ফলের নাম অ্যাভোকাডো।
(Super Fruit Avocoda)
আমেরিকা ও ইউরোপের বিখ্যাত ফল আভোকাডো এখন বাংলাদেশে। অত্যন্ত পুষ্টিগুন ও সুস্বাধু ফলটিকে বাংলায় মাখন ফল বলা হয়। ফলটি যেমন পুষ্টিতে ভরপুর তেমনি ঔষধি গুন সমৃদ্ধ । ফলটিতে চিনির পরিমান কম বিধায় ডায়েবেটিস রোগীরা অনায়াসে খেতে পারেন। পৃথিবীতে পুষ্টিকর ফলগুলোর মধ্যে অ্যাভোকাডো একটি। কেননা, এর মধ্যে আছে নানা ঔষধি গুণও। অ্যাভোকাডো সম্পর্কে পুষ্টিবিজ্ঞানে তাই বলে।
পুষ্টিবিদদের মতে, প্রাকৃতিক স্বাস্থ্যকর উপাদানসমৃদ্ধ ফলগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে অ্যাভোকাডো। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, বি, সি, ই এবং কে। এছাড়া এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে কপার, পটাশিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম ও ফসফরাসের মতো খনিজ উপাদান। অ্যাভোকাডোর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম আছে, যা কলার চেয়ে ৬০ ভাগ বেশি। এছাড়াও আছে ১৮ ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড ও ৩৪% স্যাচুরেটেড ফ্যাট।
কাঁচা অ্যাভোকাডো ফল মাংসে সবজি হিসাবে ,সালাত ও শরবত হিসাবে ব্যবহার করা যায়।
ফলটিতে চিনির পরিমাণ কম বিধায় ডায়েবেটিস রোগীরা অনায়াসে খেতে পারেন। শরীরের জন্য ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমায়।
এই ফলটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবেও কাজ করে থাকে। এটি শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করতে সহায়তা করে।
এটি শিশুদের জন্য একটি উৎকৃষ্ট মানের খাবার যা শিশুদের পুষ্টি শোষণে সহায়তা করে।
যকৃতকে সুরক্ষা দেয় এবং জন্ডিস প্রতিরোধে সহায়তা করে।
ফলটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও ওষধীগুন সম্পন্ন হওয়ায় একে মায়ের দুধের বিকল্প হিসেবে ধরা হয়।
এতে রয়েছে নানা ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ত্বকে অকালে বয়সের ছাপ পড়া প্রতিরোধ করে।
অ্যাভোকাডোতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
এতে রয়েছে কলার চেয়েও বেশি পটাশিয়াম যা উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনির রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
এ ফলে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যআঁশ আছে যা হজমে সহায়তা করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
সৌন্দর্যচর্চায় অ্যাভোকাডোঃ
অ্যাভোকাডো সৌন্দর্যচর্চায় নানাভাবে ব্যবহৃত হয়। এর নির্যাস দিয়ে তৈরি হয় মাস্ক, ক্লিনজার, স্ক্রাব যা চেহারায় আনে জৌলুস। বিশেষ করে অ্যাভোকাডো অয়েল থেকে তৈরি হয় কন্ডিশনার, ময়েশ্চারাইজার, ক্লিনজার ও ফেসিয়াল অয়েলের মতো নানা ধরনের সৌন্দর্যপণ্য। ভিটামিন এ এবং গ্লুটামাইন অ্যামিনো অ্যাসিড থাকার কারণে ত্বক পরিষ্কারের জন্য এটি দারুণ কার্যকর। অ্যান্টি এজিং ফল হিসেবেও অ্যাভোকাডো সুপরিচিত। নিয়মিত অ্যাভোকাডো জুস পান করলে চুল পড়া বন্ধ হয়। একে বিউটি এনার্জি ডিঙ্কও বলা হয়। নিয়মিত অ্যাভাকাডো জুস খেলে উজ্জ্বল, কোমল ত্বক তো পাওয়া যাবেই, এটি শরীরের ভেতর থেকে সানস্ক্রিন হিসেবেও কাজ করবে।
( সূত্র- দৈনিক জনকণ্ঠ, প্রথম আলো, নয়াদিগন্ত ও পুষ্টিবিজ্ঞান ওয়েবসাইট )
৭১
১৪৫ মন্তব্য