এতেকাফের তাৎপর্য, উদ্দেশ্য ও বিধান

মোঃ রফিকুল হাসান ০২ মে,২০২১ ১২৭ বার দেখা হয়েছে ১৫ লাইক ৩০ কমেন্ট ৪.৪৭ (১৭ )

সম্পাদনা: মুহাম্মদ শামছুল হক সিদ্দিক, সংকলন: মুহাম্মদ আকতারুজ্জাম
 
এতেকাফের সংজ্ঞা:
বিশেষ নিয়তে বিশেষ অবস্থায় আল্লাহ তা-আলার আনুগত্যের উদ্দেশ্যে মসজিদে অবস্থান করাকে এতেকাফ বলে।
 
এতেকাফের ফজিলত:
এতেকাফ একটি মহান ইবাদত, মদিনায় অবস্থানকালীন সময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি বছরই এতেকাফ  পালন করেছেন। দাওয়াত, তরবিয়ত, শিক্ষা এবং জিহাদে ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও রমজানে তিনি এতেকাফ ছাড়েননি। এতেকাফ ঈমানি তরবিয়তের একটি পাঠশালা, এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিদায়েতি আলোর একটি প্রতীক। এতেকাফরত অবস্থায় বান্দা নিজেকে আল্লাহর ইবাদতের জন্য দুনিয়ার অন্যান্য সকল বিষয়  থেকে আলাদা করে নেয়।  ঐকান্তিকভাবে মশগুল হয়ে পড়ে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের নিরন্তর সাধনায়। এতেকাফ  ঈমান বৃদ্ধির একটি মূখ্য সুযোগ। সকলের উচিত এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের ইমানি চেতনাকে প্রাণিত করে তোলা ও উন্নততর পর্যায়ে পৌছেঁ দেয়ার চেষ্টা করা।
 
আল-কুরআনুল কারিমে বিভিন্নভাবে এতেকাফ সম্পর্কে বর্ণনা এসেছে, ইবরাহিম আ. ও ইসমাইল আ.  এর কথা উল্লেখ করে এরশাদ হয়েছে: ‘এবং আমি ইবরাহিম ও ইসমাইলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, এতেকাফকারী ও রুকু-সেজদাকারীদের জন্য পবিত্র করো।’ [সূরা বাকারা : ১২৫]

 এতেকাফ অবস্থায় স্ত্রীদের সাথে কি আচরণ হবে তা বলতে গিয়ে আল্লাহ তা-আলা বলেন: ‘আর তোমরা মসজিদে এতেকাফ কালে স্ত্রীদের সাথে মেলামেশা করো না।’ [সূরা বাকারা : ১৮৭]
 
ইবরাহিম আ.  তাঁর পিতা এবং জাতিকে লক্ষ্য করে মূর্তির ভর্ৎসনা করতে যেয়ে যা বলেছিলেন, আল্লাহ তা-আলা তা উল্লেখ করে বলেন: ‘যখন তিনি তাঁর পিতা ও তাঁর সম্প্রদায়কে বললেন: ‘এই মূর্তিগুলো কি, যাদের পূজারি (এতেকাফকারী) হয়ে) তোমরা বসে আছ?’ [সূরা আম্বিয়া : ৫২]
 
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অসংখ্য হাদিস এতেকাফ সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্য হতে ফজিলত সম্পর্কিত কিছু হাদিস নিচে উল্লেখ করা হল।
 
আয়েশা রাদি-আল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের শেষের দশকে এতেকাফ করেছেন, ইন্তেকাল পর্যন্ত। এরপর তাঁর স্ত্রীগণ এতেকাফ করেছেন। [বুখারি ওমুসলিম]
 
আয়েশা রাদি-আল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক রমজানে এতেকাফ করতেন। [বুখারি ২০৪১]
 
অন্য এক হাদিসে এসেছে: আমি (প্রথমে) এ রাতের সন্ধানে প্রথম দশে এতেকাফ পালন করি। অত:পর এতেকাফ পালন করি মাঝের দশে। পরবর্তীতে ওহির মাধ্যমে আমাকে জানানো হয় যে, এ রাত শেষ দশে রয়েছে। সুতরাং তোমাদের মাঝে যে (এ দশে) এতেকাফ পালনে আগ্রহী, সে যেন তা পালন করে। লোকেরা তার সাথে এতেকাফ পালন করল। রাসূল বলেন—আমাকে তা এক বেজোড় রাতে দেখানো হয়েছে এবং দেখানো হয়েছে যে, আমি সে ভোরে কাদা ও মাটিতে সেজদা দিচ্ছি। অত:পর রাসূল একুশের রাতের ভোর যাপন করলেন, ফজর পর্যন্ত তিনি কিয়ামুল্লাইল করেছিলেন। তিনি ফজর আদায়ের জন্য দণ্ডায়মান হয়েছিলেন। তখন আকাশ ছেপে বৃষ্টি নেমে এল, এবং মসজিদে চুঁইয়ে চুঁইয়ে পানি পড়ল। আমি কাদা ও পানি দেখতে পেলাম। ফজর সালাত শেষে যখন তিনি বের হলেন, তখন তার কপাল ও নাকের পাশে ছিল পানি ও কাদা। সেটি ছিল একুশের রাত।
 
আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রমজানে দশ দিন এতেকাফ  করতেন, তবে যে বছর তিনি পরলোকগত হন, সে বছর তিনি বিশ দিন এতেকাফে কাটান।
 
আবু হুরাইরা  রা. হতে বর্ণিত হাদিসে উভয়টির উল্লেখ পাওয়া যায়।  তিনি বলেন: আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রমজানের শেষ দশদিন এতেকাফ করতেন। তবে যে বছর পরলোকগত হন তিনি বিশ দিন এতেকাফ করেছেন। [ বুখারি ]
 
আয়শা রাদিয়াল্লাহু  আনহা বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাঁর জনৈকা স্ত্রীও এতেকাফ করলেন। তখন তিনি ছিলেন এস্তেহাজা  অবস্থায়, রক্ত দেখছেন। রক্তের কারণে হয়তো তাঁর নীচে গামলা রাখা হচ্ছে। [ বুখারি ]
 
রাসূল বলেন: আমি কদরের রাত্রির সন্ধানে প্রথম দশ দিন এতেকাফ করলাম। এরপর এতেকাফ করলাম মধ্যবর্তী দশদিন। অত:পর ওহি প্রেরণ করে আমাকে জানানো হল যে তা শেষ দশদিনে। সুতরাং তোমাদের যে এতেকাফ পছন্দ করবে, সে যেন এতেকাফ করে। ফলে, মানুষ তার সাথে এতেকাফ যাপন করল।
 
এতেকাফের উপকারিতা:
১. এতেকাফকারী এক নামাজের পর আর এক নামাজের জন্য অপেক্ষা করে থাকে, আর এ অপেক্ষার অনেক ফজিলত রয়েছে। আবু হুরাইরা রাদি-আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নিশ্চয় ফেরেশতারা তোমাদের একজনের জন্য দোয়া করতে থাকেন যতক্ষণ সে কথা না বলে, নামাজের স্থানে অবস্থান করে। তারা বলতে থাকে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিন, আল্লাহ তার প্রতি দয়া করুন, যতক্ষণ তোমাদের কেউ নামাজের স্থানে থাকবে, ও নামাজ তাকে আটকিয়ে  রাখবে, তার পরিবারের নিকট যেতে নামাজ ছাড়া আর কিছু বিরত রাখবে না, ফেরেশতারা তার জন্য এভাবে দোয়া করতে থাকবে।
 
২. এতেকাফকারী কদরের রাতের তালাশে থাকে, যে রাত অনির্দিষ্টভাবে রমজানের যে কোন রাত হতে পারে। এই রহস্যের  কারণে আল্লাহ তা-আলা সেটিকে বান্দাদের থেকে গোপন রেখেছেন, যেন তারা মাস জুড়ে তাকে তালাশ করতে থাকে।
 
৩. এতেকাফের ফলে আল্লাহ তা’আলার সাথে সম্পর্ক দৃঢ় হয়,এবং আল্লাহ তা’আলার জন্য মস্তক অবনত করার প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠে। কেননা আল্লাহ তা’আলা বলেন: আমি মানুষ এবং জিন জাতিকে একমাত্র আমারই ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি। [সুরা আজ-জারিয়াত: ৫৬]
 
আর এ ইবাদতের বিবিধ  প্রতিফলন ঘটে এতেকাফ অবস্থায়। কেননা এতেকাফ অবস্থায় একজন মানুষ নিজেকে পুরোপুরি আল্লাহর ইবাদতের সীমানায় বেঁধে নেয় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির কামনায় ব্যকুল হয়ে পড়ে।  আল্লাহ তা-আলাও তাঁর বান্দাদেরকে নিরাশ করেন না, বরং তিনি বান্দাদেরকে নিরাশ হতে নিষেধ করে দিয়ে বলেছেন: হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ও না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। [সুরা ঝুমার : ৫৩]
 
আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে- বস্তুত আমি রয়েছি সন্নিকটে। প্রার্থনাকারীর প্রার্থনা কবুল করি যখন সে  প্রার্থনা করে। কাজেই তারা যেন আমার হুকুম মান্য করে এবং আমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে। সম্ভবত তারা পথ প্রাপ্ত হবে। [আল-বাকারা : ১৮৬]
 
৪. যখন কেউ মসজিদে অবস্থান করা পছন্দ করতে লাগে— যা সম্ভব প্রবৃত্তিকে অভ্যস্ত করানোর  মাধ্যমে,  কেননা প্রবৃত্তিকে যে বিষয়ে  অভ্যস্ত করানো  হবে  সে বিষয়েই সে অভ্যস্ত হয়ে পড়বে— মসজিদে অবস্থান করা পছন্দ হতে শুরু করলে মসজিদকে সে  ভালোবাসবে,  সেখানে নামাজ আদায়কে ভালোবাসবে। আর এ প্রক্রিয়ায় আল্লাহর সাথে তার সম্পর্ক মজবুত হবে। হৃদয়ে সৃষ্টি হবে নামাজের ভালোবাসা, এবং নামাজ আদায়ের মাধ্যমেই অনুভব করতে শুরু করবে হৃদয়ের প্রশান্তি। যে প্রশান্তির কথা  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে বলেছিলেন: নামাজের মাধ্যমে আমাদেরকে শান্ত করো হে বেলাল, নামাজের মাধ্যমে আমাদেরকে শান্ত করো হে বেলাল।
 
৫. মসজিদে এতেকাফের মাধ্যমে একমাত্র আল্লাহ তা’আলার উদ্দেশে নিজেকে আবদ্ধ করে নেওয়ার কারণে মুসলমানের  অন্তরের কঠোরতা দূরীভূত হয়, কেননা কঠোরতা সৃষ্টি হয়  দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা ও পার্থিবতায় নিজেকে আরোপিত করে রাখার কারণে। মসজিদে নিজেকে আবদ্ধ করে  রাখার কারণে দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসায় ছেদ পড়ে এবং আত্মিক উন্নতির অভিজ্ঞতা অনুভূত হয়। মসজিদে এতেকাফ করার কারণে ফেরেশতারা দোয়া করতে থাকে, ফলে এতেকাফকারী ব্যক্তির আত্মা নিম্নাবস্থার নাগপাশ কাটিয়ে  ফেরেশতাদের স্তরের দিকে ধাবিত হয়। ফেরেশতাদের পর্যায় থেকেও বরং ঊর্ধ্বে ওঠার প্রয়াস পায়।  কেননা ফেরেশতাদের প্রবৃত্তি নেই বিধায় প্রবৃত্তির ফাঁদে তারা পড়ে না।  আর মানুষের  প্রবৃত্তি থাকা সত্ত্বেও সব কিছু থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর জন্য একাগ্রচিত্ত হয়ে যায়।
 
৬. এতেকাফের মাধ্যমে অন্তরে প্রশান্তি আসে।
৭. বেশি বেশি  কুরআন তিলাওয়াতের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
৮. ঐকান্তিকভাবে তওবা করার সুযোগ লাভ হয়।
৯. তাহাজ্জুদে অভ্যস্ত হওয়া যায়।
১০. সময়কে সুন্দরভাবে কাজে লাগানো যায়।
 
এতেকাফের আহকাম:
ইসলামি শরিয়াতে এতেকাফের অবস্থান: এতেকাফ করা সুন্নাত। এতেকাফের  সবচেয়ে উপযোগী সময় রমজানের শেষ দশক, এতেকাফ কুরআন, হাদিস ও এজমা দ্বারা  প্রমাণিত। ইমাম আহমদ রহ. বলেন: কোন মুসলমান এতেকাফকে সুন্নাত বলে স্বীকার করেনি এমনটি আমার জানা নেই।
 
এতেকাফের উদ্দেশ্য:
১. আল্লাহর সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করা
 
আল্লাহর দিকে আকৃষ্ট হওয়া ও আল্লাহ কেন্দ্রিক ব্যতিব্যস্ততা  যখন অন্তর সংশোধিত ও ঈমানি দৃঢ়তা অর্জনের  পথ,  কেয়ামতের দিন তার মুক্তিও বরং এ পথেই, তাহলে  এতেকাফ হল এমন একটি ইবাদত যার মাধ্যমে বান্দা সমস্ত সৃষ্টি-জীব থেকে আলাদা হয়ে যথাসম্ভব প্রভুর সান্নিধ্যে চলে আসে। বান্দার কাজ হল  তাঁকে স্মরণ করা, তাঁকে ভালোবাসা  ও তাঁর ইবাদত করা। সর্বদা তার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা, এরই মাধ্যমে আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্ক দৃঢ় ও মজবুত হয়।
 
২. পাশবিক প্রবণতা  এবং অহেতুক কাজ থেকে দুরে থাকা:
রোজার মাধ্যমে আল্লাহ তা-আলা তাঁর  বান্দাদেরকে বাঁচিয়ে রাখেন অতিরিক্ত পানাহার ও যৌনাচারসহ পশু প্রবৃত্তির বিবিধ প্রয়োগ  থেকে, অনুরূপভাবে তিনি   এতেকাফের বিধানের মাধ্যমে  তাদেরকে বাঁচিয়ে রাখেন অহেতুক কথা-বার্তা, মন্দ সংস্পর্শ,  ও অধিক ঘুম হতে ।
 
এতেকাফের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি সম্পূর্ণ অর্থে  আল্লাহর জন্য নিবেদিত হয়ে যায়। নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়া ইত্যাদির নির্বাধ চর্চার মাধ্যমে  আল্লাহর নৈকট্য লাভের অফুরান সুযোগের আবহে সে নিজেকে পেয়ে যায়।
 
৩. শবে কদর তালাশ করা:
এতেকাফের মাধ্যমে শবে কদর খোঁজ করা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মূল উদ্দেশ্য ছিল, আবু সায়ীদ খুদরি রা. থেকে  বর্ণিত হাদিস সে কথারই প্রমাণ বহন করে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আমি প্রথম দশকে এতেকাফ করেছি এই (কদর) রজনী  খোঁজ করার উদ্দেশে, অতঃপর এতেকাফ করেছি মাঝের দশকে, অত:পর মাঝ-দশক পেরিয়ে এলাম , তারপর আমাকে বলা হল, (কদর) তো শেষ দশকে। তোমাদের মধ্যে যদি কেউ এতেকাফ করতে চায় সে যেন এতেকাফ করে, অত:পর  লোকেরা তাঁর সাথে এতেকাফ করল। [মুসলিম:  হাদিস নং ১১৬৭]
 
৪. মসজিদে অবস্থানের অভ্যাস গড়ে তোলা
এতেকাফের মাধ্যমে বান্দার অন্তর মসজিদের সাথে জুড়ে যায়, মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার অভ্যাস গড়ে উঠে। হাদিস অনুযায়ী  যে সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তা-আলা তাঁর নিজের ছায়ার নীচে ছায়া দান করবেন তাদের মধ্যে একজন হলেন ওই ব্যক্তি মসজিদের সাথে যার হৃদয় ছিল বাঁধা।
 
৫. দুনিয়া ত্যাগ ও বিলাসিতা থেকে দুরে থাকা
এতেকাফকারী যেসব বিষয়ের স্পৃক্ততায় জীবন যাপন করত সেসব  থেকে সরে এসে নিজেকে  মসজিদে আবদ্ধ করে ফেলে।  এতেকাফ অবস্থায় দুনিয়া ও দুনিয়ার স্বাদ থেকে সে  বিচ্ছিন্ন   হয়ে পড়ে, ঠিক ঐ আরোহীর ন্যায় যে কোন গাছের ছায়ার নীচে বসল, অতঃপর সেখান থেকে উঠে চলে গেল।
 
৬. ইচ্ছাশক্তি প্রবল  করা এবং প্রবৃত্তিকে খারাপ অভ্যাস ও কামনা-বাসনা থেকে বিরত রাখার অভ্যাস  গড়ে তোলা
কেননা এতেকাফ  দ্বারা খারাপ অভ্যাস থেকে বিরত থাকার ট্রেন্ড গড়ে উঠে। এতেকাফ তার জন্য সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করে দেয় নিজেকে ধৈর্যের গুণে গুণান্বিত করতে ও নিজের ইচ্ছাশক্তিকে শানিত করতে।  এতেকাফ থেকে একজন মানুষ সম্পূর্ণ নতুন মানুষ হয়ে বের হয়ে আসার সুযোগ পায়।  যা পরকালে উপকারে আসবেনা তা থেকে বিরত থাকার ফুরসত মেলে।
 
এতেকাফের বিধানাবলি
১. এতেকাফের সময়-সীমা
সবচেয়ে কম সময়ের এতেকাফ হল, শুদ্ধ মত অনুযায়ী, একদিন একরাত। কেননা সাহাবায়ে কেরাম ( রাদি-আল্লাহু আনহুম)  নামাজ অথবা উপদেশ শ্রবণ করার অপেক্ষায় বা জ্ঞান অর্জন ইত্যাদির জন্য মসজিদে বসতেন, তবে তারা এ সবের জন্য  এতেকাফের নিয়ত করেছেন বলে শোনা যায়নি।সর্বোচ্চ কতদিনের জন্য এতেকাফ করা যায় এ ব্যাপারে ওলামাদের মতামত হল, এ ব্যাপারে  নির্ধারিত কোন সীমা-রেখা নেই।
 
২. এতেকাফে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার সময়
এতেকাফকারী যদি রমজানের শেষ দশকে এতেকাফের নিয়ত করে তা হলে একুশতম রাত্রির সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্বে মসজিদে  প্রবেশ করবে, কেননা তার উদ্দেশ্য কদরের রাত তালাশ করা, যা আশা করা হয়ে থাকে বেজোড় রাত্রগুলোতে, যার মধ্যে একুশের রাতও রয়েছে।তবে এতেকাফ থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে উত্তম হল চাঁদ রাত্রি মসজিদে অবস্থান করে পরদিন সকালে সরাসরি  ইদগাহে চলে যাওয়া। তবে চাঁদ রাতে  সূর্যাস্তের পর  মসজিদ থেকে  বের হয়ে গেলেও  কোন সমস্যা নেই, বৈধ রয়েছে।
 
৩. এতেকাফের শর্তাবলি
এতেকাফের অনেকগুলো শর্ত রয়েছে । শর্ত গুলো নিুরূপ: এতেকাফের জন্য কেউ কেউ রোজার শর্ত করেছেন, কিন্তু বিশুদ্ধ মত হল রোজা শর্ত নয়। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত আছে যে তিনি কোন এক বছর শাওয়ালের প্রথম দশকে এতেকাফ করেছিলেন, আর এ দশকে  ঈদের দিনও  আছে।  আর ঈদের দিনে তো রোজা রাখা নিষিদ্ধ।
 
>> এতেকাফের জন্য মুসলমান হওয়া শর্ত। কেননা কাফেরের ইবাদত গ্রহণযোগ্য হয় না।
>> এতেকাফকারীকে বোধশক্তিসম্পন্ন হতে হবে, কেননা  নির্বোধ ব্যক্তির  কাজের কোনো উদ্দেশ্য থাকে না, আর উদ্দেশ্য ব্যতীত  কাজ শুদ্ধ হতে পারে না।
>> ভালো-মন্দ পার্থক্য করার জ্ঞান থাকতে হবে, কেননা কম বয়সী, যে ভাল-মন্দের পার্থক্য করতে পারে না, তার নিয়তও শুদ্ধ হয় না।
>> এতেকাফের নিয়ত করতে হবে, কেননা মসজিদে অবস্থান হয়তো এতেকাফের নিয়তে হবে অথবা অন্য কোনো  নিয়তে।  আর এ দুটোর  মধ্যে পার্থক্য করার জন্য নিয়তের প্রয়োজন।
>> উপরুন্তু  রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:প্রত্যেক কাজের নির্ভরতা নিয়তের উপর, যে যা নিয়ত করবে সে কেবল তাই পাবে। [বুখারি : ১]
>> এতেকাফ অবস্থায় মহিলাদের হায়েজ-নিফাস থেকে পবিত্র থাকা জরুরি, কেননা এ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান করা হারাম, অবশ্য এস্তেহাজা অবস্থায়  এতেকাফ করা বৈধ। আয়েশা রা. আনহা বলেন : রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে তাঁর স্ত্রী-গণের মধ্য হতে কেউ একজন এতেকাফ করেছিলেন  এস্তেহাজা অবস্থায়।  তিনি লাল ও হলুদ রঙ্গের স্রাব  দেখতে পাচ্ছিলেন, আমরা কখনো তার নীচে পাত্র রেখে দিয়েছি নামাজের সময়। [বুখারি ২০৩৭]
>> এস্তেহাজাগ্রস্তদের সাথে অন্যান্য বেধীগ্রস্তদেরকে  মেলানো যায় , যেমন যার বহুমূত্র রোগ বিশিষ্ট ব্যক্তি আছে, তবে শর্ত হল মসজিদ যেন অপবিত্র না হয়।
>> গোসল ফরজ হয় এমন ধরনের অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হতে হবে। অপবিত্র লোক মসজিদে অবস্থান করা হারাম। যদিও কোন কোন আলেম ওজু করার শর্তে মসজিদে অবস্থান বৈধ বলেছেন।  আর যদি অপবিত্রতা, যৌন স্পর্শ অথবা স্বামী -স্ত্রীর মিলনের ফলে হয়, তবে  সকলের মতে এতেকাফ ভঙ্গ হয়ে যাবে। আর যদি স্বপ্নদোষের কারণে হয়, তা হলে কারোর মতে এতেকাফ ভঙ্গ  হবে না। আর যদি হস্তমৈথুনের কারণে হয় তা হলে সঠিক মত অনুসারে এতেকাফ ভঙ্গ  হয়ে যাবে।
>> এতেকাফ মসজিদে হতে হবে এ ব্যাপারে সকল আলেম একমত যে এতেকাফ মসজিদে হতে হবে, তবে  জামে মসজিদ হলে  উত্তম কেননা এমতাবস্থায় জুমার নামাজের জন্য  এতেকাফকারীকে মসজিদ থেকে বের হতে হবে না।

মসজিদ থেকে বের হওয়ার বিধান
>> এতেকাফকারী যদি বিনা প্রয়োজনে মসজিদ থেকে বের হয় তাহলে তার এতেকাফ ভঙ্গ  হয়ে যাবে।
>> আর এতেকাফের স্থান থেকে যদি মানবীয় প্রয়োজন মিটানোর জন্য বের হয় তাহলে এতেকাফ ভঙ্গ  হবে না।
>> মসজিদে থেকে পবিত্রতা অর্জন সম্ভব না হলে মসজিদ থেকে বের হওয়ার অনুমতি আছে।
>> বাহক না থাকার কারণে এতেকাফকারীকে  যদি পানাহারের প্রয়োজনে  বাইরে যেতে হয় অথবা মসজিদে খাবার গ্রহণ করতে  লজ্জা বোধ হয় , তবে  এরূপ প্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার অনুমতি আছে।
>> যে মসজিদে এতেকাফে বসেছে সেখানে জুমার নামাজের ব্যবস্থা না থাকলে  জুমার নামাজ আদায়ের প্রয়োজনে মসজিদ থেকে  বের হওয়া ওয়াজিব, এবং আগে ভাগেই রওয়ানা হওয়া তার জন্য মুস্তাহাব।
>> ওজরের কারণে এতেকাফকারী মসজিদ থেকে বের হতে পারে। ছাফিয়্যা রা. থেকে বর্ণিত হাদিস এর প্রমাণ ছাফিয়্যা রা. আনহা রমজানের শেষ দশকে এতেকাফস্থলে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করতে এলেন। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কতক্ষণ  কথা বললেন, অতঃপর যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তাকে বিদায় দিতে উঠে দাঁড়ালেন।[বুখারি : ২০৩৫]
 >> কোন নেকির কাজ করার জন্য এতেকাফকারীর মসজিদ থেকে বের হওয়া বৈধ নয়। যেমন রোগী দেখতে যাওয়া, জানাজায় উপস্থিত হওয়া ইত্যাদি। এ মর্মে আয়শা রা. আনহা বলেন: এতেকাফকারীর জন্য সুন্নত হল, সে রোগী দেখতে যাবে না, জানাযায় উপস্থিত হবে না, স্ত্রীকে স্পর্শ করবে না ও তার সাথে কামাচার থেকে বিরত থাকবে  এবং অতি প্রয়োজন ব্যতীত মসজিদ থেকে বের হবে না। [আবু দাউদ, হাদিস নং ২৪৭৩]
 >> এতেকাফ-বিরুদ্ধ কোন কাজের জন্য এতেকাফকারীর মসজিদ থেকে বের হওয়া বৈধ নয়, যেমন ক্রয়-বিক্রয়, স্বামী-স্ত্রীর মিলন ইত্যাদি।
 
এতেকাফকারীর  জন্য যা কিছু বিধিবদ্ধ
>> ইবাদত আদায়, যেমন  নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়া ইত্যাদি। কেননা এতেকাফের উদ্দেশ্য হল আল্লাহ তা’আলার সমীপে  অন্তরের একাগ্রতা নিবেদন করা এবং তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হওয়া যা  উপরোক্ত ইবাদত আদায় ছাড়া  সম্ভব নয়।অনুরূপভাবে যেসব ইবাদতের প্রভাব অন্যদের পর্যন্ত পৌঁছায় যেমন সালামের উত্তর দেওয়া, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে বারণ, প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, পথ দেখানো, ইলম শিক্ষা দেওয়া কুরআন  পড়ানো ইত্যাদিও করতে পারবে। কিন্তু শর্ত হল এগুলো যেন এত বেশি না হয় যে এতেকাফের মূল উদ্দেশই ছুটে যায়।
 
>> এতেকাফকারীর জন্য মুস্তাহাব হল তার এতেকাফের স্থানে কোন কিছু দ্বারা পর্দা করে নেয়া। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তুর্কি গম্বুজের ভিতরে  এতেকাফ করেছেন যার  দরজায় ছিল চাটাই।
 
>> এতেকাফকারী তার প্রয়োজনীয় জিনিস-পত্র  সঙ্গে নেবেযাতে নিজের প্রয়োজনে তাকে বার বার মসজিদের বাইরে যেতে না  হয়; আবু সাইদ খুদরি রাদি আল্লাহু আনহুর হাদিসে এসেছে , তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে রমজানের মাঝের  দশকে এতেকাফ করলাম, যখন বিশ তারিখ সকাল হল আমরা আমাদের বিছানা-পত্র সরিয়ে নিলাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসে বললেন: যে এতেকাফ করেছে সে তার এতেকাফের স্থানে ফিরে যাবে ।  [বুখারি : ২০৪০]
 
এতেকাফকারীর জন্য যা অনুমোদিত
>> এতেকাফকারীর জন্য মসজিদে পানাহার ও ঘুমানোর অনুমতি আছে। এ ব্যাপারে সকল ইমামদের ঐক্যমত রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে সতর্ক হওয়া উচিত;  কেননা আল্লাহর প্রতি একাগ্রচিত্ত  এবং একনিষ্ঠভাবে মনোনিবেশের জন্য কম খাওয়া কম ঘুমানো সহায়ক বলে বিবেচিত।
 
>> গোসল করা, চুল আঁচড়ানো,  তেল ও সুগন্ধি ব্যবহার, ভাল পোশাক পরা, এ সবের  অনুমতি আছে। আয়েশা রা. আনহার হাদিসে এসেছে: তিনি মাসিক অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাথার কেশ বিন্যাস করে দিতেন, যখন রসুল মসজিদে এতেকাফরত অবস্থায় থাকতেন, আয়েশা রা. তার কক্ষে থাকা  অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের  মাথার নাগাল পেতেন। [বুখারি : ২০৪৬]
 
>> এতেকাফকারীর পরিবার তার সাথে সাক্ষাৎ করতে পারবে, কথা বলতে পারবে, কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীগণ  এতেকাফকালীন তার সাথে সাক্ষাৎ করতেন। কিন্তু সাক্ষাৎ দীর্ঘ না হওয়া বাঞ্ছনীয়।
 
এতেকাফকারী যা থেকে বিরত থাকবে
>> ওজর ছাড়া এতেকাফকারী এমন কোন কাজ করবে না যা এতেকাফকে ভঙ্গ  করে দেয়, আল্লাহ তা-আলা বলেন: তোমরা তোমাদের কাজসমুহকে নষ্ট করো না।
 
>> ঐ সকল কাজ যা এতেকাফের উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে, যেমন বেশি কথা বলা, বেশি মেলামেশা করা, অধিক ঘুমানো, ইবাদতের সময়কে কাজে না লাগানো ইত্যাদি।
 
>> এতেকাফকারী মসজিদে অবস্থানকালে ক্রয়-বিক্রয় করবে না, কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। [মুসনাদে আহমদ : ৬৯৯১]
 
এমনিভাবে যা ক্রয় বিক্রয়ের কাজ বলে বিবেচিত যেমন বিভিন্ন ধরনের চুক্তিপত্র, ভাড়া, মুদারাবা, মুশারাকা, বন্দক রাখা ইত্যাদি। কিন্তু যদি মসজিদের বাহিরে এমন ক্রয়-বিক্রয় হয় যা ছাড়া এতেকাফকারীর সংসার চলে না তবে তা  বৈধ বলে বিবেচিত হবে।
 
মসজিদে বায়ু ত্যাগ করা  থেকে বিরত থাকতে হবে। আনাস রা. আনহুর হাদিসে এসেছে, যখন বেদুইন লোকটি মসজিদে প্রস্রাব করেছিল তখন  রাসূল বলেছিলেন: মসজিদ প্রস্রাব, ময়লা-আবর্জনার উপযোগী নয়, বরং মসজিদ অবশ্যই আল্লাহর জিকির এবং নামাজ ও কুরআন তিলাওয়াতের জন্য। [মুসলিম : ২৮৫]
 
এতেকাফ অবস্থায় যৌন স্পর্শ নিষেধ, এ ব্যাপারে সকল ওলামাদের ঐকমত্য রয়েছে।  তবে অধিকাংশ ওলামাদের মতে বীর্যস্খলনের দ্বারাই কেবল এতেকাফ ভঙ্গ  হয়।
 

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
মোঃ মুজিবুর রহমান
২৭ মে, ২০২১ ১০:২৯ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা রলো। আমার আপলোডকৃত কনটেন্ট দেখে আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দেয়ার জন্য অনুরোধ করছি।


মোঃ রফিকুল হাসান
০৩ জুলাই, ২০২১ ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

অনেক অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। শুভ কামনা রইল আপনার জন্য।


আবু নাছির মোঃ নুরুল্লা
০৯ মে, ২০২১ ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ণ

শ্রেণি উপযোগী ও মানসম্মত কনটেন্ট আপলোড করে বাতায়নকে সমৃদ্ধ করার জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ। লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা রইলো। আমার আপলোডকৃত কনটেন্ট দেখে আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।


মোঃ রফিকুল হাসান
০৩ জুলাই, ২০২১ ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

অনেক অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। শুভ কামনা রইল আপনার জন্য।


বিপুল সরকার
০৪ মে, ২০২১ ০৬:০০ অপরাহ্ণ

সুন্দর সাবলীন এবং মানসম্মত ব্লগ লিখে বাতায়ন কে সমৃদ্ধ করেছেন,লাইক ও ৫ তারকা সহ শুভকামনা রইল। আপনাকে অভিনন্দন সেই সাথে আমার চলতি পাক্ষিকের কন্টেন্ট দেখে আপনার মূল্যবান মতামত প্রত্যাশা করছি। বাতায়ন আইডিঃ- bipulsarkar1977


মোঃ রফিকুল হাসান
০৩ জুলাই, ২০২১ ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

অনেক অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। শুভ কামনা রইল আপনার জন্য।


মোঃ মেহেদুল ইসলাম
০৩ মে, ২০২১ ০৬:১৭ পূর্বাহ্ণ

শুভ কামনা ও অভিনন্দন


মোঃ রফিকুল হাসান
০৩ জুলাই, ২০২১ ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

অনেক অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। শুভ কামনা রইল আপনার জন্য।


আয়েশা ছিদ্দিকা
০৩ মে, ২০২১ ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ণ

পবিত্র মাহে রমজানের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন,আশা করি ভাল আছেন, সুস্থ্য আছেন। সৃজনশীল ও গুণগত মানসম্মত কন্টেন্ট আপলোড করে আমার প্রিয় শিক্ষক বাতায়নকে সম্মৃদ্ধ ও প্রসংশিত করায় আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।সম্মানিত শ্রদ্ধেয় প্যাডাগজি রেটার মহোদয়, শ্রদ্ধেয় এডমিন মহোদয় ও শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগণকে আমার সকল কনটেন্ট দেখে আপনাদের মূল্যবান মন্তব্য সহ পূর্ণ রেটিং ও লাইক দেয়ার জন্যে সবিনয়ে অনুরোধ করছি।


মোঃ রফিকুল হাসান
০৩ জুলাই, ২০২১ ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

অনেক অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। শুভ কামনা রইল আপনার জন্য।


মোঃ গোলজার হোসেন
০২ মে, ২০২১ ১১:২৪ অপরাহ্ণ

লাইক ও পুর্ণরেটিং সহ আপনার জন্য শুভ কামনা ও অভিনন্দন । আমার আপলোডকৃত কনটেন্ট গুলো দেখে আপনার মুল্যবান মতামত,লাইক ও পুর্ণ রেটিং প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি । আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন আমিন সুম্মা আমিন ।


মোঃ রফিকুল হাসান
০৩ জুলাই, ২০২১ ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

অনেক অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। শুভ কামনা রইল আপনার জন্য।


মোঃ গোলজার হোসেন
০২ মে, ২০২১ ১১:২৩ অপরাহ্ণ

লাইক ও পুর্ণরেটিং সহ আপনার জন্য শুভ কামনা ও অভিনন্দন । আমার আপলোডকৃত কনটেন্ট গুলো দেখে আপনার মুল্যবান মতামত,লাইক ও পুর্ণ রেটিং প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি । আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন আমিন সুম্মা আমিন ।


মোঃ রফিকুল হাসান
০৩ জুলাই, ২০২১ ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

অনেক অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। শুভ কামনা রইল আপনার জন্য।


মোহাম্মদ শাহাদৎ হোসেন
০২ মে, ২০২১ ১০:১৮ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা রইলো। আমার আপলোডকৃত কনটেন্ট দেখে আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন এবং নিরাপদে থাকবেন। আবারও ধন্যবাদ।


মোঃ রফিকুল হাসান
০৩ জুলাই, ২০২১ ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

অনেক অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। শুভ কামনা রইল আপনার জন্য।


Hasina Momotaj
০২ মে, ২০২১ ০৯:০২ অপরাহ্ণ

শুভ কামনা। আমার এ পাক্ষিকের কন্টেন্ট ও ব্লগ দেখার অনুরোধ রইল।


মোঃ রফিকুল হাসান
০৩ জুলাই, ২০২১ ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

অনেক অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। শুভ কামনা রইল আপনার জন্য।


দুলাল কুমার মন্ডল
০২ মে, ২০২১ ০৮:৫০ অপরাহ্ণ

চমৎকার ব্লগ আপলোড করে প্রিয় শিক্ষক বাতায়নকে সমৃদ্ধ করার জন্য আন্তরিক অভিনন্দন। লাইক ও রেটিং সহ শুভকামনা রইলো। এ পাক্ষিকে আমার উদ্ভাবনের গল্প দেখে আপনার সুচিন্তিত মূল্যানবান মতামত কামনা করছি। ঘরে থাকুন ও নিরাপদে থাকুন। আমার উদ্ভাবনী গল্পের লিংক- https://www.youtube.com/watch?v=fESqizIk1WQ অথবা, আমার ছবিতে ক্লিক করুণ। ধন্যবাদ।


মোঃ রফিকুল হাসান
০৩ জুলাই, ২০২১ ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

অনেক অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। শুভ কামনা রইল আপনার জন্য।


মোঃ মানিক মিয়া
০২ মে, ২০২১ ০৮:৩৭ অপরাহ্ণ

পবিত্র মাহে রমজানের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন,আশা করি ভাল আছেন, সুস্থ্য আছেন। সৃজনশীল ও গুণগত মানসম্মত কন্টেন্ট আপলোড করে আমার প্রিয় শিক্ষক বাতায়নকে সম্মৃদ্ধ ও প্রসংশিত করায় আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।০২,০৫,২১ ইং তারিখের আমার ৯ম শ্রেণী, উচ্চতর গণিতের,পিরামিড কণ্টেন্টটি আপলোড করা হয়েছে।আপনার সুচিন্তিত মতামত ও পরামর্শ একান্ত কাম্য।ধন্যবাদ। www.teachers.gov.bd/content/details/933498


মোঃ রফিকুল হাসান
০৩ জুলাই, ২০২১ ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

অনেক অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। শুভ কামনা রইল আপনার জন্য।


মোঃ জাফর ইকবাল মন্ডল
০২ মে, ২০২১ ০৮:০০ অপরাহ্ণ

আসসালামু আলাইকুম,লাইক ও পূর্ণরেটিং সহ আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো।আমার গত ২৮/০৪/২০২১ ইং তারিখে আপলোডকৃত "১ম শ্রেণি গণিত,বাংলাদেশি মুদ্রা ও টাকা" কনটেন্ট দেখার অনুরোধ রইলো।কনটেন্ট লিঙ্কঃhttps://bit.ly/3dV3pxc


মোঃ রফিকুল হাসান
০২ মে, ২০২১ ০৮:১১ অপরাহ্ণ

অনেক অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। শুভ কামনা রইল আপনার জন্য।


মোঃ মামুনুর রহমান
০২ মে, ২০২১ ০৭:৪৮ অপরাহ্ণ

পবিত্র মাহে রমজান ও ঈদুল ফিতরের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। শ্রেণি উপযোগী, মানসম্মত ও চমৎকার কনটেন্ট তৈরি করে শিক্ষক বাতায়নকে সমৃদ্ধ করার জন্য লাইক ও পূর্ণ রেটিং এর শুভকামনা রইলো। এই পাক্ষিকের আমার ০১/০৫/২১ তারিখের ৯ম ও ১০ম শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের "মাল্টিমিডিয়া ও এর মাধ্যমসমূহ" সম্পর্কিত কনটেন্টটিতে লাইক, কমেন্ট, শেয়ার ও পূর্ণ রেটিং প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট বিনীতভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি। এছাড়াও সম্মানিত প্যাডাগজি রেটার ও এডমিন প্যানেল মহোদয়, সেরা কন্টেন্ট নির্মাতা, সেরা উদ্ভাবক, আইসিটি জেলা অ্যাম্বাসেডরবৃন্দ ও সেরা অনলাইন পারফর্মারদের নিকট গুরুত্বপূর্ণ মতামতসহ পূর্ণ রেটিং আশা করছি। বাতায়ন আইডি : mamunggghsc10 , Profile Name : মোঃ মামুনুর রহমান , Profile Link: https://www.teachers.gov.bd/profile/mamunggghsc10 Content Link : https://www.teachers.gov.bd/content/details/932646 Blog Post Link : https://www.teachers.gov.bd/blog-details/599188


মোঃ রফিকুল হাসান
০২ মে, ২০২১ ০৮:১১ অপরাহ্ণ

অনেক অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। শুভ কামনা রইল আপনার জন্য।


লুৎফর রহমান
০২ মে, ২০২১ ০৭:১৮ অপরাহ্ণ

Ramadan and Eid-Ul-Fitre greetings. Thanks for nice content and best wishes including full ratings. Your active participation and submission of your wonderful contents have made the Batayon more enriched. Please give your like, comments and ratings to see my contents and blogs. https://www.teachers.gov.bd/content/details/933133 Blog link: https://www.teachers.gov.bd/blog-details/600159


মোঃ রফিকুল হাসান
০২ মে, ২০২১ ০৮:১১ অপরাহ্ণ

অনেক অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। শুভ কামনা রইল আপনার জন্য।


মোঃ গোলজার হোসেন
০২ মে, ২০২১ ০৬:২৬ অপরাহ্ণ

লাইক ও পুর্ণরেটিং সহ আপনার জন্য শুভ কামনা ও অভিনন্দন । আমার আপলোডকৃত কনটেন্ট গুলো দেখে আপনার মুল্যবান মতামত,লাইক ও পুর্ণ রেটিং প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি । আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন আমিন সুম্মা আমিন ।


মোঃ রফিকুল হাসান
০২ মে, ২০২১ ০৮:১২ অপরাহ্ণ

অনেক অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। শুভ কামনা রইল আপনার জন্য।