আজ ১৪ নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিক দিবস প্রসঙ্গঃ বাংলাদেশ

মোমিন আহমেদ ১৪ নভেম্বর,২০১৯ ৭৫ বার দেখা হয়েছে লাইক কমেন্ট ৫.০০ ()


ডায়াবেটিস রোগটির সঙ্গে এখন কম-বেশি সবাই পরিচিত। এটি এমন একটি রোগ যার কারণে দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যক্ষমতা হ্রাস পেয়ে হার্ট অ্যাটাক, কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়া, অন্ধ হয়ে যাওয়া, পায়ে পচন, এমনকি পা কেটে ফেলা পর্যন্ত লাগতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ডায়াবেটিস এখন একটি মহামারী রোগ।‘আসুন, প্রতিটি পরিবারকে ডায়াবেটিসমুক্ত রাখি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ ১৪ নভেম্বর পালিত হচ্ছে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন এ দিবসটির উদ্যোক্তা, জাতিসংঘ এ দিবসটির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছে। তাই পৃথিবীর সবক’টি দেশ প্রতি বছর ১৪ নভেম্বর দিবসটি পালন করে আসছে। এদিন বিজ্ঞানী ফ্রেডরিক বেনটিং জন্ম নিয়েছিলেন এবং তিনি বিজ্ঞানী চার্লস বেস্টের সঙ্গে একত্রে ইনসুলিন আবিষ্কার করেছিলেন। বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির (বাডাস) ৬২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও দিবসটি পালিত হচ্ছে। ১৯৫৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি প্রতিষ্ঠা হয়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সচেতন করে তুলতেই বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি তার প্রতিষ্ঠা দিবসকে ডায়াবেটিক সচেতনতা দিবস হিসেবে পালনের উদ্যোগ নেয়। সমিতির পক্ষ থেকে দিবসটি উপলক্ষে ডায়াবেটিস ঝুঁকি এড়াতে নিয়িমত খাদ্যাভ্যাসসহ নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি হাঁটাচলা ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ডায়াবেটিস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির (বাডাস) উদ্যোগে ঢাকাসহ সারাদেশে এক লাখের বেশি মানুষের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে প্রতি চার জনে একজন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। আর ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অর্ধেক রোগীই জানেন না তাদের এ রোগ আছে। এক জরীপ মতে বিশ্বে প্রতি সাত সেকেন্ডে একজন মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছে। বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে এই রোগ এখন মহামারী রূপ নিচ্ছে। দেশে বর্তমানে ৮৪ লাখেরও বেশি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। দেশে ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের নারী-পুরুষ এখন এই নীরব ঘাতকের শিকার হচ্ছে। শহর থেকে গ্রাম- সর্বত্রই প্রায় সমান হারে ডায়াবেটিস ছড়িয়ে পড়ছে। যে হারে ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে ও শনাক্ত হচ্ছে, তাতে ধারণা করা হচ্ছে, দেশের মোট জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ এর শিকার। চিকিৎসকরা একে মহামারি বলতে শুরু করেছেন। জরিপে দেখা যায়, ডায়াবেটিস আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি চট্টগ্রাম বিভাগে। এরপর পর্যায়ক্রমে ময়মনসিংহ, বরিশাল, ঢাকা, খুলনা, রংপুর, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগে এর প্রকোপ দেখা যায়। তবে জরিপের তথ্য-উপাত্তগুলো এখনও যাচাই-বাছাই পর্যায়ে থাকায় কোন বিভাগে কত শতাংশ মানুষ ডায়াবেটিস আক্রান্ত তা জানা যায়নি।
বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির (বাডাস) এক জরিপে এমন উদ্বেগজনক তথ্য মিলেছে। ওই জরিপে দেখা গেছে, দেশের ২৫ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। বাডাসের করা জরিপটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ডায়াবেটিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৪২ দশমিক ৫ কোটি। অথচ ১৯৮৫ সালে এ সংখ্যা ছিল মাত্র ৩ কোটি। এখনই এই রোগ প্রতিরোধ করা না গেলে ২০৩৫ সালের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৯ কোটিতে পৌঁছানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্বে প্রতি বছর ডায়াবেটিকসের কারণে ১০ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। বর্তমানে সারাবিশ্বে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান ১০ম স্থানে।

শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা ডায়াবেটিস রোগীদের সুস্থ থাকার অন্যতম শর্ত। এই রোগটির স্বাস্থ্য সমস্যা বিলম্বিত করতে প্রতিদিন কমপক্ষে ৪৫-৬০ মিনিট হাঁটা বা শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। এতে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা কমতে সাহায্য করবে। এছাড়া হৃদরোগের সম্ভাবনা কমাতেও সাহায্য করবে। হাঁটার ক্ষেত্রে টানা ৪৫-৫০ মিনিট একটানা ঘাম ঝরিয়ে হাঁটতে হবে। এছাড়া এমন ব্যায়াম বা পরিশ্রমও করতে হবে, যাতে শরীর থেকে ঘাম ঝরে। হঠাৎ খুব কঠিন ব্যায়াম শুরু না করে প্রথমে হালকা ব্যায়াম দিয়ে শুরু করতে হবে। ধীরে ধীরে বাড়াতে হবে। ইয়োগা, মেডিটেশন ইত্যাদি ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে খুব উপকারী। দেহের ওজন বাড়তে দেয়া যাবে না। যাদের ওজন ইতিমধ্যে বেড়েছে, তাদের ওজন কমাতে ব্যবস্থা নিতে হবে। বস্তুত ডায়াবেটিস রোগীর চিকিৎসা ব্যয়ভার পরিবারেরই একটি স্বাস্থ্য ব্যয়। যারা ইনসুলিন নেন এবং নিয়মিত রক্তের গ্লুকোজ মাপেন, তাদের এ খরচ পরিবারের দৈনন্দিন খরচের অর্ধেকের সমান। তাই প্রত্যেক ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ডায়াবেটিস চিকিৎসা সামগ্রীর প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা বা চিকিৎসা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের উদার হওয়া প্রয়োজন। দেশভেদে কিছু ব্যতিক্রম থাকলেও বর্তমানে পরিবারে প্রতি চারজন সদস্যের একজনের ডায়াবেটিস ঝুঁকি বিরাজ করছে। কিছু গবেষণা থেকে দেখা গেছে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নিতে গেলে পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা প্রয়োজন এবং যারা ডায়াবেটিস শিক্ষা পেয়েছেন তারাই এক্ষেত্রে পরিবারের সবচেয়ে উপযোগী সদস্য। তাই শুধু রোগীকে নয়, ডায়াবেটিস রোগীর পরিবারের সদস্যদের এ বিষয়ে গ্রহণযোগ্য শিক্ষা প্রদানে উদ্যোগী হতে হবে। ডায়াবেটিস রোগীদের মানসিক অবস্থার উন্নতির জন্য পরিবারের সদস্যদের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। উদারপন্থী পারিবারিক কাঠামো, সহযোগিতাপূর্ণ সামাজিক ও সক্রিয় রাষ্ট্রীয় সেবা প্রদানকারী কর্মকাণ্ড ডায়াবেটিস প্রতিরোধে বা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস চিকিৎসা যতটা জরুরি, তার চেয়েও বেশি জরুরি ডায়াবেটিস প্রতিরোধের সর্বাত্মক কর্মকাণ্ড। রাষ্ট্রকেই ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে এ কাজে নেতৃত্ব দিতে হবে, এর সঙ্গে সর্বস্তরের মানুষকে যুক্ত করতে হবে। আশংকার কথা বিশ্বজুড়ে প্রতি দু’জন ডায়াবেটিস রোগীর একজন অশনাক্ত রয়ে গেছে। গড়ে প্রতি ছয়টি সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রে একটি মায়ের ডায়াবেটিস দ্বারা আক্রান্ত হয়। ডায়াবেটিস পরিবারের ওপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে এবং এর প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিবারের সব সদস্যের সহযোগিতা প্রয়োজন। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে প্রত্যেক রোগীর পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণ জরুরি। ডায়াবেটিস রোগীর চিকিৎসা ব্যয়ভার পরিবারেরই একটি স্বাস্থ্য ব্যয়। যারা ইনসুলিন নিচ্ছেন ও নিয়মিত রক্তের গ্লুকোজ মাপছেন তাদের এ খরচ নিত্যনৈমিত্তিক পরিবারের খরচের অর্ধেকের সমান। তাই প্রতিটি ডায়াবেটিস রোগীর ক্রয় সাধ্যের মধ্যে ডায়াবেটিস চিকিৎসা সামগ্রীর প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা বা চিকিৎসা নিশ্চিতকরণের প্রয়োজন, উদারতা প্রয়োজন।

ডায়াবেটিস সারাজীবনের রোগ। একবার হলে সারাজীবন বহন করতে হয়। ডায়াবেটিস কোনোভাবেই ওষুধ দিয়ে কমানো সম্ভব নয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে হবে। শারীরিক পরিশ্রম বাড়াতে হবে। দৈনিক কমপক্ষে আধা ঘণ্টা হাঁটতে হবে। খাদ্য তালিকা থেকে মিষ্টিজাতীয় খাবার পুরোপুরি বাদ দিতে হবে। শর্করা ও মাংস জাতীয় খাবার পরিমিতভাবে খেতে হবে। শাকসবজিসহ আঁশযুক্ত খাবার খাদ্য তালিকায় বেশি পরিমাণে রাখতে হবে। সঠিক ও নিয়মতান্ত্রিক জীবন যাপনের মধ্য দিয়ে টাইপ-২ ডায়াবেটিস শতকরা সত্তর ভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। সুষম খাবার গ্রহণ, অতিমাত্রায় কোমল পানীয় ও ফাস্টফুড পরিহার, নিয়মিত ব্যায়াম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চললে এ রোগ প্রতিরোধ সম্ভবকিছু গবেষণা থেকে দেখা গেছে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নিতে গেলে পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা প্রয়োজন এবং যারা ডায়াবেটিস শিক্ষা পেয়েছেন তারাই সবচেয়ে উপযোগী সদস্য। তাই শুধু রোগীকে নয়, ডায়াবেটিসের রোগীর পরিবারের সদস্যদের এ বিষয়ে গ্রহণযোগ্য শিক্ষা প্রদানে উদ্যোগী হতে হবে। ডায়াবেটিস রোগীদের মানসিক অবস্থার উন্নতির জন্য পরিবারের সদস্যদের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা,সচেতন হতে হবে । কারণ, সচেতনতা ডায়াবেটিসের জটিলতা কমাতে মোক্ষম ভূমিকা পালন করে

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
মোঃ শাহজালাল পাটওয়ারী
১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০৭:২১ অপরাহ্ণ

পূর্ণ ৫ রেটিংসহ শুভকামনা ও অভিনন্দন। আমার কন্টেন্টগুলো দেখে রেটিং, লাইক ও কমেন্ট দেয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ রইল।