সহকারী অধ্যাপক
১২ অক্টোবর, ২০২৪ ০৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ
আর যে সত্য নিয়ে এসেছে এবং যে তা সত্য বলে মেনে নিয়েছে, তারাই হল মুত্তাকী।.. তাদের জন্য তাদের রবের কাছে তা-ই রয়েছে যা তারা চাইবে। এটাই মুমিনদের পুরস্কার।
|
|
আর যে সত্য নিয়ে এসেছে এবং যে তা সত্য বলে মেনে নিয়েছে, তারাই হল মুত্তাকী।.. তাদের জন্য তাদের রবের কাছে তা-ই রয়েছে যা তারা চাইবে। এটাই মুমিনদের পুরস্কার।
সূরাঃ ৩৯/ আয-যুমার আয়াতঃ ৩০-৩৮ মাক্কী
৩৯:৩০ اِنَّكَ مَیِّتٌ وَّ اِنَّهُمۡ مَّیِّتُوۡنَ ﴿۫۳۰﴾انك میت و انهم میتون ﴿۳۰﴾
নিশ্চয় তুমি মরণশীল এবং তারাও মরণশীল। আল-বায়ান
তুমিও মরবে আর তারাও মরবে। তাইসিরুল
তুমিতো মরণশীল এবং তারাও মরণশীল। মুজিবুর রহমান
Indeed, you are to die, and indeed, they are to die. Sahih International
৩০. আপনি তো মরণশীল এবং তারাও মরণশীল।
তাফসীরে জাকারিয়া
(৩০) নিশ্চয় তোমার মৃত্যু হবে এবং ওদেরও মৃত্যু হবে।
৩১ ثُمَّ اِنَّكُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ عِنۡدَ رَبِّكُمۡ تَخۡتَصِمُوۡنَ
তারপর কিয়ামতের দিন নিশ্চয় তোমরা তোমাদের রবের সামনে ঝগড়া করবে। আল-বায়ান
অতঃপর ক্বিয়ামত দিবসে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের সম্মুখে বাদানুবাদ করবে। তাইসিরুল
অতঃপর কিয়ামাত দিবসে তোমরা পরস্পর তোমাদের রবের সামনে বাকবিতন্ডা করবে। মুজিবুর রহমান
Then indeed you, on the Day of Resurrection, before your Lord, will dispute. Sahih International
৩১. তারপর কিয়ামতের দিন নিশ্চয় তোমরা তোমাদের রবের সামনে পরস্পর বাক-বিতণ্ডা করবে।(১)
(১) এ আয়াত নাযিল হলে যুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! দুনিয়াতে আমরা যে ঝগড়া করছি সেটা কি আবার আখেরাতেও হবে? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, তখন যুবাইর বললেন, বিষয়টি তাহলে ভয়াবহ। [তিরমিযীঃ ৩২৩৬] ইবন উমর বলেন, আমরা এ আয়াত নাযিল হয়েছে জানতাম কিন্তু কেন নাযিল হলো বুঝতে পারিনি। আমরা বলতাম, কার সাথে আমরা ঝগড়া করব? আমাদের মধ্যে এবং আহলে কিতাবদের মধ্যে তো কোন ঝগড়া নেই। অবশেষে যখন মুসলিমদের মাঝে ফেতনা শুরু হলো তখনই বুঝতে পারলাম যে, এটাই আমাদের রবের পক্ষ থেকে যে ঝগড়ার ওয়াদা করা হয়েছিল তা। [আত-তাফসীরুস সহীহ]
তাফসীরে জাকারিয়া
(৩১) অতঃপর কিয়ামতের দিনে তোমরা পরস্পর তোমাদের প্রতিপালকের সম্মুখে বাক-বিতন্ডা করবে। [1]
[1] অর্থাৎ, হে নবী! তুমি ও তোমার বিরোধী সকলেই মৃত্যুবরণ করে আখেরাতে আমার নিকট উপস্থিত হবে। পৃথিবীতে তোমাদের মাঝে তাওহীদ ও শিরকের ফায়সালা সম্ভব হয়নি এবং তুমি এই বিষয়ে ঝগড়া করতেই থেকেছ। কিন্তু আমি এখানে তার ফায়সালা করব এবং মুখলিস ও একত্ববাদে বিশ্বাসীদেরকে জান্নাতে এবং মুশরিক (অংশীবাদী), অস্বীকারকারী এবং মিথ্যাজ্ঞানকারীদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করাব। উক্ত দুটি আয়াত দ্বারা নবী (সাঃ)-এর মৃত্যুর কথা প্রমাণ হয়। যেমন সূরা আলে ইমরানের ১৪৪নং আয়াতেও সে কথা প্রমাণ হয়। এই সব আয়াতসমূহ থেকে দলীল নিয়ে আবু বাকর সিদ্দীক (রাঃ) লোকেদের মাঝে নবী (সাঃ)-এর মৃত্যুর কথা প্রমাণ করেছিলেন। অতএব নবী (সাঃ) সম্পর্কে এই বিশ্বাস রাখা যে, তিনি পৃথিবীতে যেমন জীবন পেয়েছিলেন, বারযাখী জীবন (কবরে)ও অনুরূপ জীবিত আছেন, কুরআনের স্পষ্ট দলীলের পরিপন্থী। তিনিও অন্যান্য মানুষের মত মৃত্যুবরণ করেছেন, ফলে তাঁকেও দাফন করা হয়েছে এবং কবরে তিনি অবশ্যই বারযাখী জীবন পেয়েছেন। তবে তা কেমন তার জ্ঞান আমাদের নেই। কিন্তু এ কথা নিঃসন্দেহ যে কবরে তাঁকে পৃথিবীর মত জীবন দেওয়া হয়নি।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৩২ فَمَنۡ اَظۡلَمُ مِمَّنۡ كَذَبَ عَلَی اللّٰهِ وَ كَذَّبَ بِالصِّدۡقِ اِذۡ جَآءَهٗ ؕ اَلَیۡسَ فِیۡ جَهَنَّمَ مَثۡوًی لِّلۡكٰفِرِیۡنَ
সুতরাং তার চেয়ে অধিক যালিম আর কে, যে আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করে এবং তার কাছে সত্য আসার পর তা অস্বীকার করে? জাহান্নামেই কি কাফিরদের আবাসস্থল নয়? আল-বায়ান
যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে আর সত্য সমাগত হওয়ার পর তা অস্বীকার করে তার চেয়ে বড় যালিম আর কে আছে? (এমন) কাফিরদের আবাসস্থল কি জাহান্নামে নয়? তাইসিরুল
যে ব্যক্তি আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা বলে এবং সত্য আসার পর তা প্রত্যাখ্যান করে সে অপেক্ষা যালিম আর কে? কাফিরদের আবাসস্থল কি জাহান্নাম নয়? মুজিবুর রহমান
So who is more unjust than one who lies about Allah and denies the truth when it has come to him? Is there not in Hell a residence for the disbelievers? Sahih International
৩২. সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা বলে এবং সত্য আসার পর তাতে মিথ্যারোপ করে তার চেয়ে বেশী যালিম আর কে? কাফিরদের আবাসস্থল কি জাহান্নাম নয়?
তাফসীরে জাকারিয়া
(৩২) যে ব্যক্তি আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা বলে[1] এবং তার নিকট আগত সত্যকে মিথ্যাজ্ঞান করে,[2] তার অপেক্ষা অধিক সীমালংঘনকারী আর কে? অবিশ্বাসীদের আবাসস্থল জাহান্নাম নয় কি?
[1] অর্থাৎ, দাবী করে যে, আল্লাহর সন্তান-সন্ততি অথবা তাঁর শরীক আছে কিংবা তাঁর স্ত্রী আছে, অথচ তিনি এই সমস্ত জিনিস থেকে পাক ও পবিত্র।
[2] যাতে আছে তাওহীদ (আল্লাহর একত্ব), (দ্বীনের) বিধি-বিধান ও ফরয কার্যাদি, পুনরুত্থান সম্পর্কীয় আকীদা ও বিশ্বাস, হারাম কার্যকলাপ থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ এবং মু’মিনদের জন্য সুসংবাদ ও কাফেরদের জন্য ধমক ও শাস্তির কথা। এ হল সেই দ্বীন ও শরীয়ত, যা মুহাম্মাদ (সাঃ) নিয়ে আগমন করেছেন। এটাকে তারা মিথ্যা মনে করে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৩৩ وَ الَّذِیۡ جَآءَ بِالصِّدۡقِ وَ صَدَّقَ بِهٖۤ اُولٰٓئِكَ هُمُ الۡمُتَّقُوۡنَ
আর যে সত্য নিয়ে এসেছে এবং যে তা সত্য বলে মেনে নিয়েছে, তারাই হল মুত্তাকী। আল-বায়ান
যারা সত্য নিয়ে আগমণ করেছে এবং সত্যকে সত্য হিসেবে মেনে নিয়েছে, তারাই তো মুত্তাকী। তাইসিরুল
যারা সত্য এনেছে এবং যারা সত্যকে সত্য বলে মেনেছে তারাইতো মুত্তাকী। মুজিবুর রহমান
And the one who has brought the truth and [they who] believed in it - those are the righteous. Sahih International
৩৩. আর যে সত্য নিয়ে এসেছে এবং যে তা সত্য বলে মেনেছে তারাই তো মুত্তাকী।
তাফসীরে জাকারিয়া
(৩৩) যারা সত্য এনেছে[1] এবং সত্যকে সত্য বলে মেনে নিয়েছে,[2] তারাই তো আল্লাহ-ভীরু।
[1] এ থেকে নবী মুহাম্মাদ (সাঃ)-কে বুঝানো হয়েছে। যিনি সত্য দ্বীন নিয়ে আগমন করেছেন। কারো কারো নিকট এ কথাটি সাধারণ এবং এর লক্ষ্য এমন সকল ব্যক্তি, যারা তাওহীদের দাওয়াত দেয় এবং আল্লাহর শরীয়তের প্রতি মানুষকে পথপ্রদর্শন করে।
[2] কেউ কেউ এ থেকে আবূ বাকার (রাঃ)-কে বুঝিয়েছেন। যিনি সর্ব প্রথম রসূল (সাঃ)-এর সত্যায়ন করেছেন এবং তাঁর উপর ঈমান এনেছেন। আবার কেউ কেউ এটাকে সাধারণ গণ্য করেছেন। যা সেই সমস্ত মু’মিনকে শামিল করে, যারা রসূল (সাঃ)-এর রিসালতের প্রতি ঈমান রাখে এবং তাঁকে সত্য নবী বলে মনে করে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
:৩৪ لَهُمۡ مَّا یَشَآءُوۡنَ عِنۡدَ رَبِّهِمۡ ؕ ذٰلِكَ جَزٰٓوٴُا الۡمُحۡسِنِیۡنَ
তাদের জন্য তাদের রবের কাছে তা-ই রয়েছে যা তারা চাইবে। এটাই মুমিনদের পুরস্কার। আল-বায়ান
তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের নিকট আছে যা তারা ইচ্ছে করবে। তা-ই হল সৎকর্মশীলদের প্রতিদান। তাইসিরুল
তাদের বাঞ্ছিত সব কিছুই আছে তাদের রবের নিকট। এটাই সৎকর্মশীলদের পুরস্কার। মুজিবুর রহমান
They will have whatever they desire with their Lord. That is the reward of the doers of good - Sahih International
৩৪. তাদের জন্য তা-ই থাকবে যা চাইবে তারা তাদের রবের নিকট। এটাই মুহসিনদের পুরস্কার।
তাফসীরে জাকারিয়া
(৩৪) এদের বাঞ্ছিত সমস্ত কিছুই এদের প্রতিপালকের নিকট বর্তমান,[1] এটিই সৎকর্মপরায়ণদের প্রতিদান।[2]
[1] অর্থাৎ, মহান আল্লাহ তাদের পাপগুলো মাফ করে দেবেন এবং তাদের মর্যাদাও বাড়িয়ে দেবেন। কেননা, প্রত্যেক মুসলিম আল্লাহর কাছে এটাই আশা রাখে। এ ছাড়া জান্নাতে যাওয়ার পর তো প্রত্যেক বাঞ্ছিত জিনিস পাওয়া যাবে।
[2] مُحْسِنيْنَ এর একটি অর্থ হল, যাঁরা নেক কাজ করেন। দ্বিতীয় অর্থ হল, যাঁরা নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর ইবাদত করেন। যেমন, হাদীসে ‘ইহসান’এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, (أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ) ‘‘তুমি আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে কর যেন তুমি তাঁকে দেখছ। যদি এ রকম ভাব সৃষ্টি করা সম্ভব না হয়, তবে এটা যেন অবশ্যই মনে করা হয় যে, তিনি তোমাকে দেখছেন।’’ তৃতীয় অর্থ, যাঁরা মানুষের সাথে সুন্দর আচরণ ও উত্তম ব্যবহার করেন। চতুর্থ অর্থ হল, যাঁরা প্রত্যেক নেক কাজকে সুন্দরভাবে বিনয়-নম্রতা এবং নবী করীম (সাঃ)-এর সুন্নত অনুযায়ী সম্পাদন করেন। ইবাদতে আধিক্যের পরিবর্তে (যেটুকু করেন তাতে) সৌন্দর্যের খেয়াল রাখেন।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৩৫ لِیُكَفِّرَ اللّٰهُ عَنۡهُمۡ اَسۡوَاَ الَّذِیۡ عَمِلُوۡا وَ یَجۡزِیَهُمۡ اَجۡرَهُمۡ بِاَحۡسَنِ الَّذِیۡ كَانُوۡا یَعۡمَلُوۡن﴾
যাতে তারা যেসব মন্দ কাজ করেছিল, আল্লাহ তা ঢেকে দেন এবং তারা যে সর্বোত্তম আমল করত তার প্রতিদানে তাদেরকে পুরস্কৃত করেন। আল-বায়ান
যাতে তারা যে সব মন্দ কাজ করেছে আল্লাহ্ তা মুছে দিতে পারেন, আর তারা যে সব সৎ কাজ করেছে তজ্জন্য তাদেরকে পুরস্কৃত করেন। তাইসিরুল
কারণ তারা যে সব মন্দ কাজ করেছিল আল্লাহ তা ক্ষমা করে দিবেন এবং তাদেরকে তাদের সৎ কাজের জন্য পুরস্কৃত করবেন। মুজিবুর রহমান
That Allah may remove from them the worst of what they did and reward them their due for the best of what they used to do. Sahih International
৩৫. যাতে এরা যেসব মন্দকাজ করেছে আল্লাহ তা ক্ষমা করে দেন এবং এদেরকে এদের সর্বোত্তম কাজের জন্য পুরস্কৃত করেন।
তাফসীরে জাকারিয়া
(৩৫) কারণ, এরা যে সব মন্দ কাজ করেছিল, আল্লাহ তা ক্ষমা করে দেবেন এবং তাদের কৃত সৎকাজের জন্য তাদেরকে পুরস্কৃত করবেন।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
:৩৬ اَلَیۡسَ اللّٰهُ بِكَافٍ عَبۡدَهٗ ؕ وَ یُخَوِّفُوۡنَكَ بِالَّذِیۡنَ مِنۡ دُوۡنِهٖ ؕ وَ مَنۡ یُّضۡلِلِ اللّٰهُ فَمَا لَهٗ مِنۡ هَاد
আল্লাহ কি তাঁর বান্দার জন্য যথেষ্ট নন? অথচ তারা তোমাকে আল্লাহর পরিবর্তে অন্যদের ভয় দেখায়। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কোন হিদায়াতকারী নেই। আল-বায়ান
আল্লাহ কি তাঁর বান্দাহর জন্য যথেষ্ট নন? অথচ তোমাকে তারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্যদের ভয় দেখায়। আল্লাহ যাকে পথহারা করেন তার জন্য কেউ পথ দেখাবার নেই। তাইসিরুল
আল্লাহ কি তাঁর বান্দার জন্য যথেষ্ট নন? অথচ তারা তোমাদেরকে আল্লাহর পরিবর্তে অপরের ভয় দেখায়। আল্লাহ যাকে বিভ্রান্ত করেন তার জন্য কোন পথ প্রদর্শক নেই। মুজিবুর রহমান
Is not Allah sufficient for His Servant [Prophet Muhammad]? And [yet], they threaten you with those [they worship] other than Him. And whoever Allah leaves astray - for him there is no guide. Sahih International
৩৬. আল্লাহ কি তাঁর বান্দার জন্য যথেষ্ট নন? অথচ তারা আপনাকে আল্লাহর পরিবর্তে অন্যের ভয় দেখায়।(১) আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য কোন হেদায়াতকারী নেই।
(১) অর্থাৎ তারা আপনাকে তাদের উপাস্য মা’বুদদের ভয় দেখায়। [তাবারী]
তাফসীরে জাকারিয়া
(৩৬) আল্লাহ কি তাঁর দাসের জন্য যথেষ্ট নন?[1] অথচ তারা তোমাকে আল্লাহর পরিবর্তে অপরের ভয় দেখায়। আল্লাহ যাকে বিভ্রান্ত করেন, তার জন্য কোন পথপ্রদর্শক নেই। [2]
[1] এখানে ‘দাস’ বলতে নবী করীম (সাঃ)-কে বুঝানো হয়েছে। কারো কারো নিকট এটা সাধারণ। সমস্ত নবী এবং প্রত্যেক মু’মিন এতে শামিল। অর্থ হল, তোমাকে গায়রুল্লাহর ভয় দেখানো হয়, কিন্তু আল্লাহ যখন তোমার সমর্থক ও সাহায্যকারী, তখন তোমার কেউ কিছুই করতে পারবে না। তোমার পক্ষ হতে তাদের মোকাবেলার জন্য তিনিই যথেষ্ট।
[2] যে এই ভ্রষ্টতা থেকে বের করে হিদায়াতের রাস্তা ধরিয়ে দেবে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৩৭ وَ مَنۡ یَّهۡدِ اللّٰهُ فَمَا لَهٗ مِنۡ مُّضِلٍّ ؕ اَلَیۡسَ اللّٰهُ بِعَزِیۡزٍ ذِی انۡتِقَامٍ
আর আল্লাহ যাকে হিদায়াত করেন, তার জন্য কোন পথভ্রষ্টকারী নেই। আল্লাহ কি মহাপরাক্রমশালী প্রতিশোধ গ্রহণকারী নন? আল-বায়ান
আর আল্লাহ যাকে পথ দেখান, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই। আল্লাহ কি মহাশক্তিধর প্রতিশোধ গ্রহণকারী নন? তাইসিরুল
এবং যাকে আল্লাহ হিদায়াত দান করেন তার জন্য কোন পথভ্রষ্টকারী নেই, আল্লাহ কি পরাক্রমশালী দন্ডবিধায়ক নন? মুজিবুর রহমান
And whoever Allah guides - for him there is no misleader. Is not Allah Exalted in Might and Owner of Retribution? Sahih International
৩৭. আর যাকে আল্লাহ্ হেদায়াত করেন তার জন্য কোন পথভ্রষ্টকারী নেই; আল্লাহ কি পরাক্রমশালী, প্রতিশোধ গ্ৰহণকারী নন?
তাফসীরে জাকারিয়া
(৩৭) এবং যাকে আল্লাহ পথনির্দেশ করেন, তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না,[1] আল্লাহ কি পরাক্রমশালী, প্রতিশোধগ্রহণকারী নন? [2]
[1] যে তাকে এই হিদায়াত থেকে বের করে ভ্রষ্টতার গর্তে নিক্ষেপ করবে। অর্থাৎ, হিদায়াত দান ও ভ্রষ্ট করা সবই আল্লাহর কাজ। তিনি যাকে চান ভ্রষ্ট করেন এবং যাকে চান হিদায়াত দানে ধন্য করেন।
[2] কেন নন, অবশ্যই। এই জন্য যে, যদি এই লোকেরা কুফরী ও অবাধ্যতা থেকে ফিরে না আসে, তবে তিনি অবশ্যই তাঁর বন্ধুদের পক্ষ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করবেন এবং তাদেরকে শিক্ষামূলক প্রতিফল ভোগ করাবেন।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
:৩৮ وَ لَئِنۡ سَاَلۡتَهُمۡ مَّنۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضَ لَیَقُوۡلُنَّ اللّٰهُ ؕ قُلۡ اَفَرَءَیۡتُمۡ مَّا تَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ اِنۡ اَرَادَنِیَ اللّٰهُ بِضُرٍّ هَلۡ هُنَّ كٰشِفٰتُ ضُرِّهٖۤ اَوۡ اَرَادَنِیۡ بِرَحۡمَۃٍ هَلۡ هُنَّ مُمۡسِكٰتُ رَحۡمَتِهٖ ؕ قُلۡ حَسۡبِیَ اللّٰهُ ؕ عَلَیۡهِ یَتَوَكَّلُ الۡمُتَوَكِّلُوۡنَ
আর তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, কে আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে ‘আল্লাহ’। বল, ‘তোমরা কি ভেবে দেখেছ- আল্লাহ আমার কোন ক্ষতি চাইলে তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ডাক তারা কি সেই ক্ষতি দূর করতে পারবে? অথবা তিনি আমাকে রহমত করতে চাইলে তারা সেই রহমত প্রতিরোধ করতে পারবে’? বল, ‘আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট’। তাওয়াক্কুলকারীগণ তাঁর উপরই তাওয়াক্কুল করে। আল-বায়ান
তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর- আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছে কে? তারা অবশ্য অবশ্যই বলবে, আল্লাহ। তোমরা কি চিন্তা করে দেখেছ যে, আল্লাহ আমার ক্ষতি করতে চাইলে আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদেরকে ডাক, তারা কি সে ক্ষতি দূর করতে পারবে? অথবা তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করতে চাইলে, তারা কি তাঁর অনুগ্রহ ঠেকাতে পারবে? বল, আমার জন্য আল্লাহ্ই যথেষ্ট, নির্ভরকারীরা তাঁর উপরই নির্ভর করে। তাইসিরুল
তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস করঃ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছেন? তারা অবশ্যই বলবেঃ আল্লাহ! বলঃ তোমরা কি ভেবে দেখেছ যে, আল্লাহ আমার অনিষ্ট চাইলে তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাক তারা কি সেই অনিষ্টতা দূর করতে পারবে? অথবা তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করতে চাইলে তারা কি সেই অনুগ্রহ রোধ করতে পারবে? বলঃ আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। নির্ভরকারীরা আল্লাহর উপর নির্ভর করে। মুজিবুর রহমান
And if you asked them, "Who created the heavens and the earth?" they would surely say, "Allah." Say, "Then have you considered what you invoke besides Allah? If Allah intended me harm, are they removers of His harm; or if He intended me mercy, are they withholders of His mercy?" Say, "Sufficient for me is Allah; upon Him [alone] rely the [wise] reliers." Sahih International
৩৮. আর আপনি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, আসমানসমূহ ও যমীন কে সৃষ্টি করেছেন? তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ। বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, আল্লাহ আমার অনিষ্ট করতে চাইলে তোমরা আল্লাহ্র পরিবর্তে যাদেরকে ডাক তারা কি সে অনিষ্ট দূর করতে পারবে? অথবা তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করতে চাইলে তারা কি সে অনুগ্রহকে রোধ করতে পারবে? বলুন, আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। নির্ভরকারীগণ তাঁর উপরই নির্ভর করে।
তাফসীরে জাকারিয়া
(৩৮) তুমি যদি ওদেরকে জিজ্ঞাসা কর, ‘আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছেন?’ ওরা অবশ্যই বলবে, ‘আল্লাহ।’ বল, ‘তাহলে তোমরা ভেবে দেখেছ কি? আল্লাহ আমার অনিষ্ট চাইলে তোমরা তাঁকে ছাড়া যাদেরকে আহবান কর, তারা কি সেই অনিষ্ট দূর করতে পারবে? অথবা তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করতে চাইলে তারা কি সেই অনুগ্রহকে রোধ করতে পারবে?’ বল, ‘আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।[1] নির্ভরকারীরা তাঁরই উপর নির্ভর করে থাকে।’[2]
[1] কেউ কেউ বলেন যে, যখন নবী (সাঃ) উল্লিখিত প্রশ্ন তাদের সামনে পেশ করলেন, তখন তারা বলল যে, সত্যিই তারা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত কোন জিনিসকে দূর করতে পারবে না, তবে তারা সুপারিশ করবে। এরই ভিত্তিতে এই অংশটুকু অবতীর্ণ হয়েছে যে, সমস্ত কার্যকলাপের ব্যাপারে আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।
[2] যখন সমস্ত কিছু তাঁরই এখতিয়ারে, তখন অন্যের উপর নির্ভর করায় লাভ কি? এই জন্য ঈমানদারেরা কেবল তাঁরই উপর নির্ভর করে থাকে। তিনি ব্যতীত অন্য কারো উপর তারা নির্ভর করে না, ভরসা ও আস্থা রাখে না।
৭১
১৪৫ মন্তব্য