==দুশ্চিন্তা ও বিপদাপদে ঈমানদারের ১০টি করণীয়==

মোঃ হোসেন আলী ১৮ জুলাই,২০২১ ৭২ বার দেখা হয়েছে লাইক কমেন্ট ৫.০০ ()

দুশ্চিন্তা ও বিপদাপদে ঈমানদারের ১০টি করণীয়

চিন্তা মানুষের অনেক মারাত্মক ব্যাধির কারণ। চিন্তা ও অস্থিরতা মানুষকে চরমভাবে অসুস্থ করে তোলে। চিন্তা ও অস্থিরতার কোনো ওষুধ আজও আবিষ্কৃত হয়নি। চিকিৎসা বিজ্ঞানে মানুষকে চিন্তা ও অস্থিরতা থেকে বিরত রাখতে ঘুমের উপদেশ দিয়ে থাকে। যদি স্বাভাবিকভাবে ঘুম না আসে তবে ঘুমের ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়া হয়। চিন্তা মানুষের সব শান্তিকে মাটি করে দেয়। স্বাভাবিক জীবন-যাপনকে বাধাগ্রস্ত করে তোলো। মানুষ বিভিন্ন কারণে চিন্তাযুক্ত হয়ে পড়ে। তা হতে পারে দুনিয়ার পেরেশানি কিংবা শত্রুর দুশমনির কারণে।
আবার আল্লাহর প্রিয়বান্দারা নিজের অজান্তে কিংবা পরিবেশের কারণে কোন কারণ বশত অন্যায় করে ফেললে, সেই পেরেশানিতেও দুঃশিন্তাগ্রন্ত হয়ে পড়ে।
বিপদ-আপদ মানবজীবনের নিত্যসঙ্গী। মানসিক অস্থিরতা জীবনেরই অংশ।  বিভিন্ন বিপদ-আপদের কারণে মানুষের মনে এসব চিন্তা বা দুঃচিন্তায় জন্ম হয়।  এই বিপদ-আপদ আল্লাহর পক্ষ থেকে আজাব হতে পারে, রহমতও হতে পারে। বিপদ আসার পর যদি গুনাহ বেড়ে যায়, আমল কমে যায়, তাহলে বুঝতে হবে যে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে আজাব। পক্ষান্তরে যদি বিপদ আসার পর আমল বেড়ে যায়, তাহলে বিপদ আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত।

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুমিন মুসলমানের জন্য চিন্তামুক্ত থাকার চিকিৎসা দিয়েছেন। মানুষকে মারাত্মক অসুস্থা থেকে হেফাজত করতে চিন্তামুক্ত হওয়ার বিকল্প নেই। চিন্তা ও অস্থিরতা থেকে মুক্ত থাকতে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতের জন্য নসিহত পেশ করেছেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চিন্তাযুক্ত অবস্থায় বলতেন-
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউ’জুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হুযনি ওয়াল আ’ঝযি ওয়াল কাসালি ওয়াল জুব্‌নি ওয়াল বুখলি ওয়া দ্বলাইদ দাইনি ওয়া গালাবাতির রজিাল।’
অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে থেকে চিন্তা, শোক, অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরুষতা, ঋণের বোঝা ও মানুষের ওপর জোর-জবরদস্তি থেকে আশ্রয় চাই।’ (বুখারি, মুসলিম ও মিশকাত)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিয়মিত আমল করার মাধ্যমে চিন্তামুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন- আমিন।

 

কোরআন ও হাদিসের আলোকে দুশ্চিন্তা ও বিপদাপদে ঈমানদারের ১০টি করণীয় সম্পর্কে বর্ণনা করা হলো-

১. ভালো-মন্দ তাকদিরের ওপর পরিপূর্ণ বিশ্বাস রাখুন। কেননা তাকদিরের ওপর পূর্ণ আস্থাবান ব্যক্তিকে দুশ্চিন্তা কাবু করতে পারে না। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘আল্লাহ তোমাদের ক্লেশ দিলে তিনি ছাড়া তা মোচনকারী আর কেউ নেই। আর আল্লাহ যদি তোমার মঙ্গল চান, তাহলে তার অনুগ্রহ রদ করার কেউ নেই।’ (সুরা: ইউনুস, আয়াত: ১০৭)

২. দুনিয়ার বিপদের তুলনায় পরকালের বিপদের কথা স্মরণ করুন। দুনিয়ার বিপদ-আপদ আপনার জন্য পরকালের বিপদ থেকে রেহাই পাওয়ার কারণ হতে পারে। আর পরকালের বিভীষিকাময় পরিস্থিতির তুলনায় দুনিয়ার বিপদ-আপদ খুবই নগণ্য। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘যেদিন তারা তা প্রত্যক্ষ করবে, সেদিন তাদের মনে হবে, যেন তারা পৃথিবীতে মাত্র এক সন্ধ্যা অথবা এক প্রভাত অবস্থান করেছে।’ (সুরা: নাজিআত, আয়াত: ৪৬)

৩. চিন্তার মোড় ঘুরিয়ে দিন। নিজের চেয়ে নিচের মানুষদের অবস্থার দিকে তাকান। ভাবুন, আল্লাহ আপনাকে তার থেকে ভালো রেখেছেন। মনোবিজ্ঞানীরাও ডিপ্রেশনের চিকিৎসা হিসেবে রোগীকে এভাবে চিন্তা করার উপদেশ দিয়ে থাকেন। মহানবী (সা.) দেড় হাজার বছর আগেই চিকিৎসার এই পদ্ধতি প্রয়োগ করেছিলেন। হাদিসে এসেছে, খাব্বাব (রা.) বলেন, আমরা আল্লাহর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে অভিযোগ করলাম এ অবস্থায় যে তিনি কাবাঘরের ছায়ায় একটি চাদরে ঠেস দিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। আমরা বললাম, আপনি কি আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইবেন না? আপনি কি আমাদের জন্য দোয়া করবেন না? জবাবে তিনি বলেন, ‘তোমাদের জানা উচিত, তোমাদের আগের মুমিন লোকেদের এই অবস্থা ছিল যে একজন মানুষকে ধরে আনা হতো, তার জন্য গর্ত খুঁড়ে তাকে তার মধ্যে পুঁতে রাখা হতো। অতঃপর তার মাথার ওপর করাত চালিয়ে তাকে দুই খণ্ড করে দেওয়া হতো এবং দেহের গোশতের নিচে হাড় পর্যন্ত লোহার চিরুনি চালিয়ে শাস্তি দেওয়া হতো। কিন্তু এই কঠোর পরীক্ষা তাকে তার দ্বিন থেকে ফেরাতে পারত না। (বুখারি, হাদিস: ৩৬১৬)

৪. আল্লাহর ব্যাপারে সুধারণা পোষণ করুন। তার ওপর ভরসা রাখুন। আশা রাখুন যে তিনি আপনাকে আপনার দুরবস্থা থেকে নাজাত দেবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট।’ (সুরা: তালাক, আয়াত: ৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, ‘আমি সেরূপ, যেরূপ বান্দা আমার প্রতি ধারণা রাখে।’ (বুখারি, হাদিস: ৬৯০১)

৫. ধৈর্য ধারণ করুন। বিশ্বাস করুন যে কষ্টের পর স্বাচ্ছন্দ্য আসে। কঠিন অবস্থার পর সচ্ছলতা আসে। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা: বাকারা, আয়াত: ১৫৩)

৬. সালাতুল হাজাত পড়ুন। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন দুশ্চিন্তায় পড়তেন, নামাজে মগ্ন হতেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও।’ (সুরা: বাকারা, আয়াত: ১৫৩)

৭. বেশি বেশি ইস্তেগফার করুন। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘অতঃপর আমি বলেছি, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও, তিনি তো মহাক্ষমাশীল। (ফলে) তিনি তোমাদের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত করবেন, তোমাদের সমৃদ্ধ করবেন ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে।’ (সুরা: নুহ, আয়াত: ৭১)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার করবে আল্লাহ তার সব সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তার রিজিকের সংস্থান করে দেবেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ১৫২০)

৮. অধিক হারে দরুদ পড়ুন। হাদিসে এসেছে, উবাই ইবন কাব (রা.) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, আমি আপনার ওপর অধিক হারে দরুদ পাঠ করে থাকি। আমার সময়ের কতটুকু আপনার প্রতি দরুদ পাঠে ব্যয় করব? রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমার যতটুকু ইচ্ছা। আমি বললাম, এক-চতুর্থাংশ সময়? তিনি বলেন, তোমার ইচ্ছা। কিন্তু যদি আরো বাড়াও তবে ভালো। আমি বললাম, অর্ধেক সময়? তিনি বলেন, তোমার যা ইচ্ছা; তবে আরো বৃদ্ধি করলে তা-ও ভালো। আমি বললাম, দুই-তৃতীয়াংশ সময়? তিনি বলেন, তোমার ইচ্ছা; তবে আরো বাড়ালে তা-ও ভালো। আমি বললাম, আমার সবটুকু সময় আপনার ওপর দরুদ পাঠে লাগাব? তিনি বলেন, তাহলে তো তোমার চিন্তামুক্তির জন্য তা যথেষ্ট হয়ে যাবে আর তোমার গুনাহ মাফ করা হবে। (তিরমিজি, হাদিস: ২৪৫৭)

৯. সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করুন। নির্ভরযোগ্য আলেমের সঙ্গে অভিমত গ্রহণ করুন। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি পরামর্শ কামনা করে সে অকৃতকার্য হয় না।’

১০. দুশ্চিন্তা ও মানসিক অস্থিরতা থেকে নাজাতের উদ্দেশ্যে হাদিসে বেশ কিছু দোয়া শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। ওই দোয়াগুলো বেশি বেশি পড়ুন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আমি এমন একটি দোয়া সম্পর্কে অবগত আছি, কোনো বিপদগ্রস্ত লোক তা পাঠ করলে আল্লাহ তাআলা তার সেই বিপদ দূর করে দেন। সেটি হচ্ছে আমার ভাই ইউনুস (আ.)-এর দোয়া। দোয়াটি হলো‘লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জ্বলিমীন।’

অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই; আমি তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। নিঃসন্দেহে আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত। (তিরমিজি, হাদিস: ৩৫০৫)

চিন্তা ও পেরেশানির সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি বিশেষ দোয়া পড়তেন। দোয়াটি হলো- ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি, ওয়া আউযু বিকা মিনাল আজযি ওয়াল-কাসালি, ওয়া আউযু বিকা মিনাল বুখলি ওয়াল জুবনি, ওয়া আউযু বিকা মিন দ্বালা‘য়িদ্দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজাল।’

অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অপারগতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের ভার ও মানুষদের দমন-পীড়ন থেকে।

আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) চিন্তাযুক্ত অবস্থায় এই দোয়া পড়তেন। (বুখারি, হাদিস: ২৮৯৩)

হে আল্লাহ  মুসলিম উম্মাহকে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিয়মিত আমল করার মাধ্যমে চিন্তামুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সংগৃহীত

 

 

 

 

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
জাহিদুল ইসলাম
১৮ জুলাই, ২০২১ ০৬:০৩ অপরাহ্ণ

আসসালামু আলাইকুম। শ্রদ্ধেয় প্যাডাগজি রেটার মহোদয়, এডমিন মহোদয় সেরা কন্টেন্ট নির্মাতাগণ ও সেরা উদ্ভাবক মহোদয় বাতায়নের সকল স্যার- ম্যাম মহোদয়গণ আমার আপলোডকৃত ৩৪তম কনটেন্ট সকলকে দেখার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। আমার এ পাক্ষিকের কনটেন্ট এ রেটিং করার অনুরোধ করছি। আমার কনটেন্ট লিংকঃ https://www.teachers.gov.bd/content/details/1053143


সন্তোষ কুমার বর্মা
১৮ জুলাই, ২০২১ ০৫:০৩ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিং সহ অভিনন্দন ও শুভকামনা আমার কনটেন্ট দেখার জন্য অনুরোধ করছি।


মোহাম্মদ শাহাদৎ হোসেন
১৮ জুলাই, ২০২১ ০১:৫২ অপরাহ্ণ

👉 লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা রইলো। আমার আপলোডকৃত কনটেন্ট দেখে আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন এবং নিরাপদে থাকবেন। আবারও ধন্যবাদ।


মোঃ মেরাজুল ইসলাম
১৮ জুলাই, ২০২১ ১২:৪৪ অপরাহ্ণ

✍️ সম্মানিত, বাতায়ন প্রেমী শিক্ষক-শিক্ষিকা , অ্যাম্বাসেডর , সেরা কন্টেন্ট নির্মাতা , প্রেডাগোজি রেটার আমার সালাম রইল। রেটিং সহ আমি আপনাদের সাথে আছি। আমার বাতায়ন বাড়িতে আপনাদের আমন্ত্রণ রইলো। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবেন , নিজে সুস্থ্ থাকবেন, প্রিয়জনকে নিরাপদ রাখবেন। ধন্যবাদ।🌹


লুৎফর রহমান
১৮ জুলাই, ২০২১ ০৯:১৬ পূর্বাহ্ণ

Best wishes with full ratings. Sir/Mam. Please give your like comments and ratings to watch my following contents below: pptx https://www.teachers.gov.bd/content/details/1020865 Blog: https://www.teachers.gov.bd/blog-details/612086 Video: https://www.teachers.gov.bd/content/details/1043691 Publication: https://www.teachers.gov.bd/content/details/1029791 Batayon ID: https://www.teachers.gov.bd/profile/Lutfor%20Rahman


মিতালী সরকার
১৮ জুলাই, ২০২১ ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ণ

সম্মানিত সুধী চলতি পাক্ষিকের (ভূগোল ও পরিবেশ)- জোয়ার-ভাটা কন্টেন্ট দেখে আপনার মূল্যবান মতামত প্রত্যাশা করছি


মোঃ ফারুক হোসেন
১৮ জুলাই, ২০২১ ০৭:২৫ পূর্বাহ্ণ

মানসম্মত কন্টেন্ট আপলোড করে বাতায়নকে সমৃদ্ধ করায় আপনাকে ধন্যবাদ। লাইক, পূর্ণ রেটিং সহ আপনার জন্য রইলো শুভকামনা। আমার কন্টেন্ট, ব্লগ ও চিত্র দেখে লাইক,পূর্ণ রেটিং ও আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য অনুরোধ রইলো।