সহকারী অধ্যাপক
১১ মে, ২০২৬ ০৮:৩৪ অপরাহ্ণ
আমানতের হিসাব - মোঃ মুজিবুর রহমান
আমানতের হিসাব
মোঃ মুজিবুর রহমান
মানুষ চেনা সহজ নয় ভাই,
মুখে সবার হাসি,
অন্তরে কার সত্যের দীপ,
কারো লোভের ফাঁসি।
কেউ তো আছে পাহাড়সম
ধন রাখিলে কাছে,
বছর শেষে ফিরিয়ে দেবে
অটুট বিশ্বাসে।
অমানতের এক কণাতেও
করবে নাকো খেয়ানত,
হালাল-হারাম বুঝে চলে
রাখে ঈমানি মানত।
আবার কত মানুষ আছে
মিষ্টি কথার ভাঁজে,
একটি দীনার রাখলে তারে
ফেরত পেতে লাজে।
বারে বারে তাগাদা দাও,
তবু সে দেয় না,
হাজার ছুতো, হাজার কথা,
সত্যপথে যায় না।
কখনো বলে— “কি এমন আর?
সামান্য তো ঋণ!”
অন্যের হক গিলে খেয়ে
রাখে মুখটা ঋণ।
কারো চোখে দুনিয়ার মোহ
এত বেশি জাগে,
অন্যের প্রাপ্য মেরে খেয়ে
তৃপ্তি খোঁজে ভাগে।
কেউবা আবার ধর্মের নামে
তোলে মিথ্যা ঢাল,
নিজ স্বার্থে সত্যকে করে
অবহেলার জাল।
আল্লাহ দেখেন অন্তর ভেতর,
দেখেন গোপন চাল,
মানুষ ফাঁকি দিতে পারো,
তাঁর কাছে সব কাল।
অঙ্গীকারের মূল্য যারা
রক্ত দিয়ে রাখে,
তাকওয়ার সেই সাদা ফুল
ফোটে তাদের চোখে।
প্রতিশ্রুতির পথে যারা
অটল থাকে সদা,
ঝড় এলেও সত্যের মশাল
নেভে না তো কভু আর।
মুত্তাকীদের ভালোবাসেন
রহমতের মালিক,
তাদের হৃদয় জুড়ে থাকে
নূরের স্নিগ্ধ আলোক।
অন্যের হক আগুনসম,
জেনো হে মানবজাত,
আজকে যদি গ্রাস করো তা,
কাল হবে আঘাত।
কত বন্ধু আপন সেজে
হিসাব করে মনে,
স্বার্থ শেষে বদলে যায়
চেনা মুখের ক্ষণে।
বিশ্বাস ভেঙে নেয় যে সুখ
সেটা ক্ষণিক হাসি,
আখিরাতে সেই প্রতারণা
হবে বিষের ফাঁসি।
তাই হে মানুষ, আমানতের
রাখো সঠিক মান,
অন্যের হক ফিরিয়ে দিয়ে
করো হৃদয় দান।
ধন নয় শুধু— কথা, বিশ্বাস,
ভালোবাসার ঋণ,
সবকিছুরই হিসাব হবে
রবের কাছে দিন।
যে প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করে
সত্য পথে রয়,
আল্লাহ তার সাথেই থাকেন
ভয় তার কাছে ক্ষয়।
লোভের কাছে বিকিও না
ঈমানের এই প্রাণ,
সততারই সুবাসে ভরে
মানুষের সম্মান।
শেষ বিচারে ধন থাকবে না,
থাকবে শুধু আমল,
সত্য-তাকওয়া যার সম্বল
সেই হবে সফল।
***
এই দুনিয়ায় মানুষ কত
রঙ বদলায় ক্ষণে,
মুখে মধু, অন্তরভরা
অন্ধকারের বনে।
কেউ বা আবার সত্যব্রতী
বিশ্বাসেরই ঢাল,
তার হাতে ধন রাখলে ভাই
নেই কোনোই জ্বাল।
সোনা-রূপার পাহাড় দিলেও
খেয়ানত সে নয়,
আমানতের প্রতিটি কণা
ফিরিয়ে দিতে ভয়।
কারণ তার হৃদয়জুড়ে
আল্লাহভীতির নূর,
হালাল পথে জীবন গড়ে
রাখে অন্তর সুর।
আবার কত লোক আছে ভাই
মানুষ সেজে ঘোরে,
একটি দীনার দিলেও সে
অস্বীকারই করে।
বারে বারে তাগাদা দাও,
তবু দেয় না ফেরত,
মিথ্যা কথার জাল বিছিয়ে
করে অন্তর ক্ষত।
আজকে দিব, কালকে দিব—
এভাবেই যায় কাল,
অন্যের হক গিলে খেয়ে
হাসে বেহায়া চাল।
কেউবা আবার ধর্মের নামে
বুনে প্রতারণা,
নিজ স্বার্থে সত্যকে করে
নিষ্ঠুর অবহেলা।
বলে তারা— “ওদের ব্যাপার,
পাপ হবে না তায়!”
জেনেশুনে আল্লাহর নামে
মিথ্যার আগুন জ্বায়।
হায়রে মানুষ! কেমন করে
এমন কথা কয়?
রবের দেওয়া বিধান ছেড়ে
মিথ্যা পথে রয়!
আল্লাহ কিন্তু দেখেন সবই
গোপন অন্তরখান,
চোখের আড়াল হলেও কিছু
হারায় না প্রমাণ।
যে প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করে
তাকওয়ার পথে চলে,
রহমতেরই সুবাস নেমে
তার হৃদয়ে দোলে।
মুত্তাকীদের ভালোবাসেন
আরশের মহান রব,
তাদের জীবন আলোকিত
সত্য-নূরের সব।
অন্যের হক আগুনসম
জ্বালায় অন্তর রাত,
আজকে যারে ঠকাও তুমি
কাল হবে বিচারপাত।
কত বন্ধু আপন সেজে
কাছে এসে বসে,
বিশ্বাসটাকে পুঁজি করে
স্বার্থ খোঁজে শেষে।
সুখের দিনে কাঁধে কাঁধে
ভালোবাসার ঢেউ,
স্বার্থ শেষে খুঁজলে পরে
পাশে থাকে না কেউ।
মানুষ চেনা ভারী কঠিন
বাহির দেখে ভাই,
হাসির আড়াল বিষের ছুরি
লুকিয়ে রাখে ঠাঁই।
কারো হাতে দিলে আমানত
রাখো আগে জেনে,
ঈমান আছে অন্তরে তার
নাকি শুধু ক্ষণে।
কারণ ধন তো ধনই শুধু
নয় বিশ্বাসের ভার,
একটি খেয়ানতের কারণেই
ভাঙে সম্পর্ক হাজার।
কত ঘরে অশ্রু ঝরে
অন্যায়েরই দাহে,
কত মানুষ রাত কাটায়
বুকের চাপা আহে।
হে আল্লাহ! তুমি বাঁচাও
মিথ্যা-লোভের হাত,
অন্যের হক গ্রাস করা
হোক না কারো স্বভাব।
আমাদেরকে দাও সে মন
সত্য যেথায় রাজে,
প্রতিশ্রুতির আলো জ্বলে
তাকওয়ারি সমাজে।
আমরা যেন আমানতের
হক আদায়ে থাকি,
লোভের কাছে ঈমানটাকে
কখনো নাহি বিকি।
কারণ শেষে ধন থাকবে না,
থাকবে আমলনামা,
সত্যবাদীর মুখে তখন
ফুটবে শান্তি-চাঁদা।
যে বিশ্বাসের মর্যাদা দেয়
মানুষ তারই হয়,
দুনিয়া জুড়ে সম্মান পায়
আখিরাতে জয়।
তাই হে মানব, মনে রেখো—
এই জীবনের পাঠ,
অন্যের হক ফিরিয়ে দাও,
সততাই হোক সাথ।
যে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে
রবের ভয়ে চলে,
আল্লাহ তার নামটি লিখেন
প্রিয় বান্দার দলে।
***
মানুষ নামের এই ভুবনে
মানুষ কতো রূপ,
কারো অন্তর শিশিরস্নিগ্ধ,
কারো বুকে ধূপ।
কারো মুখে সত্যের বাণী,
চোখে নূরের রেখা,
কারো ভিতর লোভের আগুন
অন্ধকারে ঢাকা।
কেউ তো আছে— অঢেল ধনও
রাখলে তারি হাতে,
বছর ঘুরে ফিরিয়ে দেবে
বিশ্বাসেরই সাথে।
সোনা-রূপার পাহাড় যদি
দাও আমানত করে,
এক কণাটিও কমবে না ভাই
ফেরত দেবার তরে।
কারণ তার অন্তরজুড়ে
রবভীতির আলো,
অন্যের হক আত্মার কাছে
অত্যন্তই ভালো।
সে জানে ভাই— এই সম্পদ
দুনিয়ার নয় চির,
হক মেরে যে হাসতে শেখে
তার জীবন অন্ধকার ঘির।
আবার কত লোকের ভিড়ে
মানুষ চেনা দায়,
একটি দীনার দিলেও সে
ফেরত দিতে চায় না হায়!
বারে বারে তাগাদা দাও,
হাজার কথা কয়,
আজকে দিব, কালকে দিব—
মিথ্যার ভেলায় রয়।
অন্যের হক গিলে খেয়ে
হাসে বুকটা ফুলে,
ভাবছে বুঝি রক্ষা পাবে
মিথ্যার জাল তুলে।
কেউবা আবার ধর্মটাকেই
বানায় ঢাল-তলোয়ার,
নিজ স্বার্থে সত্যটাকে
করছে ছিন্নভিন্ন আর।
বলে তারা— “ওদের হক?
আমাদের কী দোষ?”
জেনেশুনে আল্লাহর নামে
মিথ্যার বিষপোষ।
হায়রে মানুষ! কেমন করে
এমন কথা কয়?
আল্লাহরই বিধান ছেড়ে
মিথ্যার পথে রয়!
যে রব সৃষ্টি করেছেন
আসমান জমিন,
তাঁর সামনে গোপন কিছু
থাকবে নাকি ঋণ?
তিনি দেখেন রাতের আঁধার,
চোখের নীরব জল,
অন্তরেরও গোপন ক্ষত
জানেন অবিচল।
যে প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করে
তাকওয়ার পথে চলে,
আল্লাহর রহমত নেমে
তার হৃদয়ে দোলে।
মুত্তাকীদের ভালোবাসেন
আরশের মহান রব,
তাদের জীবন সুবাস ছড়ায়
ফুলের মতো সব।
সত্যবাদীর ঘুমে থাকে
শান্ত নদীর ঢেউ,
খেয়ানতকারীর বুকে কিন্তু
শান্তি থাকে না কেউ।
অন্যের হক আগুনসম
জ্বালায় অন্তর রাত,
আজকে তুমি গ্রাস করিলে
কাল হবে বিচারপাত।
কত বন্ধু আপন সেজে
কাছে এসে হাসে,
বিশ্বাসটাকে পুঁজি করে
স্বার্থেরই বাসে।
সুখের দিনে চারপাশে সব
মানুষ থাকে ঘিরে,
দুঃখ এলেই চিনে যাই ভাই
কে বা থাকে ফিরে।
কত জনের মিষ্টি কথায়
হৃদয় খুলে দেই,
শেষে দেখি সেই মানুষই
বিশ্বাস ভাঙে সেই।
হাসির আড়াল বিষের ছুরি
বুকের মাঝে লুকায়,
স্বার্থ ফুরালে সম্পর্কগুলো
মুহূর্তেই শুকায়।
তাই হে মানুষ, আমানতের
রাখো সঠিক মান,
অন্যের হক ফিরিয়ে দিয়ে
করো হৃদয় দান।
ধন নয় শুধু— কথা, ভালোবাসা,
বিশ্বাসও আমানত,
একটি ছলনা ভেঙে দিতে পারে
বহু বছরের সান্নিধ্য।
কারো অশ্রু, কারো দীর্ঘশ্বাস
অকারণে নিও না,
অন্যের হক আত্মসাৎ করে
সুখের স্বপ্ন বুনো না।
কারণ একদিন দাঁড়াতেই হবে
মহাবিচার সভায়,
সেখানে কোনো ছলচাতুরী
কাউকেই বাঁচায় না হায়।
সেদিন ধন-সম্পদ থাকবে না,
থাকবে শুধু আমল,
সত্য-তাকওয়া যার সম্বল
সেই হবে সফল।
যে আমানত ফিরিয়ে দেয়
স্বচ্ছ হৃদয় ভরে,
মানুষ তার নামটি লিখে
ভালোবাসার ঘরে।
যে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে
কাঁদে রবের ভয়ে,
আল্লাহ তার জীবন ভরেন
বরকতেরই নয়ে।
হে আল্লাহ! তুমি দাও গো
সততারই প্রাণ,
লোভের কাছে বিকিয়ে না যাক
আমাদের ঈমান।
আমাদেরকে করো তুমি
বিশ্বাসী বান্দা,
অন্যের হক ফিরিয়ে দিতে
যেন না হয় বাধা।
মিথ্যার পথে না যাই কভু
স্বার্থলোভের টানে,
সত্যের আলো জ্বালিয়ে রাখি
জীবনের প্রতিটা খানে।
মানুষ যেন দেখে আমায়
বিশ্বাসভরা চোখে,
আমার হাতে নিরাপদ থাক
অন্যের সব শোকে।
এই দুনিয়া ক্ষণিকের ভাই,
সবই যাবে ফুরায়,
সততারই সুবাস শুধু
চিরকাল বেঁচে রয়।
তাই হে মানব, মনে রেখো—
এই জীবনের কথা,
আমানতের হক আদায়ে
লুকিয়ে মুক্তিপথটা।
যে সত্যবাদী, যে আমানতদার,
যে রাখে অঙ্গীকার,
আল্লাহ তার হৃদয়জুড়ে
ঢেলে দেন অপার।
শেষ প্রহরে সেই মানুষই
পাবে শান্তির ঠাঁই,
রবের প্রিয় মুত্তাকীদের
দলে থাকবে ভাই।
***
এই পৃথিবীর মানুষগুলো
এক নয়কো ভাই,
কারো অন্তর ফুলের বাগান,
কারো বিষের ঠাঁই।
কারো মুখে মধুর বাণী,
চোখে সরল হাসি,
অন্তরে তার ঈমান জাগে
নূরের বাতি ভাসি।
আবার কত মানুষ আছে
মুখে ভালোবাসা,
অন্তরে তার স্বার্থলোভের
অন্ধকারের বাসা।
কেউ যদি তার হাতে রাখে
অগণিত ধন-রতন,
বছর শেষে ফিরিয়ে দেবে
রেখে অটুট মন।
আমানতের প্রতিটি কণা
বুকের মাঝে ধরে,
মালিক যখন চাইবে এসে
ফিরিয়ে দিবে তরে।
কারণ তার ভয় একমাত্র
আসমানের রব,
অন্যের হক নষ্ট করলে
জ্বলবে অন্তর সব।
রাতের শেষে তাহাজ্জুদে
কাঁদে নীরব প্রাণ,
“হে আল্লাহ! খেয়ানত হতে
রাখিও সম্মান।”
তার কাছে ধন নয় বড়,
বড় ঈমানদারি,
মানুষ তারে ভালোবাসে
সত্যের অধিকারী।
আবার কত লোকের ভিড়ে
আছে এমন জন,
একটি দীনার রাখলে তারে
হারায় সেই ধন।
তাগাদা দাও দিনের পরে
রাত পেরিয়ে মাস,
তবু যেন ফেরত দিতে
করে না বিশ্বাস।
আজকে দিব, কালকে দিব—
এই বলে কাটে কাল,
অন্যের হক গিলে খেয়ে
হাসে নির্লজ্জ চাল।
মিষ্টি কথার আবরণে
লুকায় কালো মন,
বিশ্বাস ভাঙার খেলায় যেন
পায় অদ্ভুত ক্ষণ।
কেউবা আবার ধর্মটাকেই
স্বার্থের ঢাল বানায়,
আল্লাহরই নাম উচ্চারিয়ে
মিথ্যার আগুন জ্বালায়।
বলে তারা— “ওদের বিষয়ে
আমাদের কি দায়?”
জেনেশুনে সত্যকে ছেড়ে
অন্ধকারে যায়।
হায়রে মানুষ! ভুলে গেলে
দেখছেন মহান রব?
গোপন যত প্রতারণা
জানেন তিনি সব।
অন্তরেরও দীর্ঘশ্বাস
শুনেন রাতের শেষে,
অসহায়ের কান্নাধ্বনি
পৌঁছে আরশ দেশে।
অন্যের হক আগুনসম
জ্বালায় কবরবাস,
আজকে যাকে ঠকাও তুমি
কালকে হবে সর্বনাশ।
কত বন্ধু আপন সেজে
হাসিমুখে রয়,
স্বার্থ ফুরালেই চিনে নাও
সে কত পর হয়।
সুখের দিনে চারপাশেতে
মানুষ থাকে ভিড়,
দুঃখ এলে বুঝা যায় ভাই
কারা সত্য নীর।
কেউ বিশ্বাসের বৃক্ষ রোপে
ছায়া দেয় অবিরাম,
কেউ সেই বৃক্ষ কাটতে থাকে
লোভের হাতে থাম।
অমানতের ভার যে বহন
করে সততার সাথে,
আল্লাহ তার পথ খুলে দেন
রহমতেরই হাতে।
যে প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করে
তাকওয়ার পথে রয়,
দুনিয়াতেও সম্মান পায়
আখিরাতেও জয়।
মুত্তাকীদের ভালোবাসেন
আরশের মহান রব,
তাদের অন্তর নূরে ভরা
শান্তিময় সব।
সত্যবাদীর চোখের মাঝে
থাকে প্রশান্তি,
খেয়ানতকারীর বুকে শুধু
অস্থিরতার ভ্রান্তি।
ধন-সম্পদ থাকবে না ভাই
শেষ বিচারের দিনে,
থাকবে শুধু আমলনামা
রবের দরবারে গুণে।
কেউ তখনও কাঁদবে বসে—
“হায়! ফিরাও আমায়!”
কিন্তু সেদিন ফেরার পথ
খুঁজে পাবে না হায়।
তাই হে মানব, আজই শিখো
সততারই গান,
অন্যের হক ফিরিয়ে দিয়ে
পাও হৃদয়ের প্রাণ।
ধন নয় শুধু— কথা, আশা,
ভালোবাসার ঋণ,
সবকিছুরই হিসাব হবে
মহাবিচারের দিন।
কাউকে দিয়ে কষ্ট যদি
করো হৃদয় ভাঙা,
সেই দীর্ঘশ্বাস আগুন হয়ে
জ্বালাবে পথরাঙা।
হে আল্লাহ! তুমি দাও গো
সত্য বলার শক্তি,
আমানতের হক আদায়ে
অটুট রাখো ভক্তি।
লোভের কাছে বিকিয়ে যেন
না যায় ঈমানখানি,
মানুষ যেন চিনে আমায়
বিশ্বাসী এক প্রাণী।
আমার হাতে নিরাপদ থাক
মানুষের সব ধন,
আমার মুখে ফুটুক সদা
সত্যেরই চিরবন।
মিথ্যার সাথে আপস করে
না যাই কভু ভাই,
তাকওয়ারি আলো জ্বালিয়ে
সত্যের পথে যাই।
যে মানুষটি প্রতিশ্রুতির
মর্যাদা রাখে প্রাণে,
আল্লাহ তার নামটি লেখেন
প্রিয় বান্দার টানে।
শেষ প্রহরে শান্তির ছায়া
নামবে তারই ঘরে,
রহমতেরই দরজা খুলে
ডাক পড়িবে তরে।
সেদিন যারা আমানতের
রক্ষা করেছে ঠিক,
তাদের মুখে ফুটবে নূর
আলোকময় দিক।
তাই হে মানুষ, মনে রেখো—
জীবন ক্ষণিক পথ,
সত্য-তাকওয়া যার সম্বল
সফল তার রথ।
অন্যের হক ফিরিয়ে দাও,
রাখো প্রতিশ্রুতি,
এই পথেই মিলবে একদিন
চিরশান্তির গতি।
***
এই পৃথিবীর পথের বাঁকে
মানুষ কত রঙ,
কারো অন্তর নূরের বাগান
কারো বিষের সঙ্গ।
কেউ তো আছে শান্ত নদীর
স্বচ্ছ জলের মতো,
তার কাছে ধন রাখলে ভাই
নিরাপদই যত।
অঢেল সোনা, রূপার পাহাড়
দিলেও তার হাতে,
অমানতের হক ফিরিয়ে
দেবে ঠিকই সাথে।
কারণ তার বুকের ভিতর
রবভীতির আলো,
অন্যের হক আত্মার কাছে
অত্যন্তই ভালো।
রাত গভীরে সিজদা করে
কাঁদে নীরব প্রাণ,
“হে আল্লাহ! খেয়ানত হতে
রাখিও সম্মান।”
সে জানে ভাই— ধনসম্পদ
ক্ষণিক দুনিয়ার ধোঁয়া,
সত্য ছাড়া মুক্তির পথে
কখনো মিলবে নৌকা না।
আবার কত মানুষ আছে
মুখে মিষ্টি বাণী,
অন্তরে তার স্বার্থলোভের
বিষাক্ত নিশানি।
একটি দীনার রাখলে তারে
ফেরত পেতে দুঃখ,
তাগাদা দাও শতবারও
তবু না মেটে শোক।
আজকে দিব, কালকে দিব—
এই কথাতে দিন,
অন্যের হক গিলে খেয়ে
হাসে অমানব ঋণ।
মিথ্যার জালে ঢেকে রাখে
নিজের কালো মন,
বিশ্বাস ভাঙার খেলায় যেন
পায় অদ্ভুত ক্ষণ।
কেউবা আবার ধর্মটাকেই
স্বার্থের ঢাল বানায়,
আল্লাহর নাম মুখে নিয়ে
মিথ্যার আগুন জ্বালায়।
বলে তারা— “ওদের হক
আমাদের উপর নয়,”
জেনেশুনে সত্য ছেড়ে
অন্ধকারেই রয়।
হায়রে মানুষ! ভুলে গেলে
দেখছেন মহান রব?
অন্তরেরও গোপন কাহন
জানেন তিনি সব।
চোখের জলের নীরব ভাষা
শোনেন রাতের শেষে,
মজলুমের আর্তনাদও
পৌঁছে আরশ দেশে।
যে প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করে
তাকওয়ার পথে চলে,
রহমতেরই সুবাস নেমে
তার হৃদয়ে দোলে।
মুত্তাকীদের ভালোবাসেন
আরশের মহান রব,
তাদের জীবন আলোকিত
নূরের মতো সব।
সত্যবাদীর মুখের হাসি
শান্ত শিশির ভোর,
খেয়ানতকারীর অন্তরে ভাই
জ্বলে অনল ঘোর।
অন্যের হক আগুনসম
জ্বালায় কবরবাস,
আজকে যারে ঠকাও তুমি
কালকে সর্বনাশ।
কত বন্ধু আপন সেজে
কাছে এসে বসে,
বিশ্বাসটাকে পুঁজি করে
স্বার্থ খোঁজে শেষে।
সুখের দিনে চারদিক জুড়ে
মানুষ থাকে সাথে,
দুঃখ এলে চেনা যায় ভাই
কে আছে কোন পথে।
হাসির আড়াল বিষের ছুরি
লুকিয়ে রাখে বুকে,
সুযোগ পেলেই আঘাত হানে
বিশ্বাসভাঙার সুখে।
কারো হাতে দাও আমানত
আগে দেখে নিও,
ঈমান আছে অন্তরে তার
নাকি শুধু প্রিয়?
কারণ ধন তো ধনই শুধু
নয় বিশ্বাসের ভার,
একটি খেয়ানতের কারণেই
ভাঙে সম্পর্ক হাজার।
কত ঘরে দীর্ঘশ্বাস
অন্যায়েরই দাহে,
কত মানুষ রাত কাটায়
চোখের জলের চাহে।
হে আল্লাহ! তুমি বাঁচাও
লোভের কালো হাত,
অন্যের হক গ্রাস করা
হোক না কারো মাত।
আমাদেরকে দাও সে মন
সত্য যেথায় রাজে,
প্রতিশ্রুতির আলো জ্বলে
প্রতিটি সমাজে।
আমরা যেন আমানতের
হক আদায়ে থাকি,
লোভের কাছে ঈমানটাকে
কখনো নাহি বিকি।
ধন নয় শুধু— কথা, আশা,
ভালোবাসার ঋণ,
সবকিছুরই হিসাব হবে
মহাবিচারের দিন।
সেদিন ধন-সম্পদ কিছুই
কাজে আসবে না,
সত্য-তাকওয়া ছাড়া কেহ
মুক্তি পাবে না।
যে মানুষটি অঙ্গীকারের
মর্যাদা রাখে প্রাণে,
আল্লাহ তার নামটি লেখেন
প্রিয় বান্দার টানে।
শেষ প্রহরে শান্তির ছায়া
নামবে তারই ঘরে,
রহমতের দরজা খুলে
ডাক পড়িবে তরে।
সেদিন যারা আমানতের
রক্ষা করেছে ঠিক,
তাদের মুখে ফুটবে নূর
আলোকিত প্রতিদিক।
তাই হে মানুষ, মনে রেখো
জীবন ক্ষণিক পথ,
সত্য-তাকওয়া যার সম্বল
সফল তার রথ।
অন্যের হক ফিরিয়ে দাও,
রাখো প্রতিশ্রুতি,
এই পথেই মিলবে একদিন
চিরশান্তির গতি।
***
এই দুনিয়া পথের মেলা,
মানুষ কত রঙ,
কারো বুকে সত্য জাগে,
কারো অন্তর ভঙ্গ।
কেউ তো আছে ছায়ার মতো
বিশ্বাস ধরে রাখে,
অন্যের হক পাহারা দেয়
রাত জেগে নির্ভাকে।
তার কাছে যদি পাহাড়সম
সোনা-রূপা দাও,
বছর শেষে আগের মতো
অক্ষত ফিরে পাও।
কারণ তার অন্তরজুড়ে
রবের ভয়টা জাগে,
হারাম ধনের আগুন দেখে
হৃদয় পিছিয়ে থাকে।
সে জানে ভাই— আমানত এক
মহা পরীক্ষার নাম,
অন্যের হক নষ্ট করলে
জ্বলবে নিজের ঘাম।
আবার কত লোক আছে ভাই
মানুষ সেজে ফেরে,
মুখে মধু, অন্তরে বিষ
অন্ধকারের ঘেরে।
একটি দীনার দিলেও তার
ফিরে পাওয়া ভার,
বারে বারে বললে পরে
বদলায় আচরণ আর।
আজকে দিব, কালকে দিব—
এভাবেই কাটে কাল,
মিথ্যার পরে মিথ্যা জুড়ে
লুকায় নিজের জাল।
কখনো বলে— “ভাইরে এটা
এত হিসাব কী?”
অন্যের হক মেরে খেয়ে
হাসে নির্লজ্জই।
কেউবা আবার ধর্ম টেনে
নিজ স্বার্থকে ঢাকে,
মিথ্যা কথা আল্লাহর নামে
অহংকারে মাখে।
বলে তারা— “ওদের বিষয়ে
পাপ হবে না আর!”
হায়! কেমন সেই অন্ধ হৃদয়,
কেমন মিথ্যাচার!
জানেনা কি রবের কাছে
গোপন কিছু নাই?
চোখের জলের প্রতিটি হিসাব
লেখা রয়েছে ভাই।
কত মানুষ রাতের শেষে
নিঃশব্দে কাঁদে,
বিশ্বাস ভাঙার দহন নিয়ে
বুকের আগুন বাঁধে।
বন্ধু সেজে কতজন যে
কাছে আসে ধীরে,
স্বার্থ শেষে ফেলে রেখে
চলে যায় যে ফিরে।
সুখের দিনে বাহবা দেয়,
কাঁধে রাখে হাত,
দুঃখ এলে চিনতে পারো
কত কঠিন রাত।
আমানত শুধু ধন নয় ভাই,
কথাও আমানত,
ভালোবাসা, বিশ্বাস, সময়—
সবই তো নিয়ামত।
কারো চোখের নির্ভরতাও
রাখা বড় দায়,
একটি খেয়ানতের আঘাত
জীবন ভেঙে যায়।
কত সংসার ছিন্ন হলো
মিথ্যা লোভের দাহে,
কত সম্পর্ক মরুভূমি
স্বার্থপরতার চাহে।
তবু কিছু মানুষ আছে
সততারই ফুল,
ঝড় এলেও সত্য পথের
করেনা তারা ভুল।
প্রতিশ্রুতির প্রতিটি বাণী
রাখে বুকের মাঝে,
তাকওয়ারই সুবাস ছড়ায়
তাদের সকল কাজে।
তারা জানে— ধন রবে না,
রবে আমলখানি,
শেষ বিচারে সত্য ছাড়া
নেই তো অন্য টানি।
মুত্তাকীদের ভালোবাসেন
আরশের মহান রব,
তাদের মুখে শান্তির নূর,
হৃদয় ভরা সব।
লোভের কাছে বিকিও না
ঈমানের সম্মান,
অন্যের হক ফিরিয়ে দিয়ে
করো হৃদয় দান।
কারণ এই দুনিয়ার সবই
ক্ষণিক মরীচিকা,
সত্য ছাড়া শেষবেলায়
নেই তো কোনো দিশা।
যে আমানত রক্ষা করে
রবের ভয়ে সদা,
তার জীবনেই শান্তির নদী
বয় নিরন্তর ধারা।
যে প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করে
মানুষ ভালোবেসে,
আল্লাহ তার নামটি লেখেন
নেককারদের দেশে।
তাই হে মানুষ, মনে রেখো
এই জীবনের বাণী—
অন্যের হক রক্ষা করাই
মুমিন হৃদয়খানি।
স্বার্থ যদি চোখ ঢেকে দেয়
হারিয়ে যায় নূর,
খেয়ানতের কালো ধোঁয়ায়
অন্তর হয় দূর।
সততারই আলো জ্বালো
নিজের অন্তরে,
বিশ্বাস যেন ভেঙে না যায়
তোমার আচরণে।
একদিন তো দাঁড়াতেই হবে
মহা বিচারের মাঠে,
ধন-সম্পদ কিছুই রবে না
কবরেরই ঘাটে।
সেদিন শুধু কাজে লাগবে
সত্যভরা প্রাণ,
তাকওয়ারই দীপ্ত আলো
আর সৎ আমলখান।
হে আল্লাহ! দাও সে হৃদয়
খেয়ানত যেথা নাই,
অন্যের হক আদায় করে
শান্তি পেতে চাই।
আমাদেরকে করো তুমি
সত্য পথের সাথী,
আমানতের প্রতিটি হক
রাখি যেন মাতি।
মিথ্যার কাছে মাথা নত
কখনো যেন নয়,
তোমার ভয়ে জীবন কাটুক
এই হোক অন্তরকথায়।
যে আমানত রক্ষা করে
বিশ্বাস রাখে ঠিক,
দুনিয়া-আখিরাত উভয়খানে
সেই তো সত্য ধনিক।
-সূরাঃ আলে-ইমরান আয়াতঃ৭৫,৭৬ মাদানী
৪
৪ মন্তব্য