প্রেজেন্টেশন

"কৃষি ও কৃষকের বন্ধু বঙ্গবন্ধু"

হিরালাল রায় ২৩ অক্টোবর,২০২০ ২০ বার দেখা হয়েছে লাইক কমেন্ট ০.০০ রেটিং ( )


কৃষি ও কৃষকের বন্ধু বঙ্গবন্ধু

যতকাল রবে পদ্মা যমুনা গৌরী মেঘনা বহমান, ততকাল রবে কীর্তি তোমার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান...।

ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলায় তিনি দেখতে চেয়েছিলেন দেশের কৃষি ও কৃষকের সর্বাঙ্গীন উন্নয়ন এবং স্বনিভর্রতা।

ষাটের দশকে তিনি এই বাংলার মাটি ও মানুষের মহান নেতা হিসেবে পেলেন বঙ্গবন্ধু খেতাব। যত ইশতেহার, দাবির যত দফা, যত আন্দোলন, সংগ্রাম- সবই রচিত হচ্ছে কৃষিভিত্তিক জীবন বাস্তবতা সামনে রেখে।

৭ মার্চ, ১৯৭১। ঢাকা, রেসকোর্স ময়দানেও যত মানুষের ভিড় তার মধ্যে বড় একটি অংশ ছিল কৃষক, মজুর, মেহনতি। তখন গোটা জনগোষ্ঠীর ৮০ শতাংশের ওপরে কৃষক। যারা শহরে থাকে, তারাও কোনো না কোনোভাবে কৃষিকাজই করে। বঙ্গবন্ধুর সেই আহ্বানে সবচেয়ে বেশি সাড়া দিল এ দেশের কৃষিজীবী মানুষ।

২৬ মার্চ শুরু হওয়া রক্ত-রণাঙ্গনে ছিল এ দেশের কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সোনার বাংলা বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধু যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, তার সর্বাগ্রে ছিল কৃষক। তিনি প্রথম কৃষকের সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে ভাবেন।

বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রের মূল দায়িত্ব হলো মেহনতি মানুষ- কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি এবং জনগণের মধ্যে পিছিয়ে পড়া অন্য গোষ্ঠীগুলোকে সব ধরনের শোষণ থেকে মুক্তি দেওয়া।

সংবিধানের ১৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘শহর ও গ্রামের জীবনযাত্রার মানের বৈষম্য ধাপে ধাপে দূর করার উদ্দেশ্যে কৃষিবিপ্লবের বিকাশ ঘটাতে হবে।’

১৯৭৩ সালে ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহে বঙ্গবন্ধু বিশেষ ভাষণ দিয়েছিলেন। সে ভাষণে তিনি কৃষি বিপ্লবের কথা বলেছিলেন। বলেছিলেন গ্রামের দিকে নজর দিতে হবে। কেননা গ্রামই সব উন্নয়নের মূল কেন্দ্র। গ্রামের উন্নয়ন আর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি যখন বেগবান হবে তখন গোটা বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে সম্মুখপানে।

বঙ্গবন্ধুর মতে -‘যে যত অহংকারী হওয়ার চেষ্টা করি না কেন, সবার শিকড় কৃষিতে।’ সারা দেশ সফর করে বিভিন্ন ভূমির কৃষি ঐতিহ্য, কৃষকের অবস্থা, শস্যাবর্তনসহ নানা বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বঙ্গবন্ধু।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পরে সমবায় চিন্তা নিয়ে সে সময়ের অর্থনীতিবিদ, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তিনি আলোচনা করেছেন। পরিকল্পনাটি যুগোপযোগী করে তোলার জন্য নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদদের গ্রামে যাওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। গ্রামের সঙ্গে শহরের ব্যবধান ঘুচিয়ে আনার কথা বলেন।
বঙ্গবন্ধু মান্ধাতা আমলের কৃষি বাদ দিয়ে আধুনিক ও যন্ত্রনির্ভর কৃষির উপর জোর দিতে বলেছেন।

ওই অনুষ্ঠানেই তিনি কৃষিবিদদের মর্যাদা এক নম্বরে উন্নীত করার ঘোষণা দেন।

আর ১৯৭৩ সালে ১০ নম্বর অ্যাক্টের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট। ধান ছাড়া অন্যান্য ফসলের গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হয় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে।
পুনর্গঠন করা হয় হর্টিকালচার বোর্ড, তুলা উন্নয়ন বোর্ড, সিড সার্টিফিকেশন এজেন্সি, রাবার উন্নয়ন কার্যক্রম, কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানসহ গবেষণা সমন্বয়ের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল। বাংলার সোনালি আঁশের সম্ভাবনার দ্বার বিস্তৃত করতে প্রতিষ্ঠা করা হয় পাট মন্ত্রণালয়।

গ্রামের দরিদ্র কৃষক আর ভুখা-নাঙ্গা মানুষদের ভাগ্যের পরিবর্তন করার জন্যই শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর যত আন্দোলন-সংগ্রাম। কৃষক-শ্রমিক মেহনতি মানুষের জন্য একটি স্বতন্ত্র স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়েই ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করার পর আলোচনার দ্বার বন্ধ হয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ডাক দেন। সে ডাকে সাড়া দেয় সর্বস্তরের মানুষ। শুরু হয় রক্তক্ষয়ী এক মুক্তিযুদ্ধ।

দেশটি তখন স্বাধীনতা যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘরবাড়ি, অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ, খাদ্যগুদাম, হাসপাতালসহ কত কী! যুদ্ধবিধ্বস্ত ভঙ্গুর অবকাঠামো আর অতিনাজুক অর্থনীতিকে অবলম্বন করে শুরু তার দেশ পুনর্গঠন কাজ। প্রয়োজন অর্থ, অবকাঠামো, দক্ষ জনশক্তি, সঠিক পরিকল্পনা; সেই সঙ্গে এর বাস্তবায়নে নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। শুরুতেই কৃষি ও কৃষকের জন্য ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ করতে হয় বঙ্গবন্ধুকে। পাকিস্তানি শাসকদের অবহেলার কারণে পূর্ববাংলায় তখন গড়পড়তা ১৫ লাখ টন খাদ্যশস্যের ঘাটতি দেখা দিত।

বঙ্গবন্ধু খাসজমিসহ ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে বিতরণযোগ্য জমির পরিমাণ বৃদ্ধি করার জন্য পরিবারপ্রতি জমির সিলিং ১০০ বিঘা নির্ধারণ করে দেন।
তিনি উন্নত বীজ, সার, সেচের নানা রকম পাম্প ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সরবরাহের পাশাপাশি ১৯৭২ সালে ইউরিয়া, পটাশ ও টিএসপি সারের মণপ্রতি মূল্য নির্ধারণ করে দেন যথাক্রমে ২০ টাকা, ১৫ টাকা ও ১০ টাকা। সত্যিকার অর্থে বিশ্ববাজারে এসব সারের উচ্চমূল্য যেন কৃষকদের ফসলের জমিতে সার প্রয়োগে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য সারে কৃষককে ভর্তুকি দেন বঙ্গবন্ধু।
তা ছাড়া পাকিস্তানি আমলে রুজু করা ১০ লাখ সার্টিফিকেট মামলা থেকে কৃষকদের রক্ষা করেন। তিনি ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা চিরতরে রহিত করে দেন। দরিদ্র কৃষকদের রক্ষায় নিম্নমূল্যে রেশনপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা হয়।

গরিব কৃষক পরিবারের সন্তান যেন সরকারি খরচে লেখাপড়া করতে পারে, সে ব্যবস্থাও করে দেওয়া হয়।

সরকার ইজারাদারি প্রথা বিলুপ্ত করে, ভূমি প্রশাসন ও ভূমি সংস্কার মন্ত্রণালয় স্থাপন করে এবং সেলামি ছাড়া জমি বণ্টনের ব্যবস্থা করে।

স্বাধীনতা যুদ্ধের ক্ষত বুকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু এবার কৃষকদের কৃষিকর্মে ফিরে আসার আহ্বান জানালেন। শোষণ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে পরিকল্পনায় ভূমি সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়।
ক্ষুুদ্র চাষি ও ভূমিহীন কৃষক-মজুরদের সমবায় সমিতির মাধ্যমে কৃষি কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

বঙ্গবন্ধু ভাবতেন এতোদিন আমরা শোষণে নিষ্পেষণে আমাদের মেধা প্রতিভাকে কাজে লাগাতে পারিনি, এখন সময় এসেছে নিজেদের দেশে নিজেদের জ্ঞান মেধা দক্ষতাকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর। আমরা তখন গর্বের সাথে বলতে পারবো- এই তো আমার স্বনির্ভর সোনার বাংলাদেশ।

সামগ্রিক কৃষি উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর বৃহৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু বলেছেন, সবার আগে দরকার আমাদের টোটাল জরিপ। জরিপ ছাড়া কোনো পরিকল্পনাই সফল হবে না। সেজন্য সব কাজ করার আগে আমাদের সুষ্ঠু জরিপ করতে হবে। জরিপের ওপর ভিত্তি করে আমাদের সার্বিক পরিকল্পনা করতে হবে।

আমাদের আর্থসামাজিক কারণে দেশে দিন দিন জমির বিভাজন বেড়ে চলছে। যদি সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তোলা না যায় তাহলে আমাদের কৃষি উন্নয়ন ব্যাহত হবে, আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন নিশ্চিত করতে পারব না।

কো-অপারেটিভ সোসাইটির মাধ্যমে আগাতে পারলে আমাদের কৃষির উৎপাদন এবং সার্বিক উন্নয়ন দুটিই মাত্রা পাবে সমৃদ্ধ হবে। বেশি শস্য উৎপাদনের জন্য আমাদের সবার সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। মাঠের ফসল, গবাদিপশু, মাছ পরিবেশ সবকিছুর মধ্যে সুষ্ঠু সমন্বয় করেহবে। তা না হলে আমরা কাঙ্ক্ষিতভাবে এগোতে পারব না।

কৃষকদেরকে অধিক মাত্রায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। বিশেষ করে কৃষি শিক্ষা কৃষি অভিজ্ঞতা আর জ্ঞানে সংশ্লিষ্ট সবাইকে শিক্ষিত করতে হবে। তখন এমনিতেই আমাদের উন্নয়ন বেগবান হবে।

বঙ্গবন্ধু বলেছেন- গ্রামের কৃষক অনেক অভিজ্ঞ অনেক দক্ষ। তাদের সাথে শেয়ার করে সমন্বয় করে আধুনিক কৃষিতে এগোতে হবে। তবেই আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত সফলতা পাব অনায়াসে।

মানুষের ওপর জোর করে কিছুই চাপিয়ে দেওয়া যাবে না- এটি খুব ভালো করে জানতেন বঙ্গবন্ধু। তাই তো তিনি বলেছেন- করে দেখাতে হবে, এতে কৃষক নিজে নিজে শিখে নিজের আঙিনায় বাস্তবায়ন করবে।

তিনি কৃষিবিদদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আপনারা যারা কৃষি শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছেন আপনাদের গ্রামে গিয়ে কৃষকের সাথে মিশে যেতে হবে, মনোযোগ দিতে হবে তাদের চাহিদা আর কর্মের ওপর, তবেই তারা সাহসী হবে, আগ্রহী হবে, উন্নতি করবে। ফলবে সোনার ফসল ক্ষেত ভরে।

আপনারা এখন শহরমুখো হওয়ার কথা ভুলে যান। গ্রাম উন্নত হলে দেশ উন্নত হবে, তখন আপনারা আপনা-আপনি উন্নত হয়ে যাবেন। গ্রামভিত্তিক বাংলার উন্নতি মানে দেশের উন্নতি, আর আপনাদের উন্নতি তখন সময়ের ব্যাপার।

শহরের ভদ্রলোকদের দিকে তাকিয়ে আপনাদের চিন্তা বা আফসোস করার কোনো কারণ নেই। কেননা গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের দিকে আমাদের সবার ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। কৃষক বাঁচাতে হবে, উৎপাদন বাড়াতে হবে, তা নাহলে বাংলাদেশ বাঁঞচতে পারবে না।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন উৎসবে (১৩.০২.১৯৭৩ তারিখে) বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, খাদ্য বলতে শুধু ধান, চাল, আটা, ময়দা আর ভুট্টাকে বোঝায় না বরং মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, শাকসবজি এসবকে বোঝায়। সুতরাং কৃষি উন্নতি করতে হলে এসব খাদ্যশস্যের সমন্বিত উৎপাদন উন্নতি করতে হবে। ১৯৭২-৭৩ সালে ৫০০ কোটি টাকা উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ ছিল। এর মধ্যে ১০১ কোটি টাকা শুধু কৃষি উন্নয়নের জন্য রাখা হয়েছিল।

বঙ্গবন্ধু ভাবতেন সবার আগে দরকার খাদ্যের। খাদ্যের নিশ্চয়তা না দিতে পারলে সব উন্নয়ন কার্যক্রম বিফলে যাবে। সুতরাং নিজেদের খাদ্য নিজেরা উৎপাদন করতে হবে।

 স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের জনগণের ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্তির লক্ষ্যে কৃষিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্থাপন, পুনঃসংস্কার, উন্নয়ন এবং ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন, উদ্যান উন্নয়ন বোর্ড, তুলা উন্নয়ন বোর্ড, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি, ইক্ষু গবেষণা প্রতিষ্ঠান, মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনসহ অনেক নতুন প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করেন।

জাতির পিতা বলেছেন, খাদ্যের জন্য অন্যের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। আমাদের নিজেদের প্রয়োজনীয় খাদ্য আমাদেরই উৎপাদন করতে হবে।

আমরা কেন অন্যের কাছে খাদ্য ভিক্ষা চাইব। আমাদের উর্বর জমি, আমাদের অবারিত প্রাকৃতিক সম্পদ, আমাদের পরিশ্রমী মানুষ, আমাদের গবেষণা সম্প্রসারণ কাজে সমন্বয় করে আমরা খাদ্যে স্বয়ম্ভরতা অর্জন করব। এটা শুধু সময়ের ব্যাপার।

আরেকটি কথা বঙ্গবন্ধু সব সময় বলতেন, আমাদের বন্যা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে আমাদের উৎপাদন আমাদের সুখ-শান্তি সব বিপন্ন হবে। সুতরাং যে করেই হোক আমাদের বন্যা নিয়ন্ত্রণ করতেই হবে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায়।

কৃষিশিক্ষা, মানসম্মত বীজ উৎপাদন এবং বিতরণ, সুষ্ঠু সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা, কৃষিতে ভর্তুকি, বালাই ব্যবস্থাপনা, সমন্বিত ফসল ব্যবস্থাপনা, খামারভিত্তিক ফসল ব্যবস্থাপনা, সমবায়ভিত্তিক চাষাবাদ, ভেঙে যাওয়া অর্থনীতি পুনর্গঠন, মিল্কভিটা পুনর্গঠন, সার, সেচ, বীজ বিষয়ক কার্যক্রম এসবের ওপর সর্বাত্মক জোর দিয়েছেন।

কৃষি উৎপাদন নিশ্চিত করতে তিনি রাসায়নিক সারের কথা তিনি বলেছেন। তিনি বলেছেন, আমাদের যে সার কারখানাগুলো আছে এগুলোকে নিশ্চিত উৎপাদনমুখী করতে হবে বেশি করে। প্রয়োজনে আরও নতুন নতুন সারের কারখানা তৈরি-প্রতিষ্ঠা করতে হবে কৃষি বিপ্লব বাস্তবায়নের জন্য।

তিনি বলেছেন, নিজেরা বীজ উৎপাদন করতে হবে। প্রয়োজনে শুরুতে বিদেশ থেকে মানসম্মত বীজ আমদানি করে দেশের বীজের প্রাথমিক চাহিদা মেটাতে হবে। পরে আমরা নিজেরাই মানসম্মত উন্নত বীজ উদ্ভাবন-উৎপাদন করব।

মতামত দিন