শিক্ষক হতে হলে আগে শিশুকে পড়তে হবে। তার পর রোগ বুঝে চিকিৎসা দিতে হবে। কামরুল হাসান আহমেদ

কামরুল হাসান আহমেদ ৩১ জুলাই,২০২১ ৪৬ বার দেখা হয়েছে লাইক কমেন্ট ৫.০০ ()

শিক্ষক হতে হলে আগে শিশুকে পড়তে হবে। তার পর রোগ বুঝে চিকিৎসা দিতে হবে।

শিক্ষক ও ছাত্র একটি হলো গাছ অন্যটি হলো ফুল। আর বিদ্যা ধন হলো সেই বৃক্ষের ফল।ঝরে পড়া শিশু বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর একটি সাধারণ ঘটনা।প্রতিটি শিশু এক একটি প্রতিভা।সবাই যে শুধু পড়া অথবা লেখা শিখবে, আর এটাই যে শিশুর বিকাশের একমাত্র উপায় - এটা যারা মনে করেন তাদেরকে এই বিষয়টি সম্পর্কে আরো বিশদভাবে জানতে হবে। শিশুর বুদ্ধিমত্তা ৮ রকমের এই বিষয়টি সব শিক্ষকদের জানা আছে। কিন্তু বিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকদের এই বুদ্ধিবৃত্তিক প্রয়োগ না থাকায় ঝরে পড়া শিশুদের সৃষ্টি হচ্ছে।
২০১৭ সালে রিয়াদ হোসেন নামের এক ছাত্র ছিল আমার বিদ্যালয়ে।  সে নিয়মিত  বিদ্যালয়ে আসত না। পড়া ও লেখার ব্যাপারে একেবারে আগ্রহ ছিল না। কিন্তু সে ছিল খেলায় বেশ পটু। শুরু হয় রিয়াদের মতো এমন আরও তিনজন নিয়ে অফিসে আমার বিশেষ পাঠদান। সহজবোধ্য করে পড়া শেখানো সঙ্গে যুক্ত হয় দেখে দেখে লেখা। ২০১৯ সালে এই চারজনের ক্রীড়া নৈপূণ্যতা দেখে মুগ্ধ হয় পুরো উপজেলার শিক্ষকরা। ২০১৯ সালের বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে উপজেলা পর্যায়ে রানার্স হয় আমার বিদ্যালয়। যা বিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথম অর্জন।  আর এই অর্জনের পেছনে যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি ছিল তারা ছিল আমার ২০১৭ সালের সেই ঝরে পড়া চার জন শিক্ষার্থী। ২০১৯ সালে তারা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ভালো ফলাফল করে হাইস্কুলে গিয়ে ভর্তি হয়েছে। আজ একজন এসেছে আমাকে উপহার হিসেবে ফুলের তোড়া নিয়ে।আমরা এদেরকে ২০১৭ সালে ঝরে পড়ার তালিকায় নাম লিখেছিলাম?অথচ দুই বছর পর যে শিক্ষক তাদেরকে উৎসাহ দিয়েছিল তাকে ফুলের তোড়া উপহার দিতে কিন্তু তারা ভোলেনি।
শিক্ষক হিসেবে এই উপহার আমার কাছে অনেক বড় পাওনা। কারণ এর পিছনে দুই বছরের সাধনা জড়িয়ে আছে।শিশুরা বিকশিত হবে অবশ্যই, তবে তাদের শিখনক্ষেত্র   ভিন্ন হবে।সেটা শিক্ষককে বের করতে হবে তার নিজ যোগ্যতা দিয়ে। তবে ই তিনি হতে পারবেন আর্দশ শিক্ষক।প্রতিদিন লাল রঙের একটি সূর্য পূর্ব আকাশে উদিত হওয়ার মাধ্যমে জনপদে জানান দেয় দিনের কার্য শুরু করার জন্য। প্রতিটি জীবন খাদ্য সংগ্রহ করার মাধ্যমে দিনের কাজ শুরু করে। এই একই অবস্থা চলে বনে ও লোকালয়ে সমানভাবে। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। খাবারের জন্য মানুষ নানা ধরনের কাজ করে থাকেন। এই কাজগুলোকে এককথায় পেশা বলা হয়। আমাদের সমাজে একশ্রেণির লোক আছে যারা শারীরিক কাজের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে থাকে, এদেরকে শ্রমজীবী বলা হয়। যেমন:- জেলে,মাঝি,গাছি,কাঠুরিয়া, রিকশা চালক, ভ্যান চালক,বাস চালক ইত্যাদি।আবার কিছু মানুষ জীবন চালাতে বিভিন্ন কারখানায় কাজ করে এদের বলা হয় কারখানার শ্রমিক। যারা বিভিন্ন ধরনের গাড়ি চালায় তাদেরকে বলা হয় পরিবহন শ্রমিক। আমাদের সমাজে চারপাশের পরিবেশ যারা পরিস্কার করে,  বিভিন্ন অফিস, স্কুল, হাসপাতাল এ যারা পরিস্কার করার কাজে নিয়োজিত আছে তাদের বলা হয় পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এই শ্রমজীবীরা বিভিন্নভাবে আমাদের উপকার করে আমাদের জীবন যাত্রাকে বিভিন্নভাবে সহজ করে দিয়েছে। তাই প্রতিটি শ্রমজীবী মানুষ ই সম্মানের পাত্র।শ্রমজীবী মানুষকে সম্মান করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

 
বাংলা ভাষা আমাদের মাতৃভাষা। পৃথিবীর মধুর ভাষার  মধ্যে বাংলা অন্যতম। চতুর্থ খ্রীস্টাব্দে ব্যাকরণবিদ পাণিনি বৈদিক ভাষার উপর কিছু নিয়ম প্রণয়ন করেন। যার দ্বারা সংস্কৃত ভাষার জন্ম হয়। তবে আইন অনুযায়ী উচ্চ রাজন্যবর্গে এই ভাষা ব্যবহৃত হবে।নারী ও সাধারণ প্রজারা এই ভাষায় কথা বলতে পারবে না। তাই তারা সমাজের নানা প্রচলিত ভাষায় কথা বলত।জনগণের এই ভাষা প্রাকৃত ভাষা নামে পরিচিতি লাভ করে। আর অতি ব্যাকরণের দোষে দুষ্ট হয়ে সংস্কৃত ভাষা মৃত ভাষার খেতাব প্রাপ্ত হয়। প্রাকৃত ভাষাগুলো থেকে তখন ভারতবর্ষে অগণিত ভাষার জন্ম হয়। যার মধ্যে বাংলা ভাষা অন্যতম। ৫ম খ্রীস্টাব্দে পালি ভাষা ব্যবহারকারী বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ব্যবহার জনিত সংস্পর্শে এসে বাংলা ভাষার প্রাথমিক রূপ প্রণীত হয়।বৌদ্ধদের ব্যবহৃত ভাষা বলে হিন্দু শাসকদের দ্বারা নির্যাতিত হতে শুরু করে বাংলা ভাষা ব্যবহারকারীরা। ভাষা কখন বাধা মানেনা। এই বাংলা ভাষা ব্যবহার করা ভিক্ষুগণ ৬৫০ সালের দিকে চলে আসেন ধর্মপাল রাজার বিশব্বিদ্যালয় সোমপুর বিহারে। যা বর্তমানে বাংলাদেশের নওগাঁ জেলায় অবস্থিত।  বাংলা ভাষার বিকাশে এই প্রতিষ্ঠান অনেক খানি এগিয়ে। ৯০০ সালের দিকে সেন বংশের শাসন শুরু হয় বাংলায়। উগ্র হিন্দুদের নির্যাতনের শিকার হতে শুরু করে বৌদ্ধ ভিক্ষু রা। জীবন বাচাতে ভিক্ষুরা পালিয়ে যায় নেপাল তিব্বত সহ বিভিন্ন দেশে। বাংলা ভাষার প্রাচীন নিদর্শন "চর্যাপদ " এই সব কারনেই নেপালে পাওয়া যায়। বৌদ্ধদের এই জীবন বাজি রেখে বাংলা ভাষার সংরক্ষণের জন্য আজ আমরা বাংলা ভাষার বয়স যে ইংরেজি ভাষার আগে তা প্রমাণ করতে পারি। সেন বংশের পতনের পর বাংলায় তুর্কিরা ফারসি ভাষার চালুকরে। আর মধ্যযুগের বাংলা ভাষার বিকাশে আরকান রাজসভার কবিরা ঢেলে দিয়েছেন মেধা ও নিজেদের কাব্য প্রতিভাকে। আলাওল, কোরেশি মাগন ঠাকুর,  দৌলত উজির, সহ নাম না জানা বহু কবি সমৃদ্ধ করে সাহিত্য জগতে বাংলাকে  বিশ্বে পরিচিত করেছেন। ১৭৫৭ সালের ব্রিটিশ শাসকরা বাংলা চর্চার ব্যবস্থা করেন। তাই তো বাংলার আধুনিক কবিরা মন ঢেলে সাহিত্য চর্চা শুরু করেন। ১৯১৩ সালে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল পুরষ্কার পাওয়ার মাধ্যমে বাংলা ভাষা পৃথিবীতে স্বীকৃতি লাভ করে।১৯৪৭ সালে ভারত পাকিস্তান দুটি আলাদা রাষ্ট্রের জন্ম হয়। আমরা সংগত কারণে পাকিস্তানের ভিতর চলে আসি
উর্দু হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। বাংলা ভাষা প্রেমী বীরেরা মাতৃভাষার মান রক্ষায় নেমে আসে রাজপথে। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার রাজপথ ভাষাপ্রেমিদের রক্তে রঞ্জিত হয়। অবশেষে পাকিস্তান সরকার ১৯৫৬ সালে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার  স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়।
১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।
পৃথিবীতে ভাষা অনেক আছে কিন্তু  বাংলা ভাষার মতো এমন কোন ভাষা আর নেই।১৫০০ বছরের শত নির্যাতনের শিকার হয়েও এই ভাষাগোষ্ঠীর মানুষ জীবন দিয়েছে সত্যি কিন্তু ভাষার প্রতি অবমূল্যায়ন সহ্য করেনি ভবিষ্যতেও করবেনা।।

কামরুল হাসান আহমেদ
প্রাক্তন ছাত্র
সংস্কৃত বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
জাহিদুল ইসলাম
৩১ জুলাই, ২০২১ ০৬:৩০ অপরাহ্ণ

আসসালামু আলাইকুম। লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা রইলো। আমার আপলোডকৃত ৩৪তম কনটেন্ট দেখার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। আমার এ পাক্ষিকের কনটেন্ট এ রেটিং করার অনুরোধ করছি। আমার কনটেন্ট লিংকঃ https://www.teachers.gov.bd/content/details/1053143


মোঃ সাইফুর রহমান
৩১ জুলাই, ২০২১ ০৫:৪১ অপরাহ্ণ

চমৎকার উপস্থাপন লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা রইলো। "প্রাণী টিস্যু " শিরোনামে আমার আপলোডকৃত ৭৩ তম কনটেন্ট ও ব্লগ দেখে আপনার মূল্যবান লাইক, রেটিং, মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ রইল।


মোহাম্মদ ফরিদুল হক সিরাজী
৩১ জুলাই, ২০২১ ০৫:৩৬ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ শুভকামনা রইল


লুৎফর রহমান
৩১ জুলাই, ২০২১ ০৫:২৩ অপরাহ্ণ

Best wishes with full ratings. Sir/Mam. Please give your like comments and ratings to watch my contents below: pptx https://www.teachers.gov.bd/content/details/1052033 Blog: https://www.teachers.gov.bd/blog-details/614844 Video: https://www.teachers.gov.bd/content/details/1054236 Video 2: https://www.teachers.gov.bd/content/details/1063645 Publication: https://www.teachers.gov.bd/content/details/1054697 Batayon ID: https://www.teachers.gov.bd/profile/Lutfor%20Rahman


মোহাম্মদ শাহাদৎ হোসেন
৩১ জুলাই, ২০২১ ০৫:০৪ অপরাহ্ণ

👉 লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা রইলো। আমার আপলোডকৃত কনটেন্ট দেখে আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন এবং নিরাপদে থাকবেন। আবারও ধন্যবাদ।