Loading..

ব্লগ

রিসেট

১১ মে, ২০২২ ০২:১৩ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের ৫ জন তরুণ উদ্যোক্তা

উদ্যোক্তা বলতে আমরা বুঝি আত্মনির্ভরশীলতাকে। অর্থাৎ একজন ব্যক্তি যখন নিজের কর্মসংস্থানের কথা ভেবে কোনো চাকরি বা কারো অধিনস্ত না থেকে নিজে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করার পরিকল্পনা ও চেষ্টা করেন তখন তাকে উদ্যোক্তা বলা হয়।

বেকারত্ব থেকে মুক্তি পেতে বর্তমানে অনেক তরুণই চাকরীর পিছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হচ্ছেন সেই সাথে হচ্ছেন সফল। এই আর্টিকেলে বাংলাদেশের সফল ও পাঁচ তরুণ উদ্যোক্তার কর্মকান্ড ও পরিচয় তুলে ধরবো।


বাংলাদেশের নতুন এবং তরুণ ৫ উদ্যোক্তা

১) Ayman Sadiq (আয়মান সাদিক)


তরুণ প্রজন্মের কাছে আয়মান সাদিক এক জনপ্রিয় নাম। তিনি একজন বাংলাদেশী শিক্ষা উদ্যোক্তা এবং ইন্টারনেট ব্যক্তিত্ব, যাকে বলা হয় ডিজিটাল আলোকবর্তিকা।

ইউটিউবার, মোটিভেশনাল স্পিকার সহ সামগ্রিক পরিচয় ছাপিয়ে তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবেও তিনি তুমুল জনপ্রিয়। মোবাইল অপারেটর রবির সহযোগিতায় অনলাইন ভিত্তিক শিক্ষা প্লাটফর্ম " ১০ মিনিট স্কুল" প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

ব্যক্তি জীবন

১৯৯২ সালের ২রা সেপ্টেম্বর কুমিল্লায় জন্ম নেওয়া আয়মান সাদিকের বাবা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তায়েব বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনাল (বিইউপি) এর আর্থিক কর্মকর্তা ও তাঁর মা শারমিন আক্তার একজন গৃহিনী। 


আদমজী ক্যন্টমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টটিটিউট অব বিজনেস এডমিনস্ট্রেশন (আইবিএ) থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন।

কার্যকলাপ

নতুন প্রজন্মের কাছে ১০ মিনিট স্কুল এক জনপ্রিয় নাম, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের কাছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ তে পড়াকালীন সময়েই মোবাইল অপারেটর রবির পৃষ্ঠপোষকতায় ১০ মিনিট স্কুলের যাত্রা শুরু করে। যদিও ২০১৪ সালেই ইউটিউবের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে ১০ মিনিট স্কুল তবে ২০১৫ সাল থেকে এর বিস্তৃতি শুরু হয়। 

১০ মিনিট স্কুলে বর্তমানে পড়া-লেখা ছাড়াও ক্যারিয়ার ডেভলপমেন্টের বিভিন্ন কোর্সও করানো হয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীর পাশাপাশি পেশাদার ব্যক্তিত্বরাও ১০ মিনিট স্কুলে ক্লাস কিংবা কোর্স করিয়ে থাকেন।

আয়মান সাদিক ১০ মিনিট স্কুল ছাড়াও মোটিভেশনাল স্পিকার হিসেবে পরিচিত। তিনি লেখক হিসেবেও জনপ্রিয়তা কুড়িয়েছেন। তার প্রকাশিত বই সমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ নেভার স্টপ লার্নিং, স্টুডেন্ট হ্যাকস, কমিউনিকেশন হ্যাকস সহ বেশ কিছু বই, যেগুলো বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

সোশ্যাল মিডিয়া

আয়মান সাদিকের কিছু সোশ্যাল মিডিয়া লিংক দেওয়া হলো-

২) Mohammad Alvee Rana (আলভী রানা)

তরুণ উদ্যোক্তার কথা চিন্তা করলে আলভী রানার নাম নিঃসন্দেহে চলে আসে। কেননা তিনি দেশীয় বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠি ইউনিয়ন লিমিটেডের (unionlimited.com) পরিচালক এবং ভাইব্রান্ট সফটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক । বাংলাদেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে সফল আলভী রানা সম্পর্কে জানার আগ্রহ অনেকেরই।

ব্যক্তি জীবন

ছোটবেলা থেকেই দেশের বাহিরে পড়ালেখা করেছেন তিনি। পড়াশোনা শেষে সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল সার্ভিসে যোগ দেন তিনি। প্রশিক্ষণ শেষ করার পর নেতৃত্ব গুণাবলির কারণে তাকে সিঙ্গাপুর সিভাল ডিফেন্স ফোর্স ( SCDF) এর (SRU) স্পেশাল রেসকিউ ইউনিটে কাজ এর সুযোগ পান। নোকিয়ার বিভিন্ন মডেলের ফোন তৈরীর একটি ইউনিট তৈরী হয়েছে যার নেতৃত্বে ছিলেন আলভী রানা। যেখানে প্রতিম্সে আড়াই লক্ষ ইউনিট ফিচার ফোন এবঙ চল্লিশ হাজার স্মার্টফোন তৈরী হচ্ছে। 


শুধু তাই নয়, আলভী রানা মোবাইল ইম্পোর্টর্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (MIOB) এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং পরিচালকদের একজন। 

বাংলাদেশের সনামধন্য প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন লিমিটিড এর ব্যবস্খাপনা পরিচালক। ইউনিয়ন লিমিটেড টেক্সটাইল, মোবাইএ, রিটেইএ বিজনেস সহ নানা রকম ব্যবসায় যুক্ত। 

সোশ্যাল মিডিয়া

আলভী রানার অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়ার লিংক

৩) Mahmudul Hasan Sohag (মাহমুদুল হাসান সোহাগ)

তরুণ উদ্যক্তার কথা আসলেই মাহমুদুল হাসান সোহাগের নাম চলে আসে। যিনি অন্যরকম গ্রুপ, রকমারি ডট কম এবং একাডেমিক ও ভর্তি কোচিং উদ্ভাসের প্রতিষ্ঠাতা।

ব্যক্তি জীবন

২০০০ সালে বুয়েটর তড়িৎ ও বিদ্যুৎ প্রোকৌশল বিভাগ থেকে পাশ করা মাহমুদুল হাসান সোহাগ এর জন্ম ও বেড়ে ওঠা জামালপুর জেলায়। জামালপুর থেকে এসএসসি সম্পন্ন করে রাজধানীর ঢাকা কলেজে ভর্তি হন। তিনি এসএসিতে  ঢাকা বোর্ডের মধ্যে পঞ্চম এবং এইচএসসি তে ঢাকা বোর্ড থেকে সম্মিলিত মেধা তালিকায় চতুর্থ স্থান অধিকার করেন।

মাহমুদুল হাসান সোহাগের মূল লক্ষ্য ছিলো উদ্যোক্তা হওয়া। বুয়েট থেকে পাশ করার পর কিছুদিন এসিটেন্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন যা ছিলো এখন অবধি তার প্রথম ও শেষ চাকরী। এরপর থেকেই তার উদ্যোক্তা হওয়ার অগ্রযাত্রা।

কার্যকলাপ

মাত্র ৬০০০ টাকা পুঁজি নিয়ে এক বন্ধুকে সাথে নিয়ে উদ্ভাসের যাত্রা শুরু করেন। যা বর্তমানে দেশ ব্যপী ইঞ্জিনিয়ারিং ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের আস্থা ও ভরসার নাম। সেই সাথে একাডেমিক কোচিং ও পুরোদমে চলছে তাদের।

পাই ল্যাবস বাংলাদেশ লিমিটেড, টেকশপ বাংলাদেশ লিমিটেড, রকমারি, অন্যরকম ইলেকট্রনিক্স কোম্পানি লিমিটেড এর মতো সফল প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। 


রকমারি ডট কম এর মাধ্যমে বাংলাদেশে অনলাইনে বই বিক্রির এক নতুন ধারা তৈরী করেছেন। উল্লেখ্য দেশের প্রথম অনলাইন ভিত্তিক স্কুল "অন্য রকম পাঠশালা" এর প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। 


সোশ্যাল মিডিয়া লিংক

মাহমুদুল হাসান সোহাগের সোশ্যাল মিডিয়া লিংক

৪) Shams Jaber (শামস জাবের)


শামস জাবের একজন ব্যতিক্রমধর্মী তরুণ উদ্যোক্তা। 'টেক একাডেমি' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। টেক একাডেমি শিশুদের নিয়ে কাজ করছে। 

ব্যক্তি জীবন

তরুণ উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ শামস জাবের একজন আইটি বিষয়ক উদ্যক্তা হলেও তিনি পড়ালেখা করেছেন ব্যবসায় অধ্যায়ন বিভাগে, ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ে । তারপর সেখান থেকে বেরিয়েই টেক একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। তার মূল লক্ষ্য গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে বদলে ফেলা। 

কার্যকলাপ

টেক একাডেমি ৮-১৪ বছরের শিশুদের রোবটিকস, গেম ডেভলপমেন্ট, এনিমেশন শিখিয়ে থাকে। বাস্তব প্রোকৌশল জ্ঞান ব্যবহার করে তরুণ প্রজন্মকে নতুন কিছু করতে উৎসাহ করার লক্ষ্যে তার এই উদ্যোগ।

শুরুর দিকে ঢাকার নতুন বাজারে একটি কারিগরি স্কুল ও বান্দরবনে একটি টেক স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। স্বপ্ন দেখছেন টেক একাডেমিকে দেশ ব্যপী ছড়িয়ে দিতে। 

শামস জাবের টেক একাডেমির পাশাপাশি ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের একজন গ্লোবাল শেপার এবং টিম বাংলাদেশের প্রধাণ পরামর্শদাতা। তিনি রোবটিক্স অলিম্পিক ২০২০ এর বিজয়ী।

২০১৩ সালে টেক একাডেমি প্রতিষ্ঠার পর ২০১৪ সালে গ্লোবাল শেপার্স হাবে যোগদান করেন এবং হাবের মাধ্যমে অনেক সামাজিক উদ্ভাবনী প্রকল্পের সাথেও জড়িত ছিলেন। শামস জাবের ২০১৭ সাল থেকে ফার্স্ট গ্লোবাল চ্যালেঞ্জে টিম বাংলাদেশকে পরামর্শ দিয়ে আসছেন এবং দলটি ১৮৯ টি দেশের মধ্যে দুবাইতে FGC 2019 এ ৭ম র্যাঙ্কিং অর্জন করে এবং FGC ২০২০ এ টিম বাংলাদেশ ১৭৪ টি দেশের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয়।

শামস জাবের স্বপ্ন দেখেন একদিন সারা বাংলাদেশে টেক একাডেমীর জয়জয়কার হবে। 

সোশ্যাল মিডিয়া 

৫) Morin Talukder (মরিন তালুকদার)

মরিন তালুকদার হলেন পিকাবো ডট কম এর প্রতিষ্ঠাতা। তরুণ উদ্যোক্তার তালিকা করতে গেলে প্রথম সারিতেই অবস্থান করবেন এই তরুণ।

ব্যক্তি জীবন

টাঙ্গাইলের বাসিন্দা, মরিন সবসময় ব্যবসায় পারদর্শী হতে চেয়েছিলেন। তার বাবা আলমগীর হোসেন তালুকদার এবং মা মাকসুদা তালুকদার তাকে একজন প্রকৌশলী করতে চেয়েছিলেন যে কারণে মরিন তার পিতামাতার স্বপ্নকে সত্যি করতে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছিলেন। কিন্তু তিনি একজন প্রকৌশলী হয়ে উঠতে পারেননি কারণ মরিন হতে চেয়েছিলেন উদ্যোক্তা এবং তিনি তা হয়েছেন।

কার্যকলাপ

পিকাবো বাংলাদেশের প্রথম অনলাইন খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে একটি জনপ্রিয় ই-কমার্স প্লাটফর্ম।  যারা একটি মাসিক কিস্তি পেমেন্ট প্ল্যান, একই দিনে ডেলিভারি এবং একটি গ্রাহক সদস্যতা প্রোগ্রাম চালু করেছে। ২০২১ সালের শেষ নাগাদ সারা দেশে ১৫০ টি ফিজিক্যাল স্টোর খোলার পরিকল্পনা করছে। মরিন ২০১৯ সালে এও অনলাইন বিপণন প্ল্যাটফর্ম পিকাবো প্রতিষ্ঠা করেন যা দ্রুত ডেলিভারির জন্য বাজারে দ্রুত খ্যাতি অর্জন করে।

pickaboo.com এর সদর দপ্তর রাজধানী ঢাকায়। এটি মূলত সিলভার ওয়াটার টেকনোলজি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্রান্ড চাইল্ড। এই প্রতিষ্ঠানটি মোবাইল, ট্যাব, ডেক্সটপ, ল্যাপটপ, হোম এবং রান্না ঘরের যন্ত্রপাতি, গ্যাজেট, পোশাক, মেকআপ, স্কিনকেয়ার এবং আনুষাঙ্গিক পণ্য খুচরা বিক্রয় করছে। 

সোশ্যাল মিডিয়া

মরিন তালুকদারের অফিসিয়াল সোশ্যাল একাউন্টের লিংক দেওয়া হলোঃ


পরিশেষে

যুগের সাথে তালমিলিয়ে চলতে গেলে চাকরির উপর নির্ভর করে থাকা বোকামী। বাংলাদেশে জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে বেকারত্ব। বেকারত্ব কমাতে উদ্যোক্তা হওয়ার জুড়ি নেই। বিভিন্ন উদ্যোক্তাদের সফলতা, ব্যর্থতার গল্প থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে উদ্যোক্তা হয়ে উঠে বেকারত্ব রোধ করাই আমাদের এই আর্টিকেলের লক্ষ্য।



লিখেছেনঃ বিশাল সাহা

আরো দেখুন