পুন্ড্রবর্ধন: বাংলার প্রাচীনতম নগরীর সন্ধানে

হরিপদ পোদ্দার ২০ জানুয়ারি,২০২১ ৩১ বার দেখা হয়েছে লাইক কমেন্ট ৫.০০ ()

পুন্ড্রবর্ধন: বাংলার প্রাচীনতম নগরীর সন্ধানে 


মহাস্থানগড়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও বৃহত্তম নগর ‘পুন্ড্রবর্ধন’ অবস্থিত। বগুড়া শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার উত্তরে করতোয়া নদীর কোল ঘেঁষে প্রাচীন এই নগরীর অবস্থান। মূলত মহাস্থানগড় বিখ্যাত এখানকার দুর্গনগরী পুন্ড্রবর্ধন এর ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বের জন্য। এখান থেকে প্রাপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বিশ্লেষণ করে অনুমান করা হয় নগরীটি গড়ে উঠেছিল প্রাচীন মৌর্য শাসকদের হাত ধরে। এছাড়াও আরো জানা যায়, পুন্ড্রবর্ধন এর গোড়াপত্তন যীশু খ্রিস্টের জন্মেরও প্রায় পাঁচশ বছর পূর্বে করা হয়েছিল। অর্থাৎ আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর পূর্বে এই প্রাচীন নগরীর গোড়াপত্তন হয় মৌর্যদের হাত ধরে। সেসময় মহাস্থান তথা পুন্ড্রবর্ধন ছিল প্রাচীন বাংলার রাজধানী। কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে পুন্ড্রবর্ধনের সেই গৌরব। মহাস্থানগড় শুধু সেই গৌরবময় ইতিহাসের ধ্বংসাবশেষ মাত্র। মহাস্থানগড় মূলত একক কোনো স্থান নয়, এটি প্রকৃতপক্ষে একটি বিশাল নগরী যা প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্য ধারণ করে আসছে হাজার বছর ধরে।

নগরীতে প্রবেশের শুরুতেই পুন্ড্রবর্ধনের পুরো নগরী ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকা উচু সুরক্ষা দেয়াল যেন এখনো নগরীকে নিরাপত্তা দিচ্ছে বহির্শত্রুর হাত থেকে। পুরো নগরীর চারপাশ ঘিরে গড়ে ওঠা এই দেয়াল ছয় ফুট উচু এবং প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ। পুন্ড্রবর্ধনের এই দেয়ালের উপর হাঁটতে হাঁটতে আপনি হারিয়ে যেতে পারেন ইতিহাসের গহীনে, যখন এই নগর ছিল সেসময়ের ইতিহাসের শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র। পুরো নগরীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বেশ কিছু বৌদ্ধ মঠ। প্রাচীনকালে তিব্বত ও চীন থেকে বৌদ্ধ ভিক্ষুকরা এই মঠগুলোতে আসতেন দীক্ষা গ্রহণ করার জন্য। দীক্ষা গ্রহণ শেষে তারা বেড়িয়ে পড়তেন আশেপাশের অঞ্চলে ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে। কথিত আছে, যখন পুন্ড্রবর্ধন বাংলার রাজধানী ছিল তখন নগরীর পাশের করতোয়া নদী এতটাই খরস্রোতা ছিল যে, নদী নিজেই বহিঃশত্রুর হাত থেকে নগরীকে অনেকাংশে রক্ষা করতো। আর করতোয়া নদীর বুকে বজরা ভাসিয়েই চলতো সকল ব্যবস্যা বাণিজ্যের কাজ। কালের ব্যবধানে পুন্ড্রবর্ধন আর নেই, করতোয়াও এখন মৃতপ্রায়।

 

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
মোঃ মেহেদুল ইসলাম
২১ জানুয়ারি, ২০২১ ০৩:০৬ অপরাহ্ণ

আমার 16/০১/২০২১ ইং তারিখের কন্টেন্ট প্যাডাগজি রেটার, এডমিন, সেরা কনটেন্ট নির্মাতা, শিক্ষক বাতায়নের সকল শিক্ষক- শিক্ষিকা ও আইসিটি জেলা অ্যাম্বাসেডর স্যারদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা https://teachers.gov.bd/content/details/843529


মোঃ তারেকুন্নবী ICT4E জেলা অ্যাম্বাসেডর
২১ জানুয়ারি, ২০২১ ০১:৫৩ পূর্বাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা রইলো। আমার এ পাক্ষিকের আপলোডকৃত কনটেন্ট দেখে আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।


মোঃ সাইফুর রহমান
২০ জানুয়ারি, ২০২১ ০৫:১৭ অপরাহ্ণ

শ্রেণি উপযোগী ও মান সম্মত কনটেন্ট আপলোড করে বাতায়নকে সমৃদ্ধি করার জন্য ধন্যবাদ। লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভ কামনা রইল। এ পাক্ষিকে আমার আপলোডকৃত "ট্রাপিজিয়ামের ক্ষেত্রফল" শিরোনামে ৪৬তম কনটেন্ট ও ব্লগ দেখে লাইক ও রেটিংসহ আপনার মতামত দেওয়ার জন্য সবিনয় অনুরোধ করছি। স্যার আপনার সাফল্য কামনা করছি। ধন্যবাদ।


আব্দুল্লাহ আত তারিক
২০ জানুয়ারি, ২০২১ ০৪:৫৬ অপরাহ্ণ

শুভ অপরাহ্ন, আপনার বাতায়নের পথচলা সাফল্যমণ্ডিত হোক। আপনার শ্রমলব্ধ চমৎকার নির্মাণ দেখে অভিভূত হলাম। মৌলিকতা অনন্য বৈশিষ্ট্য আপনার । চেষ্টা অব্যাহত রাখুন, সফলতা আসবেই । আমার এই পাক্ষিক-এ নবম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ের কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ""কপোতাক্ষ নদ"" কবিতার উপর নির্মিত কনটেন্ট দেখে আপনার মতামতের প্রত্যাশায় রইলাম।


মোসাঃশারমিন আক্তার
২০ জানুয়ারি, ২০২১ ০৪:২৪ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা রইলো। আমার আপলোডকৃত কনটেন্ট দেখে আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।


লুৎফর রহমান
২০ জানুয়ারি, ২০২১ ০২:০৩ অপরাহ্ণ

আসসালামু অ্যালাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাহ। লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো। আমার এ পাক্ষিকে আপলোডকৃত ৫০ তম কনটেন্টটি দেখে লাইক,গঠন মূলক মতামত ও রেটিং প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। কনটেন্ট লিংকঃ https://www.teachers.gov.bd/content/details/836568 Blog link: https://www.teachers.gov.bd/blog-details/589630


আব্দুল মাজিদ
২০ জানুয়ারি, ২০২১ ০১:১১ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো। আমার এ পাক্ষিকে আপলোডকৃত 40 তম কনটেন্টটি দেখে লাইক,গঠন মূলক মতামত ও রেটিং প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।