সহকারী শিক্ষক
১৬ মে, ২০২৬ ০৭:৫১ অপরাহ্ণ
শিশুর জন্ম,বিকাশ ও মাতৃভাষা
শিশুর জন্ম,বিকাশ ও মাতৃভাষা
মানব শিশু জন্মের পর সাধারণত মায়ের স্নেহ ও পরিচর্যার মধ্য দিয়েই পৃথিবীর সঙ্গে পরিচিত হয়। জন্মের পর থেকেই শিশু তার চারপাশের বিভিন্ন ধরনের ধ্বনি ও শব্দ শুনতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে সেসবের প্রতি সাড়া প্রদান করে। এই ধ্বনি ও শব্দের প্রধান উৎস হলো মা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্য। মা বা আশপাশের মানুষ প্রতিনিয়ত যে ভাষায় কথা বলেন, সেই ভাষার ধ্বনি শিশুর কানে পৌঁছায়। এ কারণেই মাতৃভাষাকে মায়ের ভাষা বলা হয়। অর্থাৎ শিশুর জীবনে যে ভাষার ধ্বনি প্রথম প্রবেশ করে এবং যার মাধ্যমে সে পৃথিবীর সঙ্গে পরিচিত হতে শুরু করে, সেটিই তার মাতৃভাষা।
শিশু প্রথমদিকে বিভিন্ন ধরনের অস্পষ্ট ধ্বনি উচ্চারণ করে। ধীরে ধীরে সে শব্দ ও ধ্বনির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে শেখে। আশপাশের মানুষের কথা বলা, মুখের নড়াচড়া, ধ্বনি উচ্চারণের ভঙ্গি—এসব সে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে। জন্মের প্রথম ছয় মাসের মধ্যেই শিশু ভাষার ধ্বনি অনুকরণ করার চেষ্টা শুরু করে। এরপর ধীরে ধীরে সে বুলবুল ধ্বনি বা অস্পষ্ট শব্দ করতে থাকে, যাকে আমরা ‘বাবলিং’ বলি।
এক বছরের মধ্যে শিশু সাধারণত প্রথম অর্থবোধক শব্দ উচ্চারণ করতে পারে। শুরুতে সে এক শব্দে নিজের চাহিদা প্রকাশ করে। যেমন— “মা”, “মামা”, “দাদ, ইত্যাদি। পরবর্তী কয়েক মাসের মধ্যেই তার শব্দভাণ্ডার আরও সমৃদ্ধ হতে থাকে এবং সে ধীরে ধীরে ভাষা ব্যবহারে দক্ষ হয়ে ওঠে।
৫৩
৯১ মন্তব্য