মিরাজের রজনীতে কী ঘটেছিল - আসুন একটি হাদীসের মাধ্যমে জানার চেষ্টা করি।

মুহাম্মাদ শরীফুল্লাহ খান ১২ মার্চ,২০২০ ১৪৪ বার দেখা হয়েছে লাইক কমেন্ট ৫.০০ ()

সহীহ বুখারী

হাদীস নং ৩১০৬-

আবদান ও আহমাদ ইবনু সালিহ (রহঃ) হযরত আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আবূ যার (রাঃ) হাদীস বর্ণনা করতেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (লাইলাতুল মি’রাজে) আমার ঘরের ছাদ উন্মুক্ত করা হয়েছিল। তখন আমি মক্কায় ছিলাম। তারপর জিব্‌রাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম অবতরণ করলেন এবং আমার বক্ষ বিদীর্ণ করলেন। এরপর তিনি যমযমের পানি দ্বারা তা ধুইলেন। এরপর হিক্‌মত ও ঈমান (জ্ঞান ও বিশ্বাস) দ্বারা পরিপূর্ণ একখানা সোনার তশ্‌তরী নিয়ে আসেন এবং তা আমার বক্ষে ঢেলে দিলেন। তারপর আমার বক্ষকে পূর্বের ন্যায় মিলিয়ে দিলেন। এবার তিনি আমার হাত ধরলেন এবং আমাকে আকাশের দিকে উঠিয়ে নিলেন। এরপর যখন দুনিয়ার নিকটবর্তী আকাশে পৌছলেন, তখন জিব্‌রাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম আকাশের দ্বাররক্ষীকে বললেন, দরজা খুলুন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কে? জবাব দিলেন, আমি জিব্‌রাঈল। দ্বাররক্ষী বললেন, আপনার সাথে কি আর কেউ আছেন? তিনি বললেন, আমার সাথে মুহাম্মদ স আছেন। দ্বাররক্ষী জিজ্ঞাসা করলেন, তাঁকে কি ডাকা হয়েছে? বললেন, হাঁ। তারপর দরজা খোলা হল। যখন আমরা আকাশের উপরে আরোহণ করলাম, হঠাৎ দেখলাম এক ব্যাক্তি, যার ডানে একদল লোক আর তাঁর বামেও একদল লোক। যখন তিনি তাঁর ডান দিকে তাকান তখন হাসতে থাকেন, আর যখন তাঁর বাম দিকে তাকান তখন কাঁদতে থাকেন। (তিনি আমাকে দেখে) বললেন, মারাহাবা! হে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও নেক সন্তান। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে জিব্‌রাঈল! ইনি কে? তিনি জবাব দিলেন, ইনি আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম আর তাঁর ডানের ও বামের এ লোকগুলো হল তাঁর সন্তান (আত্মাসমূহ) এদের মধ্যে ডানদিকের লোকগুলো হল জান্নাতী আর বামদিকের লোকগুলো হল জাহান্নামী। অতএব যখন তিনি ডান দিকে তাকান তখন হাসেন, আর যখন বাম দিকে তাকান তখন কাঁদেন। এরপর আমাকে নিয়ে জিব্‌রাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপরে উঠলেন। এমনকি দ্বিতীয় আকাশের দ্বারে এসে গেলেন। তখন তিনি এ আকাশের দ্বাররক্ষীকে বললেন, দরজা খুলুন! দ্বাররক্ষী তাঁকে প্রথম আকাশের দ্বাররক্ষী যেরূপ বলেছিল, অনুরূপ বললেন। তারপর তিনি দরজা খুলে দিলেন। আনাস (রাঃ) বলেন, এরপর আবূ যার (রাঃ) উল্লেখ করেছেন যে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আকাশসমূহে ইদ্‌রীস আ, মূসা আ, ঈসা আ এবং ইবরাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর সাক্ষাৎ পেয়েছেন। তাঁদের কার অবস্তান কোন আকাশে তিনি আমার কাছে তা বর্ণনা করেন নি। তবে তিনি এটা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুনিয়ার নিকটর্তী আকাশে আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে এবং ষষ্ঠ আকাশে ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে দেখতে পেয়েছেন। আনাস (রাঃ) বলেন, জিব্‌রাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহ) ইদ্‌রীস আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন, তখন তিনি (ইদ্‌রীস আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বলেছিলেন, হে নেক নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং নেক ভাই! আপনাকে মারহাবা। (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন) আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইনি কে? তিনি (জিব্‌রাঈল) জবাব দিলেন, ইনি ইদ্‌রীস আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এরপর মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করলাম। তিনি বললেন, মারহাবা! হে নেক নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং নেক ভাই। তখন আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইনি কে? তিনি (জিব্‌রাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বললেন, ইনি মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তারপর ঈসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম। তিনি বললেন, মারহাবা! হে নেক নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং নেক ভাই। তখন আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইনি কে? তিনি (জিব্‌রাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম)জবাব দিলেন, ইনি ঈসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম। অতঃপর ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম। তিনি বললাম, মারহাবা। হে নেক নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং নেক সন্তান! আমি জানতে চাইলাম, ইনি কে? তিনি (জিব্‌রাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বললেন, ইনি ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম। 

ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, আমাকে ইবনু হাযম (রহঃ) জানিয়েছেন যে, ইবনু আব্বাস ও আবূ হাইয়্যা আনসারী (রাঃ) বলতেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এরপর জিব্‌রাঈল আ আমাকে উর্ধে নিয়ে গেলেন। শেষ পর্যন্ত আমি একটা সমতল স্থানে গিয়ে পৌছলাম। সেখান থেকে কলমসমুহের খসখস শব্দ শুনছিলাম। 

ইবনু হাযম (রহঃ) এবং আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেছেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তখন আল্লাহ আমার উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত (নামায)ফরয করেছেন। এরপর আমি এ নির্দেশ নিয়ে ফিরে চললাম। যখন মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছিলাম, তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আপনার রব আপনার উম্মতের উপর কি ফরয করেছেন? আমি বললাম, তাদের উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করা হয়েছে। তিনি বললেন, পুনরায় আপনার রবের কাছে ফিরে যান (এবং তা কমাবার জন্য আবেদন করুন।)কেননা আপনার উম্মতের তা পালন করার সামর্থ থাকবে না। তখন ফিরে গেলাম এবং আমার রবের নিকট তা কমাবার জন্য আবেদন করলাম। তিনি তার অর্ধেক কমিয়ে দিলেন। আমি মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর কাছে ফিরে আসলাম। তিনি বললেন, আপনার রবের কাছে পুনরায় কমাবার আবেদন করুন এবং তিনি (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম )পূর্বের অনুরূপ কথা এবার উল্লেখ করলেন। এবার তিনি (আল্লাহ) তার অর্ধেক কমিয়ে দিলেন। এবার আমি মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর কাছে আসলাম এবং তিনি পূর্বের মত বললেন। আমি তা করলাম। তখন আল্লাহ তার এক অংশ মাফ করে দিলেন। আমি পুনরায় মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর কাছে আসলাম এবং তাঁকে অবহিত করলাম। তখন তিনি বললেন, আপনার রবের নিকট গিয়ে আরো কমাবার আরয করুন। কেননা আপনার উম্মতের তা পালন করার সামর্থ থাকবে না। আমি আবার ফিরে গেলাম এবং আমার রবের নিকট তা কমাবার আবেদন করলাম। তিনি বললেন, এ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত বাকী রইল। আর তা সাওয়াবের ক্ষেত্রে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত এর সমান হবে। আমার কথার পরিবর্তন হয় না। তারপর আমি মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর কাছে ফিরে আসলাম। তিনি এবারও বললেন, আপনার রবের কাছে গিয়ে আবেদন করুন। আমি বললাম, এবার আমার রবের সম্মুখীন হতে আমি লজ্জাবোধ করছি। এরপর জিব্‌রাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম চললেন এবং অবশেষে আমাকে সাথে করে সিদ্‌রাতুল মুন্‌তাহা পর্যন্ত নিয়ে গেলেন। দেখলাম তা এমন অনুরূপ রঙে পরিপূর্ণ, যা বর্ণনা করার আমার ক্ষমতা আমার নেই। এরপর আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হল। দেখলাম এর ইট হচ্ছে মোতির তৈরি আর তার মাটি মিস্‌ক বা কস্তুরীর ন্যায় সুগন্ধযুক্ত।

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
মুহাম্মাদ শরীফুল্লাহ খান
৩০ মে, ২০২০ ১২:৩৯ অপরাহ্ণ

ধন্যবাদ


আব্দুল্লাহ আত তারিক
১২ মার্চ, ২০২০ ০৯:২৭ অপরাহ্ণ

মুজিব বর্ষের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা রইলো । মুজিব বর্ষের অঙ্গিকার, শ্রেণিকক্ষ হোক আইসিটি নির্ভর ।।


মুহাম্মাদ শরীফুল্লাহ খান
৩০ মে, ২০২০ ১২:৩৯ অপরাহ্ণ

ধন্যবাদ