Loading..

ব্লগ

রিসেট

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

অন্ধরাও দেখবে

যিনি এ সুন্দর পৃথিবী দেখতে পান না, তিনিই সবচেয়ে হতভাগা। বেশিরভাগ দৃষ্টি প্রতিবন্ধীই সমাজের বোঝা। অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে তাকে বেঁচে থাকতে হয়। জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ। দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা এদের চোখে আলো ফোঁটানোর চেষ্টা করে আসছিলেন। এরই মধ্যে তারা সফলতা পেয়েছেন। আবিষ্কার করেছেন ইলেকট্রনিক (কৃত্রিম) রেটিনা। সম্প্র্রতি বৃটেনের দুই ব্যক্তির চোখে ওই রেটিনা বসানো হয়েছে। তারা এখন দেখতে পাচ্ছেন। এ সফলতাকে মাইলফলক হিসেবে দেখছেন চক্ষুচিকিৎসকরা। বিবিসি ও টেলিগ্রাফ অনলাইনের খবরে বলা হয়, লন্ডনের অক্সফোর্ড বিশ^বিদ্যালয় চক্ষু হাসপাতাল এবং কিংস কলেজ হাসপাতালের প্রফেসর রবার্ট ম্যাকলারেন ও টিম জ্যাকসনের নেতৃত্বে চক্ষু চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা ক্রিস জেমস ও রবিন মিলার নামে দুই অন্ধ ব্যক্তিকে নিয়ে গবেষণা করেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা যায় তারা অন্তত ২৫ বছর আগে ‘রেটিনিটিস পিগমেন্টোসা’ পরিস্থিতির জন্য দৃষ্টিশক্তি হারান। এ পরিস্থিতিতে রেটিনার ফটোরিসেপ্টর সেল কাজ করে না। ইলেকট্রনিক রেটিনা স্থাপন করায় তারা বাইরের আলো এবং বস্তুর আকার বুঝতে পারছেন।
সেই ম্যাজিক যন্ত্র : পাতলা বিস্কুটের মতো দেখতে মাইক্রোইলেকট্রনিক চিপটির (রেটিনা) আকার ৩ বর্গ মিলিমিটার। এতে রয়েছে ১৫০০ আলো-সংবেদনশীল পিক্সেল, যা চোখের চিত্রগ্রাহক রড ও কোণকে সক্রিয় করে। অস্ত্রোúচারের মাধ্যমে চিপটি রেটিনার পেছনে জুড়ে দেওয়া হয় এবং এ থেকে একটি সরু তারের মাধ্যমে কানের পেছন থেকে চামড়ার ভেতর দিয়ে নিয়ন্ত্রণকরে বস্তুর আকার বা আলো পৌঁছায়।
কীভাবে কাজ করে : চোখে প্রবেশ করা আলো ওই চিপে (কৃত্রিম রেটিনা) পৌঁছে পিক্সেল তৈরি করে। এ পিক্সেল বৈদ্যুতিক সিগন্যাল পাঠায় এবং সেখান থেকে ওই সিগন্যাল মস্তিষ্কে পৌঁছায়। চিপটি একটি অতিরিক্ত শক্তিকেন্দ্রের মাধ্যমে নিজে নিজেই সংবেদন পরিবর্তন করতে পারে। কারণ চিপটি থেকে একটি চুম্বক মাথার খুলি পর্যন্ত সংযুক্ত রাখা হয়েছে।
অক্সফোর্ড বিশ^বিদ্যালয় চুক্ষ হাসপাতালের প্রফেসর ম্যাকলারেন বলেন, এ রেটিনা দেখার ক্ষেত্রে অসামান্য কিছু ঘটাবে না। তবে পুরোপুরি অন্ধ ব্যক্তি একটি রুমে নিজেকে সনাক্ত করতে পারবেন। বুঝতে পারবেন কোথায় ঘরের দরজা বা জানালা। এটিই কোনো অন্ধ ব্যক্তির জন্য খুবই প্রয়োজন।
কিংস কলেজ হাসপাতালের চক্ষু সার্জন টিম জ্যাকসন বলেন, এ চিকিৎসা উন্নয়ন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে এটি গুরুত্বপূর্ণ এবং উদ্দীপনামূলক অগ্রসর। তিনি বলেন, অনেক বছর ধরে যারা চোখের আলো হারিয়েছেন, তারাই এ চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন। যদিও এর মাধ্যমে স্বাভাবিক দেখার কাজটি হবে না। কিন্তু এক সময় তাও হতে পারে।
উভয় সার্জনই স্বীকার করেন, তাদের নতুন এ ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস পুরোপুরি চিকিৎসা নয়, এটি কেবল কিনিক্যাল ট্রায়াল। প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে এক ফিনিশিয় এ ধরনের পরীক্ষামূলক চিপ তৈরি করেছিলেন। আর তা ছিল কেবল ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা। অন্যদিকে বৃটিশ এ দুই ব্যক্তির চিপ বহনযোগ্য।
রেটিনিটিস পিগমেন্টোসা (আর পি) : এটি একটি জীনগত চক্ষু সমস্যা। এটা কোনোদিনই নিরাময়যোগ্য নয়। কেবল এ ধরণের দৃষ্টিশক্তিহীন ব্যক্তিরাই এ কৃত্রিম রেটিনার সাহায্যে দেখতে পারবেন। বয়সের কারণে অন্ধ, গ্লুকৌমা রোগে অন্ধদের ক্ষেত্রে এ ডিভাইসটি এখনো পরীক্ষা করা হয়নি।
লন্ডনের আর পি ফাইটিং ইন্ডলেস চ্যারিটির প্রধান ডেভিড হেড বলেন, যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো দুই ব্যক্তির চোখে কৃত্রিম রেটিনার সফল স্থাপন মাইলফলক। এটি আর পি সমস্যার কারণে দৃষ্টিহীনদের দৃষ্টি ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রে আশার আলো দেখাবে।

মন্তব্য করুন