১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। মায়ের ভাষাকে রক্ষার জন্য রাজপথে আন্দোলন হয়।,।।

আবদুল্লাহ আল- মামুন ২০ ফেব্রুয়ারি ,২০২০ ৭১৯ বার দেখা হয়েছে ১০ লাইক ২০ কমেন্ট ৪.৬০ (১০ )

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। মায়ের ভাষাকে রক্ষার জন্য রাজপথে আন্দোলন হয়। পাকিস্তানি সরকারি বাহিনীর গুলিতে প্রাণদান করে বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা। সালাম-বরকত-রফিক-শফিক-জব্বার আরও কত নাম না-জানা সেসব শহীদের আত্মত্যাগে আমরা ফিরে পাই আমাদের প্রাণের ভাষা বাংলা। জাতিসংঘের স্বীকৃতির ফলে একুশে ফেব্রুয়ারি আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে সারা বিশ্বে। একুশে ফেব্রুয়ারি কী করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হলো সেই গল্পই তোমাদের জন্য—

 

আমাদের বাংলা ভাষার জন্য এক দারুণ ব্যাপার ঘটল সেদিন। দিনটি ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ইউনেসকোর ৩০তম অধিবেশন বসে। ইউনেসকোর সেই সভায় একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব পাস হয়। ফলে পৃথিবীর সব ভাষাভাষীর কাছে একটি উল্লেখযোগ্য দিন হিসেবে একুশে ফেব্রুয়ারি স্বীকৃতি পায়। বিশ্বের দরবারে বাংলা ভাষা লাভ করে বিশেষ মর্যাদা। ঠিক পরের বছর ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে পৃথিবীর ১৮৮টি দেশে এ দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন শুরু হয়।

একুশে ফেব্রুয়ারি বিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পেছনের ঘটনা জানতে হলে আমাদের একটু পেছনে ফিরে তাকাতে হবে। মহান ভাষা আন্দোলনের দিন হিসেবে একুশে ফেব্রুয়ারি প্রতিবছরই মর্যাদার সঙ্গে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে পালিত হয়ে আসছে। এমনকি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং ত্রিপুরা রাজ্যে ‘বাংলা ভাষা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে এই দিনটি।

২১ ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করার আগেদিনটি মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে দাবি শোনা যায়। তবে এ বিষয়ে প্রথম সফল উদ্যোক্তারা হলেন কানাডার বহুভাষিক ও বহুজাতিক মাতৃভাষা-প্রেমিকগোষ্ঠী। এই গোষ্ঠী প্রথমে ১৯৯৮ সালের ২৯ মার্চ জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনানের কাছে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ নামে একটি দিবস ঘোষণার প্রস্তাব উপস্থাপন করে। সেখানে তাঁরা বলেনবাঙালিরা তাদের মাতৃভাষাকে রক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সেটা ছিল তাদের ভাষার অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। কাজেই মাতৃভাষা দিবসের দাবিটি খুবই ন্যায়সংগত।

মাতৃভাষা-প্রেমিকগোষ্ঠীর এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন সাত জাতি ও সাত ভাষার ১০ জন সদস্য। জাতিসংঘ মহাসচিবের অফিস থেকে এই পত্রপ্রেরকদের জানিয়ে দেওয়া হয়বিষয়টির জন্য নিউইয়র্কে নয়যোগাযোগ করতে হবে প্যারিসে জাতিসংঘের শিক্ষাবিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংগঠন ইউনেসকোর সঙ্গে।

এরপর প্রায় এক বছর পেরিয়ে যায়। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি ইউনেসকো। কানাডাপ্রবাসী বাঙালি আবদুস সালাম ও রফিকুল ইসলাম (যাঁরা মাতৃভাষা-প্রেমিকগোষ্ঠীর সদস্যএ বিষয়ে ইউনেসকোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করেন। প্রথমে টেলিফোনে এবং পরে চিঠিতে। ১৯৯৯ সালের ৩ মার্চ ইউনেসকো সদর দপ্তরের ভাষা বিভাগের কর্মকর্তা আন্না মারিয়া একটি চিঠিতে রফিকুল ইসলামকে  জানান২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার তোমাদের অনুরোধটি বেশ আকর্ষণীয় মনে হয়েছে।

কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার একজন কর্মকর্তার কাছে এই প্রথম বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়। আন্না মারিয়া আরও জানানবিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে উত্থাপনের কোনো সুযোগ নেইইউনেসকোর পরিচালনা পর্ষদের কোনো সদস্য রাষ্ট্রের মাধ্যমে সভায় এটি তুলে ধরা হবে।

রফিকুল ইসলামকে ইউনেসকো পরিচালনা পর্ষদের কয়েকটি সদস্য দেশের ঠিকানাও পাঠিয়ে দেন মারিয়া। এতে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতকানাডাফিনল্যান্ড ও হাঙ্গেরির নাম ছিল। ইউনেসকো সাধারণ পরিষদে বিষয়টি আলোচ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করতে হলে কয়েকটি সদস্য দেশের পক্ষে প্রস্তাব পেশ করা জরুরি। তখন হাতে সময় ছিল খুবই কম। কেননাঅল্প কয়েক দিনের মধ্যেই সাধারণ পরিষদের সভা বসবে।

কানাডা থেকে রফিকুল ইসলাম বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিষয়টি রাষ্ট্রের জন্য গর্বের বিষয় মনে করে মন্ত্রণালয় অতি দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর অফিসে অনুমতি চেয়ে নোট পাঠায়। বাংলাদেশ সরকারের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সময়স্বল্পতার বিষয়টি উপলব্ধি করেন। তিনি সব ধরনের জটিলতা উপেক্ষা করে নথি অনুমোদনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ছাড়াই ইউনেসকোর সদর দপ্তরে সরাসরি প্রস্তাবটি পাঠিয়ে দেন। ৯ সেপ্টেম্বর ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেসকো কমিশনের পক্ষে এর সচিব অধ্যাপক কফিলউদ্দিন আহমদের স্বাক্ষরিত সেই প্রস্তাবটি প্যারিসে পৌঁছায়।

তখন ইউনেসকোর নির্বাহী পরিষদের ১৫৭তম অধিবেশন এবং ৩০তম সাধারণ সম্মেলন ছিল। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের বিষয়টি নিয়ে ইউনেসকোতে দুটি সমস্যা দেখা দেয়। প্রথমতইউনেসকো ভেবেছিলএমন একটা দিবস পালন করতে গেলে বড় অঙ্কের টাকাপয়সা প্রয়োজন হবে। খরচের কথা ভেবে প্রথমেই প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। একই সঙ্গে ইউনেসকো মহাপরিচালক International Mother Language Day নয়, International Mother Tongue Day নামে একে পরিচিত করতে চান। মহাপরিচালক এ জন্য এক লাখ ডলারের ব্যয় বরাদ্দের প্রস্তাব করেন এবং দুই বছর পর নির্বাহী পরিষদের ১৬০তম অধিবেশনে একটি সম্ভাব্যতা জরিপের মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরার আদেশ দেন।

এর ফলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার বিষয়টি আটকা পড়ে। প্রস্তাবটি কার্যকর হতে কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগবে বলে মনে করা হয়। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বাংলাদেশ সরকারের তত্কালীন শিক্ষামন্ত্রী এ এস এইচ কে সাদেক। তিনি ছিলেন ওই অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতা। তিনি অধিবেশনের বক্তব্যে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমি ও তাত্পর্য সবার সামনে তুলে ধরেন। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন দেশের শিক্ষামন্ত্রীদের সঙ্গে ঘরোয়া বৈঠক করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের পক্ষে জনমতও গড়ে তুলতে চেষ্টা করেন। এমনকি উপস্থিত সদস্যদের বোঝাতে সক্ষম হনদিবসটি পালন করতে প্রকৃতপক্ষে ইউনেসকোর এক ডলারও লাগবে না। পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষাভাষীর মানুষ নিজেরাই নিজেদের মাতৃভাষার গুরুত্ব আলোচনা ও জয়গান গাইতে গাইতে দিনটি পালন করবে।

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
শ্রী প্রদীপ চন্দ্র দাস
২৫ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ০৮:২৯ অপরাহ্ণ

very informative writing,thanks a lot


মোঃ নুরুল ইসলাম
২৫ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ০৫:১৩ অপরাহ্ণ

লাইক এবং রেটিংসহ শুভ কামনা রইল। আমার কন্টেন্টগুলো দেখে রেটিং, লাইক ও কমেন্ট দেয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ রইল।


মো: তৌহিদুল ইসলাম
২৫ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ

ধন্যবাদ, স্যার।


আকলিমা আক্তার
২৫ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ

অভিনন্দন স্যার সময় উপয্যোগী বিষয় উপস্থাপন করার জন্য।


কামরুল হাসান আহমেদ
২৪ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ০৭:৫৮ অপরাহ্ণ

চমৎকার লেখা ।


আবদুল্লাহ আল- মামুন
২৪ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ১১:২৪ অপরাহ্ণ

ধন্যবাদ


শওকত হোছাইন
২৩ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ

চমৎকার! তথ্যবহুল লেখা তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ।


আবদুল্লাহ আল- মামুন
২৪ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ১১:২৩ অপরাহ্ণ

ধন্যবাদ


মীর্জা মোঃ মাহফুজুল ইসলাম
২৩ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ০৮:০৯ পূর্বাহ্ণ

পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভ কামনা ।


আবদুল্লাহ আল- মামুন
২৪ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ১১:২৩ অপরাহ্ণ

ধন্যবাদ


Md Shofiqul Islam
২১ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ০৮:১৪ অপরাহ্ণ

Thanks


আবদুল্লাহ আল- মামুন
২৪ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ১১:২৩ অপরাহ্ণ

ধন্যবাদ


কমলকান্ত রায় তাং
২১ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ০৬:০৬ পূর্বাহ্ণ

Thanks for nice content and best wishes including full ratings. Please give your like, comments and ratings to see my content


আবদুল্লাহ আল- মামুন
২৪ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ১১:২৩ অপরাহ্ণ

ধন্যবাদ


মোঃ নাজমুল হক
২০ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ১০:৪০ অপরাহ্ণ

রেটিং সহ শুভেচ্ছা।


আবদুল্লাহ আল- মামুন
২৪ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ১১:২৩ অপরাহ্ণ

ধন্যবাদ


মোঃ মেরাজুল ইসলাম
২০ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ০৯:৪৫ অপরাহ্ণ

আসসালামু আলাইকুম। শ্রদ্ধেয় প্যাডাগজি রেটার মহোদয়, এডমিন মহোদয়, সেরা কন্টেন্ট নির্মাতা মহোদয় এবং বাতায়নের সকল স্যার, ম্যাডামদের আমার আপলোডকৃত ৫৬ তম কনটেন্ট দেখার এবং মতামত প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ রইল। আমার বাতায়ন আইডি - marajul.hobi@gmail.com . মোঃ মেরাজুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক বিরাট সারদা সুন্দরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় । আজমিরী গঞ্জ , হবি গঞ্জ ।


আবদুল্লাহ আল- মামুন
২৪ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ১১:২৩ অপরাহ্ণ

ধন্যবাদ


আব্দুল মাজিদ
২০ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ০৭:২২ অপরাহ্ণ

শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।


আবদুল্লাহ আল- মামুন
২৪ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ১১:২৩ অপরাহ্ণ

ধন্যবাদ