সহকারী অধ্যাপক
০২ মার্চ, ২০২২ ০৮:৪৩ অপরাহ্ণ
সহকারী অধ্যাপক
হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রাঃ) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী
ইসলামের প্রথম মুজাদ্দিদ হলেন হজরত ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি। রাজ পরিবারে তাঁর জন্ম। প্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে তিনি দেখতে পান যে, তাঁর পিতা মিসরের ন্যায় বিশাল সম্রাজ্যের গর্ভনর। আরো বয়ঃপ্রাপ্ত হলে তিনি নিজেই উমাইয়া সরকারের অধীনে গবর্ণর নিযুক্ত হন।
বনু উমাইয়া বাদশাহগণ যে সব জায়গীরের সাহায্যে নিজেদের খান্দানকে বিপুল অর্থ বৈভবের মালিক করেন, তাঁর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনেরও বিরাট অংশ ছিল। এমনকি তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদের বার্ষিক আয় ছিল ৫০ হাজার আশরাফি।
তিনি বিত্তশালীদের ন্যায় শান-শওকত পূর্ণ জীবন-যাপন করতেন। পোশাক-পরিচ্ছেদ, খানা-পিনা, বাড়ি-ঘর, যান-বাহন, স্বভাব-চরিত্র সবই ছিল শাহজাদার ন্যায়।
এ পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তীকালে তিনি যে কাজ সম্পাদন করেন তার সঙ্গে তার পরিবেশের কোনো দূরতম সম্পর্কও নেই।
কিন্তু তাঁর মাতা ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু’র পৌত্রী। তিনি প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাতের ৫০ বছর পর ৬১ হিজরিতে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর রাজত্বের সময়কালে অসংখ্য সাহাবা ও তাবেঈ জীবিত ছিল।
ইলমে হাদিস ও ফিকরে ওপর তাঁর গভীর পাণ্ডিত্য ছিল। যে কারণে রাষ্ট্র পরিচালনায় যে কোনো সংযোজন বিয়োজনে ক্ষতি ও উপকারের দিকগুলো তার ভালোই জানা ছিল। তবে তার রাষ্ট্র ক্ষমতায় প্রতিপত্তি ও প্রভাব বিস্তার করার মতো লোক তাঁর বংশ ও পরিবারে বিদ্যমান ছিল।
কারণ এ প্রভাব বিস্তার করতে পারলে তাঁর ও তাঁর পরিবার এবং বংশের ব্যক্তি স্বার্থ ও লালসা আর ভবিষ্যৎ বংশধরদের দুনিয়ার যাবতীয় কল্যাণে উপকার লাভ হত। যেমনটি করেছিল অত্যাচারী শাসক ফেরাউন। ৩৭ বছর বয়সী ওমর ইবনে আব্দুল আজিজেরও এমনটি হওয়া ছিল স্বাভাবিক।
কিন্তু তিনি ৩৭ বছর বয়সে ঘটনাক্রমে যখন রাজতখতের অধিকারী হন এবং অনুভব করতে পারেন যে, তাঁর ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির বিশাল দায়িত্ব তাঁর কাঁধে চেপেছে। তখন তার জীবনধারা পাল্টে যায়। বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করেই তিনি ইসলামের পথ বেছে নেন। যেন এটি ছিল তাঁর পূর্ব গৃহীত সিদ্ধান্ত।
বংশানুক্রমিকভাবে তিনি রাজ তখতের দায়িত্ব লাভ করেন। কিন্তু বাইয়াত তথা আনুগত্য গ্রহণ করার সময় তিনি জনসমাবেশে সুস্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন যে, ‘আমি তোমাদেরকে আমার বাইয়াত থেকে মুক্ত করে দিচ্ছি। তোমরা নিজেদের ইচ্ছা মতো কাউকে খলিফা নির্বাচন করে নিতে পার। অতঃপর জনগণ সর্বসম্মতভাবে এবং সাগ্রহে বলল যে, ‘আমরা আপনাকেই নির্বাচন করছি; তখনই তিনি স্বহস্তে খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ক্ষমতার মসনদে আরোহ করেই তিনি রাষ্ট্রীয় সংস্কার কাজে হাত দেন। প্রথমেই তিনি জাকজমকপূর্ণ রাজকীয় ফেরাউন, কিসরা ও কাইসার সরকারদের রাষ্ট্রীয় নিয়ম-রীতি বন্ধ করে দেন। প্রথম দিনেই তিনি রাজযোগ্য সবকিছুই পরিত্যাগ করে মুসলমানদের মধ্যে তাদের খলিফা পরিচালিত শাসন পদ্ধতি চালু করেন।
আড়াই বছরের সংক্ষিপ্ত রাষ্ট্র ক্ষমতা তাঁর সম্রাজ্যে বিশাল পরিবর্তন সাধিত হয়। উমাইয়া ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে বিপ্লবী বিজয়ী বীর হজরত ওমর ইবনে আব্দুল আজিজকে বিষ পান করিয়ে ১০১ হিজরিতে হত্যা করা হয়। ৩৯ বছর বয়সে মুসলিম মিল্লাতের এ নিঃস্বার্থ খাদেম হজরত ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ দুনিয়া থেকে বিদায় নেন।
৭১
১৪৫ মন্তব্য