প্রভাষক
২৪ মার্চ, ২০২১ ১০:৫৭ অপরাহ্ণ
প্রভাষক
√বাংলাদেশে প্রাইজবন্ড কখন চালু হয়?
বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে প্রাইজবন্ড সর্বপ্রথম চালু হয় ১৯৭৪ সালে। প্রথম চালুকৃত প্রাইজবন্ডের মূল্যমান ছিল ১০ ও ৫০ টাকা। ১৯৯৫ সালে ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড চালু হওয়ার পর থেকে ১০ ও ৫০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড তুলে নেওয়া হয়।
√ প্রাইজবন্ড কি?
বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর কর্তৃক প্রবর্তিত এক প্রকার কাগুজে মুদ্রা। প্রাইজবন্ড অনেকটা লটারির মতো কিন্তু লটারি না। লটারি যেমন একবার ”ড্র” হয়ে গেলে সেটার আর মেয়াদ থাকেনা এবং লটারিটির মূল্যও থাকেনা অর্থাৎ লটারিতে না জিতলে পুরো টাকাটা লস। এদিকে প্রাইজবন্ড এর ”ড্র” হয়ে যাওয়ার পরও এর মেয়াদ শেষ হয়না। পরবর্তী ”ড্র” এর সময়ও এর মেয়াদ থাকে। অর্থাৎ প্রাইজবন্ড এর মেয়াদ শেষ হয়না। আর সবচেয়ে মজার বিষয় হল প্রাইজবন্ড এর কয়েকবার ”ড্র” হওয়ার পরও, চাইলে সেগুলো ভাঙ্গিয়ে আবার টাকা নিয়ে আসা যায়। তবে প্রাইজবন্ডের গ্রাহক কোন সুদ পাবেন না, এটি মুলত সরকারের প্রতি জনগণের একটি সুদ মুক্ত বিনিয়োগ। তাই প্রাইজবন্ডকে সুদ মুক্ত জাতীয় বন্ড বলা হয়।
√ প্রাইজবন্ডের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কি?
সমাজের সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে সঞ্চয় প্রবণতা বৃদ্ধির জন্য সরকার "জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর" এর মাধ্যমে সরাসরি জনগণের কাছ থেকে ঋণ সংগ্রহ করে প্রাইজবন্ড বিক্রয় করার মাধ্যমে এবং সরকার তা আবার কিনে নিয়ে সে ঋণ পরিশোধ করে। এ বন্ড ক্রয় করে গ্রাহক তার ব্যক্তিগত লাভের পাশাপাশি দেশ গড়ার কাজেও নিজেকে নিয়োজিত করতে পারে।
√ লটারি কি বিক্রিত ও অবিক্রিত সকল বন্ডের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে?
কেনার দুই মাস পার হলে প্রাইজবন্ড ”ড্র”র আওতায় আসে, কেনার ২ মাস পর ”ড্র”র আওতায় আসবে এটা কেবল নতুন ইস্যু করা বন্ডের জন্য প্রযোজ্য। অর্থাৎ বন্ডের উপর যে তারিখটা সীল দেয়া থাকে সেটা থেকে ২ মাস। মানে যা দাড়ায় যে সব প্রাইজবন্ড কেনা হয়নি মানে অবিক্রিত প্রাইজবন্ড লটারির আওতায় আসে না।
√ প্রাইজবন্ড কোথায় থেকে কেনা ও ভাঙ্গানো যায়?/ কোথায় থেকে প্রাইজবন্ড ক্রয় করা যায়?/প্রাইজবন্ড কোথায় পাওয়া যায়?
বাংলাদেশ ব্যাংকের সব শাখা অফিস, সব বাণিজ্যিক ব্যাংক, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীন সারাদেশে ৭১টি সঞ্চয় ব্যুরো অফিস এবং পোস্ট অফিস থেকে ১০০ টাকা মূল্যমানের বন্ড কেনা ও ভাঙানো যায়।
√ ”ড্র” অনুষ্ঠানের কত দিন পর পর্যন্ত পুরুস্কারের টাকা দাবি করা যায়?
বন্ড কেনার দুই মাস পার হওয়ার পর প্রাইজবন্ড ”ড্র”র আওতায় আসে। ”ড্র” অনুষ্ঠানের দুই বছর পর্যন্ত পুরুস্কারের টাকা দাবি করা যায়। এর মধ্যে কেউ দাবি না করলে পুরুস্কারের অর্থ তামাদি হয়ে সরকারি কোষাগারে ফেরত যায়।
√ প্রাইজবন্ড “ড্র” এর ফলাফল কোথায় পাওয়া যায়? ১০০ টাকার প্রাইজবন্ডের ড্র
“ড্র” এর ফলাফল পাওয়া যায় বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েব সাইটে । ড্র” অনুষ্ঠিত হবার পরে আমাদের ওয়েব সাইটেও ফলাফল পাওয়া যায়।
√ প্রাইজবন্ড পুরুস্কারের মূল্যমান কত?
পুরুস্কারের মূল্যমান যথাক্রমে প্রথম পুরুস্কার একটি ৬ লাখ টাকা, দ্বিতীয় পুরুস্কার একটি ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা, তৃতীয় পুরুস্কার দুটি ১ লাখ টাকা করে, চতুর্থ পুরুস্কার দুটি ৫০ হাজার টাকা করে এবং পঞ্চম পুরুস্কার ৪০টি ১০ হাজার টাকা করে।
√বাংলাদেশে কত ধরনের প্রাইজবন্ড চালু আছে?
ভারত ও পাকিস্তানে ১০০ থেকে ৪০ হাজার রুপি মূল্যমানের আট ধরনের প্রাইজবন্ড থাকলেও বাংলাদেশে সেই ১৯৯৫ সাল থেকে এই ২৪ বছর ধরে শুধুমাত্র ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড চালু আছে।
√ কি পদ্ধতিতে প্রাইজবন্ডের ”ড্র” অনুষ্ঠিত হয়?
একক সাধারণ পদ্ধতিতে (প্রতিটি সিরিজের জন্য একই নম্বর) ”ড্র” পরিচালিত হয়। বর্তমানে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ”ড্র” অনুষ্ঠিত হয়।
√ দেশে কতটি সিরিজের প্রাইজবন্ড আছে এবং প্রতি সিরিজে কতটি প্রাইজবন্ড থাকে?
এপ্রিল ২০২০ অনুযায়ী দেশে ৫৮ টি সিরিজের প্রাইজবন্ড চালু আছে, অর্থাৎ একই নম্বর ৫৮ টি সিরিজেই আছে এবং প্রতিটি সিরিজে ১০,০০০০০ (দশ লাখ) পিস করে প্রাইজবন্ড থাকে। সেজন্য প্রতিটি প্রাইজবন্ডের নাম্বার ০৭ (সাত) সংখ্যার এবং ১ম সংখ্যাটি অবশ্যই শূণ্য দিয়ে শুরু হয়। সেই হিসাবে দেশে মোট প্রাইজবন্ডের সংখ্যা হলো ৫ কোটি ৮০ লাখ পিস।
√ পুরুস্কারের অর্থ কিভাবে দাবী করতে হয়?
পুরুস্কারের অর্থ দাবী করার জন্য একটি নির্ধারিত ফরমে বাংলাদেশ ব্যাংক বা যে কোন তফসিলী ব্যাংক বা ডাকঘরে আবেদন করতে হয়। বিস্তারিত এখানে ।
√ প্রাইজবন্ডের রশিদ বলতে কি বুঝায়?
প্রাইজবন্ডের রশিদ ইহা আলাদা কোন কাশ মেমো বা ভাউচার নয়। প্রাইজবন্ডের উপর বাংলাদেশ ব্যাংকের যে সিল দেয়া থাকে তাকেই রশিদ বলে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিল না থাকলে সেই প্রাইজবন্ড কখনো পুরুস্কারের জন্য বিবেচিত হবে না।
√ প্রাইজবন্ডের ”ড্র” কখন অনুষ্ঠিত হয়? When is the draw date of prize bond? জাতীয় প্রাইজবন্ড ড্র এর তারিখ?
প্রাইজবন্ডের ”ড্র” অনুষ্ঠিত হয় বছরে চারবার যথাক্রমে ৩১ জানুয়ারি, ৩০ এপ্রিল, ৩১ জুলাই ও ৩১ অক্টোবর। তবে উক্ত তারিখগুলোর কোনটিতে কোন সাপ্তাহিক ছুটি (বর্তমানে শুক্র ও শনিবার) বা সরকারি ছুটি (সাধারণ/নির্বাহী আদেশে/ঐচ্ছিক), অথবা অন্য কোন কারনে প্রাইজবন্ডের ”ড্র” অনুষ্ঠিত হতে না পারলে পরবর্তী কার্যদিবসে তা সম্পন্ন করা হয়।
√ প্রাইজবন্ড কোথায় ছাপানো হয়?
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশন বাংলাদেশ লিমিটেডের (এসপিসিবিএল) গাজীপুরে অবস্থিত কারখানা থেকে প্রাইজবন্ড ছাপানো হয়।
√ প্রাইজবন্ডের সিরিজ বলতে কি বুঝায়?
বাংলাদেশে বর্তমানে ৫৮টি সিরিজ চালু আছে যেমন কক, কখ, কগ, খখ…..ইত্যাদি। একই নাম্বার ৫৮টি সিরিজের প্রতিটিতে আছে। প্রথম পুরুস্কার পাবে প্রতিটি সিরিজের একজন করে অর্থাৎ ৫৮ জন, অনুরুপ ভাবে ২য় পুরুস্কার পাবে ৫৮ জন, ৩য় পুরুস্কার পাবে ১১৬ জন ৪র্থ পুরুস্কার পাবে ১১৬ জন এবং ৫ম পুরুস্কার পাবে ২৩২০ জন।
√ ১টি প্রাইজবন্ড কত বছর পর্যন্ত চলে? বা প্রাইজবন্ডের মেয়াদ কতদিন থাকে?
প্রাইজবন্ড এর ”ড্র” হয়ে যাওয়ার পরও এর মেয়াদ শেষ হয়না। পরবর্তী ”ড্র” এর সময়ও এর মেয়াদ থাকে, অর্থাৎ প্রাইজবন্ড এর মেয়াদ কখনো শেষ হয় না। তবে একবার পুরুস্কার বিজয়ী হলে মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।
√ দুই বছরের মধ্যে কেহ কোন বিজয়ী নাম্বার পুরুস্কার দাবী না করলে এই নাম্বারটি কি পরবর্তীতে পুরুস্কারের জন্য বিবেচিত হতে পারে?
যে নাম্বারটি একবার পুরুস্কারের জন্য বিবেচিত হয়, সেই নাম্বারের পুরুস্কারের আবেদন করার জন্য ২ বছর পর্যন্ত সময় থাকে। এই দুই বছর নাম্বারটি ইন-এ্যাকটিভ থাকে, দুই বছরের মধ্যে কেহ পুরুস্কারের জন্য আবেদন না করলে নাম্বারটি আবার ড্র লিষ্টে চলে যায়। পরবর্তীতে নাম্বারটি আবার পুরুস্কার পেতেও পারে। তবে বিগত ২৪টি ড্র’র ফলাফল (৫৫ -৯৪) বিশ্লেষন করে এমন নজির পাওয়া যায়নি।
√ ব্যাংকে যেগুলো রির্টান করার হয়, সেগুলো কি ড্র এর আওতাভুক্ত?
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যেগুলি একবার বিক্রি হবে সেগুলো ড্র‘র আওতাভুক্ত। আমি আপনি কেনার পর আবার কোন ব্যাংকে রিটার্ন করলে সেগুলি ড্র এর আওতাভুক্ত। সেখান থেকে কোন নাম্বার বিজয়ী হলে ব্যাংক কতৃপক্ষ তার দাবীদার। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিক্রি হবার পর যার কাছে প্রাইজবন্ড থাকবে সেই এটার মালিক।
√ প্রাইজবন্ড কিনতে কি লাগে এবং প্রাইজবন্ড কিভাবে কিনতে হয়?
প্রাইজবন্ড কিনতে জাতীয় পরিচয়পত্র বা অন্য কোন কাগজপত্র লাগে না। শুধমাত্র টাকার বিনিময়ে প্রাইজবন্ড কেনা যায়। ইসলামী শরিয়াভিত্তিতে পরিচালিত ব্যাংক ছাড়া অন্য যে কোন ব্যাংক থেকে কেনা যায়।
৭১
১৪৫ মন্তব্য