প্রকাশনা

বেগম রোকেয়ার প্রথম জীবন ও সাহিত্য চর্চার সূচনাঃ

মোছাঃ লুৎফুন্নাহার তালুকদার ৩১ জুলাই,২০২২ ৮৯ বার দেখা হয়েছে লাইক কমেন্ট ৪.৪৩ রেটিং ( )

প্রথম জীবন


রোকেয়া জন্মগ্রহণ করেন ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার অর্ন্তগত পায়রাবন্দ গ্রামে। তার পিতা জহীরুদ্দিন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের তিনি শিক্ষিত জমিদার ছিলেন। তার মাতা ছিলেন রাহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধুরানীরোকেয়ার দুই বোন করিমুননেসা ও হুমায়রা, আর তিন ভাই যাদের একজন শৈশবে মারা যায়

কোনো ভগ্নী মস্তক উত্তোলন করিয়াছেন, অমনি ধর্মের দোহাই বা শাস্ত্রের বচন-রূপ অস্ত্রাঘাতে তাঁহার মস্তক চূর্ণ হইয়াছে। ... আমাদিগকে অন্ধকারে রাখিবার জন্যে পুরুষগণ এই ধর্মগ্রন্থগুলি ইশ্বরের আদেশ বলিয়া প্রচার করিয়াছেন। ... এই ধর্মগ্রন্থগুলি পুরুষরচিত বিধিব্যবস্থা ভিন্ন কিছুই নহে। মুনিদের বিধানে যে কথা শুনিতে পান, কোনো স্ত্রী-মুনির বিধানে হয়ত তাঁহার বিপরীত নিয়ম দেখিতে পাইতেন। ... ধর্ম আমাদের দাসত্বের বন্ধন দৃঢ় হইতে দৃঢ়তর করিয়াছে; ধর্মের দোহাই দিয়া পুরুষ এখন রমণীর উপর প্রভুত্ব করিতেছেন

বেগম রোকেয়া, ১৯০৪

বেগম রোকেয়ার পিতা আবু আলী হায়দার সাবের আরবি, উর্দু, ফারসি, বাংলা, হিন্দি এবং ইংরেজি ভাষায় পারদর্শী হলেও মেয়েদের শিক্ষার ব্যাপারে ছিলেন রক্ষণশীল। রোকেয়ার বড় দু’ভাই  মোহাম্মদ ইব্রাহীম আবুল আসাদ সাবের  খলিলুর রহমান আবু যায়গাম সাবের ছিলেন বিদ্যানুরাগী। কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে অধ্যয়ন করে তারা আধুনিকমনস্ক হয়ে ওঠেন[১] রোকেয়ার বড় বোন করিমুন্নেসাও ছিলেন বিদ্যোৎসাহী ও সাহিত্যানুরাগী। বেগম রোকেয়ার শিক্ষালাভ, সাহিত্যচর্চা এবং সামগ্রিক মূল্যবোধ গঠনে বড় দু’ভাই ও বোন করিমুন্নেসার যথেষ্ট অবদান ছিল

তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় মেয়েদের গৃহের অর্গলমুক্ত হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষালাভের কোনো সুযোগ ছিল না। পাঁচ বছর বয়সে মায়ের সঙ্গে কলকাতায় বসবাস করার সময় একজন মেম শিক্ষয়িত্রীর নিকট তিনি কিছুদিন লেখাপড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন[১] কিন্তু সমাজ ও আত্মীয়স্বজনদের ভ্রুকুটির জন্য তাও বন্ধ করে দিতে হয়[১] তবু রোকেয়া দমে যাননি। বড় ভাই-বোনদের সমর্থন ও সহায়তায় তিনি বাংলাইংরেজিউর্দুফার্সি এবং আরবি আয়ত্ত করেন

যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন সম্পর্কে বঙ্গের মহিলা কবি গ্রন্থে লিখেছেন,

বঙ্গের মহিলা কবিদের মধ্যে মিসেস আর,এস, হোসায়েনের নাম স্মরণীয়। বাঙ্গালাদেশের মুসলমান-নারী-প্রগতির ইতিহাস-লেখক এই নামটিকে কখনো ভুলিতে পারিবেন না। রোকেয়ার জ্ঞানপিপাসা ছিল অসীম। গভীর রাত্রিতে সকলে ঘুমাইলে চুপি চুপি বিছানা ছাড়িয়া বালিকা মোমবাতির আলোকে জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার কাছে ইংরাজী ও বাংলায় পাঠ গ্রহণ করিতেন। পদে পদে গঞ্জনা সহিয়াও এভাবে দিনের পর দিন তাঁহার শিক্ষার দ্রুত উন্নতি হইতে লাগিল। কতখানি আগ্রহ ও একাগ্রতা থাকিলে মানুষ শিক্ষার জন্য এরূপ কঠোর সাধনা করিতে পারে তাহা ভাবিবার বিষয়

সাহিত্যচর্চার সূচনা

সাহিত্যিক হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯০২ সালে।কলকাতা থেকে প্রকাশিত 'নভপ্রভা' পত্রিকায় ছাপা হয়"পিপাসা"।বিভিন্ন সময়ে তার রচনা নানা পত্রিকায় ছাপা হতে থাকে। ১৯০৫ সালে প্রথম ইংরেজি রচনা "সুলতানাজ ড্রিম বা সুলতানার স্বপ্নমাদ্রাজ থেকে প্রকাশিত একটি পত্রিকায় ছাপা হয়। সবাই তার রচনা পছন্দ করে। তিনি সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন

 

স্বামী সৈয়দ সাখাওয়াৎ হোসেনের সাথে রোকেয়া (১৮৯৮)

১৮৯৮ সালে রোকেয়ার বিয়ে হয় বিহারের ভাগলপুর নিবাসী উর্দুভাষী সৈয়দ সাখাওয়াৎ হোসেনের সঙ্গে। তিনি ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, তদুপরি সমাজসচেতন, কুসংস্কারমুক্ত এবং প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন। উদার ও মুক্তমনের অধিকারী স্বামীর উৎসাহ ও সহযোগিতায় রোকেয়া দেশি-বিদেশি লেখকদের রচনার সঙ্গে নিবিড়ভাবে পরিচিত হবার সুযোগ পান এবং ক্রমশ ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন। তার সাহিত্যচর্চার সূত্রপাতও ঘটে স্বামীর অনুপ্রেরণায়। তবে রোকেয়ার বিবাহিত জীবন বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ১৯০৯ সালের ৩ মে সাখাওয়াৎ হোসেন মারা যান। ইতোপূর্বে তাঁদের দুটি কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করে অকালেই মারা যায়। ১৯০২ সালে পিপাসা নামে একটি বাংলা গল্প লিখে সাহিত্যজগতে তার অবদান রাখা শুরু হয়। এরপর একে একে লিখে ফেলেন মতিচূর-এর প্রবন্ধগুলো এবং সুলতানার স্বপ্ন-এর মতো নারীবাদী বিজ্ঞান কল্পকাহিনী

 

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
বীণা মিত্র
১৪ অক্টোবর, ২০২২ ১১:০১ অপরাহ্ণ

শুভকামনা রইল।


মোঃ আরিফুল ইসলাম
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১১:১২ অপরাহ্ণ

প্রিয় স্যার, আসসালামু আলাইকুম, বাতায়নে আমি সক্রিয়ভাবে অনেক দিন যাবত কাজ করে আসছি। বাতায়নে আমি ১০২ টি কনটেন্ট, ১০৬ টি ভিডিও কনটেন্ট, ৩১২ টি ছবি, ১৩৪ টি ব্লগ ও ৪৫৭ টি অনলাইন ক্লাস আপলোড করেছি। স্যার সময় পেলে আমার বাতায়ন প্রোফাইল দেখার জন্য বিনীত অনুরোধ রইল। স্যার আপনার সুচিন্তিত মূল্যায়ন আমার পেশাগত জীবনে অনুপ্রেরণা যোগাবে । বাতায়ন প্রোফাইল লিংকঃ https://www.teachers.gov.bd/profile/arif046980 ফেইসবুক পেইজ লিনকঃ https://www.facebook.com/arifsir857580/ বাতায়ন ফেইজবুক গ্রুপ লিংকঃ https://www.facebook.com/groups/360976128258955/?ref=share User Id: mailto:arif046980@gmail.com কনটেন্ট লিংকঃ. https://www.teachers.gov.bd/content/details/1173735 মোঃ আরিফুল ইসলাম। প্রভাষক (ইংরেজী) প্রতিষ্ঠানের ধরন: আলিম শাখা বিভাগ: সিলেট জেলা: হবিগঞ্জ উপজেলা: হবিগঞ্জ সদর স্কুলের নাম: শায়েস্তাগঞ্জ কামিল মাদরাসা। ICT4E জেলা অ্যাম্বাসেডর, হবিগঞ্জ। মোঃ ০১৭১১৮৫৭৫৮০


ফিরোজ আহমেদ
১১ আগস্ট, ২০২২ ০৬:০২ অপরাহ্ণ

Nice addition. Good luck with full rating for you. There was an invitation to my window house. Please come and give constructive advice with your like, comment and full rating. Above all thanks for being with Batayan.


প্রবীর রঞ্জন চৌধুরী
১১ আগস্ট, ২০২২ ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ

শুভ কামনা।


আকলিমা আক্তার
০৭ আগস্ট, ২০২২ ০৮:৪৭ অপরাহ্ণ

চমৎকার উপস্থাপনা লাইক,পূর্ণরেটিং সহ আপনার জন্য শুভ কামনা রইল।


মোঃ মুজিবুর রহমান
০৫ আগস্ট, ২০২২ ০৭:০০ পূর্বাহ্ণ

লাইক ও রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা। আমার আপলোডকৃত কনটেন্ট দেখে আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ প্রত্যাশা করছি।


মোছাঃ হোসনে আরা
০১ আগস্ট, ২০২২ ১০:৩৮ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা রইলো। আমার আপলোডকৃত কনটেন্ট দেখে আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দেয়ার জন্য অনুরোধ করছি।


লুৎফর রহমান
০১ আগস্ট, ২০২২ ১০:২২ পূর্বাহ্ণ

??Thanks for nice content and best wishes including full ratings. Please give your like, comments and ratings to watch my all contents. ♥️♥️