সহকারী শিক্ষক
২০ মে, ২০২৩ ০৮:০৯ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
হাড়ভাঙ্গা লতা হিসেবে এই উদ্ভিদের সুনাম সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে আছে। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার আগ পর্যন্ত এই উদ্ভিদ ছিল মানুষের অকৃত্রিম ও উপকারী বন্ধু। কারণ এটা মানুষের ভাঙ্গাহাড় মেরামতে খুবই কাজে লাগত।
অঞ্চল ভেদে এই উদ্ভিদের বহু নাম। যেমন হাড়ভাঙ্গা, হাড়জোড়া, হারেঙ্গি, Adamant creeper, Devil’s backbone, Veld grape এবং বৈজ্ঞানিক ভাষায় Cissus quadrangularis বলা হয়। প্রসঙ্গক্রমে এর নাম শুনে মনে হচ্ছে, এই উদ্ভিদ মানুষের হাড়জোড়া লাগানোর কাজে ব্যবহৃত হয় বলেই এর নাম হাড়ভাঙ্গা হয়েছে কিন্তু তা নয়!
কামরাঙ্গার মত মাংসল, ঝোপের আকারে বেড়ে উঠা লতা জাতীয় এই উদ্ভিদের কাণ্ড কিছুটা এগিয়ে গিয়ে থেমে যায় এবং ঘটনাস্থলে হাঁটুর মত আকৃতি দিয়ে আরেকটি কাণ্ডের শুরু হয়। এটা দেখতে অনেকটা ভাঙ্গা হাড়ের মত দেখায়। যার ফলে তার নাম হাড়ভাঙ্গা। ভিন্নভাবে এই ভাঙ্গা স্থানটি উভয় দিকে দুটো হাড়কে আত্মীয়ের মত জোড়া লাগিয়ে আবদ্ধ করে বলে, তার নাম হাড়জোড়া হয়েছে।
মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির কারণে একই জিনিষের দুটো নাম হতে পারে। এই লতাটি তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। যারা নেতিবাচক চিন্তা করে, তারা লতাটিকে দেখে প্রথমে ভাঙ্গার কথা মনে পড়ে তাই এটি ‘হাড়ভাঙ্গা’। যারা ইতিবাচক ভাবে তারা লতাটিকে দেখে দুটো দিকে সে বন্ধন করে রেখেছে, তাই এটি ‘হাড়জোড়া’।
ভাঙ্গা জোড়া যাই হউক, এটি কিন্তু হাড়ের খুবই উপকারে আসে। আগের দিনে বাজারে হাড়ভাঙ্গার তৈল বিক্রি হত। হাকিম-কবিরাজের বাড়ীতে এটার চাষ করা হত। হরহামেশা মানুষ গাছ থেকে পড়ে, মারামারি, ধরাধরি, ফুটবল খেলতে গিয়ে কিংবা তারুণ্যের জোড়ারে লাফাতে গিয়ে হাড় ভেঙ্গে ফেলত।
বৈদ্যরা কায়দা করে, হাড় ঠিক করে এই লতার মলম লাগিয়ে দিত। ফলে কয়েকদিন পরেই রোগী ভাল হয়ে যেত। এই লতার প্রলেপের মধ্যে সদা সংকুচিত হবার উপাদান আছে। ফলে একটি খিঁচতে থাকে। পা ফুলে গেলে সেখান থেকে পানি তাড়িয়ে দেয়, শুধুমাত্র মাংস ও হাড়ই উপস্থিত থাকতে পারে।
এই লতার রস থেঁতলে যাওয়া মাংসের আস্তরণ ভেদ করে, হাড় পর্যন্ত পৌঁছে যায়। মাংস ও হাড় উভয়ের জন্য এই রসের উপস্থিতি সবল-ভাবে কার্যকর। সপ্তাহ দশ দিনের মধ্যেই রোগী আবার হাটতে পারত। এই লতা শুধুমাত্র হাড়ের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হত না। এটি বহুমাত্রিক উপকারী লতা। হাঁফানী, বহুমূত্র (ডায়াবেটিস), রক্তের চর্বি দূর করা সহ বহু কাজে হাকিম-কবিরাজেরা ব্যবহার করত।
পুনশ্চ: এই পোষ্টে লতার গুণাবলী বর্ণনা করা হয়েছে। তার ব্যবহার বিধি কিংবা নিয়মাবলী ব্যবহার করা হয়নি। তাই এই পোষ্ট পড়েই কেউ যেন সরাসরি লতাটি বেটে ব্যবহার করা শুরু না করেন। হামদর্দ ল্যাবরেটরির প্রতি শাখায় একজন পাশকরা অভিজ্ঞ হাকিম থাকেন। তিনি বিনামূল্যে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। হয় তার মাধ্যমে পরামর্শ নেওয়া উত্তম নতুবা চিকিৎসার জন্য সরাসরি ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
৪
৪ মন্তব্য