আমরা একটু সচেতন হলেই সুস্থ থাকার চেষ্টা করতেই পারি।

মোহাম্মদ আমির হোসেন ১০ জুন,২০২১ ২৫ বার দেখা হয়েছে লাইক কমেন্ট ৫.০০ ()

সুস্থ থাকার  টিপস-


আমরা একটু সচেতন হলেই সুস্থ থাকার চেষ্টা করতেই পারি

জীবনকে উপভোগ করতে প্রত্যেকেরই স্বাস্থ্য সচেতন হওয়া জরুরি। কিন্তু কীভাবে সুস্থ্য থাকা যায়? সহজ করে বললে, পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুমানো, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম ও কর্মময় থাকাটাই মূল বিষয়। এ ছাড়া রোগ ব্যাধি সম্পর্কে জানা ও স্বাস্থ্য সচেতন থাকাই আসল। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে সুস্থ থাকা যায়। তেমনই ৫০টি স্বাস্থ্য টিপস নিচে তুলে  ধরতে চেষ্টা করলাম, 


১. প্রতিদিন খুব সকালে ঘুম থেকে ওঠে দুই অথবা তিন কি.মি. হাঁটুন। এতে মন এবং প্রাণ সতেজ থাকবে।

২. খাবার গ্রহণ করার আগে ও টয়লেট ব্যবহারের পর অবশ্যই হাত ধুয়ে নিন।

৩. যখনই খাবার খাবেন তখন ভালো করে চিবিয়ে খাবার গ্রহণ করুন। এতে পাচন ক্রিয়া ঠিক থাকবে।

৪. মোটা হওয়ার প্রধান কারণ হলো তৈলাক্ত এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া। তাই এ ধরনের খাবার কম খান।

৫. বেশি পরিমাণে সবুজ শাক-সবজি আর ফলমূল খান।

৬. বেশিরভাগ সময় হেঁটেই কাজ সারুন। এতে পায়ের মাংসপেশির ব্যায়াম হবে। খুব প্রয়োজন না পড়লে লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি বেয়ে নামুন।

৭. সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে পানি পান করা শরীরের জন্য খুব উপকারী।

৮. মাথাব্যথা হলে প্রচুর মাছ খান। মাছের তেল মাথাব্যথা প্রতিরোধে দারুণ কার্যকর। খেতে পারেন আদা। প্রদাহ এবং ব্যথা নিরাময়ে তা বিশেষভাবে কার্যকর।

৯. ঘরে তৈরি খাবার খান। শরীর ভালো রাখতে ঘরে তৈরি বিভিন্ন সালাদ বা স্বাস্থ্যকর খাবারের কোনো বিকল্প নেই। ঘরে খেতে পারলে তো ভালোই। তবে কাজের ব্যস্ততার কারণে অনেকের ক্ষেত্রেই তা সম্ভব হয় না।

১০. হাঁপানিতে পিয়াজ খান। শ্বাসনালির সংকোচন রোধে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। পেটের পীড়ায় খেতে পারেন কলা, আদা। আদা মর্নিং সিকনেস এবং বমি বমিভাব দূর করে।

 ১১. নানাগুণের অধিকারী মধু। অসাড়তা, গলাব্যথা, মানসিক চাপ, রক্তস্বল্পতা, অস্টিও পোরেসিস, মাইগ্রেনসহ নানা শারীরিক সমস্যায় মধু বিশেষভাবে কার্যকর।

 ১২. ঘি, বাটারওয়েল, মার্জারিন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। এর পরিবর্তে ভেজিটেবল ওয়েল, ওলিভ ওয়েল ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

১৩. ব্রোকলি, স্পিনাক, গাজর, টমেটোতে প্রচুর ক্যান্সার প্রতিরোধী উপাদান আছে। কিন্তু তাপ দিলে এই ক্যান্সার প্রতিরোধ উপাদান বিনষ্ট হয়। তাই কাঁচা খেলেই ভালো।

 ১৪. গরমের দিন রাতে শোয়ার আগে গোসল করুন, এতে ঘুম ভালো হবে। রাতে ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। শরীরের প্রত্যেকটা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ রোম ছিদ্রের মধ্য দিয়ে শ্বসন প্রক্রিয়া চালায়। সে কারণে শোয়ার আগে ঢিলেঢালা পোশাক পরে ঘুমানো উচিত।

১৫.যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সকালের নাস্তা সেরে ফেলুন। গবেষণায় দেখা গেছে যে সকালের নাস্তাটি শরীরের বিপাকীয় কার্যে সহায়তা করে থাকে। তাই আপনি যদি ঘুম থেকে ওঠার ১ ঘণ্টার মধ্যে আপনার সকালের নাস্তাটি সেরে নিন।

১৬. কম সুগার এবং বেশি প্রোটিনজাতীয় খাবার খান। অতিরিক্ত সুগার সকালের খাবারের কার্যক্ষমতাকে নষ্ট করে দিতে সহায়ক। তাই নিশ্চিত করুন যে আপনার সকালের নাস্তাটি যেন কম সুগারসম্পন্ন হয়ে থাকে। এ ছাড়া সকালে ক্যালরিসম্পন্ন খাবারের পরিবর্তে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন ডিম, রুটি খান যা আপনার দেহের স্বাস্থ্য রক্ষার্থে সহায়তা করে থাকবে।

১৭. ক্যালরিযুক্ত খাবার অল্প খেলেই আপনার ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে শরীরের প্রয়োজনে কমপক্ষে ৩৫০ ক্যালরি গ্রহণ করা উচিত।

১৮. সকালবেলা কখনই এমন ধরনের খাবার খাবেন না যেগুলো পেটে গ্যাস তৈরি করে। বরং পুষ্টিকর কিছু খাবার খান যা আস্তে আস্তে হজম হয় এবং সারাদিন আপনাকে কর্মক্ষম রাখে।

 ১৯. বিকাল ৫টার পর ভারী খাবার খাবেন না (বিশেষ করে দুপরের খাবার)।

 ২০. পানি সকালে বেশি পান করুন, রাতে তুলনামূলক কম।

২১. ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ওষুধ খাবেন না।

২২. ওষুধ খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুয়ে পড়বেন না।

২৩. সর্বদা বাম কানে ফোন রিসিভ করুন। ফোনের ব্যাটারি যখন এক দাগ তখন ফোন রিসিভ না করাই ভালো, কারণ তখন ফোনের রেডিয়শন বেশি থাকে।

২৪. কাঠবাদাম খান। চকলেটের মতো কাঠবাদামেও আছে প্রচুর কপার যা মেলানিনের পরিমাণ ঠিক রাখে। এ ছাড়া আছে প্রচুর ভিটামিন ই যা সুন্দর ত্বক ও চুলের জন্য খুবই জরুরি।

২৫. বিরতি নিয়ে কাজ করুন। তাড়া যতই থাকুক প্রতি এক ঘণ্টা কাজ করার পর এক-দু্ই মিনিট চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম নেওয়া উচিত। এতে মস্তিষ্ক পরিষ্কার হয় এবং সচল থাকে।

২৬. সারা দিন শুয়ে-বসে অযথা থাকবেন না, আবার দিনভর পরিশ্রমও নয়। কাজের ফাঁকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে।

২৭. ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড যুক্ত মাছে উচ্চ মাত্রার প্রোটিন আছে যা আপনার হাড়, চুল, ত্বক সবকিছুর জন্যই জরুরি। এ ছাড়াও সামুদ্রিক মাছ শরীরে পর্যাপ্ত ও প্রয়োজনীয় হরমোন তৈরিতে ভূমিকা রাখে।

২৮. এসিডিটি বা বুকজ্বলা হলেও অল্প অল্প করে ঘন ঘন খাবার খেতে হবে। তৈলাক্ত খাবার, ভাজাপোড়া ও বেশি মসলাযুক্ত খাবার কম খান। একসঙ্গে বেশি খাবার না খেলেও উপকার পাওয়া যায়। খাওয়ার সময় পানি কম খান। দুই খাবারের মধ্যবর্তী সময়ে বেশি বেশি পানি পান করতে হবে।

 ২৯. শারীরিক ব্যায়ামের দিকে বিশেষ নজর দিন। বিশেষ করে স্ট্রেচিং এবং যোগব্যায়ামের দিকে। কারণ এতে করে দেহে অঙ্েিজন প্রবাহের মাত্রা বেড়ে যায়।

৩০. খাদ্য তালিকায় ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার রাখুন। পরিমিত পরিমাণে ভিটামিন এ এবং ই সমৃদ্ধ ফল এবং শাক সবজি নিয়মিত গ্রহণ করুন। চর্বি ও তৈলযুক্ত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন, এটা আপনার ত্বকে ব্রণ সৃষ্টি করতে পারে।

৩১. খাওয়ায় অরুচি ও ক্ষুধা মন্দা হলে ১-৩ গ্রাম আদা খোসা ছাড়িয়ে মিহি করে কুচিয়ে নিন। এবং তার সঙ্গে লবণ এবং কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে প্রতিদিন একবার করে ৭-৮ দিন খান।

 ৩২. টিনজাত সব খাবার খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিন। টিনজাত নানা খাবার ও ফ্রোজেন ফুড আমাদের জীবনকে সহজ করে তুলেছে ঠিকই কিন্তু এটি আমাদের দেহকে ধীরে ধীরে ঠেলে দিচ্ছে মৃত্যুর মুখে।

 ৩৩. ফল জাতীয় খাবার না ধুয়ে খাবেন না। রাস্তায় খোলা জায়গায় বিক্রি হওয়া আখের রস, লেবুর রস খাবেন না।

৩৪. শ্বাসকষ্টের জন্য ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে কখনোই ঘুমের ওষুধ খাবেন না।

৩৫. স্টিম বাথের মাধ্যমে খুব সহজে দেহকে ক্ষতিকর টঙ্নি মুক্ত করা যায়। তবে স্টিম বাথের পর দেহকে রিহাইড্রেট করতে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। ৩৬. চা বা কফি পানের পরিবর্তে গ্রিন টি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। গ্রিন টিয়ের অ্যান্টিঅঙ্েিডন্ট আমাদের দেহের সুরক্ষায় কাজ করে।

 ৩৭. ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হলে কোনো খাবার বন্ধ করবেন না। খাবার স্যালাইন খান। এর সঙ্গে তরল খাবার বেশি করে খান।

৩৮. গাজর ক্যারোটিনসমৃদ্ধ সবজি। শিশুর ছয় মাস বয়স থেকে গাজরের রস দিতে পারলে ভালো হয়। এতে ত্বক, চুল ও চোখ ভালো থাকে। শ্বাস-প্রশ্বাসের সংক্রমণ, চোখ ও ত্বকের সংক্রমণে গাজর খুবই উপকারী।

৩৯. যারা হাঁপানি বা ডায়াবেটিসে ভুগছেন তারা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ এড়িয়ে চলুন এতে আপনার বিশেষ ক্ষতি হতে পারে।

৪০.আপনি কম্পিউটার বা কোন এক জিনিসের ওপর মনোযোগ নিবদ্ধ করে অনেক সময় ব্যয় করে থাকেন। আপনি মাঝে মাঝে চোখের পলক ফেলবেন এতে করে আপনার চোখ ক্লান্তি পেতে পারে।

 সময় মেনে চলুন,সুস্থ ও সুন্দর থাকুন। 

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
মোছাঃ নাইচ আকতার
১০ জুন, ২০২১ ০৮:৫২ অপরাহ্ণ

ধন্যবাদ ও অভিনন্দন রইল স্যার। আমার কন্টেন্ট দেখার জন্য অনুরোধ রইল আ


মোছাঃ হোসনেয়ারা পারভীন
১০ জুন, ২০২১ ০৪:৫৬ অপরাহ্ণ

মানসম্মত কন্টেন্ট আপলোড করে বাতায়নকে সমৃদ্ধ করায় আপনাকে ধন্যবাদ। লাই্‌ক, রেটিং ও কমেন্ট সহ আপনার জন্য রইলো শুভকামনা। আমার এ পাক্ষিকে আপলোডকৃত কন্টেন্ট ও ব্লগ দেখে আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য অনুরোধ রইলো।


মোঃ আবুল কালাম
১০ জুন, ২০২১ ০৪:৩৩ অপরাহ্ণ

লাইক ও পুর্ণরের্টিং সহ আপনার জন্য রইলো শুভকামনা । আমার আপলোডকৃত কনটেন্ট ও ব্লগ গুলো দেখে আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শের প্রত্যাশা করছি।


লুৎফর রহমান
১০ জুন, ২০২১ ০৪:১২ অপরাহ্ণ

Great work! Thanks for nice content and best wishes including full ratings. Your active participation and submission of your wonderful contents have made the Batayon more enriched. Please give your like, comments and ratings to see my contents and blogs. https://www.teachers.gov.bd/content/details/962765 Blog link: https://www.teachers.gov.bd/blog-details/605060 Batayon ID: https://www.teachers.gov.bd/profile/Lutfor%20Rahman


বিপুল সরকার
১০ জুন, ২০২১ ০৩:১৯ অপরাহ্ণ

স্যার,সুন্দর ও যুগোপযোগী ব্লগ আপলোড করে বাতায়নকে সমৃদ্ধ করার জন্য আপনাকে অভিনন্দন সেই সাথে চলতি পাক্ষিকে আমার আপলোডকৃত কন্টেন্টে আপনার মূল্যবান মতামত প্রত্যাশা করছি।


মোঃ ফারুক হোসেন
১০ জুন, ২০২১ ১২:৫৮ অপরাহ্ণ

লাইক ও পুর্ণরের্টিং সহ আপনার জন্য রইলো শুভকামনা । আমার আপলোডকৃত কনটেন্ট ও ব্লগ গুলো দেখে আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শের প্রত্যাশা করছি।


মোহাম্মদ শাহাদৎ হোসেন
১০ জুন, ২০২১ ১২:০৬ অপরাহ্ণ

👉 লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা রইলো। আমার আপলোডকৃত কনটেন্ট দেখে আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন এবং নিরাপদে থাকবেন। আবারও ধন্যবাদ।