Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৩ মে, ২০২৬ ০৩:১৫ অপরাহ্ণ

লটারিতে ৫লক্ষ টাকা - মোঃ মুজিবুর রহমান


লটারিতে ৫লক্ষ টাকা

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

ঠেলাগাড়ির চাকার শব্দে
জীবনের গান বাজে,
কেউ ঘামে ভেজা রুটির খোঁজে,
কেউ স্বপ্ন বোনে সাজে।
পথের ধুলো, কষ্ট মেখে
দিন যে কাটে ভারে,
তবু বুকের ভিতর আশা
জ্বলে নীরব আগুনধারে।

একদিন হঠাৎ ভাগ্য যেন
হাসল তারই পানে,
লটারিতে পাঁচ লক্ষ টাকা
এলো সুখের টানে।
লোকজন সব বলল তখন
ভাই, এবার তো রাজা!
ঠেলাগাড়ি ছেড়ে দিয়ে
করো সুখের সাজা!

সাধারণ সেই মানুষটি
সরল মনের ছিল,
ব্যাংকের ভেতর টাকাগুলো
সযতনে জমা দিল।
ভাবল মনে অভাব দিনে
টাকা হবে ঢাল,
কষ্ট এলে বাঁচাবে মোর
ভাঙা জীবনের চাল।

কিন্তু তখন বন্ধুর বেশে
এলো এক প্রতারক,
মুখে মধু, চোখে স্বপ্ন,
ভিতরে বিষধর লোক।
বলল হেসে
ব্যাংকে রেখে লাভটা কী আর ভাই?
ব্যবসাতে নামলে দেখো
টাকার পাহাড় পাই!

চলো বন্ধু, বড় হবো,
গড়ব সুখের ঘর,
এক বছরের মাঝেই দেখো
হবে সোনার ভোর।
সরল মানুষ বিশ্বাস করে
দিল সবটুকু ধন,
ভাবল এবার ঘুচবে বুঝি
দুঃখভরা জীবন।

শুরু হলো ব্যবসা নাকি,
চলল কাগজ খেলা,
স্বাক্ষরের পর স্বাক্ষর শুধু,
হিসাব গেল মেলা।
একজন শুধু স্বপ্ন আঁকে,
অন্যজন দেয় দাম,
লোভী মানুষ হাসে ভিতরে,
পুড়ে সরল প্রাণ।

একটি বছর পেরিয়ে গেল,
সময় বদলালো,
সুখের নৌকা মাঝপথেতে
ঝড়ের মুখে ঢালো।
সাংবাদিক একদিন হঠাৎ
রাস্তার ধারে দেখে
সেই মানুষটি আগের মতো
ঠেলাগাড়ি ঠেলে।

ঘামে ভেজা ক্লান্ত মুখে
অভাবেরই ছাপ,
চোখের কোণে ভাঙা স্বপ্ন,
নিঃশব্দ অনুতাপ।
সাংবাদিক তখন জিজ্ঞেস করে
টাকার কী হলো ভাই?
লটারিতে যে লাখো টাকা
পেয়েছিলে তাই?”

ম্লান হেসে সে উত্তর দিল,
কষ্ট মেশা সুরে
ব্যবসাতে গেছে সবই,
স্বপ্ন গেছে দূরে।
প্রফিট হলে আবার নাকি
দাঁড়াবো নতুন করে,
পরিমাণ টাকা হলে
ব্যবসা হবে পরে!

চারপাশেতে হাসির ঢেউ,
কেউবা করে তাচ্ছিল্য,
কিন্তু তারই বুকের ভিতর
জমে নীরব ব্যথা-বিলাপ।
কারণ মানুষ হারায় আগে
টাকা নয়, বিশ্বাস,
বন্ধুর মুখোশ পরে কত
ঘুরে বেড়ায় সর্বনাশ।

শিখিয়ে গেল এই ঘটনাটি
জীবনেরই পাঠ
সবাই বন্ধু নয় রে ভাই,
সব হাসি নয় ঠাট।
লোভের কথায় ভেসে গেলে
ডুবে যায় সংসার,
এক নিমিষে শেষ হয়ে যায়
বহু দিনের ভার।

ব্যাংকের টাকায় কম যে লাভ,
তবু থাকে নিরাপদ,
লোভের আগুন জ্বালতে গেলে
হয়ে যায় সর্বনাশ।
অল্প টাকায় সুখে থাকা
অনেক বড় জিনিস,
মিথ্যা স্বপ্ন বেচে যারা
তাদের হৃদয় নিষ্ঠুর বিষ।

আজও পথে ঠেলাগাড়ি
চলে ধীরে ধীরে,
মানুষটি সেই ভাবছে শুধু
ভুলের অন্ধ নীড়ে।
যদি আবার সুযোগ পেত,
রাখত টাকাটা ধরে,
মিথ্যা বন্ধুর ফাঁদে পড়ে
যেত না আর মরে।

এই দুনিয়ায় সহজ মানুষ
সবচেয়ে বেশি হারে,
বিশ্বাস দিয়ে ঠকে গিয়ে
কাঁদে অন্ধকারে।
তবু জীবন থেমে থাকে না,
চাকা ঘুরে যায়,
কষ্ট মেখেও মানুষ আবার
নতুন স্বপ্ন গায়।

হে মানুষ, চোখ খুলে দেখো,
সব চকচকে সোনা নয়,
মুখে মধু, অন্তরে বিষ
এমন মানুষ কমও নয়।
পরিশ্রমের ছোট রুটি
সত্যি অনেক দামী,
প্রতারণার প্রাসাদ গড়ে
মেলে না শান্তি আমি।

ঠেলাগাড়ির শব্দ যেন
আজও শিক্ষা দেয়
লোভের পিছে দৌড়ালে ভাই
সুখটা দূরে যায়।
অল্পে সুখী, সত্য পথে
যে মানুষটি চলে,
আল্লাহ তার রিজিক রাখেন
বরকতেরই ছলে।



ভোরের কুয়াশা ভেদ করে
শহর যখন জাগে,
ঠেলাগাড়ির শব্দ তখন
ব্যস্ত রাস্তায় লাগে।
ঘামে ভেজা কাঁধের উপর
জীবন থাকে চেপে,
স্বপ্নগুলো ধুলোর সাথে
হাঁটে নীরব রূপে।

সেই মানুষটা গরিব হলেও
মনটা ছিল সাদা,
দুঃখ ছিল নিত্যসাথী,
অভাব ছিল বাধা।
তবু সে হার মানেনি কখন,
হাসত প্রাণ খুলে,
ভাঙা ঘরেও সুখ খুঁজে নিত
অল্প আলোতুলে।

একদিন হঠাৎ াগ্যের চাকা
ঘুরল অন্য দিকে,
লটারিতে পাঁচ লক্ষ টাকা
এলো সুখের ডাকে।
চারদিকেতে হইচই পড়ে
ভাইরে, তুই বড়লোক!
কেউবা তখন স্বপ্ন আঁকে,
কেউবা দিল শোক।

কেউ বলে গাড়ি কিনো,
কেউ বলে বাড়ি,
কেউবা আবার হিসাব কষে
করল বাহাদুরি।
কিন্তু লোকটা ভাবল চুপে
টাকা বড় দায়,
অভাব এলে এই সম্বলই
পাশে এসে দাঁড়ায়।

ব্যাংকের ভেতর জমা করে
রাখল কষ্টধন,
ভাবল মনে নিরাপদে
বাঁচুক আমার জীবন।
সুদ না হোক, শান্তি তো আছে,
চুরি হওয়ার ভয় নাই,
দুঃসময়ে এই টাকাগুলো
আশার আলো ভাই।

কিন্তু তখন এল হেসে
বন্ধুবেশী জন,
চোখে মায়া, কথায় আগুন,
মনে লুকায় ক্ষণ।
বলল সে
এইভাবে কি মানুষ বড় হয়?
ব্যাংকে রেখে টাকার আবার
কোনো মর্যাদা রয়?”

চল না বন্ধু ব্যবসাতে নামি,
দেখবি ভাগ্য খুলে,
এক বছরের মাঝেই তোর
টাকা যাবে ফুলে।
দোকান হবে, গাড়ি হবে,
হবে দালানকোঠা,
এই সামান্য ব্যাংক মুনাফা
মানায় নাকি তোকে?”

সরল মানুষ সহজ মনে
বিশ্বাস করল তাই,
বন্ধুর কথায় ভেসে গিয়ে
স্বপ্ন দেখতে চায়।
চুক্তিপত্র, কাগজপত্র,
স্বাক্ষরের ঢেউ,
অর্থ গেল ধীরে ধীরে
অচেনা কারও ঢেউ।

শুরু হলো ব্যবসা নাকি
লাভের রঙিন খেলা,
কিন্তু ভিতর ফাঁকা ছিল,
ছিল প্রতারণা মেলা।
একজন শুধু হিসাব গোনে,
অন্যজন দেয় প্রাণ,
মিথ্যা আশার সিঁড়ি বেয়ে
ডুবে যায় সম্মান।

একটা বছর পেরিয়ে গিয়ে
শহর দেখে চুপ,
স্বপ্নগুলো কাঁদতে থাকে
অন্ধকারের রূপ।
সাংবাদিক এক দুপুরবেলা
রাস্তার পাশে থামে,
দেখে লোকটা আগের মতো
ঠেলাগাড়ি টানে।

চোখের নিচে ক্লান্ত ছাপ,
মুখে নীরব ক্ষত,
ভাঙা স্বপ্ন বুকের ভিতর
রেখেছে কত শত।
সাংবাদিক অবাক হয়ে
জিজ্ঞেস করল তাই
লটারিতে যে টাকা পেলে,
সেগুলো গেল কই ভাই?”

লোকটা তখন ম্লান হেসে
চেয়ে রইল দূরে,
কষ্ট মাখা শান্ত কণ্ঠে
বলল ধীরে সুরে
ব্যবসাতে গেছে সবই,
স্বপ্ন গেছে হারায়,
প্রফিট হলে আবার বুঝি
টাকা ফিরে পায়।

পরিমাণ টাকা হলে
ব্যবসা করব ভাই…”
বুকের ভিতর জমে থাকা
দুঃখ ঝরে তাই।
সাংবাদিকের কলম থামে,
নীরব হয় পথ,
কারণ এই কথার ভিতর
লুকিয়ে গভীর ক্ষত।

মানুষ তখন হাসল কেউ,
কেউবা দিল তির,
কেউ বুঝল না প্রতারণার
কত ধারালো নীর।
বন্ধুর নামে কত মানুষ
লোভের জাল বিছায়,
সুযোগ বুঝে সরল প্রাণের
স্বপ্ন কেড়ে খায়।

এই সমাজে মুখোশ পরে
ঘুরে কত লোক,
মুখে তাদের মধুর বাণী,
ভিতরে বিষ শোক।
লোভের কথা আগুন হয়ে
জ্বালিয়ে দেয় মন,
এক নিমিষে শেষ হয়ে যায়
বহু দিনের ধন।

ব্যাংকের টাকায় হয়তো কম
লাভের হিসাব মেলে,
তবু রাতে নিশ্চিন্ত ঘুম
চোখের পাতায় খেলে।
অন্যদিকে মিথ্যা স্বপ্ন
সোনার ফাঁদ পাতে,
মানুষ শেষে নিঃস্ব হয়ে
কাঁদে রাতের রাতে।

ঠেলাগাড়ির সেই মানুষটি
আজও শিক্ষা দেয়
সহজ মানুষ ঠকেই বেশি
এই দুনিয়ার ঢেউয়ে।
অল্প সুখে শান্ত থাকাই
অনেক বড় জয়,
লোভের সাগর যতই ডাকে
শেষে শুধু ক্ষয়।

পরিশ্রমের শুকনো রুটি
অনেক দামী ভাই,
হারাম সুখের অট্টালিকা
কখনো শান্তি নাই।
মিথ্যা বন্ধু পাশে থাকলে
ধ্বংস আসে চুপে,
বিশ্বাসটাকেই আগে মারে
মায়ার হাসির রূপে।

আজও শহর ঘুম ভাঙালে
শোনা যায় সে সুর,
ঠেলাগাড়ির কষ্টগাথা
বয়ে চলে দূর।
চাকার সাথে ঘোরে যেন
জীবনের ইতিহাস,
কেউ শেখে না তবু মানুষ
করেই সর্বনাশ।

হে মানুষ, চোখ খুলে দেখ,
সব আলো নয় দীপ,
সবাই বন্ধু সাজলেও ভাই
সবাই নয় নিকটস্নেহদীপ।
যে টাকাতে ঘাম মিশে থাকে
সেই টাকার দাম,
লোভের আগুন ছুঁয়ে দিলে
পুড়ে যায় অবিরাম।

সৎপথে যে অল্প আয়েও
হাসতে পারে মনে,
আল্লাহ তার রিজিক রাখেন
অদৃশ্য বরকতে।
আর যে মানুষ ধোঁকা দিয়ে
গড়ে সুখের ঘর,
সময় এলেই ভেঙে পড়ে
মিথ্যা অহংকার।

তাই তো বলি, বন্ধু চিনো
সময় থাকতে ভাই,
সব হাত ধরা আপন নয়,
সব কথাতে যেও নাই।
সত্য পথে ধৈর্য ধরে
চলতে পারলেই জয়,
মিথ্যা লাভের চকচকে রঙ
শেষে শুধু ক্ষয়।

ঠেলাগাড়ির শব্দ যেন
একটি জীবন্ত গান,
কষ্ট, শিক্ষা, সতর্কতা
আর বেঁচে থাকার টান।
যে শুনে সে বুঝতে পারে
জীবন কত কঠিন
তবু আশা হারায় না যে
সেই মানুষই রত্নমণি।


***



ধুলোমাখা শহরজুড়ে
ভোরের আলো ফোটে,
ঠেলাগাড়ির শব্দ শুনে
ঘুম ভাঙে পথঘাটে।
কাঁধে তার সংসারভরা
অভাবেরই ভার,
তবু মানুষটা হাসতে জানে
ভাঙা জীবনের পার।

সূর্যের তাপে পুড়ে পুড়ে
ঘামে ভেজে গা,
দিন শেষে ক্লান্ত শরীর
ফিরে ছোট্ট ছাঁদা।
চোখের কোণে হাজার স্বপ্ন
তবু থাকে জেগে,
দারিদ্র্যের আঁধার ভেদে
আশা ওঠে মেখে।

হঠাৎ একদিন ভাগ্যদেবী
দিলো সোনার ডাক,
লটারিতে পাঁচ লক্ষ টাকা
এলো ঝলমল পাক।
চারদিকে তখন হইচই পড়ে,
মানুষ বলে হেসে
এবার বুঝি ঠেলাগাড়ি
যাবে ইতিহাসে!

কেউ বলে জমি কিনে নাও,
কেউ বলে গাড়ি,
কেউবা আবার উপদেশ দেয়
দালান তোলার বাড়ি।
কিন্তু লোকটা সহজ মনে
ভাবল চুপটি করে
দুঃসময়ের জন্য টাকাটা
রাখি সযত্ন ভরে।

ব্যাংকের ভেতর জমা দিল
তার কষ্টের ধন,
ভাবল মনে এটাই হবে
অভাব দিনের পণ।
সুদ কম হলেও নিরাপদ,
রাতের ঘুমটা ঠিক,
ক্ষুধার দিনে এই টাকাগুলো
দেবে বাঁচার দিক।

ঠিক তখনই বন্ধুর বেশে
এলো ধূর্ত লোক,
মুখে তার মিষ্টি হাসি,
ভেতর জুড়ে শোক।
কথার মাঝে স্বপ্ন বোনে
চালাক শেয়াল যেমন,
সরল মানুষ বুঝতে পারেনি
কত গভীর ক্ষণ।

বলল সে
ব্যাংকে টাকা রেখে ভাই
কখনো কেউ বড় হয়?
ব্যবসাতে নামলে দেখবি
সোনার নদী বয়!

চলো আমরা দোকান দেব,
করব বড় কাজ,
এক বছরের মাঝেই দেখো
বদলে যাবে আজ।
ঠেলাগাড়ি ছেড়ে তখন
চড়বি বড় গাড়ি,
মানুষ তোর নাম শুনে ভাই
দেবে বাহাদুরি!

সরল মানুষ বিশ্বাস করে
দিলো সবই হাতে,
ভাবল এবার সুখের পাখি
বসবে তারই ছাতে।
স্বাক্ষরের পর স্বাক্ষর চলে,
কাগজ বাড়ে ঢের,
কিন্তু ভিতর ফাঁকা ছিল
প্রতারণার ফের।

শুরু হলো ব্যবসা নামে
মিথ্যা খেলার জাল,
একজন শুধু স্বপ্ন বোনে
অন্যজন বেহাল।
ধীরে ধীরে টাকার স্রোত
অদৃশ্য পথে যায়,
সরল মানুষ টের না পেয়ে
স্বপ্ন গুনে যায়।

একটা বছর কেটে গেল
বদলে গেল দিন,
স্বপ্নভরা আকাশজুড়ে
নামল কালো ঋণ।
সাংবাদিক এক দুপুরবেলা
রাস্তার পাশে দেখে
সেই মানুষটা আগের মতো
ঠেলাগাড়ি ঠেলে।

ঘামে ভেজা মলিন গায়ে
কষ্টেরই ছাপ,
চোখের ভেতর নীরব কান্না
ভাঙা স্বপ্ন চাপ।
সাংবাদিক অবাক হয়ে
করল প্রশ্ন তাই
লটারির সেই লাখো টাকা
গেল কোথায় ভাই?”

লোকটা তখন হালকা হেসে
চেয়ে থাকে দূর,
ভাঙা বুকের কষ্টমাখা
নিভে যাওয়া সুর।
বলল ধীরে
ব্যবসাতে গেছে সবই,
স্বপ্ন গেছে ভেঙে,
প্রফিট হলে আবার বুঝি
ফিরবে সুখ রেঙে।

পরিমাণ টাকা হলে
ব্যবসা করব ভাই…”
এই কথাটার ভেতর লুকায়
কত যে হাহাকার তাই।
সাংবাদিকের কলম থামে,
স্তব্ধ হয় বাতাস,
কারণ এই ছোট্ট কথায়
লুকিয়ে দীর্ঘশ্বাস।

চারদিকেতে হাসির রোল,
কেউবা করে ঠাট্টা,
কেউ বুঝে না সরল মানুষ
কেমন করে কাটে।
বন্ধুর মুখোশ পরে কত
মানুষ ঘোরে আজ,
বিশ্বাস নিয়ে খেলে তারা
লোভের মিথ্যা সাজ।

লোভের আগুন প্রথমে দেয়
স্বপ্নেরই আলো,
পরে ধীরে পুড়িয়ে ফেলে
জীবন কালো কালো।
অল্প সুখে শান্ত থাকা
অনেক বড় ধন,
অন্যায়ের ঐশ্বর্যে নেই
কখনো শান্তিমন।

ব্যাংকের টাকায় হয়তো ভাই
কমই মুনাফা রয়,
তবু রাতে নিশ্চিন্ত ঘুম
চোখের কোণে কয়।
আর প্রতারণার ব্যবসাতে
হাসির আড়াল বিষ,
এক নিমিষে ভেঙে দেয়
বহু বছরের নিশ।

আজও যখন ভোরের বেলা
শহর ঘুমটা ভাঙে,
ঠেলাগাড়ির চাকার শব্দ
বুকে ব্যথা জাগে।
মনে করায়
সবাই বন্ধু হয় না কখন,
সব হাত ধরা আপন নয়,
চকচকে সব স্বপ্ন শেষে
ডেকে আনে ক্ষয়।

যে টাকাতে ঘাম ঝরে ভাই
সেই টাকার দাম,
পরিশ্রমের শুকনো রুটিও
শান্তির অবিরাম।
হারাম সুখের অট্টালিকা
দাঁড়ায় বেশিদিন না,
মিথ্যা পথে উঠলে মানুষ
শেষে পায় না ঠাঁই।

সরল মানুষ ঠকেই বেশি
এই দুনিয়ার ভিড়ে,
বিশ্বাস দিয়ে কাঁদতে হয়
অন্ধকারের নীড়ে।
তবু তারা হার মানে না,
আবার পথে নামে,
কষ্টকে সাথী করেই তারা
জীবনটাকে থামে।

হে মানুষ, শিক্ষা নাও
এই কাহিনির তরে,
লোভের পিছে ছুটলে সুখ
হারিয়ে যায় ঝড়ে।
সত্য পথে অল্প আয়েও
যে থাকে সন্তুষ্ট,
আল্লাহ তার জীবনভরা
রাখেন রহমতপুষ্ট।

ঠেলাগাড়ির শব্দ যেন
একটা জীবন্ত শপথ
মিথ্যা স্বপ্ন নয় রে ভাই,
সৎপথেই হোক রথ।
জীবন মানে ধৈর্য ধরা,
কষ্ট পেরোনো গান,
সত্য মানুষ শেষমেশই
পায় সম্মানের স্থান।
***

শহরর ভাঙা ফুটপাতে
ভোরের রোদটা নামে,
ঠেলাগাড়ির কাঁপা চাকা
জীবনটাকে টানে।
ঘামে ভেজা কাঁধের উপর
সংসারেরই ভার,
তবু মানুষটা হেরে গিয়ে
হাসত বারংবার।

ধুলোভরা ক্লান্ত পথে
চলত সকাল-সাঁঝ,
অভাব ছিল নিত্যসাথী,
দুঃখ ছিল আজ।
পেটের ক্ষুধা, ছেঁড়া জামা,
ভাঙা ঘরের চাল,
তবু বুকের গোপন কোণে
ছিলো স্বপ্নজাল।

একদিন হঠাৎ ভাগ্য যেন
খুলল সোনার দ্বার,
লটারিতে পাঁচ লক্ষ টাকা
এলো উপহার।
চারদিকে তখন হৈচৈ পড়ে
ভাই, তুই ভাগ্যবান!
ঠেলাগাড়ি ছেড়ে এবার
হবি বড়মান!

কেউ বলল গাড়ি কিনিস,
কেউ বলে বাড়ি,
কেউবা আবার হিসাব কষে
দিলো বাহাদুরি।
কিন্তু লোকটা ভাবল চুপে
টাকা অনেক দায়,
খারাপ দিনে এই সম্বলই
পাশে এসে চায়।

ব্যাংকের ভেতর টাকাগুলো
রাখল যতনে,
ভাবল মনে অভাব এলে
বাঁচব এই ধনে।
শান্ত ঘুমের নিশ্চয়তা
ছিল তারই সাথী,
লোভের আগুন তখনও তার
ছুঁতে পারেনি মাটি।

ঠিক তখনই বন্ধুর বেশে
এলো এক ধূর্ত,
মুখে মিষ্টি, চোখে স্বপ্ন,
ভেতরে বিষপুঞ্জ।
কথার জাদু ছড়িয়ে দিয়ে
বলল হেসে ভাই
ব্যাংকে রেখে টাকার আবার
কোনো মূল্য নাই!

চলো আমরা ব্যবসা করি,
বড় হব একদিন,
এক বছরের মাঝেই দেখো
বদলে যাবে দিন।
দোকান হবে, গাড়ি হবে,
হবে দালানকোঠা,
এই সামান্য ব্যাংক লাভে
মেটে নাকি পেটটা?”

সরল মানুষ বিশ্বাস করে
দিলো সবই হাতে,
ভাবল এবার সুখের পাখি
বসবে তারই ছাতে।
স্বাক্ষরের পর স্বাক্ষর চলে,
কাগজ বাড়ে ঢের,
কিন্তু ভিতর ফাঁকা ছিল
প্রতারণার ফের।

ব্যবসা নামে মিথ্যা খেলা
চলল দিনের পর দিন,
একজন শুধু স্বপ্ন দেখে,
অন্যজন রঙিন।
টাকার স্রোত অদৃশ্য পথে
গেলো হারিয়ে দূর,
সরল মানুষ বুঝল না কিছু,
বুকটা রইল ভরপুর।

একটা বছর কেটে গেল,
বদলে গেল ভাগ্য,
সুখের নৌকা ডুবে গিয়ে
নামল বিষাদরাগ।
সাংবাদিক এক দুপুরবেলা
রাস্তার ধারে দেখে
সেই মানুষটা আগের মতো
ঠেলাগাড়ি ঠেলে।

মলিন মুখে ক্লান্তির ছাপ,
চোখে জমা ক্ষত,
ভাঙা স্বপ্ন বুকের মাঝে
নীরব শত শত।
সাংবাদিক থমকে গিয়ে
করল প্রশ্ন তাই
লটারির সেই লাখো টাকা
গেল কোথায় ভাই?”

লোকটা তখন ম্লান হেসে
চেয়ে থাকে দূরে,
দীর্ঘশ্বাসের কষ্ট মাখা
নিভে যাওয়া সুরে।
বলল ধীরে
ব্যবসাতে গেছে সবই,
স্বপ্ন গেছে ঝরে,
প্রফিট হলে আবার বুঝি
উঠব নতুন করে।

পরিমাণ টাকা হলে
ব্যবসা করব ভাই…”
এই কথাটার ভেতর লুকায়
কত কান্না তাই।
সাংবাদিকের কলম থামে,
স্তব্ধ চারিধার,
কারণ ছোট্ট উত্তরজুড়ে
ভাঙা জীবনের ভার।

চারপাশেতে কেউ হাসল,
কেউবা দিল খোঁচা,
কেউ বুঝল না বিশ্বাসভাঙা
কত কঠিন বোঝা।
বন্ধুর নামে কত মানুষ
লোভের ফাঁদ পাতে,
স্বপ্ন দিয়ে নিঃস্ব করে
অন্ধকারের রাতে।

এই সমাজে মুখোশ পরে
ঘোরে কত লোক,
মুখে মধু, অন্তরে বিষ,
ভেতরে কালশোক।
লোভের আগুন প্রথমে দেয়
সোনালি এক রঙ,
পরে ধীরে পুড়িয়ে ফেলে
জীবনভরা ঢঙ।

ব্যাংকের টাকায় কম যে লাভ
তবু শান্তি রয়,
রাতের বেলা নিশ্চিন্ত ঘুম
চোখের পাতায় কয়।
আর প্রতারণার ব্যবসাতে
মিথ্যা সুখের নেশা,
শেষে মানুষ নিঃস্ব হয়ে
হারায় সবক আশা।

ঠেলাগাড়ির সেই শব্দ আজ
একটা শিক্ষা দেয়
লোভের পিছে ছুটলে মানুষ
সুখটা হারিয়ে ফেলে যায়।
অল্প আয়ে শান্ত থাকাই
সবচেয়ে বড় ধন,
মিথ্যা সুখের অট্টালিকায়
থাকে না শান্তিমন।

যে টাকাতে ঘাম ঝরে ভাই
সেই টাকার মান,
পরিশ্রমের শুকনো রুটিও
অনেক সম্মান।
হারাম সুখের চাকচিক্য
দাঁড়ায় না বেশিদিন,
সত্যপথের ছোট্ট ঘরেই
মেলে শান্তির ঋণ।

আজও যখন ভোরের বেলা
শহর ঘুমটা ভাঙে,
ঠেলাগাড়ির কাঁপা চাকা
নতুন গল্প টানে।
চাকার সাথে ঘুরে যেন
হাজার জীবনের ক্ষয়,
কেউ শেখে না তবু মানুষ
লোভেরই পরিচয়।

সরল মানুষ ঠকেই বেশি
এই দুনিয়ার ভিড়ে,
বিশ্বাস দিয়ে কাঁদতে হয়
অন্ধকারের নীড়ে।
তবু তারা হার মানে না,
আবার পথে নামে,
কষ্টকে সাথী করেই তারা
বেঁচে থাকার টানে।

হে মানুষ, চোখ খুলে দেখ,
সব আলো নয় দীপ,
সবাই বন্ধু সাজলেও ভাই
সবাই নয় নিকটদীপ।
মুখের হাসি দেখে কখনো
বিশ্বাস কোরো না,
ভিতরে কত বিষ লুকানো
সহজে বুঝো না।

সত্য পথে অল্প আয়েও
যে মানুষটা হাসে,
আল্লাহ তার জীবনভরা
বরকত ঢেলে ভাসে।
আর যে মানুষ ধোঁকা দিয়ে
গড়ে সুখের ঘর,
সময় এলেই ভেঙে পড়ে
মিথ্যা অহংকার।

তাই তো বলি, বন্ধু চিনো
সময় থাকতে ভাই,
সব হাত ধরা আপন নয়,
সব কথাতে যেও নাই।
ধৈর্য ধরে সত্য পথে
চলতে পারলেই জয়,
মিথ্যা স্বপ্নের রঙিন আলো
শেষে শুধু ক্ষয়।

ঠেলাগাড়ির শব্দ যেন
জীবনেরই গান,
কষ্ট, শিক্ষা, সতর্কতা
আর বাঁচার টান।
যে শুনে সে বুঝতে পারে
জীবন কত কঠিন
তবু আশা হারায় না যে
সেই মানুষ রত্নমণি।

মন্তব্য করুন