ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্নদ্রষ্টা নবাব স্যার সলিমুল্লাহ বাংলার মহান নেতা

অচিন্ত্য কুমার মন্ডল ২৩ অক্টোবর,২০২০ ১১৬ বার দেখা হয়েছে লাইক ১০ কমেন্ট ৫.০০ ()

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্নদ্রষ্টা , যার দান করা ৬০০ একর জমির উপর দা‌ড়িয়ে আ‌ছে আজকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় , ঢাকা মেডিকেল , বুয়েট সেই নবাব স্যার সলিমুল্লাহর কে স্মরণ করে না।
***জীবনী :
নবাব সুলিমুল্লাহর জন্ম ১৮৭১ সালের ৭ ই জুন। তাঁর বাবা ছিলেন নওয়াব স্যার খাজা আহসানউল্লা (১৮৪৬-১৯০১) এবং দাদা ছিলেন নওয়াব স্যার খাজা আবদুল গণি (১৮১৩-৯৬)। এই দুজনই ঊনবিংশ শতকের বাংলাদেশের সমাজ-রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। নিঃসন্দেহে পরিবারটি ছিল অভিজাত ও ধনাঢ্য। কিন্তু অভিজাত পরিবারের সন্তান হয়েও তিনি সাধারণ মানুষের দুঃখকে তিনি নিজের দুঃখ মনে করতেন। তিনি আকাতরে দান-খয়রাত করে গেছেন।
স্যার সলিমুল্লাহর বাবা আহসানউল্লা ১৯০১ সালের ৭ ডিসেম্বর সাড়ে ৩ লাখ টাকা খরচ করে ঢাকায় তথা বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো #বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করেছিলেন, প্রথম বিজলি বাতির আলো জ্বলেছিল #আহসান_মঞ্জিলে
(১)নবাব সলিমূল্লাহ সেই যিনি সর্বপ্রথম পানীয় জল এবং টেলিফোন ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে আধুনিক ঢাকার জন্ম দেন।
(২)ঢাকার ইঞ্জিনিয়ারিং বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯০২ সালে তিনি ১লাখ ২০হাজার টাকা দান করেছিলেন। সেই টাকায় এবং তাঁর দান করা জমিতে স্থাপিত হয়েছিল আহসানউল্লা স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৯২২ সালে যা আহসানউল্লা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং ১৯৬০ সালে আহসানউল্লা ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজিতে উন্নীত হয়। সেটিই এখনকার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়(BUET)।
(৩) নবাব সলিমূল্লাহ যিনি ১৯০৩ সালে বড় লাট লর্ড কার্জন ঢাকায় সফরে এলে আহসান মঞ্জিলে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ বৈঠককে তার নিকট পূর্ব বাংলার সমস্যাগুলো তুলে ধরেন।শেষ পর্যন্ত ঢাকাকে কেন্দ্র করে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে একটি নতুন প্রদেশ গঠনের বিষয়ে ইংরেজরা মত দেয়।
(৪)নবাব সলিমূল্লাহ যিনি ১৯১১ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকার কার্জন হলে ল্যান্সলট হেয়ারের বিদায় এবং চার্লস বেইলির যোগদান উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নওয়াব আলী চৌধুরীকে নিয়ে পৃথক দুটি মানপত্র নিয়ে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
(৫) (DU) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি জমিই শুধু দান করেননি, প্রধান অর্থদানকারীও ছিলেন। এতে তাঁর অর্থভাণ্ডারে ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। শেষে সরকারের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে মহাজনদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছিল। জমিদারি চলে গিয়েছিল কোর্ট অব ওয়ার্ডসে।
(৬) নবাব সলিমূল্লাহ যিনি ১৯০৬ সালে নিজস্ব ইতিহাস ঐতিহ্য এবং ধর্ম রক্ষায় প্রায় ছয় মাসের প্রচেষ্টায় পাক-ভারত উপমহাদেশে ‘অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ’ গঠন করেন।
(৭) নবাব সলিমূল্লাহ যার আন্দোলনের ফলে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক শিক্ষা বিভাগে মুসলমানদের জন্য সহকারী পরিদর্শক ও বিশেষ সাব ইন্সপেক্টরের পদ সৃষ্টি করেন।
(৭) নবাব সলিমূল্লাহ যিনি বর্ণবাদী-ব্রাহ্
মণ্যবাদী চক্রান্তে বিট্রিশ সামাজ্যবাদে শত বছরের অধিক চাষাভূষা, কচোয়ান-দাঁরোয়ান ও গোলাম বানিয়ে রাখা মুসলিমদের কথা ভেবে প্রথম জেগে উঠেন তারপর মুসলিমদের সংগঠিত করার কাজ শুরু করেন।
(৮)নবাব সলিমূল্লাহ, যিনি সুদূর তুরস্কের ভূমিকম্পে মানুষের কষ্টের কথা শুনে সাহায্যের জন্য টাকা-পয়সা পাঠিয়েছিলেন।
(৯)নবাব সলিমূল্লাহ, যিনি মানুষকে তার সকল সম্পদ অকাতরে বিলিয়ে দিয়ে ঋণী হয়েছিলেন। সোনালী ব্যাংক সদরঘাট শাখায় এখনও তার বন্ধক রাখা সিন্ধুক “দরিয়ায়ে নূর” রক্ষিত আছে।
আচ্ছা আমরা ক'জন জানি এই মহান ব্যক্তির কথা? তার অসামান্য কীর্তির কথা?
এই বুয়েট না থাকলে কারা বিশ্বমানের ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার সুযোগ করে দিত?
আজ যত-শত আবর্জনারই আমাদের জ্ঞানের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাড়িয়েছে যেখানে এই মহান ব্যক্তিদের একটু জায়গা কোথায়!!
****রহস্যজনক মৃত্যুঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে তৎকালীন হিন্দু সমাজ এবং লাটের সাথে তার বাদানুবাদ হয়।
কথিত আছে যে, বড়লাট রাজি ছিলেন না ঢাকায় কোন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে। এই নিয়ে নবাবের সাথে বড় লাটের তীব্র বিতর্ক হয়। এসমসাময়িক সময়েই তার মৃত্যু হয় কলকাতায়। পরে প্রচার করা হয় যে হৃদরোগে তিনি মারা গেছেন।
তিনি সেদিনই কলকাতায় অনুষ্ঠিত তাঁর জানাজায় বিপুল জনসমাগম হয়েছিল। পরদিন লাশ ঢাকায় আনা হয় এবং কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ঢাকার বেগমবাজারে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
নাহিদ আখতার পারভীন
০৫ নভেম্বর, ২০২০ ০৪:০৪ অপরাহ্ণ

শুভকামনা রইলো এবং সেই সাথে পূর্ণ রেটিং । আপনার তৈরি কন্টেন্ট আমার দৃষ্টিতে সেরার তালিকা ভুক্ত। সে জন্য আপনাকে একটু সহযোগিতা করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। সেই সাথে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি। আমার এ পাক্ষিকের কন্টেন্ট ও ব্লগ দেখার ও রেটিং সহ মতামত প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। ধন্যবাদ


অচিন্ত্য কুমার মন্ডল
১৭ নভেম্বর, ২০২০ ১০:১৬ অপরাহ্ণ

স্যার/ম্যাম আমার এ সপ্তাহের কন্টেন্ট দেখে রেটিং করার এবং পরামর্শ দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন।


সানাউল্লাহ আনসারী
২৯ অক্টোবর, ২০২০ ০৯:৩৩ অপরাহ্ণ

চমৎকার তথ্যবহুল।ধন্যবাদ


অচিন্ত্য কুমার মন্ডল
১৭ নভেম্বর, ২০২০ ১০:১৬ অপরাহ্ণ

স্যার/ম্যাম আমার এ সপ্তাহের কন্টেন্ট দেখে রেটিং করার এবং পরামর্শ দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন।


মোঃ গোলাম ওয়ারেছ
২৩ অক্টোবর, ২০২০ ০৫:৫৯ অপরাহ্ণ

শুভকামনা রইলো এবং সেই সাথে পূর্ণ রেটিং । সেই সাথে আমার অক্টোবর ২য় পাক্ষিক কন্টেন্ট ও ব্লগ "ডেটা কমিউনিকেশন মাধ্যম ( Data Communication Medium) দেখে রেটিংসহ সুচিন্তিত মতামত প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। ধন্যবাদ


অচিন্ত্য কুমার মন্ডল
১৭ নভেম্বর, ২০২০ ১০:১৬ অপরাহ্ণ

স্যার/ম্যাম আমার এ সপ্তাহের কন্টেন্ট দেখে রেটিং করার এবং পরামর্শ দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন।


এস. এম. শফিউল আলম সিদ্দিকী (শাহীন)
২৩ অক্টোবর, ২০২০ ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ

আপনাকে ধন্যবাদ স্যার ৷অনেক সুন্দর তথ্য সমৃদ্ধ লেখা ৷পূর্ণ রেটিং ও লাইক দিলাম ৷


অচিন্ত্য কুমার মন্ডল
১৭ নভেম্বর, ২০২০ ১০:১৬ অপরাহ্ণ

স্যার/ম্যাম আমার এ সপ্তাহের কন্টেন্ট দেখে রেটিং করার এবং পরামর্শ দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন।


মোঃ শাহাদাত হোসেন ভূইয়া
২৩ অক্টোবর, ২০২০ ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ

পূর্ণ রেটিং এবং লাইকসহ শুভেচ্ছা রইল।


অচিন্ত্য কুমার মন্ডল
১৭ নভেম্বর, ২০২০ ১০:১৬ অপরাহ্ণ

স্যার/ম্যাম আমার এ সপ্তাহের কন্টেন্ট দেখে রেটিং করার এবং পরামর্শ দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন।