(==করোনা এবং আমাদের প্রজন্ম==) চলছে মহামারী "করোনা"।কিন্তু আমরা কী ভেবে দেখেছি?সমাজে আরও অনেক মহামারী রয়েছে যেগুলো সমাজকে কুড়েকুড়ে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

নুরুল হুদা মজুমদার ১৬ সেপ্টেম্বর,২০২০ ৫৬ বার দেখা হয়েছে লাইক কমেন্ট ৫.০০ ()

প্রিয় শিক্ষক,অভিভাবক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ

আস্সালামু আলাইকুম,আলহামদুলিল্লাহ,শুকরিয়া সেই মহান আল্লাহর নিকট যিনি এখন ও আমাকে সুস্থ রেখেছেন।প্রিয় শিক্ষকবৃন্দ,অভিভাবকবৃন্দ ও শিক্ষার্থীবৃন্দ সবাইকে আমার শুভেচ্ছা।

চলছে মহামারী "করোনা"।কিন্তু আমরা কী ভেবে দেখেছি আমাদের সমাজে আরও অনেক মহামারী রয়েছে যেগুলো সমাজকে কুড়েকুড়ে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।তেমনই একটি মহামারী হলো smartphone।যদিও সকল মহামারীর ই কিছু ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দিক রয়েছে।

আমরা শিক্ষকরা অনেকেই অনলাইন ক্লাস নিচ্ছি।খুবই প্রশংসনীয়।ছাত্ররা অনেকেই এসব পাঠ দেখছে। অনেক উপকৃত হচ্ছে।

আমরা অনেক অভিভাবক আছি যারা মোবাইলের অনেক কিছুই বুঝিনা যা ১২-১৭ বছরের কিশোর-কিশোরীরা অনেক ভাল বুঝে।

অনেক পরিবারতো শুধু অনলাইন পাঠের জন্যই smartphone নিয়েছেন।বর্তমানে অনেক পিতাই তাদের কর্মস্থানে ব্যস্ত।মায়েরা সারাদিন গৃহস্থালীর কাজে ব্যস্ত থাকেন।অন্যধিকে পাঠের নামে হোক অথবা চল চাতুরী করেই হোক শীক্ষর্থীরা smartphone এ ব্যস্ত আছে।

এবার আসি মূল কথায়।আমরা যারা প্রাপ্তবয়স্করা smartphone ব্যবহার করি তারা ভাল করেই জানি,অনলাইনে থাকা কালীন অনিচ্ছায়ও অনেক অনাহূত বিষয়(বাজে ছবি বা বিডিও) সামনে চলে আসে।আমরা প্রাপ্ত বয়স্করা এসব এড়িয়ে চলি।

কিন্তু কিশোর-কিশোরীরা উঠতি বয়সে এসব বিষয়ে খুবই আগ্রহী যা অনেকটা স্বভাবজাত।এসব বাজে বিষয় গুলো শিশুদের মনে মারাত্মক প্রভাব ফেলে যা অবর্ননীয়।এ ছাড়াও আমি দেখেছি অনেক শিক্ষার্থীরা নিজে এখন খুব সহজে facebook বা অন্যান্য social media তে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে।যা এক সময় তাদের মনে বিরাট বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

বিদ্যালয় চলাকালীন শিক্ষার্থীরা smartphone এ এত সময় পেত না।কারণ সকালবেলা মক্তব বা পড়ালেখা,তারপর বিদ্যালয়,বিকালে খেলা বা গল্প করা।তারপর রাতে অধ্যয়ন এভাবে সময় কাটায়।

কিছু ছাত্র আছে যারা বাইরে আড্ডাবাজি করে বেড়ায়

এরা কোথায় যাচ্ছে..?,কী করছে..?,কার সাথে মিশছে..? এসবের খবর আমাদের কাছে খুবই কম।

***তাই সর্বোপরী আমি মনে করি,অধ্যয়নে কিশোর-কিশোরীদের আমরা যতটা খেয়াল রাখব বা যত্ন নেব,তার ছেয়ে অনেক অনেক বেশী জরুরী প্রয়োজন হলো তারা smartphone এ বাস্তবে কী করছে,

***অধ্যয়ন নাকি অন্যকিছু তার নখোদর্পনে তদারকি করা।

***smartphone এর browserএর history দেখা।

***Youtubeএর history দেখা।আপনারা অভিভাবকরা সময় বের করে নিয়ে আপনি আপনার সন্তানের সাথে বসে একসাথে lesson দেখুন। lesson থেকে প্রশ্ন করুন।প্রশ্ন তৈরী করে পরীক্ষা নিন।

*** অত্যান্ত মারাত্মক ব্যাধি Games আসক্তি থেকে বিরত রাখুন বা রুটিন করে একটি নির্দিষ্ট সময় খেলতে দিন।

*** ব্যাবহারে সময় ফোনটিকে চোখ থকে যথাযথ দুরত্ব বজায় রাখতে শেখান,এর blue ray এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে অবগত করুন।

***তাদের সাথে গল্প করাুন,প্রার্থনায় জোর দিন।ধর্মীয় অনুশাসন মানায় সাহায্য করুন।

***ভাই-বোনে,ভাই-ভাই বা বোনোে-বোনে খুনসুটি হলে আদরের সাথে যথাযথ মীমাংসা করুন।

***সম্ভব হলে পাঠে সহায়তা করুন।

***নৈতিক আলোচনা করা,নৈতিক গল্প করা।সততা ও নিষ্ঠার গুরুত্ব বোঝান।

***অসাড় শব্দের মাধ্যমে বকাঝকা না করে,পাশে নিয়ে বসে ইতিবাচক আবেগ দ্বারা বোঝান।

***পাঠের ছোট ছোট কাজ ঘন ঘন দিন।পারলে একটি রুটিন তৈরী করে দিন।

***সম্ভব হলে তাদের ইতিবাচক আবদার গুলো পূরন করার চেষ্টা করুন,চারিত্রিক গঠনে সহায়ক কিছু ভাল বই কিনে দিন।

***আপনার একটি ফুল গাছে একটি সুন্দর ফুল ফুটলে যেমন আপনি মোহিত হন তাকে অনেক কদর করেন।তেমনি আপনার ভবিষ্যত প্রজন্মের দিকেও অনেক অনেক খেয়ল করুন।

***শিক্ষার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া খুবই জরুরি।কিন্তু এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে গিয়ে যেন অন্য ক্ষতি হয়ে না যায় তার প্রতি অবশ্যই নিবিড় মনোযোগ দিতে হবে।

লেখায় ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখে সংশোধনের জন্য অবগত করার সুযোগ দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে, সবার সু সময় কামনা করে শেষ করলাম।

আল্লাহাফেজ


মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
মোছাঃ শিরীন সুলতানা
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০৯:২৪ পূর্বাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণরেটিং সহ শুভকামনা। আমার আপলোডকৃত ব্লগ দেখার অনুরোধ রইলো।


বিনয় কুমার বিশ্বাস
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০৮:৪৮ অপরাহ্ণ

মুজিব জন্মশতবর্ষের শুভেচ্ছা রইল । পূর্ণ রেটিং ও লাইকসহ শুভকামনা ও অভিনন্দন। আমার কনটেন্ট দেখে আপনার মূল্যবান মতামত , রেটিং ও লাইক প্রদান করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি ।ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন। নিরাপদে থাকুন। ধন্যবাদ । মন্তব্য করুন।


মোঃ শফিকুল ইসলাম
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০১:৪০ অপরাহ্ণ

পূর্ণ রেটিংসহ অসংখ্য শুভকামনা । আমার কনটেন্টগুলো দেখে আপনার মূল্যবান মতামত ও রেটিং প্রদান করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।