ভিডিও কনটেন্ট

পাছে লোকে কিছু বলে-৮ম,মোঃ মোকলেছ উদ্দিন, নান্দিয়া সাঙ্গুন আদর্শ দাখিল মাদ্রাসা।

মোহাম্মদ মোকলেছ উদ্দিন ০৯ ফেব্রুয়ারি ,২০২১ ২৬ বার দেখা হয়েছে লাইক কমেন্ট ০.০০ রেটিং ( )

পাছে লোকে কিছু বলে-৮ম,মোঃ মোকলেছ উদ্দিন, নান্দিয়া সাঙ্গুন আদর্শ দাখিল মাদ্রাসা। জন্ম থেকেই মানুষ স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। ভয় ও লজ্জা এ দুটি বৈশিষ্ট্য যেন তার স্বভাবজাত ভূষণ। ভয় ও লজ্জা নেই- এমন মানুষ পৃথিবীতে বিরল। তাছাড়া সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মানুষের আত্মসম্মানবোধ অন্যসব প্রাণীর চেয়ে বেশি। মানুষ দু’একবেলা অনাহারে থাকতে রাজি; কিন্তু অন্যের কথা শোনা, সমালোচনা কিংবা হাসিঠাট্টার পাত্র হতে রাজি নয়। কিছু মানুষের আত্মসম্মানবোধ এতটাই প্রবল যে, আত্মাহুতি দিতেও তারা কুণ্ঠাবোধ করে না; যদিও এ কাজ গুরুতর অন্যায়, নিকৃষ্ট ও অপূরণীয় ভুল। ইতিহাস পাঠ করলে আমরা এসব ঘটনার নজির দেখতে পাই। আমাদের মধ্যে অনেক মানুষ রয়েছেন, যারা অন্যের সমালোচনাকে ভয় পায়। কে কী বলবে, কে কী ভাববে- এই নিয়ে তটস্থ থাকে। তাদের হাজারও সংকল্প ব্যর্থ হয়, হৃদয়ের শুভ্র চিন্তাগুলো অন্ধকারে হারিয়ে যায়, তারা নিজেকে আড়াল করতে তৎপর থাকে, মানুষের মাঝখানে অবস্থান কিংবা নিজেকে প্রকাশ করতে অনিচ্ছা পোষণ করে। দেখা যায়, সবাই যখন দলবদ্ধভাবে কিছু করার চেষ্টা করছে, তখন সেখানে সে অনুপস্থিত। নিজের মনের কষ্ট কিংবা চোখের অশ্রু শুকিয়েই ক্ষান্ত; কারও কাছে প্রকাশ করতে ভীত ও লজ্জিত। আবার সমাজে কিছু লোক রয়েছে- যারা পারি আর না পারি, বুঝি আর না বুঝি; অন্যের কাজের ব্যাপারে বিরূপ মন্তব্য করতে সিদ্ধহস্ত। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, যার সম্পর্কে মন্তব্য করা হয়, তার চেয়েও উক্ত ব্যক্তি নিম্নপর্যায়ে অবস্থান করছে। তবে হ্যাঁ, সমালোচনার ভালো-মন্দ দু’টি দিকই রয়েছে? কিন্তু এমন সমালোচনা কাম্য নয়, যা অন্যের অগ্রগতির পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। সবার মনোবল এক নয়? যাদের আত্মিক দুর্বলতা রয়েছে, তারা অন্যের সমালোচনায় বা তিক্ত কথায় ভীত হয়, লজ্জাবোধ করে? তারা মনে মনে খুবই কষ্ট পায়। পাছে লোকে কিছু বলে- এই দুশ্চিন্তা আমাদের অনেকের মধ্যে বিরাজ করে। আমাদের উচিত, মানুষের প্রতিটি সৎ কর্ম ও সৎ উদ্যোগের মূল্যায়ন করা, তাকে উৎসাহ প্রদান করা, প্রশংসা করা- যাতে তার মনের জোর বাড়ে। তবে কে কী বলল, মন্তব্য করল, সমালোচনা করল- সেদিকে কর্ণপাত না করে নিজ উদ্যমে, আপন শক্তিতে বলীয়ান হয়ে এগিয়ে যেতে হবে। যেখানে ব্যর্থতা আসবে, সেখান থেকেই পুনরায় পথ চলতে হবে, হার মানা যাবে না। মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হলে ভয়ভীতি, সংকোচ দূর করতে হবে। ভালো কোনো কাজে দ্বিধাগ্রস্ত হলে চলবে না। একবার না পারলে শতবার চেষ্টা করতে হবে। দৃঢ় সংকল্প না থাকলে সমালোচনার সাগর অতিক্রম করে লক্ষ্যে পৌঁছানো যায় না। বুদ্ধিমানরা কর্মঠ হয়। কর্মে সফলতা প্রদর্শন করে জগতের বুকে কীর্তিমান হয়। নিন্দুকদের ভয় না পেয়ে আসুন রবীন্দ্রনাথের মতো বলি- নিন্দুকেরে বাসি আমি সবার চেয়ে ভাল যুগ জনমের বন্ধু আমার আঁধার ঘরের আলো।

মতামত দিন