2G, 3G, 4G কাটিং এর মাধ্যমে লাউ ,মিষ্টি কুমড়া, চালকুমড়া, শসা, জিঙ্গা, করল্লা সহ ইত্যাদি লতানো গাছের ফলন বৃদ্ধি করা সম্ভবঃ
2G,3G,4G বলতে যা বুঝায়।
2G, 3G,4G দিয়ে বুঝায় মূলত সেকেন্ড জেনারেশন, থার্ড জেনারেশন, ফোর্থ জেনারেশন।
আগে জেনে নিই, গাছের জেনারেশন কি?
১) বীজ থেকে যে কান্ড বের হয় তার নাম 1G
২) 1Gকাটার পর যেই শাখা বের হবে তার নাম 2G
৩) 2Gকাটার পর যেই শাখা বের হবে তার নাম 3G
একটি লাউ গাছের প্রধান কান্ড বা স্টেম হলো ফার্স্ট জেনারেশন। প্রধান কান্ড থেকে বের হওয়া শাখা কান্ড হলো সেকেন্ড জেনারেশন। আর সেকেন্ড জেনারেশন কান্ড থেকে বের হওয়া প্রশাখা হলো থার্ড জেনারেশন। একেই ভাবে 3G থেকে বের হয় 4G .
লাউ, মিষ্টি কুমড়া ইত্যাদি লতানো গাছের অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য হলো এর প্রধান কাণ্ডে কখনো স্ত্রী ফুল হয় না, সবসময় পুরুষ ফুল হয়। তাই দেখা যায় যে, গাছে শুধু প্রধান কান্ড থাকলে সেই গাছে ফল হয় না।
এজন্য যা করণীয়।
যখন গাছে প্রধান কাণ্ডে ১২ টি পাতা হয়ে যাবে তখন গাছের মাথা কেটে দিন। এতে গাছ আর লম্বা না হয়ে শাখা প্রশাখা বের করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়বে। তখন দেখা যাবে যে 2G শাখার বৃদ্ধি হতে থাকবে এবং পুরুষ ফুল এর পাশাপাশি স্ত্রী ফুল থাকবে। আবার যখন 2G শাখা ১২ টি পাতা হয়ে যাবে তখন সেই 2G শাখার মাথা কেটে দিলে সেই 2G শাখা থেকে 3G শাখা বের হবে। তখন স্ত্রী ফুলের ফলন বাড়বে। তবে 2G কাটিং থেকে 3G কাটিং দেওয়ার সময় কিছু 2G রেখে দেবেন কারণ 2G যে পুরুষ ফুলগুলো থাকবে তা দিয়ে 3G এর স্ত্রী ফুলকে পরাগায়নে সহায়তা করবে। যখন মন মতো স্ত্রী ফুল পেয়ে যাবেন তখন প্রধান কাণ্ডে থাকা পুরুষ ফুল এর সাথে হাত পরাগায়ন করে দিবেন। আর যদি 3G কাটিং এ মন মতো স্ত্রী ফুল না পান তাহলে 4G কাটিং করে দিবেন একেই পদ্ধতি অবলম্বন করে।
এভাবে 2G, 3G,4G কাটিং এর মাধ্যমে ফলন বৃদ্ধি করা সম্ভব যার মাধ্যমে আমাদের কৃষক ভাই বোনেরা সফলতা অর্জন করছে লাউ, মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, শসা, জিঙ্গা , করল্লা সহ ইত্যাদি লতানো গাছে।
নিচের ছবি টি দেখলে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে এই পদ্ধতি সম্পর্কে।
কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে। কৃষি ই কৃষ্টি..
সতর্কতাঃ কাটিং এর সময় অবশ্যই জীবাণুমুক্ত ব্লেড অথবা ছুরি ব্যবহার করতে হবে যাতে ছত্রাক আক্রমণ না ঘটে।
সেলিম মাহমুদ
সহকারি শিক্ষক (কৃষি)
গোগাউড়া দাখিল মাদ্রাসা।
৭১
১৪৫ মন্তব্য