বাংলা কী-বোর্ডের সূচনা ও ইতিহাস।

শেখ মোঃ সোহেল রানা ২১ ফেব্রুয়ারি ,২০২১ ১৪৮ বার দেখা হয়েছে ১০০ লাইক ১১ কমেন্ট ৪.৯৬ (৯০ )

কম্পিউটারের ইনপুট ডিভাইসের মধ্যে কি বোর্ড অন্যতম , এই কি বোর্ড দিয়েই কম্পিউটারে লেখার কাজ সম্পাদনা করা হয় । যদিও শুরুর দিকে শুধু ইংরেজি কী বোর্ড ছিল কিন্তু পরবর্তীতে  বিভিন্ন ভাষায় লেখার জন্য সফটওয়্যার ও লে আউট ব্যাবহার করে তৈরী হয়েছে হরেক রকমের কি বোর্ড ।  বাংলা কি বোর্ডের রয়েছে একটি ইতিহাস , খুব বেশিদিন হয়নি যখন বাংলা কী বোর্ড  চালু হল , আজ মানুষের হাতে হাতে ডিজিটাল ডিভাইস , সব যায়গায় মানুষ মনের ভাব প্রকাশ করছে বাংলা ভাষা দিয়ে , বাংলা কী বোর্ডের ঘটনা জানতে পিছিয়ে যেতে হবে সেই ১৯৬৫ সালে।
বাংলা কি-বোর্ডর ধারণাটা প্রথম প্রয়োগ করেন শহীদ মুনীর চৌধুরী ,তার ‘মুনীর’ কি-বোর্ডর মাধ্যমে । টি ছিলো টাইপ রাইটারের জন্য তৈরী করা একটি QWERTY কি-বোর্ড লেআউট। এটিই বাংলা ভাষায় প্রথম লেআউট।  টাইপ রাইটারে  জনপ্রিয়তা পেল লে আউটটি ।

পরবর্তীতে যখন কম্পিউটার এল তখন থেকেই বাংলা অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তা হল , লে আউট তো রেডি  এবার সাথে প্রয়োজন সফটওয়্যার বা মূল প্রোগ্রামিং যা  কম্পিউটারের বোধগম্য ভাষায় রুপান্তর করবে এবং ‘ফন্ট’ যা  কম্পিউটারের মনিটরে দেখাবে। 

তখন বেক্সিমকো কম্পানী দ্রুততার সাথে প্রশার লাভ করছিল , কোম্পানীর কাজের জন্যই তখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কম্পিউটার নিয়ে আসা হল, সে সময় বেক্সিমকোতে যন্ত্র প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন  সাইফ শহীদ নামের একজন প্রকৌশলী , যার উপর এই কম্পিউটারের দায়িত্ব পড়ল । কম্পিউটার নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তার মাথায় প্রথম বাংলায়  কম্পিউটারে লেখার চিন্তা আসে , মুনীর কিবোর্ড যথেষ্ট জটিল ছিল বলে তিনি নিজেই একটি লে আউট তৈরী করলেন ।  নাম দিলেন  'শহীদ লিপি' যদিও অনেকের ধারনা উনি নিজের নামের সাথে মিল রেখে নাম করন করেছেন কিন্তু এই নাম করণের পেছনের ইতিহাসটা তিনি বর্ণনা করেছেন এভাবে, “১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯- এ চার বছর যখন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র- তখন প্রতিটি শহীদ দিবসে শহীদ মিনারে যেতাম প্রভাব ফেরীতে যোগ দিতে। শেষের বছরগুলিতে ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হবার কারনে আরও ব্যস্তায় কাটতো ঐ দিনটি। ফলে ১৯৮৫ সালে যখন লন্ডন থেকে কমিউপউটারে প্রথম বাংলায় চিঠি লিখে পাঠালাম ঢাকাতে আমার মাকে, তখন একটা নামই শুধু মনে এসছিল- তাই এ প্রচেষ্টার নামকরণ করলাম, “শহীদলিপি”। ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৫ পাক্কা দুই বছর কয়েকজন সহকর্মী মিলে তৈরী করেন লে আউট ও প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার , প্রথমে এপলের ম্যাকিন্টশ এর জন্য কাজ করলেও পরবর্তীতে উইন্ডোজের ভার্শন ও তৈরী করেন তারা । তখন কম্পিউটারের দাম সাধ্যের বাইড়ে থাকায় এটি কোন ব্যাবসায়িক প্রযেক্ট ছিল না । কিন্তু যত  জায়গায় বাংলা ব্যাবহার হয়েছে তখন সব জায়গায়ই শহীদ কী বোর্ড  ব্যাবহৃত হত। 
শহীদ কীবোর্ড বাংলায় কম্পিউটারের সুচনা ঘটিয়ে ছিল ঠিকই কিন্তু এতে বিপ্লব এনেছিল বিজয় কিবোর্ড , মোস্তফা জব্বার ছিলেন পেশায় একজন সাংবাদিক , প্রিন্টিং কাজের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে তিনি দেখতে পান ছোট পার্সোনাল কম্পিউটারেই মানুষ প্রিন্টার সংযোগ করে প্রিন্ট করছে ,
দেশে ফেরার সময় সাথে করে একটি প্রিন্টার ও একটী পার্সোনাল কম্পিউটার নিয়ে আসেন তিনি । মুনির কীবোর্ড ও শহীদ কী বোর্ড থাকলেও সেগুলো পার্সোনাল কম্পিউটারের উপযোগি ছিল না ।  নিজের প্রচেষ্টা ও বিভিন্ন জনের সহায়তায়  তৈরী করেন বিজয় নামের সফটওয়্যার
ম্যাকেন্টশের জন্য প্রথম বিজয় করা হলেও তা পরে উইন্ডজের জন্য করা হয়েছিল এবং উইন্ডোজ পিসি তেই সবচেয়ে বেশী ব্যাবহৃত হয়েছিল । বিজয় হচ্ছে বাংলাদেশের ব্যাবসাসফল সফটওয়্যার গুলোর মধ্যে অন্যতম । বিজয় প্রকাশের পর পরই শুরু হল প্রিন্টিং জগতের নতুন পথচলা । 
পুরাতন গদবাধা নিয়ম ছেড়ে সকল প্রেসেই কম্পিউটার ও বিজয় ব্যাবহার করা শুরু হল ।

কম্পিউটার জগতে বাংলা কিবোর্ড বিপ্লবের হল শুভ সূচনা ।

 

শেখ মোঃ সোহেল রানা

প্রভাষক

সাঘাটা টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ

সাঘাটাগাইবান্ধা ও

ICT4E জেলা এ্যাম্বাসেডরগাইবান্ধা

বাতায়ন আইডিঃ stcrana2013

ই-মেইলঃ stcrana2013@gmail.com

 

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
রেজাউল ইসলাম
২৮ ফেব্রুয়ারি , ২০২১ ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ

পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা রইলো। আমার আপলোডকৃত কনটেন্ট দেখে আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।


রমজান আলী
২৮ ফেব্রুয়ারি , ২০২১ ০১:৪০ পূর্বাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ শুভকামনা। সেই সাথে আমার এই পাক্ষিকের কনটেন্ট দেখে আপনার মূল্যবান মতামত , রেটিং ও লাইক প্রদান করার জন্য বিনীত অনুরোধ রইল। ভালো থাকুন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।


মোঃ মেহেদুল ইসলাম
২২ ফেব্রুয়ারি , ২০২১ ০৯:২৬ পূর্বাহ্ণ

https://www.teachers.gov.bd/content/details/880238 https://www.teachers.gov.bd/blog-details/592430


মোঃ নূরল আলম
২১ ফেব্রুয়ারি , ২০২১ ১১:৫৪ অপরাহ্ণ

মান সম্মত ও চমৎকার উপস্থাপন লাইক ও পূর্ণ রেটিং সহ শুভ কামনা রইল। আমার বাতায়ন পেইজ ঘুরে আসার জন্য আমন্ত্রন রইল।


অরবিন্দ বিশ্বাস
২১ ফেব্রুয়ারি , ২০২১ ০৫:১৪ অপরাহ্ণ

ইংরেজী বর্ষ-২০২১ শুভেচ্ছো জানিয়ে পূর্ণ রেটিং সহ শুভকামনা রইল আপনার প্রতি। সে জন্য আপনাকে একটু সহযোগিতা করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। সেই সাথে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি। আমার ১৯/০২ /২০২১ তারিখের ৩৬তম কনটেন্ট ষষ্ঠ শ্রেনির সপ্তম অধ্যায় ‘অর্থনৈতিক জীবনধারা” কনটেন্ট দেখে রেটিং সহ মতামত প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। সৃষ্টিকর্তা আপনার মঙ্গল করু ন। কনটেন্ট লিঙ্কঃ https://www.teachers.gov.bd/content/details/884424


রমজান আলী
২১ ফেব্রুয়ারি , ২০২১ ০২:২৫ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো। আমার এ পাক্ষিকে আপলোডকৃত ৩৯ তম কনটেন্ট ও ব্লগ দেখে লাইক,গঠন মূলক মতামত ও রেটিং প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।


ফারজানা ইয়াসমিন
২১ ফেব্রুয়ারি , ২০২১ ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো।


এ কে এম আখতারুজ্জামান
২১ ফেব্রুয়ারি , ২০২১ ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো।


লুৎফর রহমান
২১ ফেব্রুয়ারি , ২০২১ ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো। আমার এ পাক্ষিকে আপলোডকৃত ৫৩ তম কনটেন্ট ও ব্লগ দেখে লাইক,গঠন মূলক মতামত ও রেটিং প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। কনটেন্ট লিংকঃ https://www.teachers.gov.bd/content/details/880562


অপূর্ব কুমার মণ্ডল
২১ ফেব্রুয়ারি , ২০২১ ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ

বিজয় কী বোর্ড যে কোন তথ‍্য, মানুষের শুদ্ধ চিত্ত বৃত্তির তুলে ধরার ক্ষেত্রে এবং আধুনিক তথ‍্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিজয় কী বোডের গুরুত্ব অনিস্বীকার্য।


শেখ মোঃ সোহেল রানা
২১ ফেব্রুয়ারি , ২০২১ ০৯:২১ পূর্বাহ্ণ

অমর একুশে ফেব্রুয়ারির শুভেচ্ছা।