করোনা ও দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

বিপ্লব কুমার দাস ২০ আগস্ট,২০২০ ১০১ বার দেখা হয়েছে লাইক কমেন্ট ৫.০০ ()

একজন মানুষ যখন একা হয়ে যায়, নিঃসঙ্গ বোধ করে, যখন সে মনে করে যে তার প্রতি কারো মমত্ব নাই, তখন বেঁচে থাকার সাহস-আশাও সে হারিয়ে ফেলে। আরো বেশি অসুস্থ হয় সে, সংক্রমণ জটিল হয় এবং হয়তো মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়াই ত্বরান্বিত হয় তার।

এবার এই যে করোনার সময় কিছু কিছু আক্রান্তের অবস্থা যে জটিল হয়েছে, কেউ কেউ মারা গেছেন, এর একটা বড় কারণ এই বিচ্ছিন্নতা, এই নিঃসঙ্গতা, এই দূরে ঠেলে দেয়া।

করোনা আক্রান্ত রোগীরা সামাজিকভাবে যে অচ্ছুতের আচরণ পায় এটাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়।

কারণ মমতা- তা স্বজনের হোক, ডাক্তারের হোক, প্রতিবেশীর হোক- এই মমতাই একজন মানুষের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রোগ নিরাময়ের সবচেয়ে বড় অনুঘটক হলো স্বজনের মমতা।

এবার এই করোনাকালে আতঙ্কবাদীদের প্রচারণার ফলে মানুষ সবচেয়ে বড় বিভ্রান্তিতে পড়েছে এ জায়গাটাতেই। এবং পাশ্চাত্যে করোনায় মৃত্যুর হার যে এত বেশি হয়েছে এর কারণও হচ্ছে- এই মমতা থেকে তারা বঞ্চিত।

আসলে বর্ণবাদীরা একসময় যেমন উঁচু-নিচুর মধ্যে ভেদাভেদ তৈরি করেছিল যে ছুঁলেই, ছায়া মারালেই জাত যাবে বলে আতঙ্ক প্রচার করেছিল, সেরকম এই করোনাকালে আতঙ্কবাদীদের প্রচারণার ফলে কিছু মানুষ জীবনের ভয়ে তার অতি নিকট আপনজনকেই- স্বামীকে, স্ত্রীকে, মা-কে বাবা-কে, সন্তান-কে দূরে ঠেলে দিয়েছিল। যেন আক্রান্ত ব্যক্তি একটা অপরাধী, একটা জীবাণু যাকে ছুঁলে, ছায়া মারালে জীবন যাবে।

অথচ তারা ভুলে গেছে যে একজন করোনা আক্রান্ত রোগীর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনই হলো তার আপনজনের মমতা- স্বজনের মমতা, মায়ের মমতা, বোনের মমতা, ভাইয়ের মমতা, স্বামীর মমতা, স্ত্রীর মমতা, সন্তানের মমতা।

অসুস্থ ব্যক্তিকে ঘৃণা করলেই ভাইরাস পালিয়ে যাবে না। বরং তাকে সারিয়ে তোলার ব্যাপারে সাহায্য না করাটা, তার প্রতি মমত্ব প্রদর্শন না করাটা আত্মঘাতী!কারণ যত আপনি আতঙ্কে ভুগবেন, তত আপনার দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকবে।আর যত আপনি মমতাময় হবেন তত শুধু করোনা আক্রান্ত রোগীকে নয়, আপনিও সুস্থ থাকবেন, ভালো থাকবেন। ।আমরা আমাদের সামাজিক মমত্বকে যত বাড়াব, করোনা মোকাবেলায় তত আমরা সফল হবো। যে আপনি যত আতঙ্কিত থাকবেন, যত ভীতসন্ত্রস্ত থাকবেন তত ভাইরাস আপনার প্রতি আকৃষ্ট হবে। আপনি ভাইরাসের টার্গেট হবেন।

কারণ প্রতিপক্ষ সবসময় দুর্বল শত্রুর ওপরেই বা শত্রুর দুর্বল জায়গাতেই আঘাত হানতে চায়। তো করোনাও ভীতসন্ত্রস্ত আতঙ্কিতদের বেশি পছন্দ করে। নেতিবাচক লোকদের ভালবাসে এবং যারা সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যে ডুবে ছিলেন, সারাক্ষণ টিভি, ইন্টারনেট খুলে রেখে আতঙ্কের খবরখবরে চোখ রেখেছেন করোনা তাদেরকেই আক্রমণ করেছে বেশি।সংক্রমণ তাদেরই বেশি হয়েছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে মৃত্যুর হারও তাদের মধ্যেই বেশি।যত লোক আক্রান্ত হচ্ছে তারা অধিকাংশই হচ্ছে খুব নিরাপদ জায়গায় ছিলেন। খুব প্রতিরক্ষার মধ্যে ছিলেন।

কিন্তু থাকলে কী হবে, তাদের ব্রেনের প্রোগ্রামিং তো নেগেটিভ। টিভি, মিডিয়ার আতঙ্কের খবর, নেতিবাচক খবর দিয়ে ব্রেন ঠাসা। ফলে সামান্য আক্রমণেই তারা ভেঙে পড়েছেন, রোগের বিরুদ্ধে তাদের মানসিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা চাঙ্গা থাকার আর কোনো সুযোগ পায় নাই।

মূল বিষয় হলো দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আর মনের বিশ্বাস, মনের সাহস, মনের ইতিবাচকতা।

 

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
মোসাঃ রাফিয়া খাতুন
২২ আগস্ট, ২০২০ ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ণ

Thank you sir like and fully point with well wishes and stay safe.


মোঃ হারুনর রশীদ
২১ আগস্ট, ২০২০ ০৭:০৯ পূর্বাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ শুভকামনা ও ধন্যবাদ। আমার কন্টেন্ট দেখার আমন্ত্রন রইল।


মোঃ হারুনর রশীদ
২১ আগস্ট, ২০২০ ০৭:০৯ পূর্বাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ শুভকামনা ও ধন্যবাদ। আমার কন্টেন্ট দেখার আমন্ত্রন রইল।


মোঃ রওশন জামিল
২০ আগস্ট, ২০২০ ১১:৪৮ অপরাহ্ণ

পূর্ণ রেটিংসহ শুভ কামনা রইলো। প্রাণপ্রিয় বাতায়নে কন্টেন্ট আপলোড করে বাতায়নকে সমৃদ্ধ করার জন্য ধন্যবাদ।।