সহকারী অধ্যাপক
২৩ মে, ২০২৬ ০৩:২৩ অপরাহ্ণ
ব্যাংক ব্যালেন্স শূন্য মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
ব্যাংক ব্যালেন্স শূন্য
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
বন্ধু বলে হাত ধরেছিল,
হিসেব নাকি হবে পরে—
আজকে শুধু সইটা দাও,
কালকে নাকি সুখের ঘরে।
কাগজ এল, কাগজ গেল,
স্বাক্ষরের লম্বা লাইন,
বৈঠক শেষে বৈঠক বসল,
চোখে শুধু স্বপ্নের রঙিন ডিজাইন।
ফ্ল্যাট কিনে, ফ্ল্যাট বেচে,
কত হিসেব রাতের শেষে,
ব্যাংক ব্যালেন্স শূন্য হয়ে
আমি শুধু দীর্ঘশ্বাসে।
ঈদ এলো, চাঁদ উঠল,
পথে পথে তাকবির বাজে,
মানুষ কত কুরবানি দেয়
আল্লাহরই সন্তোষ কাজে।
আমার ঘরে নীরবতা,
হৃদয় ভাঙা কান্নাধ্বনি,
কোরবানির পশু কোথায়?
চোখে শুধু ব্যথার বাণী।
হে আল্লাহ! তুমি তো জানো
কত কষ্ট বুকের মাঝে,
মানুষ শুধু হাসি দেখে,
ভাঙা মনটা দেখে না যে।
যার ভরসায় পথ চলেছি,
সেই করেছে হিসেব খেলা,
টাকার অংক পাহাড় হলো,
আমার ভাগে শূন্য মেলা।
বৈঠক ঘরে চায়ের কাপে
চলেছে কত বড় কথা,
আমার প্রশ্ন— “হকের টাকা?”
উত্তরে শুধু নীরব ব্যথা।
কাগজ যেন শিকল হয়ে
বেঁধে ফেলেছে জীবনখানি,
স্বাক্ষরের কালো কালি
পুড়িয়ে দিল সুখের বাণী।
আমি ক্ষুদ্র, আমি নগণ্য,
ক্ষমতা নেই কারো সাথে,
তবু আমার রব তো আছেন
অন্ধকারের প্রতিরাতে।
হে দয়াময়! তুমি ন্যায়ের
সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক,
কারো হক যেন না মারে
এই তো তোমার শিক্ষা হক।
যারা অন্যের অশ্রু নিয়ে
নিজের সুখের প্রাসাদ গড়ে,
ভুলে যায় যে হিসেব হবে
রবের আদালতের ঘরে।
আজকে যারা দম্ভে চলে,
টাকার নেশায় অন্ধ হয়ে,
কালকে তারা দাঁড়াবে একা
সব অহংকার ধূলি হয়ে।
আমি শুধু হাত তুলেছি,
চোখের জলে দোয়া করি—
“হে আল্লাহ! আমার হক্বটা
ফিরিয়ে দাও, তুমি ধরি।”
তুমি ছাড়া নেই তো কেহ
ভাঙা হৃদয় জোড়া দিতে,
তুমি ছাড়া নেই তো শক্তি
অন্যায়ের দেয়াল ভাঙিতে।
ঈদের দিনে সবার ঘরে
হাসি ঝরে আলো হয়ে,
আমার ঘরে কান্না নামে
নিঃশব্দ এক ব্যথা বয়ে।
তবু আমি ভাঙবো না আর,
হতাশাতে হারাবো না,
রবের উপর ভরসা রেখে
সত্য পথ ছাড়াবো না।
কারণ জানি, রাতের পরে
সূর্য আবার উঠবেই,
মজলুমের দীর্ঘশ্বাসে
আল্লাহর আরশ কাঁপবেই।
হকের টাকা আগুন যেমন
বুকের ভিতর জ্বালা দেয়,
অন্যায়ের সেই আগুন একদিন
জালিমকেও পুড়িয়ে নেয়।
আমি তাই আজ কাঁদি শুধু
রবের দরবারে নত হয়ে,
“হে মহান! তুমি সহায় হও
অসহায়ের পাশে রয়ে।”
আমার ক্ষতি তুমি জানো,
আমার ব্যথা তোমার জানা,
এই জীবনের অন্ধ পথে
তুমিই শুধু শেষ ঠিকানা।
কোরবানির আসল শিক্ষা—
ত্যাগ, সততা, ন্যায়ের বাণী,
মানুষ কেন ভুলে গিয়ে
হক মেরে হয় স্বার্থপাগল প্রাণী?
হে আল্লাহ! যারা নিয়েছে
অসহায়ের অশ্রুর দাম,
তাদের অন্তর নরম করো,
ফিরিয়ে দাও আমার প্রাপ্য সম্মান।
আমি চাই না দুনিয়ার জৌলুস,
চাই না সোনার অট্টালিকা,
শুধু চাই হালাল রিজিক,
শান্তি ভরা ছোট্ট ঠিকানা।
বন্ধু যদি বন্ধু হতো
কাঁধে রাখতো স্নেহের হাত,
আজকে কেন হিসেব কষে
করছে আমায় নিঃস্ব রাত?
তবু আমি অভিশাপ নয়,
দোয়ার হাতই তুলবো আজ,
আল্লাহ যেন সত্য প্রকাশ করেন
ন্যায়ের খুলে সবই সাজ।
কারণ তিনি মহান প্রভু,
সব অভিযোগ শোনেন চুপে,
মজলুমের আহাজারি
হারায় না তাঁর দরবার রূপে।
একদিন ঠিক সত্য ফুটবে,
মিথ্যার দেয়াল যাবে ভেঙে,
হকের আলো জ্বলে উঠবে
অন্ধকারের বুকটা রেঙে।
সেদিন আমি সিজদায় পড়ে
বলবো কাঁদতে কাঁদতে—
“আলহামদুলিল্লাহ! তুমি আছো
বলেই মানুষ বাঁচে।”
ঈদের চাঁদ আকাশে উঠে,
শহর জুড়ে খুশির ঢেউ,
কারো ঘরে গরু বাঁধা,
কারো ঘরে আলো ঢেউ।
আর আমি বসে নিরব রাতে
হিসেব কষি চোখের জলে,
কোথায় গেল জীবনের সঞ্চয়,
কারা নিল ছলনার ছলে?
বন্ধু ছিল আপন ভেবে
খুলে দিলাম মনের দ্বার,
আজকে দেখি সেই মানুষটাই
করলো আমায় পথের ভার।
ব্যাংক ভরা স্বপ্নগুলো
ফ্ল্যাটের নিচে চাপা পড়ে,
কাগজপত্র পাহাড় হলো
মিথ্যা কথার রঙিন ঘরে।
বৈঠক শেষে বৈঠক বসে,
চায়ের কাপে দীর্ঘ শ্বাস,
স্বাক্ষরের কালো রেখায়
ডুবে গেছে জীবনের আশ।
“আরেকটু ধৈর্য ধরো ভাই,
হিসেব হবে, সময় দাও”—
এই কথাতে বছর গেল,
তবু শুধু শূন্য পাও।
ঈদ আসে তাকবির নিয়ে,
মসজিদ ভরা নূরের ঢেউ,
শিশুর মুখে হাসির ঝিলিক,
নতুন কাপড়, খুশির ঢেউ।
আমার ঘরে নীরব কান্না,
চোখে শুধু জমে কুয়াশা,
কোরবানির স্বপ্নগুলো
ভাঙা কাঁচের মতো ভাষা।
হে আল্লাহ! তুমি তো জানো
আমি কত অসহায়,
মানুষ দেখে বাহিরখানা,
ভেতরের ক্ষত কে আর চায়?
আমি ক্ষুদ্র, আমি নগণ্য,
ক্ষমতা নাই দুনিয়ার মাঝে,
তবু আমার রব তো আছেন
অন্ধকারের প্রতিটি সাজে।
তুমি ন্যায়ের মহান মালিক,
তোমার চোখে গোপন কী?
যে নিয়েছে হকের টাকা
লুকিয়ে যাবে কোথায়ই বা সে?
ফ্ল্যাট উঠেছে আকাশ ছুঁয়ে,
গাড়ি চলে দম্ভ ভরে,
আমার চোখের জলের দামে
কেউ কি সুখে থাকতে পারে?
কোরবানির শিক্ষা কোথায়?
ত্যাগ কোথায়? কোথায় ভয়?
মানুষ আজ হক মেরে খায়,
তবু বলে— “আমরা নির্ভয়!”
হে রব আমার! বিচার করো,
অন্যায়ের দেয়াল ভাঙো,
মজলুমের এই দীর্ঘশ্বাসে
জালিম হৃদয় কাঁপিয়ে দাও।
আমি চাই না দুনিয়ার মসনদ,
চাই না সোনার অট্টালিকা,
শুধু চাই আমার হক্বটা,
আর শান্তিময় ছোট ঠিকানা।
বন্ধুত্বের নামে যারা
বিশ্বাস ভেঙে হাসে চুপে,
তারা কি ভুলে গেছে তবে
হাশরের সেই কঠিন রূপে?
যেদিন হবে শেষ হিসেব,
খুলবে আমলনামার পাতা,
সেদিন কোনো স্বাক্ষর নয়,
চলবে শুধু সত্য কথা।
সেদিন টাকা কাজে আসবে?
ফ্ল্যাট দেবে মুক্তির ছায়া?
না কি মজলুমের অশ্রুধারা
আগুন হয়ে জ্বলবে হায়!
আমি তবু অভিশাপ দেই না,
তুলি শুধু দোয়ার হাত,
“হে আল্লাহ! হেদায়েত দাও,
ফিরিয়ে দাও নষ্ট প্রভাত।”
কারণ তুমি রহমান রব,
দয়ার সাগর সীমাহীন,
তোমার দরেই ভাঙা মানুষ
খুঁজে পায় শান্তির ঋণ।
আমার বুকের প্রতিটা ক্ষত
তোমার কাছেই স্পষ্ট আজ,
মানুষ শুধু ফাইল দেখে,
তুমি দেখো অন্তর সাজ।
কাগজপত্র আগুন যেন,
স্বাক্ষর যেন বিষের দাগ,
বিশ্বাসগুলো ছিন্নভিন্ন,
ভেঙে গেছে জীবনের ভাগ।
তবু আমি হেরে যাইনি,
ভাঙিনি আমি দুঃখে পড়ে,
কারণ আমার রব আছেন
অশ্রুভেজা সিজদার ঘরে।
রাত যতই দীর্ঘ হোক না,
ফজর কিন্তু আসবেই,
মজলুম যদি ধৈর্য ধরে
আল্লাহ তার পাশে রইবেই।
একদিন ঠিক সত্য ফুটবে,
মিথ্যা যাবে ধুলো হয়ে,
হকের আলো জ্বলে উঠবে
কালো রাতের বুকটা ছুঁয়ে।
ঈদের দিনে আমিও হয়তো
হাসবো আবার প্রাণ খুলে,
যেদিন আমার হক্ব ফিরবে
রবের রহমতের ফুলে।
সেদিন আমি সিজদায় পড়ে
কাঁদবো শুধু শুকরিয়ায়—
“হে আল্লাহ! তুমি আছো বলেই
আশা বাঁচে দুনিয়ায়।”
মানুষ যত চালাক হোক,
রবের চোখে ধোঁকা কই?
তিনি ন্যায়ের মহান বাদশাহ,
তাঁর আদালত ভুলে নই।
তাই আজও আমি পথ চেয়ে
দুয়ার খুলে বসে আছি,
হয়তো কোনো ভোরের শেষে
রহমতেরই খবর আসি।
হয়তো আবার ঈদের সকালে
হাসবে আমার ছোট ঘর,
হয়তো আবার বলবো আমি—
“আলহামদুলিল্লাহ! কেটে গেল অন্ধকার।”
***
ঈদের আগে শহরজুড়ে
আলোর মেলা, রঙের ঢেউ,
মানুষ ব্যস্ত কোরবানিতে,
খুশির হাসি চারিদিক বেউ।
কেউ কিনে গরু লাখ টাকায়,
কেউ সাজে নতুন পোশাকে,
আর আমি বসে ভাবি চুপে—
আমার স্বপ্ন গেল কাহাকে?
বন্ধু ছিল বুকের আপন,
বিশ্বাস ছিল পাহাড় সমান,
তারই হাতে দিলাম সবকিছু,
ভাবিনি হবে এত অবমান।
ব্যাংকের টাকা, কষ্টের সঞ্চয়,
জীবনের সব হিসেবখাতা,
ফ্ল্যাটের নামে, ব্যবসার ছলে
হারিয়ে গেল দিনের কথা।
বৈঠক বসল রাতের পরে,
চায়ের কাপে দীর্ঘ টান,
কাগজ এল, স্বাক্ষর হলো,
আমি শুধু দিলাম প্রাণ।
“ভাই, আরেকটু ধৈর্য ধরো,
সব হিসেব মিটে যাবে”—
এই আশাতে বছর গেল,
স্বপ্নগুলো কাঁদতে রবে।
ফ্ল্যাট উঠল আকাশ ছুঁয়ে,
মানুষ বলে— “কী সম্মান!”
আমার চোখের জলের দামে
গড়া হলো সুখের স্থান।
ঈদের চাঁদ উঠলো যখন
তাকবির ধ্বনি চারিধার,
আমার বুকের নীরব কান্না
শুধু শুনলো পরওয়ারদিগার।
কোরবানির আসল মানে
ত্যাগ আর হকের শিক্ষা,
মানুষ কেন হক মেরে আজ
গড়ে তোলে সুখের দীক্ষা?
আমার ঘরে নীরবতা,
নেই তো কোনো পশু বাঁধা,
শুধু আছে দীর্ঘশ্বাস আর
ভাঙা স্বপ্নের কান্না কাঁধা।
হে আল্লাহ! তুমি তো জানো
কত রাত নির্ঘুম গেছে,
কত আশা কাগজ হয়ে
মিথ্যার আগুনে পুড়ে মেশে।
আমি ক্ষুদ্র, আমি নগণ্য,
দুনিয়াতে নেই ক্ষমতা,
তবু আমার রব আছেন—
এই তো আমার বড় কথা।
মানুষ যত চালাক হোক,
রবের চোখে গোপন কী?
যে নিয়েছে অন্যের হক,
বাঁচবে কি সে চিরদিনই?
হে ন্যায়ের মহান মালিক!
তুমি বিচার করে দাও,
মজলুমের চোখের পানি
অবহেলায় ফেলো নাও।
যারা আজকে দম্ভে চলে,
টাকার নেশায় অন্ধ হয়ে,
তারা কি ভুলে গেছে তবে
কবরের সেই নীরব বয়ে?
সেদিন কোনো ফ্ল্যাট থাকবে না,
থাকবে না ব্যাংকের হিসেব,
থাকবে শুধু আমলনামা,
আর সত্যের কঠিন জবাব।
স্বাক্ষরের সেই কালো দাগ
আজও বুকে বিষের মতো,
বিশ্বাস ভাঙার ব্যথা যেন
আগুন হয়ে জ্বলে শত।
বন্ধুত্বের নামে যারা
করলো আমায় নিঃস্ব আজ,
তাদের কাছেও দোয়া করি—
আল্লাহ দিক হেদায়েতের সাজ।
কারণ আমার রব শিখিয়েছেন
ক্ষমা কত মহৎ জিনিস,
তবু হকের বিচার হবে—
এটাই তো চূড়ান্ত লিখনবিশ।
আমি চাই না সোনার প্রাসাদ,
চাই না দুনিয়ার বড় নাম,
শুধু চাই আমার হক্বটা
আর শান্তিময় একটু ঘ্রাণ।
আমি চাই ঈদের সকালে
মায়ের মুখে হাসির রেখা,
শিশুর হাতে নতুন জামা,
বুকভরা এক সুখের দেখা।
আজকে যদিও অন্ধকারে
ঘিরে আছে জীবনের পথ,
তবু জানি ফজর আসবে
শেষ হবে এ দুঃখরথ।
রাত যতই দীর্ঘ হোক না,
সূর্য উঠবেই পূর্ব আকাশে,
মজলুম যদি ধৈর্য ধরে
রব তাকে রাখেন পাশে।
আমি তাই আজ সিজদাতে
চোখের পানি ফেলে বলি—
“হে আল্লাহ! তুমি ছাড়া
আমার তো কেউ নেই চলি।”
তুমি ফিরিয়ে দাও সম্মান,
ফিরিয়ে দাও হারানো দিন,
ভাঙা বুকের শুকনো বাগান
করো আবার ফুলে রঙিন।
যারা নিয়েছে অশ্রুর দাম
তাদের অন্তর নরম করো,
হকের পথে ফিরিয়ে এনে
অন্যায়ের সব দেয়াল ভাঙো।
একদিন ঠিক সত্য ফুটবে,
মিথ্যা যাবে ধুলো হয়ে,
হকের আলো জ্বলে উঠবে
অন্ধকারের বুকটা ছুঁয়ে।
ঈদের দিনে আমিও আবার
হাসবো হয়তো প্রাণ খুলে,
যেদিন আমার রবের রহমত
নামবে হৃদয় ফুলে ফুলে।
সেদিন আমি সিজদায় পড়ে
কাঁদবো শুধু শুকরিয়ায়—
“আলহামদুলিল্লাহ! তুমি আছো
বলেই আশা বাঁচে দুনিয়ায়।”
***
ভাঙা বুকের দীর্ঘশ্বাসে
নিঃশব্দ এক রাত নামে,
ঈদের চাঁদ আকাশ ভরে
আমার চোখে অশ্রু থামে।
শহরজুড়ে কোরবানির
তাকবির ধ্বনি ওঠে ভেসে,
আমার ঘরে নিঃস্ব নীরব
হাহাকারই বসে শেষে।
বন্ধু ছিল প্রাণের মানুষ,
বিশ্বাস ছিল পাহাড়সম,
তারই হাতে দিলাম জীবন,
স্বপ্ন দিলাম অগণন।
ব্যাংকের সব জমা টাকা,
বছরজমা কষ্টঘাম,
ফ্ল্যাট কিনে, ফ্ল্যাট বেচে
হলো শুধু নামের দাম।
বৈঠক বসল দিনের পরে,
রাত পেরিয়ে নতুন রাত,
কাগজ এল, কাগজ গেল,
স্বাক্ষরে ভাঙলো বিশ্বাসঘাট।
“ভাই, আরেকটু সময় দাও,
সব ঠিক হবে, চিন্তা নাই”—
এই কথাতেই বছর গেল,
তবু আমার কিছু নাই।
ফাইল ভরা প্রতিশ্রুতি,
চায়ের কাপে মিথ্যা হাসি,
আমার শুধু বুকের ভেতর
দুঃখগুলো কাঁদে ভাসি।
ঈদের আগে বাজার ভরা
খুশির রঙে আলো ঝরে,
কারো হাতে কোরবানির দড়ি,
কারো ঘরে আনন্দ ভরে।
আর আমি আজ নিঃস্ব হয়ে
আকাশপানে চেয়ে বলি—
“হে আল্লাহ! তুমি ছাড়া
আমার তো কেউ নেই চলি।”
আমার ঘরে কোরবানি নেই,
নেই তো কোনো পশুর ডাক,
শুধু আছে ভাঙা স্বপ্ন,
আর নির্ঘুম রাতের ফাঁক।
হে মহান! তুমি তো জানো
কত আশা ছিল বুকে,
মানুষ শুধু বাহির দেখে,
ভাঙা অন্তর দেখে কে?
আমি ক্ষুদ্র, আমি নগণ্য,
ক্ষমতা নাই দুনিয়াজুড়ে,
তবু আমার রব তো আছেন
অন্ধকারের আড়াল ঘিরে।
তুমি ন্যায়ের মহান মালিক,
তোমার কাছে গোপন কী?
যে নিয়েছে হকের সম্পদ
লুকিয়ে যাবে কোথায়ই?
ফ্ল্যাট উঠেছে আকাশ ছুঁয়ে,
গাড়ি চলে অহংকারে,
আমার চোখের জলের দামে
সাজলো কারো সুখের দ্বারে।
কোরবানির আসল শিক্ষা
ত্যাগ, সততা, ন্যায়ের বাণী,
মানুষ কেন হক মেরে আজ
হয় স্বার্থলোভী প্রাণী?
স্বাক্ষরের সেই কালো কালি
আজও বুকে বিষের ক্ষত,
বিশ্বাস ভাঙার শব্দ যেন
ঝড়ে ভাঙা ঘরের মত।
বন্ধুত্বের নামে যারা
করলো আমায় নিঃস্ব আজ,
তাদের জন্যও দোয়া করি—
আল্লাহ দিক হেদায়েতের সাজ।
কারণ আমার রব শিখিয়েছেন
ক্ষমা কত মহৎ আলো,
তবু হকের বিচার হবে—
এই বিশ্বাসেই বাঁচি ভালো।
হে দয়াময়! ফিরিয়ে দাও
হারিয়ে যাওয়া সম্মানখানি,
ভাঙা বুকের শুকনো বাগান
করো আবার ফুলে টানি।
আমি চাই না সোনার প্রাসাদ,
চাই না দুনিয়ার বড় নাম,
শুধু চাই হালাল রিজিক,
শান্তি ভরা ছোট্ট ঘরখান।
আমি চাই ঈদের সকালে
মায়ের মুখে হাসির রেখা,
শিশুর হাতে নতুন জামা,
ভালোবাসার নরম দেখা।
আজকে যদিও বুকের ভেতর
অন্ধকারের দীর্ঘ রাত,
তবু জানি ফজর আসবে
শেষ হবে এই কান্নাপাত।
রাত যতই গভীর হোক না,
সূর্য উঠবেই পূর্বাকাশে,
মজলুম যদি ধৈর্য ধরে
রব তাকে রাখেন পাশে।
আমি তাই আজ সিজদাতে
চোখের পানি ফেলে কই—
“হে আল্লাহ! তুমি ছাড়া
ভরসা আমার আর তো নই।”
যারা নিয়েছে হকের টাকা
তাদের অন্তর নরম করো,
সত্য পথে ফিরিয়ে এনে
অন্যায়ের সব দেয়াল ভাঙো।
একদিন ঠিক সত্য ফুটবে,
মিথ্যা যাবে ধূলি হয়ে,
হকের আলো জ্বলে উঠবে
অন্ধকারের বুকটা ছুঁয়ে।
সেদিন আমি কাঁদবো আবার
শুকরিয়ারই অশ্রু ঢেলে,
বলবো— “রব! তুমি আছো
বলেই মানুষ বাঁচে মেলে।”
ঈদের চাঁদ তখনও উঠবে,
তাকবির বাজবে আকাশভরে,
তবে আমার নিঃস্ব ঘরেও
শান্তি নামবে নূরের ডরে।
সেদিন হয়তো ছোট্ট ঘরে
খুশির বাতি জ্বলবে আবার,
ভাঙা বুকের দীর্ঘশ্বাসে
ফুটবে নতুন জীবনের হার।
হয়তো আবার বলবো আমি—
“আলহামদুলিল্লাহ! কেটে গেল রাত,”
কারণ আমার রব তো আছেন,
তিনি-ই সকল আশার প্রভাত।
৭১
১৪৫ মন্তব্য