সহকারী শিক্ষক
০৬ মে, ২০২৬ ০৫:৪৫ অপরাহ্ণ
আমাদের শৈশবের বিকেল!
আমাদের শৈশবের বিকেল!
আমাদের শৈশবের বিকেলগুলো কেটেছে গড়ইখলি বাজার ঘিরেই। তখন আমাদের বয়সী প্রায় বিশ-পঁচিশ জন বন্ধু ছিলাম আমরা। হাসপাতাল থেকে পুরোনো ব্যাংক পর্যন্তই ছিল আমাদের ছোট্ট পৃথিবী। সেখানে হয়তো পঞ্চাশটির মতো পরিবার বাস করত।কিন্তু আসলে আমরা সবাই মিলে ছিলাম একটি বড় পরিবার।
এখানে শিবানীদের তিন বোন, সুষমা , ভোলা, মহানন্দ দাদা, দেবী দিদি, তিলক দিদি,এক এক করে কত নাম! তারপর পাপ্প দাদা, মনু, দীপ্তি, আমাদের বাড়ি, বাসুরা, প্রদীপ দাদা, পূর্ণিমা, দীনুরা দুই ভাই, তাদের দিদিরা, চঞ্চলা আর কল্যাণী। আরও ছিল রুবিনা, রবিউল, সনিয়া, তানিয়া, শিউলি, জেসমিন,সবাই মিলে যেন এক অদ্ভুত মায়ার বন্ধনে বাঁধা ছিলাম। মাঝখানে ছিল জুম্মান, সাবিনা, হান্নান ভাই, আর আমাদের পাশেই সুপ্রিয়াদের বাড়ি।বাবু,, টুম্পা—ওরাও ছিল আমাদেরই মতো।
আমরা সবাই ছিলাম ভাইবোনের মতো। কখনো বড় কোনো ঝগড়া হয়েছে,এমনটা মনে পড়ে না। বিকেল হলেই স্কুল ছুটি শেষে আমরা ছুটে যেতাম খেলতে। কখনো ফুটবল, কখনো ক্রিকেট, আবার কখনো নানা রকম খেলা,হাসি, দৌড়ঝাঁপ আর আনন্দে ভরে থাকত প্রতিটি মুহূর্ত।
আজ সেসবই স্মৃতি। মনে হয়, আজকের প্রজন্ম হয়তো সেই আনন্দ আর পাবে না। তারা হয়তো খেলাধুলার সেই মুক্ত পরিবেশ থেকে বঞ্চিত, ভালো সঙ্গও অনেক সময় পায় না। অথচ আমাদের শৈশবের বিকেলগুলো ছিল সত্যিই দুর্দান্ত।
সন্ধ্যা নামলেই আমরা নিজেরাই নিয়ম করে, বয়স আর শ্রেণী অনুযায়ী পড়তে বসে যেতাম। কেউ জোর করত না, তবুও যেন এক অদৃশ্য শৃঙ্খলা আমাদের বেঁধে রাখত।
আজও সেই দিনগুলো খুব মনে পড়ে। আমার মতো হয়তো সবারই পড়ে। এখন অনেকে ফেসবুকে বন্ধু, কিন্তু তবুও সেই আগের মতো যোগাযোগ হয় না। অনেকেই দূরে চলে গেছে।সময়ের স্রোতে, জীবনের টানে।
তবুও মনে হয়—সেই দিনগুলোই ছিল সবচেয়ে সত্য, সবচেয়ে আপন, সবচেয়ে সুন্দর।
৫
৫ মন্তব্য