•পরিবার ও বিবাহ দুটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। পরিবার হচ্ছে ব্যক্তির হৃদয়বৃত্তি প্রকাশের জন্য, মানসিক যাতনার উপশমের জন্য, যৌন ক্ষুধার পরিসমাপ্তি ঘটানোর জন্য, শিশুর শিক্ষা ও লালন পালনের জন্য সমাজ জীবনের মূল কেন্দ্র। পরিবার একটি শৃঙ্খলিত গোষ্ঠী আর বিবাহ হল একটি সামাজিক কার্যপ্রণালী। বিবাহের ফলে সমাজের শৃঙ্খলা রক্ষা পায় এবং পরস্পরের মাঝে বন্ধনের দ্বারা পরিবার গঠিত হয়।
•শিক্ষা একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। সামাজিক পটভূমিকায় মানুষের পরিবর্তনশীল, পরিবর্ধিত পুনর্গঠিত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অর্জিত বৃদ্ধিমূলক কর্মকুশলতা কে শিক্ষা বলা হয়। শিক্ষা ব্যক্তির সুপ্ত শক্তির বিকাশ সাধন করে। সমাজস্থ মানুষের মধ্যে অন্তর্নিহিত সুপ্ত শক্তির পূর্ণ বিকাশ সাধন করে তাদেরকে আত্মোপলব্ধি করতে সহায়তা করাই শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য। সমাজবিজ্ঞানীরা সামাজিক প্রক্রিয়া হিসেবে সমাজে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নির্ধারণ করেন । সমাজবিজ্ঞান বিশ্লেষণের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি ,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের প্রধান কাজ হল একটি উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা, যার মাধ্যমে শিক্ষার প্রকৃতি ও বাস্তব,অলঙ্কারিক ও ব্যবহারিক উভয়রূপ উদ্দেশ্যই সাধিত হতে পারে।
•সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান সামাজিক প্রতিষ্ঠানের আওতাভুক্ত ।এ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাবে মানুষের মানসিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতি সাধিত হয় । সাহিত্য সংঘ, সংগীত চর্চা ,চিত্রকলা, ক্রীড়া সংঘ প্রভৃতি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষের সৃজনশীল বৃত্তি সমূহের বিকাশ ঘটে। ফলে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ সুন্দর ও সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনের কাজে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অংশ গ্রহণ করে থাকে।
•সামাজিক প্রতিষ্ঠান ব্যক্তির আচার-আচরণ, নিরাপত্তা ,নারী-পুরুষের বৈধ সম্পর্ক, শিক্ষা, প্রয়োজনীয় জ্ঞান, মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গির বিকাশ সাধনেও গুরুত্বপূর্ণ।
•সামাজিক
প্রতিষ্ঠান নীতিবোধ, গঠনমূলক চরিত্র বিকাশের ক্ষেত্রে সমাজের জনগণকে সঠিকভাবে
পরিচালিত করতে এবং রাষ্ট্রীয় আইন ও বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ
প্রতিরোধ ও সংশোধনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।