ভাষা এবং ভালোবাসার একুশে ফেব্রুয়ারি

রুবাইয়া সুলতানা ১২ ফেব্রুয়ারি ,২০২১ ৪৮ বার দেখা হয়েছে লাইক কমেন্ট ৫.০০ ()

মনের ভাব অপরের কাছে প্রকাশ করবার কথাকে ভাষা বলে। জন্মের পর মায়ের মুখ আর নিকটজনের কাছ থেকে শুনে প্রথমে যে ভাষায় মানুষ কথা বলে তাকে মাতৃভাষা বলে।
বাংলাদেশের মানুষের মাতৃভাষা বাংলা। মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদা দিতে গিয়ে আন্দোলন করতে হয়েছে,ভাষার জন্য জীবন দিতে হয়েছে।
শহিদমিনার বারবার মনে করিয়ে দেয় একুশ মানে আমার অস্তিত্ব, একুশ মানে মাথানত না করা, একুশ মানে ভাষার জন্য ভালোবাসা, একুশ আমার গর্ব, একুশ আমার অহংকার।
দুর্ভাগ্য আমাদের, মাতৃভাষার জন্য রক্ত ঝরাতে হয়েছে,বছরের পর বছর ভাষার জন্য আন্দোলন করতে হয়েছে,এ কথাটি এ প্রজন্মের অনেকের কাছেই অজানা।
যে মাতৃভাষার জন্য দীর্ঘ ইতিহাস,সংগ্রাম, রক্ত,আত্নত্যাগ সেই বাংলাভাষা আজ সমাজে অবহেলিত। রাষ্ট্রের অনেক বিভাগেই এখনও বাংলা ভাষা গুরুত্বহীন। অথচ ভাষা আন্দোলনের স্লোগানই ছিল " রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই"। নতুন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে বিদেশী ভাষা শেখার শত শত স্কুল তৈরি হয়েছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শুধু আনুষ্ঠানিক ভাবে দিবসটি পালনে সীমাবদ্ধ না থেকে আমরা ২১ ফেব্রুয়ারির তাৎপর্য, গুরুত্ব তুলে ধরতে পারি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাছে। আগামী প্রজন্মের কাছে জবাবদিহিতা এবং দায়বদ্ধতার কারনেই ভাষা আন্দোলনের রক্তাক্ত ইতিহাস তাদের কাছে উপস্হাপন করতে হবে। তাদেরকে জানাতে হবে প্রভাতফেরি'র মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে অজ্ঞাত অতীতের খালি পায়ে পরিভ্রমণের স্মৃতি।
ভাষার শেকড়-বাকড়ের বিস্তৃত ইতিহাস অনেক গভীরে প্রোথিত। বাংলা ভাষার ইতিহাস,বাংলাদেশের ইতিহাস তথা বাঙালির ইতিহাস জানানোর পাশাপাশি জানাতে হবে ভাষা আন্দোলন কী? কেন ভাষা আন্দোলন? কেনইবা একুশে ফেব্রুয়ারি? সবকিছু মিলিয়ে আন্দোলনের তত্ত্ব ও তথ্য সমৃদ্ধ ঘটনাপ্রবাহ কিশোর-কিশোরীদের উপযোগী করে তাদের কাছে উপস্হাপন করতে হবে।আমাদের এ ভাষাপ্রীতি যাতে শুধু ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে।
ভাষা আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরার মাঝে শিক্ষার্থীদেরকে কিছু করণীয় এবং বর্জনীয় বিষয় সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।যেমন- শুদ্ধ বানান চর্চা করতে হবে,ভাষাগত ভুলত্রুটি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে। বিজাতীয় ভাষার ব্যবহার কমিয়ে মাতৃভাষার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। তার সাথে সাথে লক্ষ্য রাখতে হবে বাংলা ভাষাকে মর্যাদা দিতে গিয়ে অন্যান্য ভাষাকে অবজ্ঞা যাতে না করি।
ভাষা দিবস উদযাপনের নামে বিজাতীয় সংস্কৃতি,অশ্লীলতা বর্জন করতে হবে। অর্থাৎ বাংলা ভাষার অবমাননা হয় এমন কিছু আমাদের করা উচিত নয়। কারন ১৯৯৯ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা লাভ শুধু বাংলা ভাষার বিশ্ববিজয় নয়,পৃথিবীর সব মাতৃভাষার বিজয়।
আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সর্বস্তরে বাংলা ভাষার সর্বোচ্চ ব্যবহার,ভাষার ঐতিহ্য রক্ষা হলেই ভাষা শহিদদের এ ত্যাগ সার্থক হবে বলে আমি মনে করি।

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
মোহাম্মদ শাহাদৎ হোসেন
২৭ ফেব্রুয়ারি , ২০২১ ০২:০২ পূর্বাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা রইলো। আমার আপলোডকৃত কনটেন্ট দেখে আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন এবং নিরাপদে থাকবেন। আবারও ধন্যবাদ।


শাহ আলম মিঞা
১৮ ফেব্রুয়ারি , ২০২১ ০৬:০৩ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো। আমার এ পাক্ষিকে আপলোডকৃত কনটেন্ট ও ব্লগ দেখে লাইক,গঠন মূলক মতামত ও রেটিং প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।


আব্দুল মাজিদ
১৩ ফেব্রুয়ারি , ২০২১ ০৫:১৩ পূর্বাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিং সহ শুভ কামনা রইল। সেই সাথে আমার বাতায়ন পেইজ ঘুরে আসার জন্য আমন্ত্রন রইল।


রুবাইয়া সুলতানা
১৮ ফেব্রুয়ারি , ২০২১ ০২:৪৫ অপরাহ্ণ

অনেক ধন্যবাদ ।


লুৎফর রহমান
১৩ ফেব্রুয়ারি , ২০২১ ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো। আমার এ পাক্ষিকে আপলোডকৃত ৫২ তম কনটেন্ট ও ব্লগ দেখে লাইক,গঠন মূলক মতামত ও রেটিং প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। কনটেন্ট লিংকঃ https://www.teachers.gov.bd/content/details/864798


রুবাইয়া সুলতানা
১৮ ফেব্রুয়ারি , ২০২১ ০২:৪৫ অপরাহ্ণ

অনেক ধন্যবাদ ।