শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা

মো. মাসুদুর রহমান ২৩ সেপ্টেম্বর,২০১৯ ১৫৫ বার দেখা হয়েছে লাইক কমেন্ট ০.০০ ()

বৃটিশ শাসনের পূর্বে এদেশে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পরিচালিত তেমন কোন শিক্ষা ব্যবস্থা ছিল না। যা ছিল তা ব্যক্তি বা সামাজিক উদ্যোগে মক্তব বা টোল ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষা । সুনির্দিষ্ট কারিকুলাম, পাঠ্যবই, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়োগকৃত শিক্ষক, পরীক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে সনদ প্রদান এগুলো কোন কিছুই ছিল না।
বৃটিশরা শাসন ক্ষমতায় এসে তাদের শাসন-শোষণের প্রয়োজনেই এদেশে শিক্ষার প্রচলন শুরু করে। সে শিক্ষা ব্যবস্থায় আইনগত ভাবে সকলের শিক্ষা গ্রহণে কোন বাধা না থাকলেও মূলত পদ্ধতির কারণে সে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সার্বজনীন বলা যাবে না। কারণ সকলের জন্য উপযুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা সেটা ছিল না। বরং সকলেই যেন শিক্ষার আলোয় আলোকিত হতে না পারে পরোক্ষভাবে সে চেষ্টা শাসকদের ছিল। সেকারণে শিক্ষার মাধ্যম মাতৃভাষা ছিল না; ছিল ইংরেজি। কারণ তাদের ভয় ছিল সকলে শিক্ষিত হলে তাদের শাসন ক্ষমতা টিকবে না। আন্দোলন হবে। এজন্য তারা কারিকুলাম এমনভাবে করেছিল যাতে সকলে শিখতে না পারে। গুটি কয়েক মেধাবীরা উচ্চ শিক্ষা পেয়ে তাদের অনুগত অফিসার হবে আর কিছু অংশ অল্প শিক্ষিত হয়ে কেরানী হবে। কেরানীদের বেতন হবে খুবই সামান্য। যাতে তারা ঘুষ খেয়ে এদেশের জনগণের শত্রুতে পরিণত হয়। নিম্নপদে কিছু অফিসার নিয়োগ দেবে এ দেশীয়দের; তাদের বেতনও খুব বেশি হবে না। তাদের দ্বারা এদেশের জনগণকে শাসন-শোষণ করবে। আর তারা (ইংরেজরা) উচ্চ পদে চাকুরী করবে আর অনেক টাকা বেতন নিয়ে ঘুষমুক্ত থাকবে এবং সম্মানিত থাকবে। বিশেষ করে শিক্ষকদের বেতন থাকবে খুবই কম। যাতে এ পেশায় বেশি লোক আসতে উৎসাহী না হয়। দু:খের বিষয় সে ব্যবস্থা থেকে আজও আমরা পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারিনি।
অর্থনীতিবিদ আর্থার শুলজ্ দেখিয়েছেন যে, প্রাথমিক শিক্ষায় বিনিয়োগ করা সম্পদের সুফল ফেরত আসে ৩৫ শতাংশ, মাধ্যমিক শিক্ষায় ২০ শতাংশ এবং উচ্চ শিক্ষায় ১১ শতাংশ। শিক্ষার অর্থনীতি (Economics of Education) নিয়ে গবেষণা করে মৌলিক অবদান রাখার জন্য রবার্ট সলো এবং আর্থার শুলজ্ অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পর্যন্ত লাভ করেন।
একটি দেশের মানব সম্পদ উন্নয়নের মধ্যে দিয়ে জাতীয় উন্নয়নের জন্য জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দিতে হয়। নিম্নমধ্য-আয়ের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সরকারের প্রয়োজন ছিল শিক্ষা খাতে কমপক্ষে মোট জাতীয় বাজেটের ২৫% এবং জিডিপি’র ৮% বরাদ্দ রাখার। প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য ইতিবাচক হলেও শিক্ষার গুণগত মান অর্জনে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে রয়েছে এবং পরিতাপের বিষয় হলো শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে তেমন কোনো বলিষ্ঠ পদক্ষেপ অদ্যবধি নেওয়া হয়নি। বাংলাদেশের শিক্ষা বাজেটের গতি প্রকৃতি লক্ষ্য করলেই তা সকলের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে। বিগত দশ বছরের শিক্ষা বাজেটে গড় বরাদ্দ ছিল মোট বাজেটের ১৩.৭%, অন্যদিকে গত দুই দশকে গড়ে জিডিপি’র মাত্র ২% শিক্ষা খাতে ব্যয় হয়েছে। অথচ ইউনেস্ক’র পরামর্শ অনুযায়ী শিক্ষা বাজেটে বরাদ্দ জাতীয় বাজেটের নূন্যতম ২০% হওয়া ব্যঞ্চনীয় এবং শিক্ষা খাতে ব্যয় মোট জিডিপি’র নূন্যতম ৬% হওয়া উচিত।
চলবে ...

মতামত দিন