Loading..

ব্লগ

রিসেট

২০ জানুয়ারি, ২০২১ ০২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

চাকরির প্রস্তুতি কিভাবে নেবেন ও সিলেবাস

অনেকে বুঝতে পারে না কিভাবে চাকরির প্রস্তুতি নিবে? সে কি একাডেমিক পড়াশোনা চলা অবস্থায় চাকরির জন্য প্রস্তুতি গ্রহন করবে, নাকি গ্রেজুয়েশন করার পর। কিভাবে চাকরির পড়াশোনা শুরু করবে? চাকরির জন্য কোন সিলেবাস ফলো করবে? উপরের সকল প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আমাদের আজকের লিখালিখি। 

এই পোস্টে আপনি বাংলাদেশের জব সার্কুলার ও চাকরির প্রস্তুতির পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারবেন। এছাড়া রয়েছে আরো চাকরির কিছু স্পেশাল টিপস।

কখন থেকে চাকরির প্রস্তুতি গ্রহন শুরু করবো?

সাধারনত আমাদের দেশের স্টুডেন্টরা গ্রেজুয়েশন শেষ করার পর চাকরির জন্য চেষ্টা করে থাকে। তবে আমার মতে অনার্স ৩য় বা ৪র্থ বর্ষ থাকাকালীন থেকে চাকরির প্রস্তুতি গ্রহন করা শুরু করতে হবে। তখন থেকেই চাকরির ২/১ টা বই কিনে পড়া শুরু করতে হবে। বিশেষ করে সাধারনজ্ঞান এর বই পড়া শুরু করতে হবে। এর জন্য কারেন্ট এফেয়ার্স, কারেন্ট ওয়ার্ল্ড অন্যান্য মাসিক বা সাপ্তাহিক সাময়িকি পড়তে পারেন। 

কিভাবে চাকরির পড়াশোনা শুরু করবে?

চাকরির পড়াশোনা শুরুর প্রথমক্ষেত্রে সাধারন চাকরির গণিত, ইংরেজি ও সাধারনজ্ঞান বই কিনে প্রাথমিক পড়াশোনা শুরু করতে হবে। যদি সম্ভব হয় কোন চাকরির কোচিং এ এডমিট হতে পারেন। কোচিং করা ছাড়াও চাকরি পাওয়া সম্ভব। 

রুটিনঃ প্রথমে চাকরির পড়াশোনা করার জন্য একটি রুটিন তৈরি করতে হবে। কোন কোন সময় চাকরির জন্য পড়বেন তা ফিক্স করতে হবে। সেই সময়ে শুধু চাকরির জন্যই পরতে হবে। অন্য কোন কাজ করা যাবে না। ধীরে ধীরে রুটিন এ চাকরির পড়ার সময় বাড়াতে হবে।

বিগত প্রশ্ন সলভঃ পড়াশোনা শুরুর সাথে সাথে প্রশ্ন সলভ করতে হবে। যদি প্রশ্ন সলভ করেন তাহলে এতে চাকরির পরীক্ষার দক্ষতা বাড়ে এবং আপনিও বুঝতে পারবেন চাকরির জন্য আপনি কতটুক প্রস্তুত। তাই বিগত বছরের চাকরির প্রশন গুলো সলভ করতে হবে। 

মক টেস্টঃ মক টেস্ট হলো পরীক্ষার আগে যাচাই পরীক্ষা। এর মাধ্যমে আপনি যাচাই করতে পারবেন আপনি চাকরির পরীক্ষার জন্য কতটুক প্রস্তুত। আপনাকে আর কতটুক প্রস্তুতি নিতে হবে। কোন বিষয়ে আপনি দুর্বল, কোন দিকে বেশি খেয়াল করতে হবে । মকটেস্ট সহজেই যে কোন চাকরির কোচিং এ পেয়ে যাবেন এছাড়া অনলাইন এ অনেক ওয়েবসাইটে মকটেস্ট এর সুযোগ রয়েছে। 

পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে দক্ষতা অর্জনঃ আপনি ছোট বা বড় যতই চাকরির পরীক্ষায় অংশ নিবেন আপনার চাকরির পরীক্ষা নিয়ে দক্ষতা বাড়বে। আপনার প্রশ্ন সম্পর্কে ধারনা বাড়বে, চাকরির পরীক্ষার পরিবেশ নিয়ে ধারনা আসবে। পরীক্ষায় টাইম ম্যানেজমেন্ট কিভাবে করতে হয় তা পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করার মাধ্যমেই আয়ত করা যায়। 

চাকরির জন্য কোন সিলেবাস ফলো করবে?

নিচে দুই ভাবে চাকরির সিলেবাস প্রদান করা হলো। 

চাকরির সিলেবাস ১-

. বাংলা - বাংলার জন্য class -9-10 এর বাংলা গ্রামার বা MP3 জর্জ সিরিজের বাংলা দেখতে পারেন ব্যাকরণের অংশটা ভালো করে পড়ুন

. ইংলিশ - Competitive Exam বা Master ইংলিশ বইটা দেখতে পারেন বিগত সালের বিভিন্ন পরীক্ষায় আসা প্রশ্ন ভালো করে পড়ুন

. সাধারণ গণিত মানসিক দক্ষতা - এর জন্য শাহীন ম্যাথ বা যে কোন ম্যাথ এর বই দেখুন , বেসিক ম্যাথ গুলো ভালো করে দেখুন মানসিক দক্ষতার চেয়ে গণিতের দিকটা বেশি গুরুত্ব দিন

. সাধারণ জ্ঞান - রিসেন্ট যে কোন সাধারণ জ্ঞান এর বই পড়তে থাকুন , বিস্তারিত পড়ার জন্য যে কোন একটি বই ফলো করুন আজকের বিশ্ব বা MP3 বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক

. সাধারণ বিজ্ঞান - বাজারের যে কোন একটি বই এর বেসিক অংশটুকু পড়ুন ওরাকল বা MP3 বিজ্ঞান

. আইসিটি - এটা গুরুত্বপূর্ন সহজেই মার্ক পাওয়া যায় , এর জন্য আপনি "self suggestion কম্পিউটার তথ্যপ্রযুক্তি " বইটির প্রতিটি অধ্যায়ের শেষে "অটো সাজেশন" ফিচারটি জব সল্যুশন ফিচার এই দুটি ভালো করে পড়ূন , সর্বোচ্চ কমন পাবেন এই বই থেকে 


চাকরির সিলেবাস ২-

বাংলা : যেকোনো বিষয়ের ওপর ১টি রচনা লিখতে হয় সারাংশ বা সারমর্ম থাকে একটি পত্র/দরখাস্ত লিখতে হয় এই পত্র লিখনে থাকতে পারে ব্যক্তিগত পত্র, আবেদনপত্র, পত্রিকায় প্রকাশার্থে পত্র, ব্যবসাসংক্রান্ত পত্র স্মারকলিপি বাংলা থেকে ইংরেজি করতে হয় ছাড়া ব্যাকরণের ওপর কিছু প্রশ্ন থাকে 

ইংরেজি : Essay (With hints), Letter (Official, Semi-Official, Memorandum, Business Type), Comprehension, Grammar (Use of verb, Preposition, Voice, Narration, Correction of errors in composition, Use of words having similar pronunciation but conveying different meaning, Use of idioms and phrases.

সাধারণ জ্ঞান : বাংলাদেশ সাধারণ বিষয়াবলিবাংলাদেশের সংবিধান, ভৌগোলিক অবস্থা, জনসংখ্যা, মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতার ইতিহাস, শিল্প সাহিত্য, প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদ, জলবায়ু, পরিবেশ, বাংলাদেশের উন্নয়নে কৃষি, শিল্প, বাণিজ্যের অবদান, উন্নয়ন পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি : বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, জাতিসংঘ, এর অঙ্গসংগঠনগুলো, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো, গ্লোবালাইজেশন, আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো, বিশ্বের বিখ্যাত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা স্থানগুলো

বিজ্ঞান প্রযুক্তি : দৈনন্দিন বিজ্ঞান, বায়ু, মাটি, তাপ, বিদ্যুত্, আলো, চুম্বক, খাদ্যোপাদান, জনস্বাস্থ্য, দূষণ, কম্পিউটার ইত্যাদি বিষয়ের ওপর বিস্তারিত পড়তে হবে

গণিত মানসিক দক্ষতা : পাটিগণিতের মধ্যে সেট সংখ্যা, সরল, গড়, লাভ-ক্ষতি, শতকরা, সুদকষা, ক্ষেত্রফল, অনুপাত, সমানুপাতের ওপর দক্ষতা থাকতে হবে

বীজগণিতের মধ্যে বর্গ ঘনত্বের সূত্র এবং এর ব্যবহার, লসাগু, গসাগু, উত্পাদকে বিশ্লেষণ, সমাধান, মান নির্ণয় ইত্যাদি

চাকরির প্রস্তুতির টিপস

স্বাস্থ্য ও ধর্মীয় বিষয়বস্তু সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ধর্মীয় দিকটিকেও আয়ত্তে রাখতে হবে। চাকুরির পড়াশোনায় কিছু স্বাস্থ্য সম্পর্কিত টিপস আয়ত্তে রাখলে এটা প্রতিযোগীদের থেকে আপনাকে কিছুটা এগিয়ে রাখবে। এছাড়াও ধর্মীয় দিকটির প্রতিও নজর দিতে হবে। প্রধান দুই ইসলাম ও হিন্দু ধর্মের ঐতিহাসিক বিষয়বস্তু যেমন ঐতিহাসিকভাবে ঘটে যাওয়া বিশেষ ঘটনা, ইসলামিক নাম সহ ইত্যাদি। ঠিক একই ভাবে হিন্দু ধর্মে বিষয়বস্তু।

নতুন চাকরি প্রাপ্তদের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহনঃ চাকরি পাওয়ার জন্য সবচেয়ে কার্যকরি জিনিস হলো নতুন চাকরি প্রাপ্তদের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহন। তারা কি কি বই ফলো করেছে, কি রুটিনে পড়াশোনা করেছে, কিভাবে মটিভেটেড হয়েছে এ সকল জিনিস।

বিশ্বাসঃ চাকরির পেতে হলে নিজের উপর বিশ্বাস থাকতে হবে। নিজের আত্নঃবিশ্বাস ছাড়া কোন কিছু এচিভ করা সম্ভব নয়। তাই নিজের প্রতি ঢৃঢ বিশ্বাস রাখতে হবে। 

পড়াশোনাঃ কম পড়াশোনা আপনাকে সফল করতে তুলবে না। চাকরির জন্য আপনাকে প্রচুর পরিমানে পড়াশোনা করতে হবে। এর বিকল্প নেই। সিলেবাস অনুযায়ী প্রতিনিয়ত পড়াশোনা ও রিবিশন চালিয়ে যেতে হবে। 

এক্ট স্মার্টঃ চাকরির ক্ষেত্রে সবজায়গায় স্মার্ট লোক খুজে সবাই। তাই আপনাকে চাকরির পরীক্ষায় ও ইটারভিও এ সব জায়গায় স্মার্ট এক্ট করতে হবে। 

মন্ত্রনালয় বা চাকরির সম্পর্কে ধারনাঃ আপনি যে চাকরির জন্য এপ্লাই করেছেন তার সম্পর্কে এবং সে কোম্পানির স্ট্রাকচার সম্পর্কে আপনার ধারনা থাকতে হবে। সে কোম্পানির কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে আপনাকে ধারনা থাকতে হবে। সেই কোম্পানির উদ্দতন কর্মকর্তাদের সম্পর্কে জানা থাকতে হবে। 

চাকরির সার্কুলার

আপনি হয়তো ভাবছেন চাকরিতে এপ্লাই এর জন্য জব সার্কুলার পেতে হবে। কোথায় থেকে নিয়মিত BD Job Circular পেতে পারবো আমরা? উত্তর টা খুব সহজ JSCResults.com ওয়েবসাইট এ আমরা খুব সহজে আমাদের প্রয়োজন মত সরকারি, বেসরকারি, ব্যাংকজব, এনজিও জব এর সার্কুলার। 

চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা

প্রায় সব চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার ধাপ একই। নিছে সেই ধাপ গুলো উল্লেখ করা হলোঃ

  1.  প্রিলিমিনারি বা বাছাই পরীক্ষা

  2.  লিখিত পরীক্ষা

  3.  মৌখিক পরীক্ষা

  4.  মেডিকেল টেস্ট 

এখানে মেডিকেল টেস্ট হলো পরীক্ষার শেষ ধাপ এবং এখানে সব ঠিক থাকলে চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। 

উপরে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে চাকরি পাওয়ার বিভিন্ন উপায় ও পদ্ধতি নিয়ে। আপনি যদি নিজের রুটিন মত ও সিলেবাস ফলো করে রেগুলার প্রাকটিস করেন চাকরির জন্য তাহলে আপনি খুব শীগ্রই চাকরি পেয়ে যাবেন। 

মন্তব্য করুন