Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৭ নভেম্বর, ২০২৩ ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ

তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশের বিশিষ্ট গণিতবিদ সিরাজগঞ্জের অহংকার গণিত সম্রাট যাদবচন্দ্র চক্রবর্তীর আজ শততম প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাই।

তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশের বিশিষ্ট গণিতবিদ সিরাজগঞ্জের অহংকার গণিত সম্রাট যাদবচন্দ্র চক্রবর্তীর আজ শততম প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাই। ?????

????????????????

— যাদের বয়স স্বাধীন বাংলাদেশের কাছাকাছি বা তার চেয়েও বড় তারা অতি অবশ্যই পাটিগণিতে যাদব বাবুর নাম শুনেছেন। এবার চলুন জানি কে এই যাদব চন্দ্র চক্রবর্তী...


?(১৮৫৫ইং, ১৯২০ বাং) সিরাজগঞ্জ জেলা শহর থেকে মাত্র সাত আট মাইল দক্ষিণে কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম কৃষ্ণ চন্দ্র চক্রবর্তী ও মাতার নাম দূর্গা সুন্দরী। 


ছয় ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে বড় যাদবচন্দ্র চক্রবর্তী ছোটবেলা থেকেই ছিলেন অসাধারণ মেধাবী। তখনকার সময়ে মধ্যবৃত্তি নামের একটা পরীক্ষা হতো। তিনি সে পরীক্ষায় পুরো রাজশাহী বিভাগে প্রথম হন! এজন্য মাসিক চার টাকা হারে বৃত্তিও পেয়েছিলেন। ১৮৭৬ সালে এন্ট্রেন্স পাশ করেন প্রথম বিভাগে, মাসিক ১৫ টাকা বৃত্তিসহ। এবং গণিত শাস্ত্রে কৃতিত্বের সঙ্গে এম এ ডিগ্রী হাসিল করে 


? প্রথমে কলকাতা সিটি কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন এবং এখান থেকেই পাটিগণিত রচনায় মশগুল হন। আলীগড় মুসলিম বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা স্যার সৈয়দ আহমদ যাদব চন্দ্রকে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাটিগণিতের অধ্যাপক পদে নিয়োগ দেন এবং নিজ বাসভবনের কাছেই যাদব চন্দ্রের জন্য একটি বাংলো বাড়ী ভাড়া করে দেন।


? পরবর্তীতে আলীগড় কলেজে অধ্যাপনা কালে ১৮৯০ সালে ইংরেজিতে তার পাটিগণিত বইটি প্রকাশ করেন। অল্পকালের মধ্যেই সেই পাটিগণিত বাংলা, উর্দু, হিন্দী, আসামী, মায়াবী, নেপালী প্রভৃতি ভাষায় অনুবাদের মাধ্যমে প্রচলিত হয়।


?১৯১২ সালে যাদব চন্দ্র চক্রবর্তী বীজগণিত প্রকাশ করেন। সেই বীজগণিতও একই রকম জনপ্রিয়তা লাভ করে। পরবর্তীতে তাঁর একটা জ্যামিতি বইও প্রকাশিত হয়। শুধু উপমহাদেশ নয়, ইউরোপের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়েও তাঁর বই পড়ানো হতো।


? তিনি ১৯১৬ সালে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে অবসর গ্রহণ করে এবং সিরাজগঞ্জে দেশের বাড়ীতে ফিরে আসেন। 


? এই মহান গণিতবিদ শুধু গণিতেই সীমাবদ্ধ রাখেননি নিজেকে। সিরাজগঞ্জে থাকাকালীন সিরাজগঞ্জ মিউনিসিপ্যালের চেয়ারম্যানও নিযুক্ত হন। সিরাজগঞ্জ নাট্যভবনের প্রতিষ্ঠাতাও তিনি, যা বর্তমানে পৌর ভাসানী মিলনায়তন নামে পরিচিত। 


? ১৯০১ সালে তিনি সিরাজগঞ্জ শহরের ধানবান্ধিতে একটি পাকা ইমারত তৈরী করে ছেলেমেয়েদেরকে এখানে রেখেই পড়াশোনার বন্দোবসত্ম করেছিলেন। অবসর জীবনে তিনি সেই বাড়ীতে এসেই বসবাস করতে থাকেন। তিনি গ্রামের বাড়ী তেঁতুলিয়ায় একটি পাকা মন্দির নির্মাণ করেছিলেন।


? একটা সময়ে তাঁর রচিত পাটিগণিত বা বীজগণিত বই ছিল অবশ্যপাঠ্য। 


? এমন একটা সময় ছিল, যখন সিরাজগঞ্জ জ্ঞানদায়িনী হাইস্কুল, ভিক্টোরিয়া কিংবা রেলওয়ে স্কুলের ছাত্ররা অঙ্ক পরীক্ষার আগে যাদবচন্দ্র চক্রবর্তীর বাড়ির মাটি সম্মান (সালাম) করে পরীক্ষা দিতে যেত! এমনকি নাক উঁচু করে চলা ব্রিটিশরাও এই গণিতবিদকে ভক্তিভরে সম্মান করত। যারই ফলশ্রুতিতে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ব্রিটিশ সরকার “গণিত সম্রাট” উপাধিতে ভুশিত করে ছিলেন। 


?১৯২০ সালের ২৬ নভেম্বর ৬৯ বছর বয়সে কলকাতার নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।


— — — — — — — — — — — — — — — —

আমরা যাকে থিওরি বলি, তা যেমন আছে পর্যাপ্ত, ঠিক তেমনি উদাহরণ আর অনুশীলনীতেও আছে পর্যাপ্ত সমস্যা। এখনকার বইগুলোর সাথে যেটা মূল পার্থক্য। অথচ খুব দুঃখের বিষয় যে, এত বিশাল একজন মানুষ যেন আজ আমাদের ইতিহাসের পাতা হতে বিলীন প্রায়! সম্রাট কাদের বলা হয়? যারা বিশাল সাম্রাজ্যের অধিপতি, মহাপরাক্রমশালী। গণিতশাস্ত্রে বাবু যাদবচন্দ্র চক্রবর্তী যেন ঠিক তাই। গণিতের সব ক্ষেত্রেই যার ছিল ধ্রুপদী বিচরণ। তাইতো যাদবচন্দ্র চক্রবর্তী একজন সম্রাট, গণিতের সম্রাট।

মন্তব্য করুন

ব্লগ