ভিডিও কনটেন্ট

আত - তাওহিদ বিল ইবাদাত || Class: 8 || Nurul Amin || By NIDM

নুরুল আমিন ০১ নভেম্বর,২০২০ ৫৩ বার দেখা হয়েছে লাইক কমেন্ট ০.০০ রেটিং ( )

ইসমাঈল রাজী আল ফারুকীর বই ‘আত তাওহীদ : চিন্তাক্ষেত্রে ও জীবনে এর অর্থ ও তাৎপর্য’ ইংরেজি ও বাংলায় বারবার পড়লাম। কয়েক জায়গায় বইটি নিয়ে আলোচনাও করেছি। এ গ্রন্থখানি বাংলায় বেশি প্রচারিত হয়নি। অথচ এর লাখ লাখ কপি ছড়ানো দরকার ছিল। বইটি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থ্যট (বিআইআইটি)। বাড়ি ৪, রাস্তা ২, সেক্টর ৯, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০। ফোন : ০২-৫৮৯৫৪২৫৬, ০২-৫৮৯৫৭৫০৯। তাওহিদভিত্তিক জীবন কেমন, তার রূপরেখা কী- এর ওপর এর চেয়ে উন্নতমানের বই কোনো ভাষায় নেই বলেই মনে হয়। এর লেখক গত ১০০ বছরের ইসলামী চিন্তাবিদ ও দার্শনিকদের প্রথম ১০ জনের মধ্যে একজন বলেই আমরা মনে করি। এ বইয়ের সারমর্ম জনগণের সামনে উপস্থাপন করছি। লেখক প্রথম অধ্যায়ে বলেছেন, ফরাসি বিপ্লবের পর একদল দার্শনিক বলে থাকেন, জগৎ সৃষ্টির পর স্রষ্টা কতগুলো প্রাকৃতিক আইন দিয়ে দিয়েছেন, বিশ্ব ও আকাশমণ্ডল এর ভিত্তিতেই চলছে, এখন স্রষ্টার কোনো কাজ নেই, তাকে অলস বা কর্মহীন বলা যায়। লেখক আল ফারুকী এমন ধারণা প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, স্রষ্টা সব সময়ই তার কাজ করছেন, নিজে অথবা অন্য কারো মাধ্যমে। দ্বিতীয় অধ্যায়ে ইসমাঈল রাজী আল ফারুকী বলেছেন, তাওহিদ হচ্ছে ইসলামের সার বা নির্যাস। তাওহিদের অর্থ হচ্ছে- স্রষ্টা মাত্র একজন, অন্য সব কিছু তারই সৃষ্টি। আল্লাহর পুত্রের ধারণা এবং দেবদেবীর ক্ষমতার ধারণা ইসলাম প্রত্যাখ্যান করেছে। তৃতীয় অধ্যায়ে ইতিহাসের মৌলনীতি আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ইসলাম মানুষকে দিয়েছে কর্মবাদ এবং আল্লাহ মানুষকে দিয়েছেন সব ধরনের যোগ্যতা। সুতরাং মানুষকে কর্মের মাধ্যমে সভ্যতা সৃষ্টি করতে হবে; ইতিহাস সৃষ্টি করতে হবে- এটাই আল্লাহর অভিপ্রায়। রাসূল সা: এবং সাহাবিরা এটাই করেছিলেন। আল্লাহ রাসূল সা:কে হুকুম দিয়েছেন যেন কর্মের মাধ্যমে তিনি মানুষকে এবং ইতিহাসকে নতুন রূপ দেন। চতুর্থ অধ্যায়ে লেখক জ্ঞানের মূল সূত্র তুলে ধরেছেন। ঈমান শব্দটি আলিফ মিম নুন থেকে এসেছে। এর অর্থ সাধারণ বিশ্বাস নয়, সুদৃঢ় বিশ্বাস বা Conviction। ইসলামের বিশ্বাসের সাথে সত্যিকার অর্থে যুক্তির কোনো বিরোধ নেই। বিরোধ আছে মনে হলে বারবার বুঝতে চেষ্টা করতে হবে, আমি কি ওহি সঠিকভাবে বুঝেছি কিংবা যাকে যুক্তি বলছি, তা কি সত্যিই যুক্তিসঙ্গত? তাহলে এসব আপাত বিরোধ আর থাকবে না। পঞ্চম অধ্যায়ে লেখক বলছেন, কোনো কোনো ধর্ম সৃষ্টিকে ‘দুর্ঘটনা’ মনে করে থাকে। তারা মনে করেন, জগৎ থেকে পরিত্রাণ পাওয়াই মানবজাতির আসল লক্ষ্য হতে হবে। ইসলামে প্রকৃতি হচ্ছে সৃষ্টি, কিন্তু উদ্দেশ্যময়। সব কিছুর উদ্দেশ্য আছে। আল্লাহ তায়ালা প্রাকৃতিক আইন দিয়েছেন। এসব আইনের ফলে যা ঘটে, তা একইভাবে ঘটে থাকে; ভিন্ন ভিন্নভাবে নয়। ফলে বিজ্ঞানীরা সৃষ্টির পেছনে যেসব নিয়ম আছে, তা বের করতে পেরেছেন। ইসলাম বিজ্ঞানের শত্রু নয়, বরং আল্লাহ প্রাকৃতিক আইন দিয়েছেন বলেই বিজ্ঞান সৃষ্টি হয়েছে। Allah is the condition of science. . ষষ্ঠ অধ্যায়ে আল ফারুকী নৈতিকতার ভিত্তি ও মূলনীতি আলোচনা করেছেন- যা প্রাকৃতিক আইনে হয়, তাতে নৈতিকতার কোনো প্রশ্ন ওঠে না। যেখানে মানবিক স্বাধীনতা রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে কাজের মাধ্যমেই মানুষের নৈতিকতা বিবেচিত হয়। মানুষ জন্মগত পাপী নয়, যেমন কোনো কোনো ধর্ম বলেছে। ইসলাম বিশ্বজনীন; এখানে গোত্রবাদ কিংবা দেশপূজা নেই। সপ্তম অধ্যায়ে তিনি সমাজব্যবস্থার মূলনীতি দিয়েছেন। ইসমাঈল রাজী আল ফারুকী বলেছেন, সমাজব্যবস্থা হচ্ছে ইসলামের হৃৎপিণ্ড। সমাজের মাধ্যমেই কার্যকর হয় আল্লাহর অভিপ্রায়। ইসলামী সমাজ ইহুদি ধর্মের মতো গোত্রীয় (tribal) নয়। সেকুলারিজম সমাজকে নীতিবোধ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। সেকুলারিজমের কোনো মূল্যবোধ নেই। এর একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে ধর্ম থেকে দূরে থাকা, এই negative মূল্যবোধ। তিনি বলেন, আল্লাহর অভিপ্রায় হচ্ছে সমাজমুখী বা সমাজকেন্দ্রিক। ইসলাম প্রত্যেক ব্যক্তিকে দায়িত্বশীল বা মুকাল্লিফ হতে বলেছে। অষ্টম অধ্যায়ে তিনি মুসলিম উম্মাহ বা মুসলিম বিশ্বসমাজের মূলনীতি উল্লেখ করছেন। উম্মাহ আধুনিক অর্থে কোনো গ্রুপ নয় বা গোষ্ঠী নয়; উম্মাহ বিশ্বজনীন। মুসলিম উম্মাহ একটি শরীরের মতো, তার এক অঙ্গে ব্যথা লাগলে অন্য স্থানেও ব্যথা লাগে। উম্মাহর সম্ভাবনা অনেক। এটি গতিশীল ছিল। কিন্তু মুসলিম শাসক ও ফিকাহবিদেরা এটাকে স্থবির করে ফেলেছেন।

মতামত দিন