Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩০ অক্টোবর, ২০২১ ১১:০৬ অপরাহ্ণ

দেশের বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়ে গবেষণা ও ডিগ্রি লাভের সুযোগ আছে।

বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর কয়েক হাজার শিক্ষার্থী স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে গবেষণা করতে বিদেশে যান। তবে দেশের বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়ে গবেষণা ও ডিগ্রি লাভের সুযোগ আছে


সমকালীন বাংলা গানের ধারায় কাজী নজরুল ইসলামের আধুনিক গান নিয়ে পিএইচডি করছেন দেবাশীষ বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘ক্লাস, গবেষণা, থিসিস লেখা, পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের মতো নিয়মিত বিষয়গুলো পিএইচডি গবেষণার সঙ্গে যুক্ত। আমি মনে করি, যাঁদের বিদেশে পড়ার তেমন ইচ্ছে নেই বা সুযোগ নেই, তাঁরা চাকরির পাশাপাশি পিএইচডি করতে পারেন দেশে বসেই।’


যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাবলিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সে পিএইচডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক এ এস এম আলী আশরাফ। তিনি বলেন, ‘গবেষণা ও শিক্ষকতায় ভবিষ্যতে যাঁরা ক্যারিয়ার গড়তে চান তাঁরা পিএইচডি পর্যায়ে গবেষণার সুযোগ নিতে পারেন। পিএইচডি পর্যায়ে গবেষণার বিভিন্ন ধাপ ও পদ্ধতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে গভীর ও বিশদ আকারে পড়ানো হয়, শেখানো হয়। তাত্ত্বিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন মাত্রায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশেই গবেষণা করার সুযোগ আছে। পিএইচডি পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য প্রয়োজন আগ্রহ, ধৈর্য ও লেগে থাকার অনুপ্রেরণা।’


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যত সুযোগ


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত পর্যায়ে এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি লাভে সুযোগ আছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বছরের এমফিল ও পিএইচডি—সব মিলিয়ে চার বছরের প্রোগ্রাম। এমফিল কোর্সের পড়াশোনাকে পূর্ণকালীন কোর্স হিসেবে গণ্য করা হয়। এ জন্য যাঁরা চাকরি করছেন, তাঁদের ছুটি নিয়ে এমফিল গবেষণা করতে হয়। এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসের এমফিল ও পিএইচডি শাখা থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল করতে শিক্ষার্থীর চার বছর মেয়াদি স্নাতক সম্মান ডিগ্রি, তিন বছর মেয়াদি স্নাতক সম্মান ও এক বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি কিংবা দুই বছর মেয়াদি স্নাতক ও দুই বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হয়। শিক্ষাজীবনের সব পরীক্ষায় ন্যূনতম দ্বিতীয় বিভাগ বা শ্রেণিসহ ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর থাকতে হবে। মাধ্যমিক থেকে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পর্যন্ত সব পরীক্ষায় জিপিএ–৫-এর মধ্যে কমপক্ষে ৩.৫ অথবা সিজিপিএ–৪-এর মধ্যে ৩ থাকতে হবে। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, স্বীকৃত যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণরা ভর্তির জন্য এখানে আবেদন করতে পারবেন।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণা করার জন্য প্রার্থীকে এমফিল পাস হতে হয়। শিক্ষাগত যোগ্যতা এমফিলের অনুরূপ। এ ছাড়া প্রার্থীকে ন্যূনতম স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষাদানের কমপক্ষে দুই বছরের অভিজ্ঞতা কিংবা দুই বছরের গবেষণার অভিজ্ঞতা বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানে দুই বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা দেখাতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ব্যতীত চাকরিরত প্রার্থীরা কর্মস্থল থেকে কমপক্ষে এক বছরের ছুটি নিয়ে পিএইচডি প্রোগ্রামে যোগ দিতে পারেন। প্রতিবছর পিএইচডি গবেষকদের বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির সামনে একটি সেমিনারে বক্তব্য দিতে হয়। দুটি সেমিনার রিপোর্ট ছাড়া পূর্ণাঙ্গ থিসিস জমা নেওয়া হয় না। প্রতিবছর পিএইচডির আবেদনপত্র গ্রহণের জন্য বিজ্ঞপ্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারবেন।

মন্তব্য করুন

ব্লগ