ও অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন; গবেষণা; শিক্ষকের কাজ ও শিক্ষক নির্বাচন নিয়োগ ও পদোন্নয়ন; ছাত্র কল্যাণ ও শৃংখলা; বিশ্ববিদ্যালয় উপযোগী এক অজটিল প্রশাসনিক কাঠামো। এরই পরিণতি হিসেবে আসে ইউনিভার্সিটি অর্ডিন্যান্সসমূহ (১৯৬১) ও ভবিষ্যতে কোন এক সময়ে গঠিতব্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের পূর্ব পূর্বাভাস।

CNE রিপোর্টটি সুলিখিত। এর একটা ত্রুটি, ঢালাও মন্তব্যের প্রবণতা, মন্তব্যের সমর্থনে তথ্য উপাত্ত পরিবেশনে ব্যর্থতা। এটি প্রকাশের পর এর বেশ কিছু সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল: (i) ডিগ্রি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট অংশ বিচ্ছিন্ন করা এবং পূর্ব পাকিস্তানে প্রক্রিয়াটি শুরু হয় সরকারি কলেজ দিয়ে; (ii) ৩ বছর মেয়াদী পাস কোর্স প্রবর্তিত হয়, যার মধ্যে ভাষা শিক্ষা গুরুত্ব পায়; (iii) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, পুরানো বিশ্ববিদ্যালয় আইন রদ করে সেস্থলে নতুন অর্ডিন্যান্স প্রবর্তিত হয় (১৯৬১)।

বেশ কিছু সুপারিশ ছিল ব্যাপক সংস্কারমুখী ও বিতর্কিত। কিন্তু কৌশলে, সরকারি নির্দেশে ও গোপন সার্কুলারে তর্ক-বিতর্কের দ্বার রুদ্ধ করা হয়। পাবলিক ডিবেট-এর কোন সুযোগ থাকে না।

রিপোর্টের মূল সুর ছিল অতিমাত্রায় নির্দেশনাপূর্ণ। এ ছাড়া ৩ বছর মেয়াদী পাস কোর্স নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে, শিক্ষাঙ্গনে ও বাইরে সরকারের প্রতি বিরূপতার দ্রুত বিস্তার ঘটে। পূর্ব পাকিস্তানে ইতোমধ্যেই যে অসন্তোষ ধূমায়িত হচ্ছিল তা অগ্নিশিখায় পরিণত হয়। ফলে, উপরে উল্লিখিত দ্বিতীয় কমিশন গঠিত হলো। সভাপতি বিচারপতি হামুদুর রহমান, যিনি ইতঃপূর্বে নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদাভিষিক্ত ছিলেন। অন্য ৩ জন সদস্য সকলেই ছিলেন সাংবিধানিক পদাধিকারী। শিক্ষাবিদ কেউ নন। তবে যখন কাজী আনওয়ারুল হক ভিন্ন দায়িত্বে চলে গেলেন তখন তাঁর শূন্য আসনে যোগ দিলেন ড. মমতাজ উদ্দীন আহমেদ। ৪ সদস্যের কমিশনে একমাত্র শিক্ষাবিদ।

ছাত্র অসন্তোষ কিছুদিন যাবৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করছিল এবং দিনে দিনে ক্যাম্পাসসমূহ প্রচন্ড বিক্ষোভের রূপ গ্রহণ করছিল। এর উৎস সন্ধান করতে গিয়ে কমিশন নজর দিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়ক বৃহত্তর প্রসঙ্গের প্রতি। এই কাজ করতে গিয়ে কমিশনের মনে হলো, পূর্ববর্তী কমিশনের কোন কোন সুপারিশ সবিশেষ আদেশাত্মক, যা যুক্তিসিদ্ধ নয়। ছাত্রদের অভিযোগ ছাড়াও শিক্ষকদের অভিযোগও বিবেচনায় আনে কমিশন। পূর্ববর্তী কমিশন যে সুনির্দিষ্ট কাজের সময় বেঁধে দিয়েছিল, তার প্রয়োজনীয়তা দেখা গেল না। একই সময়ে শৃংখলা বিষয়ক নীতিমালার সমর্থন করা হলো এই বিবেচনায় যে, এর মধ্যেই আছে শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা। এতে অ্যাকাডেমিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হয় না এবং শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদারও হানি হয় না।

কমিশনের কার্যকালে, সেপ্টেম্বর ১৯৬৫-তে, পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে এক সশস্ত্র সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষটি মাত্র ১৭ দিন স্থায়ী হলেও এর ফলে রাষ্ট্রের ভিত্তিমূল কেঁপে ওঠে। তাসখন্দ চুক্তি সাক্ষর ও যুদ্ধবিরতির পর সারা দেশে এক রাজনৈতিক আন্দোলনের সৃষ্টি হয়। পাকিস্তানের দুই খন্ডেই ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রেসিডেন্ট আইয়ুবের পতন ত্বরান্বিত হয়। ফলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা করায়ত্ত হয় জেনারেল ইয়াহিয়ার ও কিছুদিনের জন্য ফিরে আসে রাজনৈতিক সুস্থিরতা। একজন এক ভোট, এই ভিত্তিতে দেশ যখন অপেক্ষা করছে সাধারণ নির্বাচনের, তখনই এয়ার ভাইস-মার্শাল নূর খানকে দেয়া হলো একটি নতুন শিক্ষা নীতি প্রণয়নের দায়িত্ব।

নয়া শিক্ষানীতি (The New Educational Policy, 1969) ছিল সংক্ষিপ্ত অথচ সুস্পষ্ট, ইতিবাচক চিন্তায় সমৃদ্ধ ও এর মধ্যেই ছিল একটি সংস্কারমূলক বিশ্ববিদ্যালয় আইনের রূপরেখা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে শিক্ষকদের পূর্ণ অংশগ্রহণ, সিনেটের পুনর্বাসন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন গঠন (যা NEP কেবল আভাসে চেয়েছিল ও CSPW/হামুদুর রহমান কমিশন পাশ কাটিয়ে গিয়েছিল)-এ সবই ঠাঁই পেল NEP-র সুপারিশ মালায়। রিপোর্টটি মূল্যবান এ জন্য যে, এর সুর ইতিবাচক এবং এর মধ্যেই ১৯৭৩-এর বিশ্ববিদ্যালয় আইনের পূর্বাভাস রয়েছে।

স্পষ্ট দৃষ্টিতে, জাতীয় ইতিহাসের এই পর্বে উচ্চশিক্ষা বিষয়ে কোনরূপ সুষ্ঠু অগ্রগতির সংবাদ মেলেনা। অংশত এজন্য দায়ী রাজনৈতিক অস্থিরতা। সামরিক শাসনামলে জাতীয় সম্পদের অপচয় হয়েছে সামরিক ব্যয়ে, মানব সম্পদ উন্নয়নের বিনিময়ে। গণশিক্ষা ও দারিদ্র্য বিমোচনকে দারুণভাবে উপেক্ষ করা হয়েছে। ফলে, যখন ১৯৭১-এর শেষে পূর্ব পাকিস্তান জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ নামে দেখা দিল, তখন এর যাত্রারম্ভে পেল এক বিধস্ত অর্থনীতি ও এক বিপর্যস্ত শিক্ষা-ব্যবস্থা।

স্বাধীন বাংলাদেশে শিক্ষার প্রশ্নে সূচনাপর্ব ছিল উৎসাহজনক। ওই সময়ে বিদ্যমান প্রাথমিক বিদ্যালয় সংক্রান্ত জাতীয়করণ আদেশের উলে­খ পূর্বেই করা হয়েছে। শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টের জন্য সরকার অপেক্ষা করে নি। বিশ্ববিদ্যালয় মহলের অ্যাকাডেমিক আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিল সরকার। ১৯৬১-র ঘৃণিত বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডিন্যান্স-এর জায়গায় এলো একগুচ্ছ নতুন আইন, যেগুলি ছিল ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রণীত। একই সময়ে প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডার, ১৯৭৩-এর মাধ্যমে ঘোষিত হলো বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের জন্মের কথা।

এ সময়ে আরও গঠিত হয় ড. কুদরাত-এ-খুদার সভাপতিত্বে বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন। কমিশনের রিপোর্ট (মে, ১৯৭৪) এ দেশের শিক্ষা ভাবনার ইতিহাসে একটি মাইল ফলক। এই দলিলের কুলক্ষণ হলো আদর্শবাদ ও বাস্তবতাবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত উচ্চাশা। এর মধ্যে আছে সকল মাত্রায় পুনর্গঠন পর্যায়ে জাতীয় শিক্ষা বিষয়ে একটি স্বল্পমেয়াদী ও একটি দীর্ঘ মেয়াদী দৃশ্যপট। এর সকল প্রত্যাশা ও সকল ভবিষৎ ভাবনা সত্যে পরিণত হয় নি। কিন্তু সেজন্য এর স্থায়ী মূল্য কমে নি, কারণ এর মধ্যেই এক জায়মান রাষ্ট্রের শিক্ষাবিষয়ক স্বপ্ন সংরক্ষিত রয়েছে।

এই রিপোর্ট এর পুঙ্খানুপুঙ্খতা সত্ত্বেও, উচ্চশিক্ষাবিষয়ক কয়েকটি প্রশ্নে বিস্ময়করভাবে নীরব। অ্যাক্টের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলো অনেকটা সাবেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইনের অনুসরণে এবং মঞ্জুরী কমিশনের যাত্রারম্ভ হলো, এই স্বায়ত্তশাসনের নিশ্চয়তা বিধান করবে, এই প্রতিশ্রুতি নিয়ে।

১৯৮৬ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পাঠ কার্যক্রম শুরু করার পূর্ব পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাবৃদ্ধি হয় নি। যদিও এই মধ্যবর্তী বছরগুলি একেবারে নিষ্কর্মা ছিল না। ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি ছিল বাড়বাড়ন্ত। ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম- এর সঙ্গে অধিভুক্ত কলেজগুলিও সংখ্যায় ও আকার-আয়তনে বৃদ্ধি পেতে থাকে। উভয় ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির ছিল দুটি দিক ইতিবাচক ও নেতিবাচক। ইতিবাচক, কারণ এর মধ্যেই প্রকাশ পায় উচ্চশিক্ষা বিষয়ে জাতির আকাঙ্ক্ষা, নতুন নতুন কলেজ প্রতিষ্ঠার পিছনে যা বেগ সঞ্চার করেছিল। এর ফলে আবার বহু সদ্যোজাত কলেজকে স্বীকৃতিদানের জন্য চাপ সৃষ্টি হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর; এগুলি ছিল শিক্ষক ও সরঞ্জাম, উভয় দিক দিয়েই দুর্বল, সেহেতু অ্যাকাডেমিক চাহিদাপূরণে অযোগ্য। এটা নেতিবাচক দিক।

উনিশ শতকের সত্তরের দশকের শুরুতেই সমস্যাটি শনাক্ত করেছিল শিক্ষাকমিশন। কমিশন শিক্ষাপ্রদায়ী বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে কলেজ অধিভুক্তির দায়মুক্ত করার কথা ভেবেছিল। কমিশনের প্রস্তাব ছিল ৪টি কেবলমাত্র অধিভুক্তির দায়িত্বপালনকারী (অ্যাফিলিয়েটিং) বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, যারা কলেজসমূহের ব্যাপারে দায়বদ্ধ থাকবে। এ প্রস্তাব কার্যকর না হতেই ১৯৯২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়। সত্তর ও আশির দশকে উচ্চশিক্ষার প্রসার ঘটে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের তুলনায় দ্রুততর বেগে। এটা হলো প্রকৃত ও সংখ্যাতাত্ত্বিক হিসাব। কিন্তু পরিসংখ্যানই এ ক্ষেত্রে শেষ কথা নয়।

স্বাধীনতার পর সরকারি পর্যায়ে আরও ৫টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছে  ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৮৬; শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট ১৯৯০; খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৯০; বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৯২ ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়১৯৯২।

প্রথম তিনটি প্রতিষ্ঠার পেছনে একটি প্রচলিত ধারণা কার্যকর ছিল:  বিশ্ববিদ্যালয় একটি জনবহুল দেশের এক বৃহৎ অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য পূরণে নিবেদিত এক আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান; সেই অঞ্চলের সকল ডিগ্রি কলেজের সমন্বয়কারী শীর্ষ প্রতিষ্ঠান। রাজশাহী ও চট্টগ্রামের দুটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছিল এই নীতির উপরে। একই পন্থায় এলো সিলেটের শাহজালাল ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অবশ্য একটি আলাদা ইতিহাস আছে। খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তিমূলক দায়িত্বের ইতি ঘটে।

১৯৭৪-এর কমিশনের রিপোর্টের মূল প্রস্তাব, ৪টি অধিভুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৮৮-র রিপোর্টে ২টিতে নামিয়ে আনা হয়। ১৯৯২-এ শেষ পর্যন্ত এটি পরিণত হয় ১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ন্যাশন্যাল ইউনিভার্সিটি অ্যাক্টে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর সকল বিশ্ববিদ্যালয় পরিণত হয় এক কেন্দ্রিক (ইউনিটারী) প্রতিষ্ঠানে, যা ছিল বহু দিনের ও বহুজনের লালিত স্বপ্ন।

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনা হয়েছিল শিক্ষা প্রশিক্ষণের সীমিত ও করেসপন্ডেন্স কোর্স প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে। পরবর্তীকালে এই ধরনের ও বৃহত্তর পরিধি নিয়ে কোর্স প্রবর্তনের পথে অগ্রসর হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়। আগে থেকেই প্রতিবেশী দেশগুলিতে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় চালু থাকায় সেগুলি মডেলের কাজ করেছিল এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে বেতনের বিনিময়ে পূর্ণকালীন ছাত্রত্ব গ্রহণ ছাড়াই তা দিতে পারে সকল বয়সের অগণিত নারী-পুরুষকে ডিগ্রি স্তরের শিক্ষা। এর একটি বিশেষ আবেদন আছে বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত দেশে, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যেই যথেষ্ট সাফল্য অর্জন করেছে। শুরু করেছিল ডিপ্লোমা/ডিগ্রিস্তরের কার্যক্রম দিয়ে। এর পর সাহসের পরিচয় দেয় মাধ্যমিক (SSC) কার্যক্রম শুরু করে। ছাত্র সংখ্যায় উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এখন সবার শীর্ষে। এখন প্রয়োজন দেখা দিয়েছে তুলনামূলক মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রবর্তনের। বিভিন্ন কোর্স ও প্রতিষ্ঠানের আপেক্ষিক মান নির্ণয়ের জন্য। এই প্রয়োজন আরও বেড়েছে, যেহেতু নতুন দুটি বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় ও উন্মুক্ত এখন এত বৃহৎ পরিসরে এবং এমন এক পরিস্থিতির কাজ করছে যে, এর ফলে মান সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়  ১৯৮০-র দশকেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গ গুরুত্ব পায়। বিবাদমান দলগুলির মধ্যে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে সংঘাত ও সংঘর্ষ, ঘন-ঘন অনির্ধারিত বন্ধ ও তজ্জনিত সেশন-জট, এ পরিস্থিতির আশু অবসান হবে, তেমন ভরসা মিলছিল না। উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা, যারা পেরেছেন, ছেলেমেয়েকে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন, সবচেয়ে অধিক সংখ্যায় এরা গিয়েছে ভারতে ও আমেরিকায়।

অবস্থা যখন এ রকম, তখন দেশের মধ্যেই এক বিকল্প ব্যবস্থার কথা অনেকেই ভাবতে থাকেন। উদ্দেশ্য, এমন এক উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা, যা হবে প্রচলিত উপনিবেশিক সময়ে প্রবর্তিত ব্রিটিশ মডেলের স্থলে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডায় প্রচলিত পদ্ধতির অনুরূপ। মডেল পরিবর্তনেই এর শেষ নয়, মূল ধারার উচ্চশিক্ষা, যা ছিল গণমুখী ও নিম্নাকাঙ্ক্ষী, এটা ব্যবস্থাপনার দিক দিয়ে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছিল। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নততর ব্যবস্থাপনার প্রতিশ্রুতি ছিল। এগুলি উচ্চ হারে বেতন দাবি করেছে, তবে ক্ষতিপূরণ করেছে নির্দিষ্ট সময়ে ফল দিয়ে। এর শিক্ষাক্রমিক ভিত্তি ছিল সংকীর্ণ। বর্তমানে ১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কোর্সগুলি চালু রয়েছে সেদিকে দৃষ্টিপাত করলেই এর একপেশে চরিত্র ধরা পড়বে; কিছু বাণিজ্যবিষয়ক কোর্স, কম্প্যুটার ইঞ্জিনিয়ারিং, ইংরেজি, পরিবেশ বিদ্যা ইত্যাদি। সংক্ষেপে, এ যাবৎ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য, বাজারের কিছু উচ্চ বেতনের দাবিদার তরুণ কর্মকর্তা তৈরির জন্য শিক্ষা। যে সংকীর্ণ কর্মসূচি নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলি চলছে, তার মেয়াদ দীর্ঘস্থায়ী হলে এদেশের জন্য তা ক্ষতিকর হবে।

ইতোমধ্যে প্রায় এক দশকের কার্যক্রমের পর বলা যায় যে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রভাব পড়েছে মূল ধারার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর। এর একটি দৃষ্টান্ত হলো, এরা এখন ওদের অনুসরণে ৪ বছরের ডিগ্রি কোর্সের দিকে ঝুঁকেছে। এ মুহূর্তে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গোষ্ঠীর অবস্থান হলো, একটি প্রধান ব্যবস্থার প্রান্তবর্তী একটি অপ্রধান ব্যবস্থা। ইচ্ছায় হোক বা অবস্থার গতিকেই হোক, এগুলি এখনও নিজেদের মধ্যেই নিজেদের গুটিয়ে রেখেছে। মঞ্জুরী কমিশন বা বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ এদেরকে সদস্যভুক্ত করেনি। কৌতূহলের বিষয় এই যে, ইউ.জি.সি-র অনুমোদন ক্রমেই এগুলি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, ও ইউ.জি.সি-র আরোপিত কয়েকটি মৌলিক নিয়ম মেনে চলা এদের জন্য বাধ্যতামূলক। ১৯৯২-এর আইনই দিয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সুযোগ, কিন্তু এই আইন ব্যতিক্রমী। পরীক্ষামূলক কাজের প্রশ্নে অত্যন্ত সতর্ক। কিন্তু নতুনের প্রবর্তনীয় ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম ব্যতিরেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এর নামের অপলাপ মাত্র।

একটা শিক্ষাব্যবস্থা পর্যায়ক্রমিকভাবে গড়ে উঠেছে, যার সূত্রপাত হয়েছিল পরাধীনতার কালে। শতাব্দীকাল এর অবয়বে ছিল বৈদেশিকতার ছাপ। ধীরে ধীরে স্বজাতীয় ও প্রাচ্যদেশীয় উপাদানসমূহ স্থান পেয়েছে এর শিক্ষাক্রমে। ইংরেজির আধিপত্যের জায়গায় জনগণের ভাষা বাংলার ভূমিকা বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও ইংরেজির আবশ্যকতাও স্বীকৃত হয়ে আছে। গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো জাতীয় শিক্ষার সঠিক দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রের সম্মতি। সরকারি সেক্টরের পাশাপাশি একটি বেসরকারি সেক্টর এখনও আছে, বিশেষত মাধ্যমিক স্তরে। কিন্তু এ স্তরেও সরকারের অংশিদারিত্ব বেড়ে চলেছে এবং ক্রমেই অধিকতর অর্থবহ হয়েছে। উচ্চশিক্ষাঙ্গনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবির্ভাব একটা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এটা এবং আরও কিছু নতুনত্ব থেকেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, ব্যবস্থাটি কোনক্রমেই সুস্থ নয়। এক অন্তঃশীল গতিশীলতা কাজ করে চলেছে, যার প্রকাশ ঘটছে শুধু ভাবের ও চিন্তার স্তরে নয়, সংস্কার ও পরীক্ষামূলক কাজের স্তরেও। এ মুহূর্তে এ এক সাধারণ প্রত্যয় যে, একটি স্বাধীন জাতির সার্থকতা অর্জনের একমাত্র পথ শিক্ষা। ( সংগৃহীত)

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
লাইলী আক্তার
০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ

লাইক এবং পূর্ণ রেটিংসহ শুভকামনা রইল। আমার এই সপ্তাহের কনটেন্ট ৫ম শ্রেণির English বিষয়ের Happy Birthday, Unite: 15 কনটেন্টটি দেখবেন এবং মতামত ও রেটিং দিবেন।