জাতির পিতার সেই ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণঃ পটভূমি ও তাৎপর্য

মোঃ সাজ্জাদুর রহমান ০৭ মার্চ,২০২১ ২১৪ বার দেখা হয়েছে ৭৬ লাইক ৮৫ কমেন্ট ৫.০০ (৭৭ )

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণঃ পটভূমি তাৎপর্য

৫০ বছর আগে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ ভাষণটি দিয়েছিলেন। ১০ লক্ষাধিক লোকের সামনে পাকিস্তানি দস্যুদের কামান-বন্দুক-মেশিনগানের হুমকির মুখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ওই দিন বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন- এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।

কী পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু সেই ইতিহাস বিখ্যাত ভাষণ দিয়েছিলেন?
১৯৭০-এর ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। ডিসেম্বরের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯ আসনের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পায় ১৬৭টি আসন বাকি ২টি আসন পায় পিডিপি। ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর তৎকালীন সামরিক প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান ৭১-এর মার্চ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করেন।

কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানের পিপিপি নেতা জেড ভুট্টো এবং পাকিস্তান সামরিক চক্র সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের কাছে অর্থাৎ আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে ষড়যন্ত্র শুরু করে।

১মার্চঃ
এই দিনে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেয়ার কথা ছিল পাকিস্তানের তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের।সারা দেশের মানুষ তাই রেডিও আর টেলিভিশন খুলে বসে থাকলো তার কথা শোনার জন্য।কিন্তু দেশবাসীকে হতাশ করে,ইয়াহিয়ার যায়গায় অন্য আরেকজন এসে ঘোষণা করলো,"পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বাতিল করেছেন।তিনি পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি গভীর রাজনৈতিক সংকট হিসেবে উল্লেখ করেছেন।"

তখন তীব্র ক্ষোভে ফেটে পরলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।তিনি বাঙালি জনগণের মুক্তির ডাক দিলেন।সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু বলেন এটি কোন গণতন্ত্র নয় বরং এটি পাকিস্তানি শাসকদের স্বৈরাচারী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ মাত্র।আমরা বাঙালিরা ঘৃণাভরে এই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করলাম এবং মার্চ ঢাকা মার্চ সারাদেশব্যাপী বাংলার সাধারণ মানুষ হরতাল পালন করবে।পরবর্তী দিক নির্দেশনার জন্য আপনারা(বাঙালিরা) মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করুণ।

এরপর বাঙালি জাতির ইতিহাসে প্রথমবারের জন্য স্বাধীনতার স্লোগান দিল, বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো।" শুরু হলো অসহযোগ আন্দোলন ।গঠিত হলো স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।

মার্চঃ

ঢাকা এদিন ছিলো হরতালের নগরী, মিছিলের নগরী এবং কারফিউর নগরী।দিনের হাইলাইট ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের জাতীয় পতাকা উত্তোলন।

সকাল থেকেই মিছিল ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়মুখী। স্মরণকালে এমন ছাত্র সমাবেশ দেখেনি কেউ! নিউমার্কেটের মোড় থেকে নীলক্ষেতের সড়ক দিয়ে পাবলিক লাইব্রেরি পর্যন্ত যার বিস্তার। এদিন বটতলায় ওড়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা, ওড়ায় ছাত্রলীগের নেতৃত্বাধীন ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ।সমাবেশ শেষে বিশাল এক মিছিল রড লাঠি উচিয়ে ঢাকা শহর প্রদক্ষিন করে।উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হচ্ছে এদিন থেকে পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তান কথাটা একরকম হাওয়া হয়েযায় বাঙালীদের মুখ থেকে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সন্ধ্যায় তার প্রেস কনফারেন্সে বারবার বাংলাদেশ উচ্চারণ করেন।সারা শহরে সরকারের পেটোয়া বাহিনী হরতাল ঠেকাতে মাঠে নামে। পঞ্চাশ জনের মতো গুলিবিদ্ধ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। এদের বেশীরভাগই তেজগাঁও এলাকার। তেজগাঁও পলিটেকনিক স্কুলের ছাত্র্ আজিজ মোর্শেদ মামুনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর আজিজ মারা যান।
সামরিক আইন প্রশাসকের তরফে এদিন কারফিউ জারি করা হয়। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরদিন সকাল ৭টা পর্যন্ত এই কারফিউ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অব্যহত থাকবে বলে ঘোষণা করা হয়। সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলন করেন শেখ মুজিবুর রহমান যাতে নিরস্ত্রদের উপর গুলি বর্ষণের তীব্র নিন্দা করা হয়। পরদিন মার্চ থেকে মার্চ পর্যন্ত সারাদেশে অর্ধদিবস (ভোর ৬টা থেকে দুপুর ২টা) হরতালের ডাক দেন মুজিব।পরদিন ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে বৈঠক শেষে পল্টনে এক সমাবেশের ঘোষণা দেন তিনি।

৩মার্চঃ  
নিহতদের স্মরণে পালন করা হয় শোক দিবস ।পল্টনে ছাত্রলীগ শ্রমিক লীগের সভায় প্রধান অতিথি বঙ্গবন্ধু আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি থাকি আর না থাকি, বাংলার স্বাধিকার আন্দোলন যেন থেমে না থাকে। বাঙালির রক্ত যেন বৃথা না যায়। আমি না থাকলে- আমার সহকর্মীরা নেতৃত্ব দিবেন। তাদেরও যদি হত্যা করা হয়, যিনি জীবিত থাকবেন, তিনিই নেতৃত্ব দিবেন। যে কোনো মূল্যে আন্দোলন চালাইয়া যেতে হবে- অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বঙ্গবন্ধু আগেই ঘোষণা করেছিলেন, মার্চ রোববার রেসকোর্স ময়দানে তিনি পরবর্তী কর্মপন্থা ঘোষণা করবেন।

৪মার্চঃ
গন বিক্ষোভে টালমাটাল ছিল মার্চ ১৯৭১। দিন যতই যাচ্ছিল এক দফার দাবী অথ্যাৎ স্বাধীনতার আকাঙ্খার তীব্রতা ততই বৃদ্ধি পাচ্ছিল দিন সামরিক জান্তার সান্ধ্যআইন ভঙ্গ করে রাজপথে নেমে আসে হাজার হাজার মানুষ ।খুলনায় বাঙালী অবাঙালীদের মাঝে সংঘর্ষ হয় এই দিন। ঢাকায় আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় হরতালে দমন পীড়নের নিন্দা জানানো হয় ।লাগাতার হরতালের এই দিনে ঢাকা সহ সাড়া দেশ অচল হয়ে পড়ে ।পূর্ব পাকিস্হান মহিলা পরিষদের নেত্রী কবি সুফিয়া কামাল মালেকা বেগম যৌথ বিবৃতিতে মার্চ বায়তুল মোকাররম এলাকায় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের আহব্বান জানান ।এই দিনে ঘটে এক গুরুত্বপূর্ন ঘটনা এই দিনে রেডিও পাকিস্হান ঢাকা' নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ঢাকা বেতার কেন্দ্র সে দিনের সেই ঘটনা চলমান আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে ।যা আমাদের মুক্তির পথকে এগিয়ে নেয়

৬মার্চঃ
মার্চের একদিন আগে অর্থাৎ মার্চ জে. ইয়াহিয়া খান টেলিফোনে কথা বলেন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা, আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে। মার্চ এও ঘোষণা করা হলো যে, ২৫ মার্চ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।পরিস্থিতির চাপে ভীতসন্ত্রস্ত পূর্ব পাকিস্তান সামরিক সদর দপ্তর থেকে বিভিন্নভাবে শেখ মুজিব আওয়ামী লীগকে এই মেসেজ দেয়া হয় যে, মার্চ যেন কোনোভাবেই স্বাধীনতা ঘোষণা না করা হয়। মার্চ জনসভাকে কেন্দ্র করে কামান বসানো হয়। এমনকি আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র প্রস্তুত রাখা হয়। মেজর সিদ্দিক সালিক তার গ্রন্থে লিখেছেন, পূর্ব পাকিস্তানের জিওসি মার্চের জনসভার প্রাক্কালে আওয়ামী লীগ নেতাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পাকিস্তানের সংহতির বিরুদ্ধে কোনো কথা বলা হলে তা শক্তভাবে মোকাবেলা করা হবে। বিশ্বাসঘাতকদের (বাঙালি) হত্যার জন্য ট্যাংক, কামান, মেশিনগান সবই প্রস্তুত রাখা হবে। প্রয়োজন হলে ঢাকাকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হবে। শাসন করার জন্য কেউ থাকবে না কিংবা শাসিত হওয়ার জন্যও কিছু থাকবে না।

৭মার্চঃ
এমন এক কঠিন সংকটময় পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মার্চ রেসকোর্সে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের সামরিক কর্তৃপক্ষকে চারটি শর্ত দিয়ে ভাষণের শেষাংশে বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম।

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণঃ

 

ভাইয়েরা আমার; আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনারা সবই জানেন এবং বুঝেন। আমরা আমাদের জীবন দিয়ে চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুরে আমার ভাইয়ের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে।

আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ তার অধিকার চায়। কি অন্যায় করেছিলাম, নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ সম্পূর্ণভাবে আমাকে আওয়ামী লীগকে ভোট দেন। আমাদের ন্যাশনাল এসেম্বলী বসবে, আমরা সেখানে শাসনতন্ত্র তৈয়ার করবো এবং এই দেশকে আমরা গড়ে তুলবো, এদেশের মানুষ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক মুক্তি পাবে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, তেইশ বৎসরের করুণ ইতিহাস বাংলার অত্যাচারের, বাংলার মানুষের রক্তের ইতিহাস। তেইশ বৎসরের ইতিহাস মুমূর্ষু নরনারীর আর্তনাদের ইতিহাস; বাঙলার ইতিহাস এদেশের মানুষের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস। ১৯৫২ সালে রক্ত দিয়েছি। ১৯৫৪ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করেও আমরা গদিতে বসতে পারি নাই। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান মার্শাল জারি করে দশ বৎসর পর্যন্ত আমাদের গোলাম করে রেখেছে। ১৯৬৬ সালে ছয়দফা আন্দোলনে ৭ই জুনে আমার ছেলেদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ১৯৬৯-এর আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন হওয়ার পর যখন ইয়াহিয়া খান সাহেব সরকার নিলেন, তিনি বললেন, দেশে শাসনতন্ত্র দেবেন, গণতন্ত্র দেবেন। আমরা মেনে নিলাম।তারপরে অনেক ইতিহাস হয়ে গেল, নির্বাচন হলো। আমি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান সাহেবের সঙ্গে দেখা করেছি। আমি, শুধু বাংলার নয়, পাকিস্তানের মেজরিটি পার্টির নেতা হিসাবে তাকে অনুরোধ করলাম, ১৫ই ফেব্রুয়ারি তারিখে আপনি জাতীয় পরিষদের অধিবেশন দেন। তিনি আমার কথা রাখলেন না, তিনি রাখলেন ভুট্টো সাহেবের কথা। তিনি বললেন, প্রথম সপ্তাহে মার্চ মাসে হবে। আমরা বললাম, ঠিক আছে, আমরা এসেম্বলীতে বসবো। আমি বললাম, এসেম্বলীর মধ্যে আলোচনা করবো; এমনকি আমি পর্যন্ত বললাম, যদি কেউ ন্যায্য কথা বলে, আমরা সংখ্যায় বেশি হলেও, একজনও যদি সে হয়, তার ন্যায্য কথা আমরা মেনে নেব।

জনাব ভুট্টো সাহেব এখানে এসেছিলেন, আলোচনা করলেন। বলে গেলেন যে, আলোচনার দরজা বন্ধ না, আরও আলোচনা হবে। তারপর অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ করলাম, আপনারা আসুন বসুন, আমরা আলাপ করে শাসনতন্ত্র তৈয়ার করি। তিনি বললেন, পশ্চিম পাকিস্তানের মেম্বাররা যদি এখানে আসেন, তাহলে কসাইখানা হবে এসেম্বলী। তিনি বললেন, যে যাবে তাকে মেরে ফেলে দেওয়া হবে। যদি কেউ এসেম্বলীতে আসে তাহলে পেশোয়ার থেকে করাচী পর্যন্ত দোকান জোর করে বন্ধ করা হবে। আমি বললাম, এসেম্বলী চলবে। তারপর হঠাৎ তারিখে এসেম্বলী বন্ধ করে দেওয়া হলো।ইয়াহিয়া খান সাহেব প্রেসিডেন্ট হিসাবে এসেম্বলী ডেকেছিলেন। আমি বললাম যে, আমি যাবো। ভুট্টো সাহেব বললেন, তিনি যাবেন না। ৩৫ জন সদস্য পশ্চিম পাকিস্তান থেকে এখানে আসলেন। তারপরে হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হলো। দোষ দেওয়া হলো বাংলার মানুষকে, দোষ দেওয়া হলো আমাকে। বন্দুকের মুখে মানুষ প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠল।আমি বললাম, শান্তিপূর্ণভাবে আপনারা হরতাল পালন করেন। আমি বললাম, আপনারা কলকারখানা সব কিছু বন্ধ করে দেন। জনগণ সাড়া দিল। আপন ইচ্ছায় জনগণ রাস্তায় বেরিয়ে পড়ল। তারা শান্তিপূর্ণভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলো।

কি পেলাম আমরা? যে আমার পয়সা দিয়ে অস্ত্র কিনেছি বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য, আজ সেই অস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে আমার দেশের গরীব-দুঃখী আর্ত মানুষের বিরুদ্ধে, তার বুকের উপর হচ্ছে গুলী। আমরা পাকিস্তানের সংখ্যাগুরু। আমরা বাঙালিরা যখনই ক্ষমতায় যাবার চেষ্টা করেছি, তখনই তারা আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। টেলিফোনে আমার সঙ্গে তার কথা হয়। তাকে আমি বলেছিলাম, জনাব ইয়াহিয়া খান সাহেব, আপনি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট, দেখে যান কিভাবে আমার গরীবের উপরে, আমার বাংলার মানুষের উপরে গুলী করা হয়েছে, কি করে আমার মায়ের কোল খালি করা হয়েছে। আপনি আসুন, দেখুন, বিচার করুন। তিনি বললেন, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি ১০ই তারিখে রাউন্ড টেবিল কনফারেন্স ডাকব।আমি বলেছি, কিসের বৈঠক বসবে, কার সঙ্গে বসবো? যারা আমার মানুষের বুকের রক্ত নিয়েছে তাদের সঙ্গে বসবো? হঠাৎ আমার সঙ্গে পরামর্শ না করে পাঁচ ঘণ্টা গোপনে বৈঠক করে যে বক্তৃতা তিনি করেছেন, সমস্ত দোষ তিনি আমার উপরে দিয়েছেন, বাংলার মানুষের উপর দিয়েছেন।

ভাইয়েরা আমার,

২৫ তারিখে এসেম্বলী কল করেছে। রক্তের দাগ শুকায় নাই। আমি ১০ তারিখে বলে দিয়েছি যে, ওই শহীদের রক্তের উপর পা দিয়ে কিছুতেই মুজিবুর রহমান যোগদান করতে পারে না। এসেম্বলী কল করেছে। আমার দাবি মানতে হবে: প্রথম, সামরিক আইন মার্শাল উইথ্ড্র করতে হবে, সমস্ত সামরিক বাহিনীর লোকদের ব্যারাকে ফেরত নিতে হবে, যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তার তদন্ত করতে হবে, আর জনগণের প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। তারপর বিবেচনা করে দেখবো, আমরা এসেম্বলীতে বসতে পারবো কি পারবো না। এর পূর্বে এসেম্বলীতে বসতে আমরা পারি না।আমি, আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না। আমরা এদেশের মানুষের অধিকার চাই। আমি পরিষ্কার অক্ষরে বলে দিবার চাই যে, আজ থেকে এই বাংলাদেশে কোর্ট-কাচারি, আদালত-ফৌজদারি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। গরীবের যাতে কষ্ট না হয়, যাতে আমার মানুষ কষ্ট না করে, সে জন্য সমস্ত অন্যান্য জিনিসগুলো আছে সেগুলির হরতাল কাল থেকে চলবে না। রিকশা, গরুর গাড়ি চলবে, রেল চলবে, লঞ্চ চলবে; শুধু সেক্রেটারিয়েট, সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট, জজকোর্ট, সেমিগভর্ণমেণ্ট দপ্তরগুলো, ওয়াপদা কোন কিছু চলবে না।

২৮ তারিখে কর্মচারীরা বেতন নিয়ে আসবেন। এর পরে যদি বেতন দেওয়া না হয়, আর যদি একটা গুলি চলে, আর যদি আমার লোকদের হত্যা করা হয়, তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইল,- প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে, এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সব কিছু, আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি, তোমরা বন্ধ করে দেবে। আমরা ভাতে মারবো, আমরা পানিতে মারবো। তোমরা আমার ভাই, তোমরা ব্যারাকে থাকো, কেউ তোমাদের কিছু বলবে না। কিন্তু আর আমার বুকের উপর গুলী চালাবার চেষ্টা করো না। সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না। আমরা যখন মরতে শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দমাতে পারবে না।আর যে সমস্ত লোক শহীদ হয়েছে, আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, আমরা আওয়ামী লীগের থেকে যদ্দুর পারি তাদের সাহায্য করতে চেষ্টা করবো। যারা পারেন আমার রিলিফ কমিটিতে সামান্য টাকা পয়সা পৌঁছিয়ে দেবেন। আর এই সাতদিন হরতালে যে সমস্ত শ্রমিক ভাইরা যোগদান করেছেন, প্রত্যেকটা শিল্পের মালিক তাদের বেতন পৌঁছায়ে দেবেন। সরকারি কর্মচারীদের বলি, আমি যা বলি তা মানতে হবে। যে পর্যন্ত আমার এই দেশের মুক্তি না হবে খাজনা-ট্যাক্স বন্ধ করে দেওয়া হলো, কেউ দেবে না। মনে রাখবেন, শত্রুবাহিনী ঢুকেছে, নিজেদের মধ্যে আত্মকলহ সৃষ্টি করবে, লুটপাট করবে। এই বাংলায় হিন্দু মুসলমান বাঙালি অবাঙালি যারা আছে তারা আমাদের ভাই। তাদের রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের উপরে। আমাদের যেন বদনাম না হয়। মনে রাখবেন রেডিও টেলিভিশনের কর্মচারীরা, যদি রেডিওতে আমাদের কথা না শোনেন, তাহলে কোন বাঙালি রেডিও স্টেশনে যাবেন না। যদি টেলিভিশন আমাদের নিউজ না দেয়, কোন বাঙালি টেলিভিশনে যাবেন না। দুই ঘণ্টা ব্যাংক খোলা থাকবে যাতে মানুষ তাদের মায়নাপত্র নিবার পারে। কিন্তু পূর্ববাংলা থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে এক পয়সাও চালান হতে পারবে না। টেলিফোন টেলিগ্রাম আমাদের এই পূর্ববাংলায় চলবে এবং বিদেশের সঙ্গে নিউজ পাঠাতে চালাবেন। কিন্তু যদি এদেশের মানুষকে খতম করার চেষ্টা করা হয়, বাঙালিরা বুঝে শুনে কাজ করবেন। প্রত্যেক গ্রামে, প্রত্যেক মহল্লায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোল এবং তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দিব। দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ্। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা। জয় বাংলা।

 

মোঃসাজ্জাদুর রহমান

সহকারী শিক্ষক

জালিয়ারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

কোম্পানীগঞ্জ,সিলেট।

 

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
আয়েশা বেগম
১৯ মার্চ, ২০২১ ১০:১০ অপরাহ্ণ

চমৎকার উপস্থাপন। মানসম্মত ও শ্রেণি উপযোগী কনটেন্ট আপলোড করায় লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো।


মোঃ সাজ্জাদুর রহমান
২১ মার্চ, ২০২১ ০৯:২৩ পূর্বাহ্ণ

লাইক রেটিং সহ মতামত প্রদানে অসংখ্য ধন্যবাদ।


সিবানী রানী দাস
১৩ মার্চ, ২০২১ ০৯:৩৩ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা রইলো।


মোঃ সাজ্জাদুর রহমান
২১ মার্চ, ২০২১ ০৯:২৩ পূর্বাহ্ণ

লাইক রেটিং সহ মতামত প্রদানে অসংখ্য ধন্যবাদ।


নাছিমা আক্তার
১৩ মার্চ, ২০২১ ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ

মানসম্মত, যুগোপযোগী ও শ্রেণি উপযোগী কনটেন্ট তৈরি করে শিক্ষক বাতায়নকে সমৃদ্ধ করার জন্য পূর্ণ রেটিংসহ শুভকামনা রইলো।


মোঃ ফিরোজ মিয়া
১৩ মার্চ, ২০২১ ০৮:২৪ পূর্বাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা রইলো।


মোঃ ইয়াকুব আলী
১৩ মার্চ, ২০২১ ০৮:১৮ পূর্বাহ্ণ

মানসম্মত, যুগোপযোগী ও শ্রেণি উপযোগী কনটেন্ট তৈরি করে শিক্ষক বাতায়নকে সমৃদ্ধ করার জন্য পূর্ণ রেটিংসহ শুভকামনা রইলো।


মোঃ বরতক উল্লাহ চৌধুরী
১৩ মার্চ, ২০২১ ০৮:১২ পূর্বাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা রইলো


লোকেশ চন্দ্র দাস
১৩ মার্চ, ২০২১ ০৭:৩০ পূর্বাহ্ণ

মানসম্মত, যুগোপযোগী ও শ্রেণি উপযোগী কনটেন্ট তৈরি করে শিক্ষক বাতায়নকে সমৃদ্ধ করার জন্য পূর্ণ রেটিংসহ শুভকামনা রইলো।


আমিনা খাতুন
১৩ মার্চ, ২০২১ ০৭:২৬ পূর্বাহ্ণ

মানসম্মত, যুগোপযোগী ও শ্রেণি উপযোগী কনটেন্ট তৈরি করে শিক্ষক বাতায়নকে সমৃদ্ধ করার জন্য পূর্ণ রেটিংসহ শুভকামনা রইলো।


প্রতিভা রাণী দাস
১২ মার্চ, ২০২১ ০৯:০২ পূর্বাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা রইলো।


রমজান আলী
১২ মার্চ, ২০২১ ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা রইলো। আমার আপলোডকৃত কনটেন্ট ,ব্লগ দেখে আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন এবং নিরাপদে থাকবেন। আবারও ধন্যবাদ।


Nazim uddin
১১ মার্চ, ২০২১ ১০:৫২ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা রইলো।


রুমা রাণী দে
১১ মার্চ, ২০২১ ১০:৪৮ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা রইলো।


শংকরী দাস
১১ মার্চ, ২০২১ ১০:৪৬ অপরাহ্ণ

মানসম্মত, যুগোপযোগী ও শ্রেণি উপযোগী কনটেন্ট তৈরি করে শিক্ষক বাতায়নকে সমৃদ্ধ করার জন্য পূর্ণ রেটিংসহ শুভকামনা রইলো।


ছালমা বেগম
১১ মার্চ, ২০২১ ১০:৪৩ অপরাহ্ণ

মানসম্মত, যুগোপযোগী ও শ্রেণি উপযোগী কনটেন্ট তৈরি করে শিক্ষক বাতায়নকে সমৃদ্ধ করার জন্য পূর্ণ রেটিংসহ শুভকামনা রইলো।


মোসাঃফাতিমা বেগম
১১ মার্চ, ২০২১ ১০:৩৮ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ অসংখ্য শুভকামনা ।


রিম্পী রাণী দাশ
১১ মার্চ, ২০২১ ১০:৩৫ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা রইলো।


আলেয়া বেগম
১১ মার্চ, ২০২১ ১০:৩২ অপরাহ্ণ

শ্রেণি উপযোগী ও মানসম্মত কনটেন্ট আপলোড করে বাতায়নকে সমৃদ্ধ করার জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।


মোঃ নজরুল ইসলাম
১১ মার্চ, ২০২১ ১০:২৯ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ অসংখ্য শুভকামনা ।


মিলি রানী দাশ
১১ মার্চ, ২০২১ ১০:২৭ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ অসংখ্য শুভকামনা ।


সালমা আক্তার
১১ মার্চ, ২০২১ ১০:২১ অপরাহ্ণ

চমৎকার উপস্থাপন। লাইক,রেটিংসহ শুভ কামনা রইলো।


সালমা আক্তার
১১ মার্চ, ২০২১ ১০:২১ অপরাহ্ণ

চমৎকার উপস্থাপন। লাইক,রেটিংসহ শুভ কামনা রইলো।


সেলিনা আক্তার
১১ মার্চ, ২০২১ ১০:১৫ অপরাহ্ণ

শ্রেণি উপযোগী ও মানসম্মত কনটেন্ট আপলোড করে বাতায়নকে সমৃদ্ধ করার জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ। লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা রইলো।


সোনালী চৌধুরী
১১ মার্চ, ২০২১ ১০:১২ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ অসংখ্য শুভকামনা ।


রঞ্জিত বৈষ্ণব
১১ মার্চ, ২০২১ ১০:০৯ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ অসংখ্য শুভকামনা ।


খোদেজা আক্তার
১১ মার্চ, ২০২১ ১০:০৬ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিং সহ আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো,


ময়দর আল রহমত
১১ মার্চ, ২০২১ ১০:০৩ অপরাহ্ণ

শ্রেণি উপযোগী ও মানসম্মত কনটেন্ট আপলোড করে বাতায়নকে সমৃদ্ধ করার জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।


মোছাঃ মাকছুদা বেগম
১১ মার্চ, ২০২১ ০৭:৫৩ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা রইলো। আমার আপলোডকৃত কনটেন্ট দেখে আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।


মোঃকাওসার আহমেদ
১১ মার্চ, ২০২১ ০৪:৩৯ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিং সহ আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো।


মোছাঃ সালমা আক্তার
১১ মার্চ, ২০২১ ০৪:৩৫ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিং সহ আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো


জামাল আহমদ
১১ মার্চ, ২০২১ ০৪:২৮ অপরাহ্ণ

মান সম্মত বাতায়নকে সমৃদ্ধি করায় লাইক ও পূর্ণ রেটিং সহ শুভ কামনা রইল


আবদুল্লাহ আল শাকিল
১১ মার্চ, ২০২১ ০৬:৫১ পূর্বাহ্ণ

মান সম্মত বাতায়নকে সমৃদ্ধি করায় লাইক ও পূর্ণ রেটিং সহ শুভ কামনা রইল। আমার বাতায়ন পেইজ ঘুরে আসার জন্য আমন্ত্রন রইল।


মোহাম্মদ শাহাদৎ হোসেন
১১ মার্চ, ২০২১ ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা রইলো। আমার আপলোডকৃত কনটেন্ট দেখে আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন এবং নিরাপদে থাকবেন। আবারও ধন্যবাদ।


ইকবাল হোসেন
১০ মার্চ, ২০২১ ১০:৩৪ অপরাহ্ণ

মানসম্মত, যুগোপযোগী ও শ্রেণি উপযোগী কনটেন্ট তৈরি করে শিক্ষক বাতায়নকে সমৃদ্ধ করার জন্য পূর্ণ রেটিংসহ শুভকামনা রইলো।


MD Tazul islam
১০ মার্চ, ২০২১ ১০:২১ অপরাহ্ণ

শ্রেণি উপযোগী ও মানসম্মত কনটেন্ট আপলোড করে বাতায়নকে সমৃদ্ধ করার জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।


মোঃ রহিদুল ইসলাম
১০ মার্চ, ২০২১ ১০:০৯ অপরাহ্ণ

শুভকামনা রইল।


রমজান আলী
১০ মার্চ, ২০২১ ০৫:৩২ অপরাহ্ণ

শুভকামনা রইল। আমার কনটেন্ট দেখে আপনার মূল্যবান মতামত , রেটিং ও লাইক প্রদান করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি ।ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন মন্তব্য করুন


MD Tazul islam
১০ মার্চ, ২০২১ ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিং সহ আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো


মোছাঃহোছনারা আক্তার
০৯ মার্চ, ২০২১ ১০:৩৮ অপরাহ্ণ

শ্রেণি উপযোগী ও মানসম্মত কনটেন্ট আপলোড করে বাতায়নকে সমৃদ্ধ করার জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ। লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা রইলো।


মোছাঃ হোছনা বেগম
০৯ মার্চ, ২০২১ ০৮:৪৮ অপরাহ্ণ

শ্রেণি উপযোগী ও মানসম্মত কনটেন্ট আপলোড করে বাতায়নকে সমৃদ্ধ করার জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ। লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা রইলো।


হোছনা বেগম
০৯ মার্চ, ২০২১ ০৮:৪২ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ অসংখ্য শুভকামনা ।


গোলবদন আক্তার
০৯ মার্চ, ২০২১ ০৮:৩৮ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিং সহ আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো


মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন
০৯ মার্চ, ২০২১ ০৮:২২ অপরাহ্ণ

মানসম্মত, যুগোপযোগী ও শ্রেণি উপযোগী কনটেন্ট তৈরি করে শিক্ষক বাতায়নকে সমৃদ্ধ করার জন্য পূর্ণ রেটিংসহ শুভকামনা রইলো।


ইপা আক্তার
০৯ মার্চ, ২০২১ ০৮:১৮ অপরাহ্ণ

শ্রেণি উপযোগী ও মানসম্মত কনটেন্ট আপলোড করে বাতায়নকে সমৃদ্ধ করার জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ। লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা রইলো।


Dolena Akter
০৯ মার্চ, ২০২১ ০৮:১৩ অপরাহ্ণ

চমৎকার উপস্থাপন। লাইক,রেটিংসহ শুভ কামনা রইলো।


দিপালী রানী দাস
০৯ মার্চ, ২০২১ ০৮:১০ অপরাহ্ণ

চমৎকার উপস্থাপন। লাইক,রেটিংসহ শুভ কামনা রইলো।


দিপালী সিনহা
০৯ মার্চ, ২০২১ ০৮:০৭ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ অসংখ্য শুভকামনা ।


মোঃ বুরহান উদ্দিন
০৯ মার্চ, ২০২১ ০৮:০৪ অপরাহ্ণ

চমৎকার উপস্থাপন।


মো:বশির উদ্দিন
০৯ মার্চ, ২০২১ ০৫:১২ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ অসংখ্য শুভকামনা ।