সহকারী শিক্ষক
১২ জানুয়ারি, ২০২৪ ০৯:৩০ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
মানুষের কথা থেকে শুরু করে চায়ের কাপে, কোমল পানীয় থেকে ফলফলাদি সর্বত্র মিষ্টির নির্মল আনন্দ। শিশু থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধ আমরা সবাই চিনির মিষ্টি স্বাদ এর সাথে অভ্যস্থ। সেই যে কোনো এক প্রাচীন কালে এর যাত্রা শুরু আমাদের জীবনে, যখন প্রথম পৃথিবীর আলো দেখি আমরা-কোনো এক দাদী বা চাচী বা কোনো এক দাই মা এর মিষ্টি দিয়ে জীবন শুরু যা আর বন্ধ হয়নি।
আমাদের জীবনে চিনির ব্যপকতা বলে বুঝানো যাবে না। চিনি খুব দ্রুত আমাদের শরীরে শক্তি জোগায়, রক্তের নিম্নচাপকে স্বাভাবিক হতে সাহায্য করে, ত্বকের উপকারে আসে, শরীরের কোথাও কেটে গেলে ঠিক করে। যদি আপনি মানসিক বিষন্নতায় ভুগে থাকেন, তাও দূর করবে চিনি। তাছাড়া ত্বকের মরা কোষ দূর করা, হাতের দূর্গন্ধ, ব্লেন্ডারের দাগ দূর করা, বিস্কুট মচমচে রাখা এসব ব্যাপারে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা থাকে চিনির। চিনির এত মহামতি গুনাবলি থাকলেও, রয়েছে এর কিছু ক্ষতিকর দিক। গত কয়েক দশকে বিজ্ঞানী আর ডাক্তারদের মতে জনস্বাস্থ্যের জন্য এক নম্বর সতর্কবার্তায় চিনি বা শর্করা বা সুগার। ডাক্তাররা এজন্য খাদ্য তালিকা থেকে চিনিকে বাদ দিতে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
আমার সবাই জানি ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্যান্সার এর মত অনিরাময়যোগ্য রোগগুলোতে, যারা বেশি মিষ্টি পছন্দ করেন তাদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে ডাক্তাররা এও বলেন যে, এসব রোগের জন্য শুধু শর্করা বা চিনিই একমাত্র কারন নয়। যখন উচ্চমাত্রার ক্যালরিযুক্ত খাবারের সাথে চিনি খাওয়া হয়, তখন তা ক্ষতির কারন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চমাত্রার ফ্রুকটোজ বা চিনিযুক্ত পানীয়, জুস, ড্রিংস, মধু বা সাদা চিনি ধমনীর ভিতরে চর্বি জমতে সাহায্য করে, যা হৃদরোগের কারন। লুজান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক লুক টাপির মতে, অতিরিক্ত ক্যালরিই ডায়াবেটিস, স্থুলতা, উচ্চরক্তচাপের কারন এবং সুগার সেই উচ্চ ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবারের একটা অংশ মাত্র।
কিছু কিছু গবেষকদের মতে চিনি বা মিষ্টি খাওয়ার আকর্ষন নেশার মতো। কিছু কিছু জরিপমতে যারা অতিরিক্ত কোমল পানীয়, ফলের রস খান তাদের স্মৃতিশক্তি দুর্বল। আবার অন্য কিছু গবেষনায় দেখা গেছে চল্লিশোর্ধ মানুষের স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে এবং কষ্ট সাধ্য কাজ করতে শর্করা সাহায্য করে। চিনি বা মিষ্টি সম্পর্কে এমন আরও নানা তথ্য রয়েছে যার কোনটা পজেটভ আবার কোনটা নেগেটিভ।
অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে চিনি কম খেলে তা আমাদের অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। ...
৩
৩ মন্তব্য