Loading..

ব্লগ

রিসেট

২০ মে, ২০২৬ ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ

"কৃষকের কান্না হাওরের কান্না"

"কৃষকের কান্না হাওরের কান্না" বাক্যটি বাংলাদেশের হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনসংগ্রাম, অকাল বন্যা এবং বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার এক নির্মম বাস্তবতাকে প্রকাশ করে। হাওরের মানুষের একমাত্র প্রধান চালিকাশক্তি হলো বোরো ধান, যা প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা অপরিকল্পিত বাঁধের কারণে তলিয়ে যায়।নিচে হাওরের কৃষকদের এই চিরন্তন কান্নার মূল কারণ ও এর প্রভাবগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
কান্নার মূল কারণসমূহঅকাল বন্যা ও পাহাড়ি ঢল: ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢল নেমে আসে। এই পানি সরাসরি সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনার হাওরগুলোকে প্লাবিত করে।
অপরিকল্পিত ও দুর্বল বাঁধ: পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পিআইসি) তদারকির অভাব থাকে। ফলে সঠিক সময়ে টেকসই ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় তা সহজেই ভেঙে যায়।
নদী ভরাট ও নাব্যতার সংকট: সুরমা, কুশিয়ারা, যাদুকাটার মতো আন্তঃসীমান্ত নদীগুলো খনন না করায় গভীরতা কমে গেছে। ফলে নদীগুলো অতিরিক্ত পানির চাপ ধরে রাখতে পারে না।
তীব্র শ্রমিক সংকট ও যান্ত্রিকীকরণ: ধান পাকার পর তা কাটার জন্য পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যায় না। কম্বাইন হারভেস্টার বা আধুনিক যন্ত্রপাতির সংখ্যাও চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
 যে ভয়াবহ প্রভাব পড়েআর্থিক বিপর্যয়: কৃষকেরা চড়া সুদে ঋণ বা দাদন নিয়ে ফসল আবাদ করেন। ফসল তলিয়ে গেলে তারা পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়েন।
জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি: দেশের সামগ্রিক চাল উৎপাদনের একটা বড় অংশ আসে এই হাওরাঞ্চল থেকে। এখানকার ফসলহানি পুরো দেশের খাদ্য বাজারে প্রভাব ফেলে।
গো-খাদ্যের চরম সংকট: ধান গাছ পচে যাওয়ার কারণে গবাদি পশুর জন্য খড়ের তীব্র অভাব দেখা দেয়।
 দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান
১. বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বাঁধ নির্মাণ: সময়মতো টেকসই ফসল রক্ষা বাঁধ নিশ্চিত করা।
২. নদী খনন: নদীগুলোর স্বাভাবিক নাব্য ফিরিয়ে আনা।
৩. ভর্তুকি ও সহজ ঋণ: সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও কৃষকদের জন্য 'কৃষিবিমা' চালু করা।৪. আগাম জাতের ধান: স্বল্প সময়ে পেকে যায় এমন জলবায়ু সহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন করা।হাওরের কৃষকদের কান্না কেবল একটি অঞ্চলের একক দুর্যোগ নয়, এটি সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় ধাক্কা।

মন্তব্য করুন