সহকারী অধ্যাপক
১১ মে, ২০২৬ ০৫:৫৬ অপরাহ্ণ
বন্ধুত্বের জেরে কান্না - মোঃ মুজিবুর রহমান
বন্ধুত্বের জেরে কান্না
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক,
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
বন্ধুত্ব শুরু হয় কত
হাসি-মাখা দিনে,
চায়ের কাপে গল্প জমে
স্বপ্ন রঙিন চিনে।
কাঁধে কাঁধে পথ চলাতে
থাকে না কোনো ভয়,
বন্ধু যেন সুখের বাগান
প্রাণ জুড়ানোময়।
এক প্লেটে ভাগাভাগি
একই হৃদয়-ছোঁয়া,
দুঃখ এলে বন্ধুর বুকে
মেলে শান্তি-হাওয়া।
“তুই আছিস তো ভয় কিসের?”
বলে বন্ধু হেসে,
সেই কথাতেই জীবন যেন
ফুলে ফলে ভেসে।
কিন্তু হঠাৎ সময় এসে
নতুন হিসাব আনে,
টাকার রঙ ঢুকে পড়ে
সম্পর্কের টানে।
ছোট্ট চাওয়া, বড় প্রয়োজন—
“বন্ধু, একটু দে,
সময় হলে ফিরিয়ে দেব,
বিশ্বাস রাখিস রে।”
বন্ধু তখন হৃদয় খুলে
দেয় যে বড় অংক,
মনে মনে ভাবে শুধু—
বন্ধুত্বই সঙ্কল্প।
হাসিমুখে টাকা দিল
ভালোবাসার টানে,
ভাবেনি সে—এই টাকাই
আগুন হবে প্রাণে।
শুরুর দিনে ফোনের পরে
ফোন আসে যে ভাই,
“দোস্ত, তুই না থাকলে আমি
বাঁচতাম নারে ভাই।”
কথার মাঝে কৃতজ্ঞতার
মিষ্টি সুবাস রয়,
বন্ধুত্বের আকাশজুড়ে
বিশ্বাস উড়ে কয়।
কিন্তু ধীরে সময় গড়িয়ে
বদলে যায় রঙ,
ফেরত দেবার প্রতিশ্রুতি
হয়ে পড়ে ভঙ্গ।
আজকে কাল আর কালকে পরশু—
চলতেই থাকে দিন,
অপেক্ষাতে শুকিয়ে যায়
বিশ্বাসের রঙিন।
ফোন দিলে আর ফোন ধরে না,
বার্তা থাকে চুপ,
দেখা হলে ব্যস্ততা তার
হঠাৎ বেড়ে খুব।
যে বন্ধুটা রাত জেগে দিত
হাজার সুখের সাথ,
সেই মানুষই দূরে সরে
হারায় পুরনো হাত।
পাওনাদার বন্ধু তখন
কান্না লুকায় বুকে,
টাকার চেয়ে কষ্ট বেশি
প্রিয়জনের মুখে।
“টাকা চেয়ে কি ভুল করলাম?”
প্রশ্ন জাগে মনে,
বন্ধুত্ব কি মিথ্যে তবে
স্বার্থেরই ক্ষণে?
ঋণী বন্ধু লজ্জায় ভোগে
এড়িয়ে চলে পথ,
ভিতরে তার অপরাধবোধ
জ্বালায় নীরব রথ।
অক্ষমতা, দুশ্চিন্তা আর
অহংকারের দেয়াল,
দুই বন্ধুর মাঝখানে দেয়
দুঃখেরই জাল।
একদিন যে গল্প ছিল
চায়ের দোকান ঘিরে,
আজ সেখানে নীরবতা
হাহাকার হয়ে ফিরে।
হাসির বদলে দীর্ঘশ্বাস
চোখে জমে জল,
বন্ধুত্বের ফুলবাগানে
বয়ে যায় বিষঢল।
টাকা যেন ধারালো এক
অদৃশ্য বিষতীর,
হৃদয় ভেদে ভেঙে দেয় সে
বিশ্বাসেরই নীড়।
যেখানে ছিল ভালোবাসা
সেখানে আজ ক্ষত,
বন্ধুত্বের স্বর্ণমুকুট
হয়ে যায় অবনত।
তবু সবাই খারাপ নয়,
সময় খারাপ হয়,
অভাব নামের ঝড়টা এসে
মানুষটাকে কয়—
“লজ্জা নিয়ে বাঁচবি কেমনে?
কোথায় পাবি দাম?”
সেই চাপে বন্ধুর কাছেও
হয়ে পড়ে ঘাম।
তাই তো জ্ঞানী মানুষ বলে—
সাবধানে দিও ধার,
যতটুকু না পেলে পরে
ভাঙবে না সংসার।
সাহায্য যদি করতেই চাও
করো দানের মন,
পাওয়ার আশায় দিও না আর
হৃদয়েরই ধন।
বন্ধুত্ব বড় পবিত্র এক
আল্লাহ্ দেওয়া ফুল,
টাকার আগুন লাগলে তাতে
পুড়ে যায় সব কূল।
হিসাব যখন হৃদয় ছোঁয়
ভালোবাসা মরে,
স্বার্থ এসে বন্ধুত্বকে
ধুলায় ফেলে ঝরে।
কত বন্ধু আজকে শত্রু
টাকার ছোট কারণে,
কত আপন দূরে গেছে
স্বার্থেরই টানে।
কত রাতের কান্না লেগে
ভিজে নীরব বালিশ,
অভিমান আর অপমানেতে
হৃদয় হয় কালিশ।
হে আল্লাহ! তুমি বাঁচাও
স্বার্থলোভের হাত,
বন্ধুত্ব যেন টাকার কাছে
না হয় কখন মাত।
যে সম্পর্ক ভালোবাসায়
গড়ে ওঠে ধীরে,
অর্থলোভের বিষবাষ্পে
না যাক তা মরে।
বন্ধু যদি সাহায্য চায়
দাও বিবেক মেপে,
সামর্থ্যেরই সীমার ভেতর
যেও সবকিছু ছেড়ে।
কারণ শেষে টাকার চেয়ে
বেশি দামী প্রাণ,
ভাঙা হৃদয় জোড়া লাগে না
ফিরে শত টান।
শেষে শুধু একটি বাণী
রেখে যাই আজ,
টাকার জন্য ভেঙো না আর
ভালোবাসার সাজ।
“বন্ধুত্বের মাঝে টাকার লেনদেন
সম্পর্ক ভাঙার আয়োজন”—
এই সত্যটি মনে রেখো
সারাজীবন গোপন।
***
বন্ধুত্ব জন্ম নেয় কত
নিষ্পাপ ভালোবাসায়,
একই মাঠে, একই পথে
একই স্বপ্ন আশায়।
চায়ের কাপে ধোঁয়া উড়ে
হাসি মাখা দিন,
দুঃখ এলেও বন্ধুর বুকে
মিলত সুখের ঋণ।
একই থালায় ভাত খাওয়া
একই নদীর জল,
একজন কাঁদলে অন্যজনের
চোখেও আসত ঢল।
রাত জেগে কত গল্প হতো
ভবিষ্যতের গান,
বন্ধু যেন বুকের ভিতর
সবচেয়ে আপন প্রাণ।
“তুই থাকলে ভয় কীসের আর?”
বলত হেসে প্রাণ,
বন্ধুত্বের ছায়াতলে
শান্ত হতো টান।
স্বার্থহীন বিশ্বাস ছিল
নদীর জলের মতো,
মনে হতো এই সম্পর্ক
ভাঙবে নাকো শত।
কিন্তু হঠাৎ সময় এল
বদলে গেল রঙ,
অভাব এসে সুখের ঘরে
তুলল দুঃখ ঢঙ।
চোখে ক্লান্তি, মুখে চিন্তা,
হৃদয় জুড়ে ভয়,
বন্ধু এসে কাঁপা কণ্ঠে
নিভৃত কথাটি কয়—
“দোস্ত, আমি বিপদে আছি,
তুই ছাড়া কে আর?
কিছু টাকা দরকার আমার,
খুবই অন্ধকার।
সময় হলে শোধ করে দেব,
বিশ্বাস রাখিস ভাই,
তোর উপকার জীবনভর
ভুলব নারে তাই।”
বন্ধু তখন হৃদয় খুলে
দিলো বড় অংক,
ভাবল শুধু—বন্ধুত্বেই
বিশ্বাসেরই সঙ্কল্প।
হিসাব নয়, ভালোবাসাই
ছিল তখন মুখ্য,
ভাবেনি সে—এই টাকাই
ডেকে আনবে দুঃখ।
শুরুর দিনে কত ফোন আর
কৃতজ্ঞতার ঢেউ,
“তুই না থাকলে বাঁচতাম না”
বলত আপন কেউ।
মিষ্টি কথার ফুলঝুরিতে
ভরে উঠত মন,
বন্ধুত্বের নীল আকাশে
উড়ত সুখের ক্ষণ।
কিন্তু ধীরে সময় গড়িয়ে
বদলে গেল সুর,
প্রতিশ্রুতির রঙিন পাখি
হলো দূর বহুদূর।
আজকে কাল, কালকে পরশু,
তারপর আবার কাল,
অপেক্ষাতে শুকিয়ে গেল
বিশ্বাসেরই ডাল।
ফোন দিলে আর ফোন ধরে না,
বার্তা থাকে চুপ,
দেখা হলে ব্যস্ততারই
অভিনয় করে খুব।
যে বন্ধুটা রাতের শেষে
খুঁজত শুধু সাথ,
সেই মানুষই এড়িয়ে চলে
বদলে ফেলে হাত।
রাস্তা দেখে ঘুরে যায় সে,
চোখে লজ্জার ছায়া,
ভেতর ভেতর অপরাধবোধ
পুড়িয়ে দেয় মায়া।
টাকা শোধের অক্ষমতা
বুকে আনে ক্ষত,
বন্ধুত্বের নির্মল নদী
হয়ে যায় রক্ত।
পাওনাদার বন্ধু তখন
চুপে কাঁদে রাতে,
টাকার চেয়ে বেশি কষ্ট
প্রিয়জনের সাথে।
“টাকা চেয়ে কি আমি তবে
অপরাধী হলাম?”
এই প্রশ্নের আগুন বুকে
নিভৃতে শুধু জ্বলল।
বালিশ ভেজে দীর্ঘশ্বাসে,
ঘুম আসে না আর,
বন্ধুত্বের স্মৃতিগুলো
করে হাহাকার।
যে মানুষটা প্রাণের ছিল
আজ সে কত দূর,
অর্থ যেন বিষের স্রোতে
করল হৃদয় চুর।
একদিন যে চায়ের দোকান
হাসিতে ছিল ভরা,
আজ সেখানে নীরবতা
কাঁদে পথহারা।
একসাথে যে বসত সবাই
ভাইয়ের মতো হয়ে,
আজ তারা সব ছিন্ন পাতার
মতো দূরে বয়ে।
বিশ্বাস যখন ভাঙতে থাকে
শব্দ হয় না কভু,
নীরবতার কান্নাগুলো
শুনে শুধু প্রভু।
বন্ধুত্বের সোনার মুকুট
ধুলায় পড়ে রয়,
স্বার্থ এসে ভালোবাসার
সব আলোটা ক্ষয়।
টাকা যেন আগুনখেকো
অদৃশ্য এক দানব,
হাসিমুখের অন্তরালে
লুকিয়ে রাখে শাপ।
যেখানে ছিল মায়া-মমতা
সেখানে আজ ক্ষত,
টাকার কাছে হার মেনে যায়
অনেক পবিত্র রত্ন।
হক চাইতে গেলেই নাকি
বন্ধুত্ব হয় ছোট!
এই কথাটাই সবচেয়ে বেশি
হৃদয় ভাঙে জোট।
যে টাকা ছিল প্রয়োজনের
সাময়িকই সেতু,
সেই টাকাই সম্পর্ক ভাঙে
দুঃখ দিয়ে কত।
তবু সবাই খারাপ নয়,
সময় খারাপ হয়,
অভাব নামের কঠিন ঝড়ে
মানুষ ভেঙে রয়।
অনেকেই তো শোধ দিতে চায়
পারেনা কেবল,
অক্ষমতার অন্ধকারে
হারায় পথের ফল।
লজ্জা, ভয় আর দুশ্চিন্তাতে
মুখ লুকিয়ে চলে,
বন্ধুর কাছেও যেতে পারে
না সে সহজতলে।
তাই তো আগে বুঝতে হবে
মানুষেরও ক্ষত,
অভাব কত ভয়ংকর এক
নীরব অশ্রুর রথ।
তাই তো জ্ঞানী মানুষ বলে—
সাবধানে দিও ধার,
যতটুকু না পেলে পরে
পুড়বে না সংসার।
সাহায্য যদি করতেই চাও
করো দানের মন,
ফিরে পাওয়ার আশা রেখো
না হৃদয়ের ধন।
বন্ধুকে দাও ততটুকুই
যা হারালেও শান্তি,
না পেলে যার জন্য পরে
ভাঙবে না আর ভ্রান্তি।
কারণ টাকার চেয়ে বড়
মানুষেরই প্রাণ,
ভাঙা সম্পর্ক জোড়া লাগে
না ফিরে শত টান।
হে আল্লাহ! তুমি বাঁচাও
স্বার্থলোভের আগুন,
বন্ধুত্বের পবিত্র বাগান
করো না নির্জন।
যে সম্পর্ক ভালোবাসায়
গড়ে ওঠে ধীরে,
অর্থলোভের বিষবাষ্পে
না যাক তা মরে।
বন্ধু যেন বন্ধুই থাকে
হিসাবেরও পর,
দুনিয়ার এই ক্ষণিক টাকায়
না ভাঙে অন্তর।
ভালোবাসার চেয়ে বড়
নেই তো কোনো ধন,
স্বার্থ এলে শুকিয়ে যায়
হৃদয়েরই বন।
শেষে শুধু একটি বাণী
রেখে যাই আজ—
টাকার জন্য ভেঙো না আর
ভালোবাসার সাজ।
ধার দিও বুঝে-শুনে,
হৃদয় রেখো সচেতন,
কারণ শেষে বন্ধুত্বই
জীবনেরই রত্ন।
“বন্ধুত্বের মাঝে টাকার লেনদেন
সম্পর্ক ভাঙার আয়োজন”—
এই সত্যটি মনে রেখো
যতদিন আছে জীবন।
***
বন্ধুত্বের জেরে অশ্রুসমুদ্র
বন্ধুত্ব মানে শান্ত সকাল
শিশিরভেজা ঘাস,
হৃদয় জুড়ে নির্ভরতার
অদৃশ্য সুবাস।
একই বেঞ্চে বসে থাকা
একই স্বপ্ন বোনা,
একজনের সুখে অন্যজনের
হৃদয় যেত রোনা।
চায়ের কাপে গল্প ভাসে
হাসির ঝর্ণাধারা,
দুঃখ এলে বন্ধুর কাঁধে
মিলত সুখের সাড়া।
রাত জেগে কত পরিকল্পনা
ভবিষ্যতের গান,
বন্ধুত্ব যেন জান্নাতি এক
পবিত্র ফুলবাগান।
“তুই আছিস তো ভয় কীসের?”
কত বলত প্রাণ,
এই কথাতেই ক্লান্ত হৃদয়
পেত নতুন টান।
বিশ্বাস ছিল পাহাড়সম
অটুট দৃঢ় দেয়াল,
ভাবত দুজন—এই সম্পর্ক
ভাঙবে নাকো কাল।
কিন্তু জীবন সবসময় কি
একই রঙে রয়?
অভাব এসে সুখের ঘরে
দুঃখের বাঁশি কয়।
হঠাৎ একদিন বন্ধু এসে
নিচু করে মাথা,
কাঁপা কণ্ঠে বলল ধীরে
বুকের জমা ব্যথা—
“বন্ধু রে, আজ বড় বিপদ,
চারিদিকে আঁধার,
তুই ছাড়া আর কেউ নেই রে
এই পৃথিবীর পার।
কিছু টাকা দরকার খুবই,
বাঁচার শেষ উপায়,
সময় হলে ফিরিয়ে দেব,
বিশ্বাসটুকু চায়।”
বন্ধু তখন হৃদয় খুলে
দিলো সঞ্চয় ভেঙে,
ভাবল শুধু—বন্ধুত্ব কি
হিসাব কষে রঙ্গে?
ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে
করল দুঃখ ভাগ,
ভাবেনি সে—এই উপকার
হবে বিষের ফাঁদ।
প্রথম প্রথম কত যে ফোন
কৃতজ্ঞতার ঢেউ,
“তুই না থাকলে শেষ হয়ে যেতাম”
বলত আপন কেউ।
মিষ্টি কথার সুবাস ছড়িয়ে
ভরিয়ে দিত মন,
বন্ধুত্বের নীল আকাশে
উড়ত সুখের ক্ষণ।
কিন্তু ধীরে সময় গড়িয়ে
বদলে গেল রূপ,
ফেরত দেবার প্রতিশ্রুতি
হয়ে গেল চুপ।
আজকে কাল, কালকে পরে,
পরশু আবার দিন,
অপেক্ষাতে শুকিয়ে যেতে
লাগল বিশ্বাস-চিন।
ফোন দিলে আর ফোন ধরে না,
মেসেজ থাকে পড়ে,
দেখা হলে ব্যস্ততারই
অভিনয়টা করে।
যে বন্ধুটা একদিন ছিল
ছায়ার মতো সাথ,
আজ সে কেন অচেনা এক
দূর অন্ধকার পথ?
চোখে চোখে লজ্জার ছায়া,
মুখে কৃত্রিম হাসি,
ভেতরভেতর অপরাধবোধ
জ্বালায় সর্বনাশী।
অক্ষমতার কঠিন শেকল
বেঁধে ফেলে প্রাণ,
বন্ধুত্বের নির্মল নদী
হারায় কলতান।
পাওনাদার বন্ধু তখন
নীরব কাঁদে রাতে,
টাকার চেয়ে বেশি ব্যথা
বন্ধু হারানোর সাথে।
“টাকা চেয়ে কি ভুল করেছি?”
জাগে বুকের মাঝে,
বন্ধুত্ব কি স্বার্থ ছাড়া
টিকে না এই সাজে?
বালিশ ভেজে দীর্ঘশ্বাসে,
ঘুম আসে না চোখে,
পুরোনো সেই স্মৃতিগুলো
কাঁদায় নীরব শোকে।
একদিন যে প্রাণের ছিল
আজ সে বহুদূর,
টাকার কাছে ভালোবাসা
হয়ে গেল চুর।
বিশ্বাস যখন ভাঙে ধীরে
শব্দ হয় না কভু,
নীরবতার কান্নাগুলো
শোনেন শুধু প্রভু।
একদিন যে চায়ের আড্ডা
হাসিতে ছিল ভরা,
আজ সেখানে নিঃসঙ্গতা
কাঁদে দিশেহারা।
একসাথে যে পথ চলেছে
হাজার দিনের ভাই,
টাকার চাপে সম্পর্ক কেন
এত সহজে যায়?
স্বার্থ যখন হৃদয় ছোঁয়
ভালোবাসা মরে,
বন্ধুত্বের স্বর্ণমুকুট
ধুলায় গিয়ে পড়ে।
টাকা যেন আগুনখেকো
অদৃশ্য এক সাপ,
হাসির ভেতর বিষ ঢেলে দেয়
নীরব অভিশাপ।
যেখানে ছিল মায়া-মমতা
সেখানে আজ ক্ষত,
অর্থলোভে হারিয়ে যায়
পবিত্রতার রথ।
হক চাইতে গেলেই নাকি
বন্ধুত্ব হয় ছোট!
এই কথাটাই হৃদয় ভাঙে
সবচেয়ে গভীর জোট।
যে টাকা ছিল সাহায্যের
সাময়িকই সেতু,
সেই টাকাই সম্পর্ক ভাঙে
নিষ্ঠুর দুঃখ যত।
তবু সবাই প্রতারক নয়,
সময় প্রতারক হয়,
অভাব নামের কালো ঝড়ে
মানুষ ভেঙে রয়।
অনেকেই তো শোধ দিতে চায়
পারেনা শুধু তাই,
অক্ষমতার বিষণ্নতায়
মুখ লুকিয়ে যায়।
লজ্জা, ভয় আর অপমানে
দূরে সরে চলে,
বন্ধুর কাছেও ফিরতে পারে
না সে সহজতলে।
তাই তো আগে বুঝতে হবে
মানুষেরও ক্ষত,
অভাব কত ভয়ংকর এক
অশ্রুভেজা রথ।
তাই তো জ্ঞানী মানুষ বলে—
সাবধানে দিও ধার,
যতটুকু না পেলে পরে
পুড়বে না সংসার।
সাহায্য যদি করতেই চাও
করো দানের মন,
ফিরে পাওয়ার আশা রেখো
না হৃদয়ের ধন।
বন্ধুকে দাও ততটুকুই
যা হারালেও শান্তি,
না পেলে যার জন্য পরে
আসবে না ভ্রান্তি।
কারণ শেষে টাকার চেয়ে
বেশি দামী প্রাণ,
ভাঙা হৃদয় জোড়া লাগে না
ফিরে শত টান।
হে আল্লাহ! তুমি রক্ষা করো
স্বার্থলোভের আগুন,
বন্ধুত্বের পবিত্র বাগান
করো না নির্জন।
যে সম্পর্ক ভালোবাসায়
গড়ে ওঠে ধীরে,
অর্থলোভের বিষবাষ্পে
না যাক তা মরে।
বন্ধু যেন বন্ধুই থাকে
হিসাবেরও পর,
দুনিয়ার এই ক্ষণিক টাকায়
না ভাঙে অন্তর।
ভালোবাসার চেয়ে বড়
নেই তো কোনো ধন,
স্বার্থ এলে শুকিয়ে যায়
হৃদয়েরই বন।
শেষে শুধু একটি কথা
রেখে যাই প্রাণে—
বন্ধুত্বকে বিকিও না
টাকার অহংকারে।
ধার দিও বুঝে-শুনে,
হৃদয় রেখো জাগ্রত,
কারণ শেষে সম্পর্কই
জীবনের আসল রত্ন।
“বন্ধুত্বের মাঝে টাকার লেনদেন
সম্পর্ক ভাঙার আয়োজন”—
এই বাণীটি মনে রেখো
যতদিন থাকে জীবন।
***
বন্ধুত্বের রক্তক্ষরণ
বন্ধুত্ব মানে ছায়ার মতো
পাশে থাকা প্রাণ,
একই পথে স্বপ্ন বোনা
একই সুখের গান।
চায়ের কাপে হাসির ঢেউ
গল্প ভরা রাত,
একজনের কষ্ট দেখলে
কাঁদত অন্য হাত।
একই থালায় ভাত খাওয়া,
একই নদীর জল,
একজনের চোখের পানি
অন্যজনের ঢল।
কত প্রতিজ্ঞা, কত আশা
হৃদয়জুড়ে রয়,
বন্ধুত্বের বন্ধন বুঝি
ভাঙার মতো নয়।
“তুই থাকলে ভয় কিসের আর?”
বলত হেসে প্রাণ,
বন্ধুত্বের আকাশজুড়ে
ভাসত সুখের টান।
বিশ্বাস ছিল পাহাড়সম
অটুট দৃঢ় দেয়াল,
মনে হতো এই সম্পর্ক
টিকবে অনন্তকাল।
কিন্তু জীবন একই রঙে
চলতে পারে কই?
অভাব এসে সুখের ঘরে
দুঃখের কথা কয়।
একদিন এক বন্ধু এসে
কাঁপা কণ্ঠে বলে—
“বন্ধু রে, বড় বিপদে
ডুবে গেছি জলে।
তুই ছাড়া আর কেউ নেই রে
এই দুনিয়ার মাঝে,
কিছু টাকা দিলে বন্ধু
বাঁচি কঠিন সাজে।
সময় হলে ফিরিয়ে দেব,
বিশ্বাস রাখিস ভাই,
তোর এই ঋণ জীবনভর
ভুলতে পারব নাই।”
বন্ধু তখন বুকের ভেতর
ভালোবাসা মেখে,
হিসাব-নিকাশ দূরে সরায়
বিশ্বাসটাকে দেখে।
সঞ্চয় ভেঙে টাকা দিল
আপন ভেবে তাকে,
ভাবেনি সে—এই টাকাই
আগুন ধরায় বুকে।
প্রথম প্রথম কত যে ফোন,
কৃতজ্ঞতার ঢেউ,
“তুই না থাকলে শেষ হয়ে যেতাম”—
বলত আপন কেউ।
মিষ্টি কথার সুবাস মেখে
কেটে যেত কাল,
বন্ধুত্বের ফুলবাগানে
বইত সুখের হাওয়াল।
কিন্তু ধীরে সময় গড়িয়ে
বদলে গেল রূপ,
প্রতিশ্রুতির পাখিগুলো
হয়ে গেল চুপ।
আজকে কাল, কালকে পরে,
তারপর আবার কাল,
অপেক্ষাতে শুকিয়ে গেল
বিশ্বাসেরই ডাল।
ফোন দিলে আর ফোন ধরে না,
মেসেজ পড়ে রয়,
দেখা হলে ব্যস্ততারই
অভিনয় শুধু কয়।
যে মানুষটা রাত জেগে
খুঁজত বন্ধুর সাথ,
আজ সে কেন অচেনা এক
দূর অন্ধকার পথ?
চোখে চোখে লজ্জার ছায়া,
মুখে কৃত্রিম হাসি,
অপরাধবোধ ভিতর থেকে
জ্বালায় সর্বনাশী।
অক্ষমতার কঠিন শেকল
বেঁধে ফেলে প্রাণ,
বন্ধুত্বের নির্মল নদী
হারায় কলতান।
পাওনাদার বন্ধু তখন
নিভৃতে কাঁদে রাত,
টাকার চেয়ে বেশি ব্যথা
হারানো সম্পর্কের ঘাত।
“টাকা চেয়ে কি ভুল করেছি?”
জাগে বুকের মাঝে,
বন্ধুত্ব কি টাকার কাছে
এতই ছোট সাজে?
বালিশ ভেজে দীর্ঘশ্বাসে,
ঘুম আসে না চোখে,
পুরোনো সেই স্মৃতিগুলো
ডাকে নীরব শোকে।
একদিন যে প্রাণের মানুষ
আজ সে বহুদূর,
টাকার কাছে ভালোবাসা
হয়ে গেল চুর।
বিশ্বাস যখন ভাঙতে থাকে
শব্দ হয় না কভু,
নীরবতার কান্নাগুলো
শোনেন শুধু প্রভু।
একদিন যে চায়ের আড্ডা
হাসিতে ছিল ভরা,
আজ সেখানে নিঃসঙ্গতা
কাঁদে পথহারা।
একসাথে যে পথ চলেছে
হাজার দিনের ভাই,
টাকার চাপে সম্পর্ক কেন
এত সহজে যায়?
স্বার্থ যখন হৃদয় ছোঁয়
ভালোবাসা মরে,
বন্ধুত্বের স্বর্ণমুকুট
ধুলায় গিয়ে পড়ে।
টাকা যেন আগুনখেকো
অদৃশ্য কালসাপ,
হাসির আড়াল বিষ ঢেলে দেয়
নীরব অভিশাপ।
যেখানে ছিল মায়া-মমতা
সেখানে আজ ক্ষত,
অর্থলোভে হারিয়ে যায়
পবিত্রতার রথ।
হক চাইতে গেলেই নাকি
বন্ধুত্ব হয় ছোট!
এই কথাটাই সবচেয়ে বেশি
হৃদয় ভাঙে জোট।
যে টাকা ছিল সাহায্যের
সাময়িকই সেতু,
সেই টাকাই সম্পর্ক ভাঙে
দুঃখ দিয়ে কত।
তবু সবাই প্রতারক নয়,
সময় প্রতারক হয়,
অভাব নামের ঝড়টা এসে
মানুষ ভেঙে রয়।
অনেকেই তো শোধ দিতে চায়
পারেনা শুধু তাই,
অক্ষমতার অন্ধকারে
মুখ লুকিয়ে যায়।
লজ্জা, ভয় আর অপমানে
দূরে সরে চলে,
বন্ধুর কাছেও ফিরতে পারে
না সে সহজতলে।
তাই তো আগে বুঝতে হবে
মানুষেরও ক্ষত,
অভাব কত ভয়ংকর এক
অশ্রুভেজা রথ।
তাই তো জ্ঞানী মানুষ বলে—
সাবধানে দিও ধার,
যতটুকু না পেলে পরে
ভাঙবে না সংসার।
সাহায্য যদি করতেই চাও
করো দানের মন,
ফিরে পাওয়ার আশা রেখো
না হৃদয়ের ধন।
বন্ধুকে দাও ততটুকুই
যা হারালেও শান্তি,
না পেলে যার জন্য পরে
আসবে না ভ্রান্তি।
কারণ শেষে টাকার চেয়ে
বেশি দামী প্রাণ,
ভাঙা হৃদয় জোড়া লাগে না
ফিরে শত টান।
হে আল্লাহ! তুমি রক্ষা করো
স্বার্থলোভের আগুন,
বন্ধুত্বের সবুজ বাগান
করো না নির্জন।
যে সম্পর্ক ভালোবাসায়
গড়ে ওঠে ধীরে,
অর্থলোভের বিষবাষ্পে
না যাক তা মরে।
বন্ধু যেন বন্ধুই থাকে
হিসাবেরও পর,
দুনিয়ার এই ক্ষণিক টাকায়
না ভাঙে অন্তর।
ভালোবাসার চেয়ে বড়
নেই তো কোনো ধন,
স্বার্থ এলে শুকিয়ে যায়
হৃদয়েরই বন।
শেষে শুধু এই কথাটি
রেখে যাই প্রাণে—
বন্ধুত্বকে বিকিও না
টাকার অহংকারে।
ধার দিও বুঝে-শুনে,
হৃদয় রেখো জাগ্রত,
কারণ শেষে সম্পর্কই
জীবনের আসল রত্ন।
বন্ধুত্বের মাঝে টাকার লেনদেন
সম্পর্ক ভাঙার আয়োজন”—
এই বাণীটি মনে রেখো
যতদিন থাকে জীবন।
***
৫৩
৯২ মন্তব্য