গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যাবস্থা সরকার ব্যাবস্থা

শিশির সরদার ২০ নভেম্বর,২০২০ ২০১ বার দেখা হয়েছে লাইক কমেন্ট ৫.০০ ()

সরকার

 

নাম

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ

সরকার ব্যবস্থা

বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা সংসদীয় পদ্ধতির।

১৯৭১ এ অস্থায়ী সরকার গঠন এবং অস্থায়ী সংবিধান প্রণয়নের পর থেকে অদ্যাবধি বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা কমপক্ষে পাঁচবার পরিবর্তিত হয়েছ। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ব্যবস্থা সংসদীয় পদ্ধতির। এই পদ্ধতিতে প্রধানমন্ত্রীর হাতে সরকারের প্রধান ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে। বহুদলীয় গণতন্ত্র পদ্ধতিতে এখানে জনগণের সরাসরি ভোটে জাতীয় সংসদের সদস্যরা নির্বাচিত হন। নির্বাহী (executive) ক্ষমতা সরকারের হাতে ন্যস্ত। আইন প্রণয়ন করা হয় জাতীয় সংসদে। বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালে প্রণীত হয়, এবং এখন পর্যন্ত এতে ১৭টি সংশোধনী যোগ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পরিচালিত হয়, যিনি অন্যান্য সকল মন্ত্রীগণকে বাছাই করেন। প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য প্রধান উচ্চপদস্থ মন্ত্রীগণ সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণ কমিটির সদস্যপদ লাভ করেন, যা মন্ত্রীসভা নামে পরিচিত।

সংবিধান

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। এটি একটি লিখিত দলিল। ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ৪ঠা নভেম্বর তারিখে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে এই সংবিধান গৃহীত হয় এবং একই বছরের ১৬ই ডিসেম্বর অর্থাৎ বাংলাদেশের বিজয় দিবসের প্রথম বার্ষিকী হতে এটি কার্যকর হয়।বাংলাদেশের সংবিধান জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতাকে জাতীয় আদর্শ হিসাবে ঘোষণা করে।

 

তিনটি বিভাগের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করে

নির্বাহী বিভাগ

বাংলাদেশের সরকার নির্বাহী বিভাগ পরিচালনা করে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী সভার সদস্যরা বিভিন্ন নির্বাহী সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।

রাষ্ট্রপতি

সাংবিধানিক ভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সংসদীয় পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ পদমর্যাদার অধিকারী হলেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি হওয়ার ন্যূনতম বয়স ৩৫ বছর। জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে তিনি নির্বাচিত হন। স্পিকার (সংসদের পঞ্চদশ সংশোধনীর পূর্বে ছিল প্রধান বিচারপতি) রাষ্ট্রপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করান। নির্বাচিত হওয়ার পর শপথ গ্রহণের পর থেকে তার মেয়াদকাল ৫ বছর। আবার রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন স্পিকারের নিকট পদত্যাগ পত্র দাখিলের মাধ্যমে। রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৫০(২) ধারা মতে ধারাবাহিক ২ বারের অধিক মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। তিনি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন। ৫৬(৩) অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ ও ৯৫(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে তাকে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ নিতে হয় না। একই সঙ্গে তার ওপর আদালত এর কোনো এখতিয়ার বারিত। রাষ্টপতির অনুপস্থিতিতে তার দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার স্বয়ং। রাষ্ট্রপতি প্রধামন্ত্রীর পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করবেন। তার নিকট কোনো বিল পেশ করার ১৫ দিনের মধ্যে তা অনুমোদন করতে হয় নচেৎ তা স্বয়ংক্রিয় ভাবে অনুমোদিত হয়ে যায়। তবে অর্থ বিল এ সম্মতি দানে তিনি বিলম্ব করতে পারবেন না। দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যের ভোটের মাধ্যমে শারীরিক বা মানসিক কোনো কারণে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করা যায়। তার সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন মতিঝিল এর দিলকুশায় অবস্থিত। তার নিরাপত্তায় বিশেষ বাহিনী হলো প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (PGR) ও স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (SSF)।

প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের সরকারপ্রধান মন্ত্রিপরষদ এর প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী। তাকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। প্রধানমন্ত্রী হতে হলে ন্যূনতম ২৫ বছর হতে হবে। কিন্তু বাস্তবে তা অসম্ভব। তিনিই জাতীয় সংসদের সংখ্যা গরিষ্ঠ দলের নেতা বা নেত্রী যিনি প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ৫৫ ও ৫৬ নং ধারা অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদের শীর্ষে থাকবেন এবং মন্ত্রিপরিষদের সভায় সভাপতিত্ব করবেন। তিনি মন্ত্রী, উপমন্ত্রী, ও প্রতিমন্ত্রীদের নিয়োগ দেন। তিনি একইসাথে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ নির্বাহী কমিটি (একনেক) এর সভাপতি/চেয়ারপার্সন। তার সরকারি বাসভবন এর নাম গণভবন, যা ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত। তবে তার কার্যালয় ঢাকার তেজগাঁও অবস্থিত। বর্তমান মাননীয় প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ সময় ক্ষমতায় থাকা বাংলাদেশের একমাত্র প্রধানমন্ত্রী।

আইন বিভাগ

বাংলাদেশের আইনসভার নাম জাতীয় সংসদ। এটি এক কক্ষীয়, এবং ৩০০ জন সংসদ সদস্য জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন। এছাড়া নারীদের জন্য ৫০ টি সংরক্ষিত আসনের বিধান রয়েছে, যেসব আসন সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে বণ্টিত হয়।

বিচার বিভাগ

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট দেশের সর্বোচ্চ আদালত।বেশিরভাগ মামলা প্রথমত নিম্ন আদালতে রায় দেয়ার পর সুপ্রিম কোর্টে স্থানান্তরিত হয়।সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর রায় কার্যকর করতে আর কোন বাধা থাকে না, তবে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত অপরাধী কে রাষ্ট্রপতি চাইলে জীবনভীক্ষা দিতে পারে।

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
রেহানা আক্তার ঝর্ণা
২৫ নভেম্বর, ২০২০ ০৪:৩৩ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ শুভকামনা। আমার এ পাক্ষিকের কনটেন্ট দেখে আপনার মূল্যবান মতামত ও রেটিং প্রদান করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।


মোঃ তৌফিকুল ইসলাম
২২ নভেম্বর, ২০২০ ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ

লাইক ও রেটিংসহ শুভকামনা। আমার এ পাক্ষিকে আপলোডকৃত কন্টেন্ট এ আপনার লাইক ও রেটিং প্রার্থনা করছি। আমার কন্টেন্ট এর লিংকঃ https://www.teachers.gov.bd/content/details/777801


অচিন্ত্য কুমার মন্ডল
২১ নভেম্বর, ২০২০ ০৫:০৪ অপরাহ্ণ

শুভকামনা রইলো এবং সেই সাথে পূর্ণ রেটিং । আপনার তৈরি কন্টেন্ট আমার দৃষ্টিতে সেরার তালিকা ভুক্ত। সে জন্য আপনাকে একটু সহযোগিতা করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। সেই সাথে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি। আমার এ পাক্ষিকের কন্টেন্ট ও ব্লগ দেখার ও রেটিং সহ মতামত প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। ধন্যবাদ https://www.teachers.gov.bd/content/details/777226 https://www.teachers.gov.bd/blog-details/583425


মোঃ মেহেদুল ইসলাম
২১ নভেম্বর, ২০২০ ০২:৫৮ অপরাহ্ণ

বাতায়নের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ ।চমৎকার নির্মানের জন্য লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ শুভকামনা ।আমার কন্টেন্ট দেখে আপনার মূল্যবান মতামত ও রেটিং প্রদান করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি


মোঃ নাছির উদ্দিন খান
২১ নভেম্বর, ২০২০ ০১:১৫ অপরাহ্ণ

পূর্ণ রেটিং ও লাইকসহ শুভকামনা। সেই সাথে আমার কন্টেন্ট দেখে মতামত ও রেটিং প্রদানের অনুরোধ রইল। ধন্যবাদ। https://www.teachers.gov.bd/content/details/777482


আব্দুল্লাহ আত তারিক
২১ নভেম্বর, ২০২০ ১২:৫৮ অপরাহ্ণ

আপনার দিনটি শুভ হোক । আপনার অনিন্দ্যসুন্দর নির্মাণের জন্য অভিনন্দন ও শুভ কামনা রইল । আমার বাতায়ন নীড়ে আমন্ত্রণ রইল । এই পাক্ষিককে আমার নির্মিত অষ্টম শ্রেণির সাহিত্য কণিকা বইয়ের কনটেন্ট "মংড়ুর পথে" ভ্রমণকাহিনী দেখে আপনার মতামতের প্রত্যাশায় রইলাম। ঘরে থাকুন, সুস্থ্য থাকুন।