Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৫ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০৪:৩৬ অপরাহ্ণ

পেটের কোন ব্যথা প্রাণ ঘাতক অ্যাপেনডিসাইটিসের, জানুন লক্ষণ

স্বাভাবিক পেট ব্যথা থেকে অ্যাপেনডিসাইটিসের ব্যথা ভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। অনেকেই এ ব্যথার লক্ষণ জানেন না। কিন্তু আপনি জানলে অবাক হবেন যে, এই অ্যাপেনডিসাইটিসের ব্যথা কেড়ে নিতে পারে আপনার মহামূল্যবান প্রাণ।

চিকিৎসা শাস্ত্র বলছে, অ্যাপেন্ডিক্স মানুষের শরীরের একটি অকেজো অঙ্গ। কিন্তু এ অকেজো অঙ্গটিই বিশ্বের প্রায় ৫ শতাংশ মানুষের প্রাণ সংশয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যে কারণে অ্যাপেনডিসাইটিসের সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকরা দ্রুত রোগীর ‘সার্জিক্যাল এমার্জেন্সি’ করেন।

মানুষের শরীরে অ্যাপেনডিক্স থাকে পেটের দিকে। বৃহদান্ত্র এবং ক্ষুদ্রান্ত্রের সংযোগস্থল অর্থাৎ মাঝখানে এর অবস্থান। এ অঙ্গটি বৃহদান্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকে। দেখতে চিকন ও লম্বা একটি থলির মতো।

 
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো কারণে এই অ্যাপেনডিক্সে খাদ্যকণা বা ময়লা ঢুকলে তা শরীরে পুষ্টির অভাব তৈরি করে। সেখানে জীবাণুর সংক্রমণ ঘটলে ক্রমেই অ্যাপেনডিক্স স্বাভাবিক হালকা গোলাপি রং হারিয়ে লাল রং ধারণ করে। আর তখনই পেটে শুরু হয় অসহনীয় ব্যথা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জি নিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, অ্যাপেনডিসাইটিসের ব্যথার কিছু বিশেষ লক্ষণ সম্পর্কে। আসুন, তা একে একে জেনে নিই-
 
১) অ্যাপেনডিসাইটিসের ব্যথা পেটের ডানদিকে শুরু হয়। সাধারণত, নাভির কাছ থেকে শুরু হয়ে পেটের ডান দিকের নিচের দিকে এ ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে।
 
২) পেটে ব্যথার সঙ্গে থাকবে খাবার না খাওয়ার প্রবণতাও।
 
৩) বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে অ্যাপেনডিসাইটিসের রোগীর।
 
৪) অ্যাপেনডিসাইটিসের পেট ব্যথায় ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।
 
৬) পেট ব্যথা, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সঙ্গে জ্বর জ্বর ভাবও থাকতে পারে রোগীর। রোগীর শরীরের জ্বরের তাপমাত্রা অবশ্য খুব বেশি হয় না।
 
৭) চিকিৎসকরা বলছেন, অ্যাপেনডিক্স কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে ফেটে যেতে পারে। তখন রোগীর পেট ফুলে ওঠে। এসময় রোগীর শুধু ডানদিকে নয়, সারা পেট জুড়েই মারাত্মক ব্যথা অনুভূত হয়।
 
 
৮) শুরুর দিকে ব্যথা কম হয় এবং ধীরে ধীরে সেই ব্যথা ক্রমশ বাড়তে শুরু করে। খাবার খাওয়ার পর রোগী পেটের ব্যথা আরও বেশি করে অনুভব করেন।
 
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যাপেনডিসাইটিসের উপসর্গ জেনে সবারই সচেতন ও সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ, অ্যাপেনডিক্স কোনো কারণে ফেটে গেলে তা রোগীর প্রাণ ঘাতক হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় রোগীকে বাঁচানো প্রায় অসম্ভব বলে জানান চিকিৎসকরা। 
মন্তব্য করুন

ব্লগ