সহকারী শিক্ষক
২৪ জানুয়ারি, ২০২৩ ০৩:০৯ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
আমাদের শরীরে বিভিন্ন সময় কাটা দাগ পরে। কোথাও কেটে গেলে পুড়ে গেলে সার্জারি বা ফোড়া গালালে দাগ হয়। এই দাগ গুলো যখন শরীরের দৃশ্যমান স্থানে হয় তখন দেখতে বাজে লাগে। সৌন্দর্য নষ্ট হয়। অনেকে কৌতূহল বশত এটা নিয়ে নানা প্রশ্ন করে। তখন এটা নিয়ে ঐ ব্যাক্তি আত্মবিশ্বাস হীনতায় ভোগেন। এই দাগ দূর করার জন্য নানা উপায় অবলম্বন করেন। কিন্তু দাগ যেন যেতেই চায় না৷ এমন কোন উপায় নেই যে উপায়ে দাগ ১০০ ভাগ চলে যাবে। কিন্তু বিভিন্ন কসমেটিক সার্জিক্যাল প্রসিডিওর এর মাধ্যমে এই দাগ কমানো যায় যাতে দাগ কম বোঝা যায়।
কোথাও কেটে গেলে, সার্জারি হলে বা পুড়ে গেলে এটা যখন শুকায় বা হিল হয় তখন একটা দাগ ফেলে যায়। দাগ কেমন হবে এটা নির্ভর করে কিভাবে কেটেছে, শরীরের কোথায় কেটেছে, কাটার পরিধি কতটুকু, বয়স, জেনেটিক ফ্যাক্টর ইত্যাদি বিষয়ের উপর।
দাগ বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে । যেমনঃ
Normal Scar বা সাধারণ দাগ
Keloid Scar বা কিলয়েড
Hypertrophic Scar
Contracture
Acne Scar বা ব্রণের দাগ
কাটা শুকানোর পর ত্বকের উপর যে দাগ পরে এটি ত্বকের সমান্তরালে মিশে থাকে। হাত দিলে বোঝা যায় না। শুধু কালার টা অন্য থাকে কালো বা বাদামি।
কাটা শুকানোর পর ঐ জায়গাটা অনেক ফুলে যায় কাটা জায়গার বাইরেও চলে যায়। দেখতে অনেকটা আলাদা মাংস পিন্ডের মতো মনে হয়।
সাধারণত কোথাও পুড়ে গেলে বা বড় কোন দূর্ঘটনার পর চামড়া টান ধরে থাকে এটা কে কন্ট্রাকচার বলে। এর ফলে ঐ অঙ্গের নড়াচড়ায় সমস্যা হয়।
কাটা শুকানোর পর যদি কাটা জায়গা সামান্য ফুলে থাকে শুধু জায়গার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। লাল, খয়েরি বা গোলাপি বর্ণ হয়ে থাকে অনেক সময়।
ব্রণ খুটলে বা গালালে ত্বকে ছিদ্র ছিদ্র দাগ হয়ে যায় যেটা পোরস নামেই বেশি পরিচিত।
এছাড়াও বসন্ত হলে ত্বকে কিছু দাগ ফেলে যায়।
অনেক সময় আবেগে বশবতী হয়ে ব্লেড বা ছুরি দিয়ে নিজেই নিজের শরীরে আঘাত করে যেটা সেলফ হার্ম স্কার নামে পরিচিত।
দাগের ধরণ ও প্রকৃতই অনুযায়ী দাগের চিকিৎসা পদ্ধতি আলাদা আলাদা। তবে কোন পদ্ধতিতেই দাগ ১০০ ভাগ চলে যায় না।
এটা একধরনের সার্জারি। যে সার্জারির মাধ্যমে কাটা দাগ চিকন ও সুন্দর করা হয়। অনেক মোটা দাগ চিকন করা হয় যাতে কম বোঝা যায়।
একটা যন্ত্রের মাধ্যমে কিছু সুই দিয়ে দাগের উপর বারবার ছিদ্র করা হয় ফলে শুকানোর সময় ঐ অংশের কোলাজেনকে স্টিমুলেট করে দাগ হালকা করে।
একটা যন্ত্রের মাধ্যমে দাগের উপর ঘষা হয় এটাও শুকানোর সময় দাগ হালকা করে।
কোথাও পুড়ে গেলে বা এক্সিডেন্টের পর বিকৃতি ঘটলে শরীরের অন্য অংশ থেকে চামড়ার কিছু অংশ এনে লাগানো হয়।
কোথাও গর্ত হয়ে গেলে আর্টিফিশিয়াল ফিলার বা নিজের শরিরের চর্বি দিয়ে গর্ত পূরণ করে দেওয়া হয়।
কোথাও খুব বেশি এরিয়া জুরে অনেক দাগ থাকলে সেই অংশের চামড়ার একটা স্তর রিমুভ করে দেওয়া হয়।
লেজারের মাধ্যমে রিসার্ফেসিং করা হয়।
কাটা জায়গা ফুলে গেলে যেটাকে কিলয়েড বা হাইপারট্রফিক স্কার বলে সেখানে স্টেরয়েড ইনজেকশন দিলে ফুলা কমে যায়। এছাড়া সিলিকন জেল শীট বা প্রেশার গার্মেন্টস ও ব্যাবহার করতে পারেন।
নিজের শরিরের রক্তের একটা অংশ প্রক্রিয়াজাত করে ইনজেকশনের মাধ্যমে কাটা জায়গায় দেওয়া হয় এতে কিছুটা উন্নতি হতে পারে।
তবে কাটা দাগের যে চিকিৎসাই করা হোক না কেন তা ১০০% চলে যাবে না এটা মাথায় রেখেই চিকিৎসা পদ্ধতি বেছে নিতে হবে।
৭১
১৪৫ মন্তব্য