Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৭ এপ্রিল, ২০২৪ ০৩:৩৯ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের সীমানা ও অন্য দেশ

পশ্চিমবঙ্গের ভূগোল অত্যন্ত বৈচিত্র্যপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গ পূর্ব ভারতের একটি রাজ্য। দক্ষিণে ২১º৩৮’ উত্তর অক্ষাংশ থেকে উত্তরে ২৭º১০’ উত্তর অক্ষাংশ এবং পশ্চিমে ৮৫º৫০’ পূর্ব দ্রাঘিমা থেকে পূর্বে ৮৯º৫০’ পূর্ব দ্রাঘিমা পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যটি বিস্তৃত। এ-রাজ্যের নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরধুবুলিয়াবর্ধমান জেলার পূর্বস্থলীগুসকরাআউশগ্রামরাজবাঁধদুর্গাপুরবাঁকুড়া জেলার দুর্লভপুর এবং পুরুলিয়া জেলার আদ্রা শহরের উপর দিয়ে পূর্ব-পশ্চিমে কর্কটক্রান্তি রেখা প্রসারিত। এ-রাজ্যের উত্তর সীমা যেমন হিমালয় পর্বতমালাকে স্পর্শ করেছে, তেমনি দক্ষিণ সীমায় রয়েছে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনার সুবিশাল বদ্বীপ ও বঙ্গোপসাগর। তিনটি বিদেশি রাষ্ট্র – নেপালভুটান ও বাংলাদেশ এবং পাঁচটি ভারতীয় রাজ্য – সিক্কিমবিহারঝাড়খণ্ডওড়িশা ও আসাম প্রত্যক্ষভাবে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশী। এছাড়াও সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত সান্নিধ্যের জন্য ত্রিপুরা রাজ্যের সঙ্গেও পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক বিদ্যমান।

রাজ্যের উত্তরে রয়েছে হিমালয়ের সুউচ্চ শৃঙ্গ, আবার দক্ষিণে রয়েছে সমুদ্র-উপকূলীয় সমভূমি; পশ্চিম দিকে যেমন রয়েছে ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চল, তেমনি পূর্বদিকে রয়েছে গাঙ্গেয় বদ্বীপ সমভূমি। পশ্চিমবঙ্গ ভারতের একমাত্র রাজ্য যার উত্তরে হিমালয় ও দক্ষিণে সমুদ্র রয়েছে। এই রাজ্যে মালভূমি ও সমভূমির সহাবস্থান দেখা যায়।


পশ্চিমবঙ্গে পাঁচটি রাজনৈতিক বিভাগ ও মোট ২৩টি জেলা রয়েছে। যেমন – বর্ধমান বিভাগের অন্তর্গত পূর্ব বর্ধমানপশ্চিম বর্ধমানবীরভূম ও হুগলিমেদিনীপুর বিভাগের অন্তর্গত পূর্ব মেদিনীপুরপশ্চিম মেদিনীপুরবাঁকুড়াঝাড়গ্রাম ও পুরুলিয়াজলপাইগুড়ি বিভাগের অন্তর্গত কোচবিহারদার্জিলিংজলপাইগুড়িকালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারমালদা বিভাগের অন্তর্গত উত্তর দিনাজপুরদক্ষিণ দিনাজপুরমালদহ ও মুর্শিদাবাদ এবং প্রেসিডেন্সি বিভাগের অন্তর্গত কলকাতানদিয়াউত্তর ২৪ পরগনাদক্ষিণ ২৪ পরগনা ও হাওড়া জেলা। প্রতিটি জেলা মহকুমাশাসক কর্তৃক শাসিত মহকুমা ও মহকুমাগুলি ব্লকে বিভক্ত থাকে (ব্যতিক্রম কলকাতা)। পঞ্চায়েত ও পুরসভা নামক স্থানীয় শাসনপ্রতিষ্ঠানগুলি নিয়ে ব্লক গঠিত হয়। এছাড়াও গঙ্গার উত্তরের আটটি জেলাকে একত্রে উত্তরবঙ্গ ও গঙ্গার দক্ষিণের পনেরোটি জেলাকে একত্রে দক্ষিণবঙ্গ বলা হয়। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ দুটি গুরুত্বপূর্ণ আরক্ষা (পুলিশ) বিভাগীয় আঞ্চলিক একক।


দক্ষিণবঙ্গ বা দক্ষিণ বাংলা হলো বঙ্গ এলাকার দক্ষিণাংশ। এটি বাংলাদেশের খুলনা বিভাগফরিদপুর বিভাগ ও বরিশাল বিভাগ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রেসিডেন্সি বিভাগবর্ধমান বিভাগ , মেদিনীপুর বিভাগ ও মালদহ বিভাগের মুর্শিদাবাদ জেলা নিয়ে গঠিত। বাংলাদেশের দক্ষিণ বঙ্গের প্রধান শহর হলো ফরিদপুর এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ বঙ্গের প্রধান ও তার সাথে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী হলো কলকাতা। এই অঞ্চলে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত পর্যটন আকর্ষণ সুন্দরবন অবস্থিত।


বাংলাদেশের ৮ টি বিভাগে মোট জেলার সংখ্যা হল ৬৪। এর মধ্যে সীমান্তবর্তী জেলা রয়েছে ৩২ টি। এই সীমান্তবর্তী জেলাগুলো ভারত ও মিয়ানমার এর সাথে। ভারতের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে ৩০ টি জেলার আর মিয়ানমারের সাথে রয়েছে ৩টি জেলার। এদের মধ্যে ১টি জেলার (রাঙ্গামাটি) আবার দুই দেশের সাথেই সীমান্ত রয়েছে।

ঢাকা ও বরিশাল বিভাগ ব্যতীত সকল বিভাগের সীমান্তবর্তী জেলা রয়েছে।

মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের ৩টি সীমান্তবর্তী জেলা হল কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান।

অপরদিকে ভারতের সাথে যে ৩০ টি  সীমান্তবর্তী জেলা রয়েছে তার মধ্যে-

চট্টগ্রাম বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো হলো- চট্ট্রগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি।

খুলনা বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো হলো- সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া।

রাজশাহী বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো হলো- রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও জয়পুরহাট।

রংপুর বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো হলো- পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম।

ময়মনসিংহ বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো হলো- জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা।

সিলেট বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো হলো- সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ।



পটুয়াখালী পটুয়াখালী জেলার একটি শহর এবং জেলা সদর যা বরিশাল বিভাগের লাউকাঠি নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত। এটি পটুয়াখালী জেলার প্রশাসনিক সদর দফতর এবং দেশের অন্যতম প্রাচীন শহর এবং পৌর এলাকা। পটুয়াখালী পৌরসভা ১৮৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। শহরটি ২০১১ সালের আদম শুমারি অনুসারে ৬৯,৮৩৭ জনসংখ্যাবিশিষ্ট যারা ৩৩.৭০ কিলোমিটার আয়তন জুড়ে বাস করে।

পৌর এলাকা বা নগরায়িত এলাকা বলতে উচ্চ জনঘনত্ব ও উচ্চ পরিমাণের নির্মিত পরিবেশ অবকাঠামোবিশিষ্ট মনুষ্য বসতিকে বোঝায়। নগরায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পৌর এলাকাগুলির সৃষ্টি হয়। এগুলিকে পৌর গঠনতত্ত্বে শহরনগরনগর সমবায় বা উপশহর, ইত্যাদি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়। পৌরবিদ্যায় "পৌর এলাকা" পরিভাষাটিকে গ্রামীণ এলাকা-র বিপরীত অর্থে ব্যবহার করা হয়। আবার পৌর সমাজবিজ্ঞান বা পৌর নৃবিজ্ঞান ক্ষেত্রে এটিকে প্রাকৃতিক পরিবেশ ধারণাটির বিপরীত অর্থে ব্যবহার করা হয়।


১৯৫০ সালে বিশ্বের নাগরিক এলাকাবাসী জনসংখ্যা ছিল মাত্র ৭৪ কোটি ৬০ লক্ষ। ২০০৯ সালে নাগরিক এলাকায় বাসকারী মানুষের সংখ্যা (৩৪২ কোটি) ইতিহাস প্রথমবারের মত গ্রামীণ এলাকাতে বাসকারী মানুষের সংখ্যা (৩৪১ কোটি) ছাড়িয়ে যায়। এই সময় থেকেই বিশ্ব অপেক্ষাকৃত বেশি পৌর এবং কম গ্রামীণ চরিত্রের অধিকারী।[১] তখন থেকেই বিশ্বে নাগরিক এলাকায় বাস করা লোকেরা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়।[২] ২০১৪ সালে পৃথিবীতে বাসকারী ৭২০ কোটি মানুষের মধ্যে[৩] ৩৯০ কোটি পৌর এলাকায় বাস করত। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক বিভাগের জনংখ্যা উপবিভাগ ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যে ২০৫০ সাল নাগাদ শহরবাসীদের সংখ্যা ৬৪০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। এই বৃদ্ধির ৩৭%-ই আসবে তিনটি মাত্র দেশ থেকে; এগুলি হল চীনভারত ও নাইজেরিয়া[৪]

পৌর এলাকার সাথে মহানগর এলাকার পার্থক্য হচ্ছে দ্বিতীয়টিতে কেবল পৌর এলাকাই অন্তর্ভুক্ত থাকে না, সেই সাথে একে ঘিরে থাকা বেশ কিছু উপগ্রহ শহর এবং এই দুইয়ের অন্তর্বর্তী গ্রামীণ এলাকাও অন্তর্ভুক্ত থাকে। গ্রামীণ এলাকা ও উপগ্রহ শহরগুলি আর্থসামাজিকভাবে একটি পৌরকেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত থাকে। পৌরকেন্দ্রটি মহানগর এলাকাটির প্রধান শ্রমবাজার বা কর্মস্থলের ভূমিকা পালন করে এবং পৌরকেন্দ্রের বাইরের জনগণ চাকুরি করার জন্য কর্মস্থলে যাতায়াত করে থাকে।

ঐতিহাসিকভাবে, চৌদ্দ শতকে পটুয়াখালী চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের অংশ ছিল। বর্তমান শহরটি তখন জঙ্গলে পূর্ণ ছিল এবং নদীর তীরে একটি ছোট বাজার সপ্তাহে একবার বসতো। বাংলায় ব্রিটিশ শাসনামলে পটুয়াখালী শহরের ভূখন্ডের মালিক ছিল এক জমিদার পরিবার। ১৮৬৮ সালে বিচারকের সমন্বয়ে একটি সিভিল কোর্ট গঠন করা হয় এবং ব্রজমোহন দত্ত এর সহায়তায় ১৮৭১ সালে পটুয়াখালীকে তৎকালীন বরিশাল জেলার একটি মহকুমা প্রতিষ্ঠা করা হয়। নদীর উত্তর তীরে, লাউকাঠি গ্রামে, মহকুমার প্রধান জমিদারদের তহসিল কাচারি অবস্থিত ছিল। ঢাকাফরিদপুর এবং বরিশাল জেলা থেকে জনসংখ্যার আগমনের সাথে সাথে ধীরে ধীরে একটি ইংরেজ বাজার, একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল এবং একটি দাতব্য চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল একই সাথে বাণিজ্যিক সংস্থাগুলিও এখানে ব্যবসার গোড়াপত্তন করল। উচ্চ বিদ্যালয়টি এবং বেগম হাসপাতাল সম্ভবত তখন শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সরকারী প্রতিষ্ঠান ছিল। ১৮৮৭ সালে উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং ১৯০৪ সালে বিদ্যালয়ের সাথে একটি ছাত্রাবাস সংযুক্ত হয়। হাসপাতালটি ১৮৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, এবং ১৯০৪ সালে একটি নতুন ভবন তৈরি করা হয়েছিল, যার পুরো ব্যয়ভার বহন করেন ঢাকার নবাব খাজা আহসানুল্লাহ। তখনকার সময়ে নবাবের স্ত্রীদের উপাধি হিসেবে নামের সাথে বেগম শব্দটি যুক্ত করা হতো, তাই নবাব আহসানুল্লাহর স্ত্রীর নামানুসারে হাসপাতালটির নামকরণ করা হয় বেগম হাসপাতাল। ভাত, জ্বালানী কাঠ, স্থানীয় তাঁতিদের তৈরি মোটা কাপড় এবং হোগলা মাদুর ছিল ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রধান জিনিস। ১৯১১-১২ সালে একটি হোসিয়ারি কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৮৯২ সালের ১লা এপ্রিল পটুয়াখালী পৌরসভা গঠনের মাধ্যমে পটুয়াখালী পৌরশহরের মর্যাদা লাভ করে। কমিশনাররা প্রথমে মনোনীত হন, তবে ১৯০০ সালে নির্বাচনী ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। ১৮৭১ সালে স্থানীয় বোর্ডটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।


পটুয়াখালী শহরটি বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমৃদ্ধ। পটুয়াখালী সরকারী জয়ন্তী উচ্চ বিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রাচীনতম এবং একটি বিখ্যাত স্কুল। স্থানীয় মাননীয় ব্যক্তিত্ব ও আধিকারিকদের দ্বারা এটি ১৮৭৬ সালে পটুয়াখালী প্রবেশিকা বিদ্যালয় হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৮৪ সালে তৎকালীন এসডিও মিঃ ফয়েজ উদ্দিন হোসেইন একটি নতুন জায়গা বরাদ্দ দিয়েছিলেন এবং স্থানীয় জনগণের অর্থের সাহায্যে একটি এক তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করেছিলেন। ১৮৮৭সালে, বিদ্যালয়টি নতুন জায়গায় স্থানান্তরিত করা হয় এবং রানী ভিক্টোরিয়া সিংহাসনে আরোহণের অনুষ্ঠানের স্মারকলিপি হিসাবে নতুন নামকরণ করা হয় "পটুয়াখালী জয়ন্তী উচ্চ বিদ্যালয় বিদ্যালয়"। শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে পটুয়াখালীতে উচ্চ শিক্ষার জন্য পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। শহরে উল্লেখযোগ্য কলেজ এবং স্কুল রয়েছে যার মধ্যে রয়েছে: পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ, পটুয়াখালী সরকারী কলেজ, পটুয়াখালী সরকারী মহিলা কলেজ,পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়,লতিফ মিউনিসিপ্যাল সেমিনারি, পটুয়াখালী টাউন উচ্চ বিদ্যালয়, পটুয়াখালী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, শ্রীরামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ওয়াজেদাবাদ মোস্তফাবিয়া ফাজিল মাদ্রাসা ইত্যাদি। এগুলি ছাড়াও শহরে দুটি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ, একটি সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং একটি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট রয়েছে। শিক্ষাগত কার্যক্রম বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এর অধীনে পরিচালিত হয়।

  • একেএম ফজলুল হক (সার্জন), ইন্দো-বাংলা উপমহাদেশের পাইওনিয়ার কালোরেক্টাল সার্জন (ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল এবং পাকিস্তান)
  • বীর মুক্তিযোদ্বা সৈয়দ হাবিবুর রহমান(১৯৪৫-২০১৭)রাজনৈতিবিদ,সমাজ সেবক এবংব্যাবসায়ী
  • সতীন সেন (১৮৯৪-১৯৫৫), বিপ্লবী
  • বিডি হাবিবুল্লাহ (১৯০৮-১৯৯৮), লেখক এবং স্পিকার
  • হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশের সংসদ সদস্য
  • খান সাহেব আকরাম (১৮৯৩-১৯৭৮), আইনজীবী, রাজনীতিবিদ
  • কাজী আবুল কাশেম (১৯০৬-১৯৮৪), এমপি, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, পটুয়াখালী আইনজীবী সমিতির আজীবন সভাপতি
  • সোহাগ গাজীবাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার
  • অহনা রহমান লাকি (অভিনেত্রী)
  • স্মরণ ইমাম কবি সাহিত্যিক


পটুয়াখালী পৌরসভা বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলার একটি স্থানীয় সরকার সংস্থা। ১৮৯২ সালে পৌরসভাটি প্রতিষ্ঠিত হয়।[৩][৪] ও এটি বাংলাদেশের প্রাচীন পৌরসভার গুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি একটি ক শ্রেনীর পৌরসভা।[৫]

১৮৮২ সালে পটুয়াখালী পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে পৌরসভার আয়তন ছিল ৩.৫ বর্গ মাইল (৯.০৬ বর্গ কিলোমিটার)। ১০ জন নির্বাচিত পৌর সদস্য ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক পৌরসভা পরিচালিত হত। 

পটুয়াখালী পৌরসভার বর্তমান আয়তন ২৬ বর্গ কিলোমিটার। ৯ টি ওয়ার্ড নিয়ে এ পৌরসভাটি গঠিত। এ ৯টি ওয়ার্ডে ৯ জন সাধারণ আসনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং ৩ জন সংরক্ষিত আসনে মহিলা কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। মাননীয় মেয়র ও সম্মানিত কাউন্সিলরগণ জনগনের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। এ পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রম পটুয়াখালী সদর থানার আওতাধীন। এটি জাতীয় সংসদের ১১১নং নির্বাচনী এলাকা পটুয়াখালী-১ এর অংশ।


  • আবদুল হক, চেয়ারম্যান (কার্যকাল ২৫/২/১৯৮৯ - ৩১/১২/১৯৯১)
  • এ্যাড.মোঃ সুলতান আহম্মেদ মৃধা , চেয়ারম্যান (কার্যকাল ১৮/০৩/১৯৯৩ - ২৪/০৩/১৯৯৯)
  • মোশতাক আহম্মেদ, চেয়ারম্যান ও মেয়র, (কার্যকাল ২৪/০৩/১৯৯৯ - ১০/০২/২০১১)
  • ডা. শফিকুল ইসলাম, মেয়র, (কার্যকাল ১৩/০২/২০১১ -০৯/০১/২০১৯)
  • মহিউদ্দিন আহমেদ, মেয়র, (কার্যকাল ১০/০১/২০১৯- চলমান)

সুন্দরবন হলো বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত একটি প্রশস্ত বনভূমি যা বিশ্বের প্রাকৃতিক বিস্ময়াবলির অন্যতম। পদ্মামেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীত্রয়ের অববাহিকার বদ্বীপ এলাকায় অবস্থিত এই অপরূপ বনভূমি বাংলাদেশের খুলনাসাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার কিছু অংশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দুই জেলা উত্তর চব্বিশ পরগনা ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জুড়ে বিস্তৃত।[২] সমুদ্র উপকূলবর্তী নোনা পরিবেশের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে সুন্দরবন বিশ্বের সর্ববৃহৎ অখণ্ড বনভূমি।[৩] ১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে গড়ে ওঠা সুন্দরবনের ৬,৫১৭ বর্গ কিলোমিটার (৬৬%)[৪] রয়েছে বাংলাদেশে[৫] এবং বাকি অংশ (৩৪%) রয়েছে ভারতের মধ্যে।

বাংলাদেশ এবং ভারত একটা ৪,১৫৬.৫৬কিমি (২,৫৮২ মাইল) লম্বা আন্তর্জাতিক সীমানা অংশ ভাগ করে, এটা বিশ্বের পঞ্চম দীর্ঘতম ভূমি সীমানা, যার মধ্যে আছে আসাম ২৬২ কিমি (১৬৩ মাইল), ত্রিপুরা ৮৫৬ কিমি (২৭৫ মাইল), মিজোরাম ১৮০ কিমি (১১০ মাইল), মেঘালয় ৪৪৩ কিমি (২৭৫ মাইল) এবং পশ্চিমবঙ্গ ২,২১৭ কিমি (১,৩৭৮ মাইল)।[১] সীমানার পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভাগগুলোর মধ্যে আছে ময়মনসিংহখুলনারাজশাহীরংপুরসিলেট এবং চট্টগ্রাম। দুটো রাষ্ট্রের মধ্যে কতগুলো থাম দিয়ে মার্কা করা আছে। সামান্য সীমা নির্ধারণ করা জায়গায় দু-দিক থেকে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া আছে। ২০১৫ খ্রিস্টাব্দের ৭ মে ভারত এবং বাংলাদেশ দু-দেশের অনুমোদন সাপেক্ষে ভূমি পরিসীমা চুক্তি করে সীমানার সরলীকরণ করা হয়েছে।[২]

র‌্যাডক্লিফ লাইন ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৭ আগস্ট ভারত ভাগের সময় ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে একটা সীমা নির্ধারণ লাইন হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল। এই কাজের স্থপতি, স্যার সিরিল রাডক্লিফ, যিনি বর্ডার কমিশনের সভাপতি ছিলেন এবং ৮.৮ কোটি জনগণের মধ্যে ১৭৫,০০০ বর্গমাইল (৪৫০,০০০ বর্গকিমি) ভূমি নিরপেক্ষভাবে সমদ্বিখণ্ডিত করে দিয়েছিলেন



২০০১ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত সংঘর্ষ বা পাদুয়া যুদ্ধ, ২০০১ সালের এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহে বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) (বর্তমান বিজিবি) ও ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) মধ্যকার সংঘর্ষ যা দুই দেশের মধ্যকার দুর্বলভাবে চিহ্নিত আন্তর্জাতিক সীমান্তে সংগঠিত হয়েছিল। ২০০১ সালের ১৫ এবং ১৬ এপ্রিল সিলেট সীমান্তে পদুয়ায়, ১৮ এপ্রিল কুড়িগ্রামের রৌমারী এবং ১৯ এপ্রিল পুনরায় পদুয়া সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফের সাথে বিডিআরের সশস্ত্র সংঘর্ষ হয়। এই তিনটি যুদ্ধেই বাংলাদেশের সে সময়ের বিডিআরের সেনারা তিনটিতেই বিজয় অর্জন করে।


বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে মৃত্যু দ্বারা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৪,০৯৬ কিলোমিটার (২,৫৪৬ মাইল) দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমানায়[১০] বাংলাদেশ থেকে ভারতে অবৈধভাবে লোকেদের প্রবেশের চেষ্টা, সীমান্তে গুলিবর্ষণ এবং গবাদি পশু পাচারের ফলে বছরে বহুবার বাংলাদেশ -ভারত সীমান্তে মৃত্যু বোঝায়।[১১] সীমান্তে চোরাচালান ও বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিতর্কিত শ্যূট-অন-সাইট (দেখামাত্র গুলি) নীতি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বহাল আছে, যার প্রেক্ষিতে বিএসএফ কারণে কিংবা অকারণে বাংলাদেশি নাগরিককে গুলি করতে পারে।[১২] হতাহতদের একটি বড় অংশ হল গবাদি পশু ব্যবসায়ী এবং সীমান্তবর্তী জমির কৃষক।[


আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে যাওয়া, হাট-বাজারে বেচাকেনা করা, এবং কাজ খোঁজার জন্য অনেক মানুষ নিয়মিতভাবে সীমান্ত পারাপার করে। এছাড়াও সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে কৃষিজমিতে কৃষিকাজ কিংবা নদীতটে মৎস্য আহরণের জন্যও অনেক মানুষকে সীমান্তপথ অতিক্রম করতে হয়। এর মধ্যে কেউ কেউ বিভিন্ন ছোটখাটো এবং গুরুতর আন্তঃসীমান্ত অপরাধে নিয়োজিত। সীমান্ত বাহিনী অবৈধ কার্যক্রম মোকাবেলার বাধ্যতামূলক করা হয়, বিশেষ করে মাদক চোরাচালান, যৌন কাজের জন্য মানব পাচার, এবং জাল মুদ্রা ও বিস্ফোরক পরিবহন।[১১]












মন্তব্য করুন