সহকারী অধ্যাপক
০৮ মে, ২০২৬ ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ণ
হিদায়াতের পথ (আল-বাকারা ৩৮-) - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
হিদায়াতের পথ
(আল-বাকারা ৩৮-)
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
যখন আদম এলো ধরণীতে,
আকাশ তখন কাঁদে,
জান্নাতের সেই শান্ত বাগান
রইল অনেক দূরে।
রব তখন দিলেন বাণী—
“শোনো মানবজাতি,
পৃথিবী শুধু খেলাঘর নয়,
এ জীবন পরীক্ষার সাথী।
আমার পথে চললে তোমরা
হারাবে না কভু,
ভয় তোমাদের ছুঁতে পারবে না,
দুঃখও যাবে দূর।”
সেই থেকে আজ যুগের পরে
যুগ গড়িয়ে যায়,
মানুষ শুধু সুখের আশায়
অন্ধ পথে ধায়।
কেউবা গড়ে সোনার অট্টালিকা,
কেউ গোনে ধন-রতন,
কেউবা ক্ষমতার মসনদ ধরে
ভুলে যায় আপন মন।
কিন্তু যখন রাত গভীরে
নীরব পৃথিবী ঘুমায়,
একাকী মন প্রশ্ন তোলে—
“শেষে সাথে কে যায়?”
টাকা-পয়সা, বন্ধু-স্বজন,
থাকে না শেষ বেলায়,
শুধু আমল, সত্য আর ঈমান
কবরে সাথে যায়।
হিদায়াতের আলো যারা
বুকে ধারণ করে,
ঝড় এলেও টিকে থাকে
বিশ্বাসেরই তরে।
দুনিয়ার যত ভয়-ভীতি
তাদের কাছে ক্ষণিক,
কারণ তারা জানে ভালো—
রব আছেন নিকট।
যে যুবক নামাজ পড়ে
চোখে রাখে লজ্জা,
হারাম ছেড়ে হালাল পথে
গড়ে জীবনের সাজা;
যে মেয়ে পর্দার ছায়ায়
রাখে নিজের মান,
রবের ভয়ে মাথা নত—
সেই তো সত্য প্রাণ।
যে ব্যবসায়ী সত্য বলে
মাপে কম না দেয়,
যে শ্রমিক ঘাম ঝরিয়ে
হালাল রুটিই খায়;
যে শিক্ষক সত্য শেখায়
জাগায় নীতির আলো,
যে সন্তান মা-বাবাকে
বাসে অনেক ভালো—
তাদের হৃদয় শান্ত থাকে
ঝড়ের মাঝের নৌকা,
কারণ তারা রবের পথে
খুঁজে পায় সুখটা।
আর যারা রবের বাণী
অবহেলায় ভোলে,
অহংকারে বুক ফুলিয়ে
অন্যায়ের পথ তোলে;
তাদের হাসি বাহিরে শুধু,
ভেতর জুড়ে ক্ষত,
রাতের শেষে বুকের মাঝে
জমে অশান্তি শত।
হিদায়াত এক শীতল নদী
ক্লান্ত প্রাণের তরে,
যে ডুব দিল সেই নদীতে
শান্তি পেল ঘরে।
কুরআনেরই প্রতিটি আয়াত
আলোর দীপশিখা,
অন্ধ হৃদয় জেগে ওঠে
পেলে তারই দেখা।
রাসূলের সেই সুমধুর পথ
করুণা ভরা ডাকে,
মানবতাকে ভালোবেসে
ডাকে সত্যর পাকে।
তাই হে মানুষ, ভয় কিসের?
রব তো আছেন সাথে,
তাঁরই পথে চললে তুমি
হারাবে না পথে।
দুঃখ এলেও ভেঙো না মন,
ধৈর্য ধরো চুপে,
কালো মেঘের আড়াল ভেদে
সূর্য হাসে রূপে।
আজকে যারা কাঁদছে খুব
অন্যায়েরই চাপে,
কালকে তারা হাসবে গিয়ে
রবের রহমত পেয়ে।
একদিন এই পৃথিবীও
ভেঙে যাবে শেষে,
রাজা-প্রজা দাঁড়াবে সব
হাশরেরই দেশে।
সেদিন যারা হিদায়াতের
পথে ছিল অটল,
তাদের মুখে ফুটবে তখন
জান্নাতি উজ্জ্বল।
ফেরেশতারা বলবে এসে—
“ভয় তোমাদের নাই,
দুঃখ কভু ছুঁবে না আর,
চলো জান্নাত ভাই।”
সেই ডাক শুনে মুমিন হৃদয়
হাসবে অশ্রুভরে,
দুনিয়ার সব কষ্ট তখন
মুছে যাবে ঝরে।
তাই এখনো সময় আছে,
ফিরে এসো পথে,
রবের ডাকে সাড়া দাও
ভালোবাসার রথে।
হিদায়াতের ছায়াতলে
জীবন করো গড়া,
এই পথেই মুক্তি আছে,
এই পথেই সরা।
ভয়হীন এক শান্ত সকাল
অপেক্ষাতে রয়,
রবের পথে যারা চলে
তাদের কোনো ভয়।
***
আদিম ভোরের নীল আকাশে
নিস্তব্ধ আলো ঝরে,
জান্নাতজুড়ে শান্তির নদী
বহে ধীরে ধীরে।
ফুলের বনে স্নিগ্ধ হাওয়া,
নেই কোনো ভয়-ব্যথা,
নেই সেখানে হিংসা-বিদ্বেষ,
নেই কোনো মিথ্যা কথা।
সেখানে ছিলেন আদম নবী,
হাওয়া সাথে রয়,
রবের দানে সুখের বাগান
ছিল অফুরন্তময়।
কিন্তু শয়তান আগুন বুকে
অহংকারে ভরা,
মানবজাতির শত্রু হয়ে
করল ছলচাতুরী ধরা।
মিষ্টি কথার জালে ফেলে
ভাঙল নিষেধ সীমানা,
তারপর নেমে এলো পৃথিবীতে
মানব জীবনের গাথা।
তখন রবের মহান বাণী
নামল স্নেহ হয়ে—
“তোমরা সবাই নেমে যাও,
ধরণীরই বুকে।
যখন আমার হিদায়াত
আসবে তোমাদের তরে,
যারা সেটা অনুসরণ করবে
থাকবে নিরাপদ ঘরে।
তাদের কোনো ভয় থাকবে না,
দুঃখ ছুঁবে না প্রাণ,
কারণ তারা সত্যপথে
পাবে শান্তির জ্ঞান।”
সেই থেকে আজ লক্ষ বছর
মানুষ হাঁটে পথে,
কেউবা চলে আলোর পানে,
কেউ অন্ধকার রথে।
কেউ গড়ে প্রাসাদ আকাশচুম্বী,
কেউ জমায় ধন,
কেউবা ক্ষমতার নেশায় ডুবে
হারায় বিবেকমন।
কেউ মুখে বলে সত্যের কথা,
অন্তরে বিষ ঢালে,
কেউ নামাজ পড়ে লোক দেখানো
মানুষেরই কলে।
আবার কেউ রাতের শেষে
সিজদায় অশ্রু ঝরায়,
নিঃশব্দে সে রবের কাছে
নিজের প্রাণ খুলে কয়।
দুনিয়ার এই ক্ষণিক সুখে
যারা হয়েছে মত্ত,
মৃত্যু এলে বুঝতে পারে
সবই ছিল মিথ্যা।
কবরের ঘরে একলা মানুষ
ডাকে কাঁদে চুপে,
“হায়! কেন আমি ভুলে গেলাম
রবকে জীবনের রূপে?”
হিদায়াত এক জ্যোৎস্নাধারা
অন্ধ রাতের মাঝে,
যে হৃদয়ে তা জেগে ওঠে
শান্তি নামে সাজে।
কুরআনের প্রতিটি আয়াত
আলোর মিনার যেন,
হারানো মন পথ খুঁজে পায়
তারই ছায়াতলে।
রাসূলের সেই সোনালী পথ
করুণারই নূর,
যে পথ ধরে চললে মানুষ
ভয় হয় বহুদূর।
ঝড় এলে যে ঈমানদার
ধৈর্যে থাকে অটল,
তার হৃদয়ে রবের ভরসা
করে আলো উজ্জ্বল।
দারিদ্র্য যদি ঘিরে ধরে
তবু সে ভাঙে না,
কারণ সে জানে—রিজিকদাতা
আছেন সর্বদা।
যে যুবক চোখ নিচু রেখে
চলে সত্যপথে,
হারাম ছেড়ে হালাল খুঁজে
রবের সন্তুষ্টিতে;
যে তরুণী লজ্জার চাদর
জড়িয়ে রাখে প্রাণ,
পর্দার মাঝে খুঁজে নেয় সে
সম্মানেরই স্থান;
যে সন্তান মা-বাবাকে
ভালোবাসে মনে,
নরম ভাষায় কথা বলে
বৃদ্ধ বয়স ক্ষণে;
যে শিক্ষক সত্য শেখায়
মানবতার গান,
যে ব্যবসায়ী ঠকায় না আর
রাখে সঠিক মান;
যে কৃষক রোদে পুড়ে
হালাল ফসল ফলায়,
যে শ্রমিক ঘামকে রিজিক ভেবে
হাসিমুখে ঘরে যায়—
তাদের বুকের শান্তি দেখলে
অবাক হয় ভুবন,
কারণ তারা হিদায়াতের
ধরেছে দৃঢ় মন।
অন্যদিকে যারা শুধু
অন্যায়েরই পথে,
মিথ্যা, সুদ আর জুলুম নিয়ে
বাঁচে অহংকার রথে;
তাদের মুখে হাসি থাকলেও
ভেতরটা অন্ধকার,
রাতের শেষে বুকের মাঝে
জ্বলে অনলভার।
একদিন এই পৃথিবী হবে
নিস্তব্ধ ধ্বংসস্তূপ,
সূর্য নিভে, চাঁদও হারাবে
তার রুপালী রূপ।
পর্বত হবে তুলোর মতো,
সাগর উঠবে জ্বলে,
মানবজাতি দাঁড়াবে সব
হাশরেরই ময়দানে।
সেদিন রাজা-বাদশাহও
থাকবে ভীষণ ভয়ে,
ধন-সম্পদ কিছুই তখন
কাজে আসবে নাহি কয়ে।
শুধু যারা রবের পথে
চলেছিল নির্ভয়,
তাদের মুখে জ্বলবে নূর,
হৃদয় থাকবে জয়।
ফেরেশতারা এগিয়ে এসে
বলবে মধুর সুরে—
“ভয় কোরো না, দুঃখ কোরো না,
চলো জান্নাতপুরে।
দুনিয়াতে তোমরা ছিলে
হিদায়াতের সাথী,
আজকে তোমাদের প্রতিদান
অনন্ত সুখরাশি।”
তারপর খুলবে জান্নাত দ্বার,
বইবে শান্তি-বায়ু,
চোখে থাকবে না আর অশ্রু,
থাকবে না কোনো দুঃখ-বিষাদ।
সেখানে নেই মৃত্যু-ভয়,
নেই কোনো বিচ্ছেদ,
চিরসুখের আলো ঝরে
অশেষ অনির্বেদ।
তাই হে মানুষ! এখনো সময়,
ফিরে এসো সত্যপথে,
রবের ডাকে সাড়া দাও
ভালোবাসার রথে।
এই জীবন ক্ষণিকের মেলা,
শেষ হবে একদিন,
শুধু রবের হিদায়াতই
রাখবে চিরসঙ্গী চিন।
ভয়হীন সেই জান্নাতপানে
চলুক হৃদয় ধীর,
কুরআনেরই আলো হাতে
হোক জীবন সমীর।
যারা রবের পথে চলে
তাদের জয় নিশ্চিত,
দুঃখ-ভয় সব মুছে যাবে—
এ প্রতিশ্রুতি অমিত।
***
১০
১২ মন্তব্য