Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ জানুয়ারি, ২০২৫ ০৫:০৭ অপরাহ্ণ

মুদ্রাস্ফীতি কী?মুদ্রাস্ফীতি কেন ঘটে?

অর্থনীতিতে , মুদ্রাস্ফীতি হল একটি অর্থনীতিতে পণ্য ও পরিষেবার দামের একটি সাধারণ বৃদ্ধি। এটি সাধারণত একটি ভোক্তা মূল্য সূচক (CPI) ব্যবহার করে পরিমাপ করা হয়। যখন সাধারণ মূল্য স্তর বৃদ্ধি পায়, মুদ্রার প্রতিটি ইউনিট কম পণ্য এবং পরিষেবা ক্রয় করে; ফলস্বরূপ, মুদ্রাস্ফীতি অর্থের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাসের সাথে মিলে যায়। সহজ ভাষায় বললে, একটি দেশের বাজারে পণ্যের মজুদ এবং মুদ্রার পরিমাণের মধ্যে ভারসাম্য থাকতে হয়। যদি পণ্যের তুলনায় মুদ্রার সরবরাহ অনেক বেড়ে যায় অর্থাৎ দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক অতিরিক্ত মাত্রায় টাকা ছাপায় তখনই মুদ্রাস্ফীতি ঘটে।


এর ফলে একই পরিমাণ পণ্য কিনতে আপনাকে আগের চাইতে বেশি মুদ্রা খরচ করতে হবে। এর মানে জিনিষপত্রের দাম বেড়ে যাবে। সব মিলিয়ে ওই মুদ্রার মান বা ক্রয়ক্ষমতা কমে যাবে।ধরুন, গত বছর ২০ কেজি চাল কিনতে আপনার খরচ হতো ১০০০ টাকা। কিন্তু চলতি বছর সেই একই পরিমাণ চাল কিনতে আপনার খরচ পড়ছে ১০৫০ টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে ৫০ টাকা বা ৫% বেশি টাকা লাগছে। এই ৫% হল মুদ্রাস্ফীতির পরিমাণ। এর মানে টাকার মানও ৫% কমে গিয়েছে।এভাবে একটি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার দামের পরিবর্তন হিসাব করে মুদ্রাস্ফীতি পরিমাপ করা হয়।


অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মুদ্রাস্ফীতি যদি ওই দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধির চেয়ে কম থাকে তাহলে সেটার তেমন নেতিবাচক প্রভাব থাকে না। সাধারণত ২ থেকে ৫ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি থাকলে সেটাকে সহনীয় বলা যায়। ৭ থেকে ১০ শতাংশ হলে মধ্য ও নিম্নবিত্ত আয়ের মানুষের কষ্ট বেড়ে যাবে। এবং এর চাইতে বেশি মুদ্রাস্ফীতি পুরো দেশের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তবে এটা নির্ভর করছে সেই দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর। তবে হাতে গোনা কয়েকটি পণ্য ও সেবার মূল্য বাড়লেই সেটাকে মুদ্রাস্ফীতি বলা যাবে না। যদি সামগ্রিকভাবে পণ্য ও সেবার মূল্য বাড়ে তাহলেই বুঝতে হবে মুদ্রাস্ফীতির কারণে এমন হয়েছে।


মুদ্রাস্ফীতি কেন ঘটে?


মুদ্রাস্ফীতির প্রধান কারণ :-

-পণ্য ও সেবা সরবরাহ

বাজারে যদি কোন পণ্য ও সেবার চাহিদা বেড়ে যায় এবং সে অনুযায়ী সরবরাহ না থাকে, তখন দাম বেড়ে যায়। আবার কোনও জিনিস তৈরি করতে যে সামগ্রী লাগে তার দাম বাড়লেও মূল পণ্যের দাম বেড়ে যায়। আবার যদি একটি দেশের জনসংখ্যা অনুপাতে পণ্য ও সেবা সরবরাহ পর্যাপ্ত না থাকলেও দামে এর প্রভাব পড়ে। দেশের অর্থনীতি প্রবলভাবে নির্ভরশীল জ্বালানি তেলের ওপর। কারণ যেকোনো পণ্য গ্রাহকের কাছে পৌঁছায় পেট্রোল বা ডিজেলে চালিত যানবাহনের মাধ্যমে। ফলে এই তেলের দামের প্রভাব সব পণ্যের ওপরেই কমবেশি পড়ে। সম্প্রতি ইউক্রেনে যুদ্ধ পরিস্থিতির একটা বড় প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের ওপর।

 -প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও যুদ্ধ

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও যুদ্ধের কারণে পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয় ফলে সংকট দেখা দেয়, যার প্রভাব দামে গিয়ে পড়ে। এছাড়া যুদ্ধে লিপ্ত রাষ্ট্রগুলো যুদ্ধে বিনিয়োগের জন্য প্রচুর অর্থ ছাপিয়ে থাকে, সেটাও মুদ্রার সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়।

- ভর্তুকি

সরকার বিভিন্ন খাতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভর্তুকি দিলে কিংবা সরকার খরচ বাড়ালে সেই টাকা জনগণের পকেটে আসে। এর প্রভাবে জিনিষপত্রের দাম বেড়ে যায়।

- মুদ্রানীতি

সরকার যদি বিভিন্ন কারণে বেশি করে মুদ্রা ছাপাতে শুরু করে, এতে বাজারে মুদ্রার আধিক্য দেখা যায় অথচ জিনিসপত্রের যোগান না বাড়ায় পণ্য ও সেবার দাম বেড়ে যায়।ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়।

রাজস্ব নীতি

একটি দেশের সরকার সাধারণত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে খরচ করার জন্য বৈদেশিক ঋণ নিয়ে থাকে এবং সেই মুদ্রা যখন দেশের বাজারে আসে অথচ অন্যদিকে পণ্যের সরবরাহ আগের মতোই থাকে। তখন সেটার প্রভাবেও মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়।

 -উন্নয়নমূলক কাজ

সরকারি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে যদি প্রচুর অর্থ ব্যয় করে এবং সে অনুপাতে যদি পণ্যের যোগান না বাড়ে তাহলে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়।

 -সুদ

ব্যাংকগুলো সুদের হার কমিয়ে দিলে, মানুষ প্রচুর ঋণ নিতে শুরু করে। এতে বাজারে মুদ্রার সরবরাহ বেড়ে যায়। এতে মুদ্রাস্ফীতি ঘটে।

 -মজুরি

মজুরি বা বেতন বৃদ্ধিও মুদ্রাস্ফীতির বড় কারণ। সাধারণত মানুষের হাতে অতিরিক্ত অর্থ চলে আসলে তাদের পণ্য ও সেবার চাহিদা বাড়ে।

মন্তব্য করুন