সহকারী অধ্যাপক
২১ মে, ২০২৬ ১০:২২ অপরাহ্ণ
হে মানুষ - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
হে মানুষ
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
মানুষ তুমি পথের যাত্রী,
ক্লান্ত ভোরে, অন্ধ রাতে,
হাসি-কান্না, দুঃখ-বেদনায়
চলছ শুধু রবের পথে।
মাটির বুকে যত আয়োজন,
যত অহংকারের দেয়াল,
শেষ ঠিকানা সেই তো কবর,
শেষে খুলবে হিসাবের জাল।
হে মানুষ, তুমি ভুলে যেও না—
এই জীবন ক্ষণিক ছায়া,
আজ যে রাজা, কাল সে নিঃস্ব,
মৃত্যুই সবার শেষ মায়া।
দিনের পরে রাত যে আসে,
রাতের পরে সুবহে সাদিক,
তেমনি করেই কিয়ামতের ডাক
আসবে হঠাৎ ভয়াল তারিখ।
কত শ্রম আর কত চেষ্টা,
কত দৌড়াও দুনিয়ার তরে,
শেষে কিন্তু দাঁড়াতেই হবে
রবের মহান দরবার ঘরে।
সেদিন হবে না কোনো বন্ধু,
হবে না ধন, শক্তি, বাহন,
নেক আমল আর খাঁটি ঈমান—
এ দুটিই হবে সত্য সম্পদ তখন।
যার আমলনামা ডান হাতে যাবে,
কি অপূর্ব তার সৌভাগ্য হবে!
সহজ হবে কঠিন হিসাব,
রহমতের দরজা খুলে রবে।
মুখে তখন প্রশান্ত হাসি,
চোখে জান্নাতের আলোর রেখা,
বলবে সে—
“আজ আমার সব কষ্ট সার্থক দেখা!”
পরিবারের মাঝে ফিরবে খুশিতে,
ভয় থাকবে না অন্তরে আর,
কারণ সে তো সফল আজ,
পেরিয়েছে ভয়াল বিচার।
জান্নাতের বাগান ডাকবে তাকে,
নদী বইবে শান্ত সুরে,
হূরেরা দেবে সালাম তখন,
রহমত ঝরবে নূরের নূরে।
আরেক দল দাঁড়াবে কাঁদতে,
লজ্জা, ভয় আর অনুতাপে,
পিঠের পেছনে আমলনামা—
অন্ধকার নামবে হৃদয়-মাপে।
তারা তখন চিৎকার করে
বলবে শুধুই— “ধ্বংস হোক!”
কিন্তু সেদিন ফিরবে না আর
দুনিয়ার কোনো সুযোগ।
দুনিয়াতে ছিল হাসি-খুশি,
ভেবেছিল— “ফিরতে হবে না,”
ভুলে গিয়েছিল রবের ডাকে
একদিন দাঁড়াতে হবে সবার সামনে না।
আজ যে মানুষ গুনাহে মাতে,
অহংকারে বুক ফুলায়,
কাল সে মানুষ আগুন দেখে
আতঙ্কে শুধু কাঁদতে চায়।
হে মানুষ, এখনো সময় আছে,
ফিরে এসো আল্লাহর দ্বীনে,
নামাজ, রোজা, সত্য পথে চলো,
হৃদয় রাখো ঈমানী চীনে।
কারো হক নষ্ট কোরো না আর,
কারো চোখে দিও না জল,
মাজলুমের আহাজারিতে
কেঁপে ওঠে আরশতল।
যে সম্পদে এত গর্ব করো,
রেখে যেতে হবে সবই শেষে,
সাদা কাফন জড়িয়ে একদিন
শুতে হবে নিরব দেশে।
কবর হবে প্রথম ঘাঁটি,
সেখানেই শুরু প্রশ্ন কঠিন,
নেককার হলে শান্তি পাবে,
অন্যথায় ভয় হবে সঙ্গীদিন।
তাই ওহে মন, জেগে ওঠো,
আর কতো ঘুম দুনিয়ার মোহে?
রবের ডাকে সাড়া দাও আজ,
আখিরাতের পাথেয় লও সঙ্গে।
যে চোখ আজ গুনাহ দেখে,
সে চোখ কাঁদুক তাহাজ্জুদে,
যে মুখ আজ মিথ্যা বলে,
সে মুখ ভাসুক কুরআনের সুরে।
যে হৃদয়ে ছিল অহংকার,
সেখানে আনো বিনয় নূর,
কারণ আল্লাহ ভালোবাসেন
ভাঙা হৃদয়, অশ্রু ভরপুর।
হে রব, তুমি দয়া করো,
আমলনামা দিও ডান হাতে,
সহজ করো ভয়াল হিসাব
হাশরের সেই কঠিন রাতে।
পুলসিরাত করো সহজ,
কবর করো জান্নাতি বাগান,
তোমার আরশের ছায়ায় রেখো
যেদিন থাকবে না কোনো স্থান।
আমাদের দাও খাঁটি তাওবা,
দাও তাকওয়া, দাও হিদায়াত,
শেষ নিশ্বাসে কালিমা দিও,
করো জান্নাত চিরনিবাস।
যেদিন সূর্য নিভে যাবে,
চাঁদ হারাবে আলোর রেখা,
সেদিন যেন তোমার রহমত
হয় আমাদের শেষ ভরসা।
হে মানুষ, পথিক তুমি,
ফিরে যেতে হবে রবের ঘরে,
তাই আজই গড়ো নেকের জীবন,
দেরি কোরো না আর পরে।
কারণ জীবন নদীর মতো—
কখন থেমে যায় কে জানে?
সফল সেই, যে রবকে পেয়ে
হাসিমুখে যায় জান্নাতখানে।
হে মানুষ, পথের ক্লান্ত মুসাফির,
ধুলোমাখা এ দুনিয়ার ভিড়ে,
কত স্বপ্ন গড়ো হৃদয়জুড়ে,
কত আশা রাখো চোখের নীড়ে।
সকাল গড়িয়ে দুপুর আসে,
দুপুর শেষে নামে আঁধার,
তেমনি করেই ফুরিয়ে যাবে
জীবনের এই ক্ষণিক বাজার।
আজ যে মানুষ হাসছে খুব,
কাল সে হবে নীরব কবরবাসী,
আজ যে বুক ভরা অহংকারে,
কাল তার চোখে অশ্রু ভাসি।
হে মানুষ, তুমি চলছ শুধু
রবের ডাকে ফিরে যাবার তরে,
এই পৃথিবী ক্ষণিক ছায়া,
স্থায়ী ঠিকানা নয়কো রে।
কত পরিশ্রম, কত দৌড়ঝাঁপ,
কত হিসাব জমাও মনে,
শেষে কিন্তু দাঁড়াতে হবে
রবের বিশাল বিচার সনে।
সেদিন সূর্য কাছে নেমে
ঘাম ঝরাবে ভয়াল তাপে,
কেউ থাকবে না পাশে এসে
বন্ধু সেজে সান্ত্বনা দিতে।
মা ভুলে যাবে সন্তানকে,
ভাই পালাবে ভাইয়ের কাছ,
নিজের চিন্তায় ব্যস্ত সবাই,
কারো থাকবে না অন্যের খোঁজ।
শুধু তখন নেক আমলই
হবে সত্যি সাথী তোমার,
যা পাঠিয়েছ দুনিয়া থেকে
তাই হবে আজ সম্বল ভার।
যার আমলনামা ডান হাতে,
কী আনন্দ তার অন্তরে!
সহজ হবে হিসাব তার,
রহমত নামবে নূরের ঘরে।
সে বলবে হেসে—
“এসো দেখো! সফল আমি আজ!”
কারণ রবের দয়ায় পেরিয়েছি
কঠিন হিসাবের ভয়াল সাজ।
তার মুখ হবে পূর্ণিমা চাঁদ,
চোখে থাকবে প্রশান্তি,
জান্নাত তাকে ডাকবে তখন
অসীম সুখের কান্তি।
পরিবারের কাছে ফিরবে সে
অপরূপ এক সুখের ভোরে,
দুঃখ-কষ্ট হারিয়ে যাবে
রহমতেরই আলোঘোরে।
সেখানে নেই কোনো মৃত্যু,
নেই কোনো ভয় বা ক্লান্তি,
নেই অভাব, নেই অশান্তি,
শুধু অফুরন্ত শান্তি।
বইবে নদী দুধ ও মধুর,
ফল ঝুঁকে পড়বে হাতে,
নূরের মুকুট মাথায় দিয়ে
রাখবে রব সম্মানের সাথে।
আর যে মানুষ ভুলে ছিল
আখিরাতের ভয়াল দিন,
দুনিয়ার সুখে মত্ত হয়ে
করেছে হৃদয় কঠিন—
তার আমলনামা পেছন দিয়ে
দেয়া হবে অপমান ভরে,
সে চিৎকার করে বলবে তখন—
“হায়! কেন ফিরলাম না রে!”
সে চাইবে আবার দুনিয়াতে
একটু ফিরে যেতে,
একটি সিজদাহ, একটি তাওবা
নতুন করে নিতে।
কিন্তু সেদিন ফিরবে না আর
হারানো সময় কোনোমতে,
বন্ধ হয়ে যাবে সব দরজা
আফসোসেরই অশ্রুতে।
দুনিয়াতে ছিল হাসিখুশি,
ভাবত— “কোথায় বিচার হবে?”
আজ সে আগুন দেখে কাঁদে,
ভয় তাকে গ্রাস করে রবে।
হে মানুষ, এখনও সময় আছে,
ঘুম ভাঙাও গাফিলতির,
মৃত্যুর আগে ফিরে এসো
রহমতেরই ছায়ানীড়ে।
নামাজকে করো হৃদয়ের আলো,
কুরআনকে করো পথের দিশা,
সত্যকে আঁকড়ে বেঁচে থাকো,
তাকওয়াতেই জীবনের আশা।
কারো হক নষ্ট কোরো না আর,
কারো মনে দিও না ক্ষত,
মাজলুমের কান্না উঠলে
কেঁপে ওঠে আরশপথ।
যে টাকা নিয়ে অহংকার করো,
যে দালান গড়ো সুখের তরে,
একদিন সেসব ফেলে রেখেই
চলে যেতে হবে কবরঘরে।
চারজন মানুষ কাঁধে তুলে
নিয়ে যাবে শেষ ঠিকানায়,
যে মানুষ ছিল দুনিয়ার রাজা
সেও হারাবে নীরব ছায়ায়।
কবর ডেকে বলবে তখন—
“কি এনেছ সঙ্গে করে?”
মানুষ তখন বুঝবে হায়,
সবই রয়ে গেছে ঘরে।
তাই ওহে মন, নরম হও,
তাওবার অশ্রু ঝরাও রাতে,
হয়তো এ রাত শেষ রাত তোমার,
ডাক আসবে অজানাতে।
তাহাজ্জুদের সিজদায় কেঁদে
বল— “হে আল্লাহ! দয়া করো,”
ডান হাতে দিও আমলনামা,
হাশরের ভয় সহজ করো।
পুলসিরাতে আলো দিও,
কবর ভরো জান্নাতি নূরে,
আরশের ছায়া দিও আমায়
যেদিন সবাই ভীত সুরে।
শেষ নিশ্বাসে কালিমা দিও,
দাও ঈমানের সৌভাগ্য,
মৃত্যুর পরে জান্নাত দিও—
এটাই মুমিনের শ্রেষ্ঠ ভাগ্য।
হে মানুষ, জীবন নদী
অজানার পানে বয়ে যায়,
আজ যে বেঁচে, কাল সে নিথর—
সময় কারো জন্য না থামায়।
তাই আজই গড়ো নেকের ভান্ডার,
আজই হও রবমুখী প্রাণ,
কারণ সফল সেই মানুষই—
যার শেষ ঠিকানা জান্নাতের বাগান।
***
হে মানুষ, তুমি দুনিয়ার পথে
কত ব্যস্ত সকাল-সাঁঝে,
রিজিক, স্বপ্ন, আশা নিয়ে
চলছ শুধু জীবনের মাঝে।
কেউ বা হাসে অট্টহাসি,
কেউ বা কাঁদে নীরব রাতে,
কেউ গড়ছে দালান উঁচু,
কেউ হারিয়ে যায় দুঃখস্রোতে।
কিন্তু হে মন, ভুলে যেও না—
সব পথ শেষ হবে কবরঘরে,
সব গল্প থামবে একদিন
মাটির নীরব অন্ধকারে।
তোমার রবের দিকে ছুটে চলা
বন্ধ হবে না মৃত্যুতেও,
বরং সেদিন শুরু হবে
চিরজীবনের নতুন ঢেউ।
হে মানুষ, কত পরিশ্রম করো,
কত ঘাম ঝরে রোজ,
কত ব্যথা বুকের মাঝে
লুকিয়ে রাখো নিরব খোঁজ।
সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে
কত রাত কাটে নির্ঘুম,
কত চিন্তা জমে হৃদয়ে
কত স্বপ্ন হয় নিঃশব্দ ধূম।
কিন্তু সেদিন, হাশরের মাঠে,
থামবে সব দুনিয়ার গান,
রাজা-ভিখারি এক কাতারে—
কেউ পাবে না আলাদা স্থান।
সেদিন হবে ভয়াল দৃশ্য,
সূর্য মাথার খুবই কাছে,
মানুষ ছুটবে আশ্রয়ের তরে
ভয়ে বুকটা কেঁপে আছে।
নেই কোনো নেতা, নেই পরিচয়,
নেই ক্ষমতার অহংকার,
যার যত আমল সঙ্গে আছে
সেটাই হবে তার সম্বল আর।
যে বান্দা কেঁদেছে রাতে
আল্লাহর ভয়ে সিজদাতে,
যে গোপনে দান করেছে
মানুষেরই উপকারেতে—
তার আমলনামা ডান হাতে
দেয়া হবে নূরের আলোয়,
তার মুখ হবে চাঁদের মতো
রহমতেরই স্নিগ্ধ ঢলায়।
সে তখন খুশিতে বলবে—
“এসো সবাই! দেখো আমায়!
আমার রব আজ দয়া করে
মুক্তি দিলেন ভয়াল দায়!”
সহজ হবে হিসাব তার,
থাকবে না কোনো ভয়,
জান্নাত তখন বাহু মেলে
বলবে— “এসো, এদিকে রয়।”
তার সন্তান, পরিবার সবাই
খুশির সাগরে ভাসবে,
দুনিয়ার সব কষ্ট তখন
চিরতরে হারিয়ে যাবে।
জান্নাতের বৃক্ষ ছায়া দেবে,
নদী বইবে কলকলিয়ে,
শান্তির বাতাস ছুঁয়ে যাবে
মুমিন হৃদয় দোলায় দিয়ে।
না থাকবে কোনো হিংসা সেখানে,
না থাকবে কোনো কষ্ট,
না থাকবে মৃত্যু কিংবা ভয়,
না থাকবে হৃদয় ভষ্ট।
সেখানে শুধু শান্তির ছোঁয়া,
রহমতের অফুরান ধারা,
আল্লাহর দীদার লাভের সুখে
ভরে যাবে অন্তর সারা।
আর যে মানুষ ভুলে ছিল
রবের ডাকে ফিরে আসা,
দুনিয়ার রঙিন মোহে পড়ে
হারিয়েছে ঈমান-ভরসা—
তার আমলনামা পেছন দিয়ে
দেয়া হবে অপমানে,
সে কাঁদবে তখন হাহাকার করে
অসহায় অনুতাপ প্রাণে।
বলবে— “হায়! কেন বুঝিনি?
কেন কাটালাম গাফিলতিতে?”
কিন্তু সেদিন ফিরবে না আর
এক মুহূর্তও দুনিয়াতে।
যে মুখ হাসত গুনাহ করে,
আজ সে মুখে আতঙ্ক ভার,
যে বুক ছিল অহংকারে ভরা
আজ সেখানে আগুনের আঁধার।
হে মানুষ, সময় থাকতে
ফিরে এসো সত্য পথে,
নামাজ দিয়ে হৃদয় সাজাও
আল্লাহরই প্রেমরথে।
কুরআনের আলো বুকে নাও,
সুন্নাহকে করো সাথী,
তাহলেই পার হবে সহজে
হাশরের ভয়াল রাতি।
কারো হক নষ্ট কোরো না,
কারো চোখে দিও না জল,
মাজলুমের দীর্ঘশ্বাস কিন্তু
কাঁপিয়ে তোলে আরশতল।
এই দুনিয়া মরীচিকা শুধু,
আজ আছে, কাল নেই,
যে জীবনকে চিরস্থায়ী ভাবো
সেটাই সবচেয়ে বড় ভ্রান্তি সেই।
একদিন তোমার ঘর থাকবে,
থাকবে দালান, জমি, ধন,
শুধু তুমি থাকবে না আর—
শেষ হবে দুনিয়ার আয়োজন।
মানুষ তখন বলবে শুধু—
“ভালো মানুষ ছিল সে,”
কিন্তু কবরের অন্ধকারে
কাজে লাগবে আমল যে।
তাই ওহে মন, আজই কাঁদো,
আজই করো তাওবা খাঁটি,
কারণ মৃত্যু দরজায় এসে
দেয় না কোনো আগাম চিঠি।
তাহাজ্জুদের নীরব রাতে
আল্লাহকে ডেকে বলো—
“হে রব আমার, ক্ষমা করো,
ভাঙা হৃদয় জুড়ে চলো।”
ডান হাতে দিও আমলনামা,
সহজ করো ভয়াল হিসাব,
পুলসিরাতে নূর দিও
যেন পার হই অনায়াস।
কবরটাকে জান্নাত করো,
অন্ধকারে দিও আলো,
শেষ নিশ্বাসে ঈমান দিও,
তোমার প্রেমে রাখো ভালো।
হে মানুষ, তুমি ক্ষণিক পথিক,
চিরদিন রবে না এখানে,
যে আজ শক্তিশালী খুব
কাল সে ঘুমাবে মাটির বিছানায় নিভৃতে।
তাই আজই গড়ো নেকের জীবন,
আজই হও রবমুখী প্রাণ,
কারণ সফল সেই মানুষই—
যার শেষ ঠিকানা জান্নাতের বাগান।
***
হে মানুষ, দুনিয়ার পথে
কত ব্যস্ত তোমার প্রাণ,
কত হিসাব, কত পরিকল্পনা,
কত স্বপ্নে রঙিন ভুবনখান।
সকাল হলে রিজিকের তরে
ছুটে যাও ব্যস্ত নগরে,
রাত নামিলে ক্লান্ত শরীর
ফিরে আসে আপন ঘরে।
কিন্তু কখনো কি ভেবেছ বসে—
এই ঘর কি চিরদিনের?
এই পৃথিবী, এই আপনজন
থাকবে কি সব অনন্তকালের?
না, হে মানুষ, না!
একদিন সব ছেড়ে যেতে হবে,
শীতল মাটির নিরব ঘরে
একা একাই শুতে হবে।
যে হাতে গড়েছ দালান উঁচু,
যে হাতে লিখেছ নাম,
সেই হাত একদিন নিথর হবে,
থামবে জীবনের সব আয়োজন।
হে মানুষ, তুমি চলছ শুধু
তোমার মহান রবের পানে,
প্রতিটি শ্বাস, প্রতিটি ক্ষণ
নিয়ে যাচ্ছে শেষ ঠিকানায় টানে।
আজ তুমি হাসো, কাল তুমি কাঁদো,
আজ তুমি শক্তিশালী,
কাল হঠাৎই খবর আসবে—
“সে তো চলে গেছে নিরবেই!”
তখন তোমার প্রিয় মানুষগুলো
কাঁদবে কিছু সময় ধরে,
তারপর আবার ব্যস্ত হবে
দুনিয়ার নতুন ভিড়ে।
শুধু তোমার আমল তখন
থাকবে তোমার সাথী হয়ে,
নামাজ, রোজা, দান-সদকা
আলো দেবে কবরময়।
হাশরের সেই ভয়াল দিনে
মানুষ হবে দিশেহারা,
সূর্য তখন মাথার কাছে,
ভয় কাঁপাবে বুকটা সারা।
কেউ বলবে— “নাজাত কোথায়?”
কেউ বলবে— “আশ্রয় দাও!”
কেউ কাঁদিবে পাপের ভারে,
কেউ বলিবে— “ফিরতে চাও!”
কিন্তু সেদিন ফেরার পথ
বন্ধ হবে চিরতরে,
দুনিয়ার সব সুযোগ তখন
হারিয়ে যাবে অন্ধকারে।
যে মুমিন রাতের আঁধারে
তাহাজ্জুদে কেঁদেছিল,
গোপন মনে রবের ভয়ে
নিরবে তাওবা করেছিল—
তার চেহারায় নূরের ঝলক
জ্বলবে সেদিন অপার সুখে,
ডান হাতে তার আমলনামা
দেয়া হবে রহমত মুখে।
সে বলবে খুশির অশ্রু নিয়ে—
“এসো দেখো! আমি বেঁচে গেছি!”
কারণ আজ তার রবের দয়ায়
সব ভয়-আতঙ্ক শেষ হয়েছে।
তার হিসাব হবে সহজ,
থাকবে না কোনো দুঃখ,
জান্নাত তখন তাকে ডেকে
দিবে অফুরন্ত সুখ।
বাগান জুড়ে শান্তির ছোঁয়া,
নদী বয়ে যায় কলতানে,
ফল ঝুঁকে পড়ে হাতের কাছে
রহমতেরই সুবাসখানে।
সেখানে নেই মৃত্যু কোনো,
নেই বিচ্ছেদের কান্না,
নেই হৃদয়ের কষ্ট-বেদনা,
নেই অশান্তির ছায়া।
আল্লাহর দীদার লাভের সুখে
মুমিন হৃদয় ভরে যাবে,
সকল কষ্ট, সকল ব্যথা
চিরতরে দূরে সরে যাবে।
আর যে মানুষ গাফিল ছিল,
দুনিয়াকেই ভেবেছিল সব,
অহংকারে ডুবে থেকে
ভুলে গিয়েছিল নিজের রব—
তার পিঠের পেছনে সেদিন
দেয়া হবে আমলনামা,
সে চিৎকার করে কাঁদবে তখন—
“হায়! আজ কেন এ পরিণাম!”
সে চাইবে আবার পৃথিবীতে
এক মুহূর্ত ফিরে যেতে,
একটি সিজদাহ করতে শুধু,
একবার “তাওবা” বলতে।
কিন্তু সময় থেমে যাবে,
বন্ধ হবে সব দরজা,
অনুতাপের অশ্রুধারা
বাঁচাতে পারবে না আর সেথা।
হে মানুষ, এখনও সময় আছে,
ঘুম ভাঙাও গাফিলতির,
মৃত্যু কিন্তু নিঃশব্দ পায়ে
এসে দাঁড়ায় জীবনের দ্বারপ্রান্তে নিরবধির।
নামাজকে করো চোখের শীতলতা,
কুরআনকে করো হৃদয়ের নূর,
সত্য পথে চলো সর্বদা
যদিও সে পথ হয় কঠিন দূর।
কারো হক নষ্ট কোরো না,
কারো মনে দিও না ক্ষত,
মাজলুমের কান্না আকাশ ভেদে
পৌঁছে যায় আরশের পথ।
যে টাকা নিয়ে এত অহংকার,
যে সম্পদে এত গর্ব,
মৃত্যুর পরে কিছুই যাবে না—
শুধু আমল থাকবে অবশিষ্ট।
তাই ওহে মন, নরম হও,
অহংকার সব ভেঙে ফেলো,
ভাঙা হৃদয়ে রবকে ডেকে
ক্ষমার অশ্রু ঢেলে দাও।
তাহাজ্জুদের নীরব রাতে
বল— “হে আল্লাহ, দয়া করো,
ডান হাতে দিও আমলনামা,
হাশরের ভয় সহজ করো।”
পুলসিরাতে আলো দিও,
কবরটাকে ফুলে ভরো,
শেষ নিশ্বাসে ঈমান দিও,
তোমার প্রেমে জীবন গড়ো।
হে মানুষ, জীবন নদী
ধীরে ধীরে ফুরিয়ে যায়,
আজ যে তরুণ, কাল সে বৃদ্ধ,
আজ যে জীবিত, কাল সে হারায়।
তাই আজই গড়ো নেকের জীবন,
আজই হও আল্লাহমুখী প্রাণ,
কারণ সফল সেই মানুষই—
যার শেষ ঠিকানা জান্নাতের বাগান।
৭১
১৪৫ মন্তব্য